বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

ফুলদানির নিঃশব্দ কান্না

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
ফুলদানির নিঃশব্দ কান্না

মোঃ নাজির হোসেন
ড্রয়িংরুমের মাঝখানে রাখা কাঁচের ফুলদানিটা দেখে যে কেউ মুগ্ধ হতো। রঙিন ফুলগুলো যেন হাসতে জানত। অতিথিরা বলতেন, “কী সুন্দর সাজানো!” কিন্তু কেউ জানত না, ফুলগুলোর বেশির ভাগই ছিল কৃত্রিম। দূর থেকে অপূর্ব, কাছে গিয়ে প্রাণহীন।
একদিন গ্রামের স্কুল শিক্ষক আবদুল করিম তাঁর ছাত্রদের নিয়ে আলোকপাত করছিলেন। তিনি ফুলদানির দিকে তাকিয়ে বললেন, জীবনে এমন অনেক কিছু আছে, যা বাইরে থেকে সুন্দর মনে হয়; কিন্তু ভেতরে থাকে শূন্যতা। মানুষের চরিত্রও তেমন হতে পারে। ছাত্ররা নীরবে শুনছিল।
সেই গ্রামেই থাকত মেজবাহ ও মেহজাবীন। তাদের সংসার একসময় ছিল ঈর্ষণীয়। ছোট্ট মহুয়া , বৃদ্ধ মা আর সুখী পরিবার যাহা ছিলো ফুলদানিতে সাজানো একটি স্বপ্নভরা ফুলঘর। কিন্তু ধীরে ধীরে বিশ্বাসের জায়গায় ফাটল ধরল। অযথা গোপনীয়তা, অকারণ ব্যস্ততা, লুকানো ফোনালাপ-সবকিছু মিলিয়ে সম্পর্কের ভিত দুর্বল হতে লাগল।
একদিন সত্য প্রকাশ পেল। বৈবাহিক অঙ্গীকার ভেঙে অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল একজন। যে সম্পর্ককে শুরুতে স্বাধীনতা ও আনন্দ মনে হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল অনুশোচনা, অশান্তি আর বিচ্ছেদের কারণ। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেল ছোট্ট রাফি। সে বুঝতে পারত না, কেন তার বাবা-মা আর একসঙ্গে বসে খায় না, কেন তাদের ঘরের হাসি হারিয়ে গেছে।
শিক্ষক আব্দুল করিম সাহেব একদিন গ্রামের সভায় বললেন, যে কোনো অবৈধ সম্পর্ক শুধু দুজন মানুষের বিষয় নয়। এর প্রভাব পড়ে সন্তান, পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং পুরো সমাজে। বিশ্বাস ভেঙে গেলে ঘর ভাঙে; আর ঘর ভাঙলে সমাজও দুর্বল হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বললেন, অন্যায়ের প্রতিকার আইন করতে পারে, চিকিৎসাবিজ্ঞান অনেক রোগের ওষুধ আবিষ্কার করেছে। কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতা, অসততা আর নৈতিক অবক্ষয়ের একমাত্র প্রতিষেধক হলো আত্মসংযম, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সততা এবং মূল্যবোধ। সেদিন সভায় উপস্থিত অনেকেই মাথা নিচু করে ছিলেন। কেউ নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন, কেউ পরিবারকে আরও সময় দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন।
কয়েক মাস পরে গ্রামের মসজিদ, মন্দির, স্কুল এবং সামাজিক সংগঠনগুলো মিলে পরিবারকে কেন্দ্র করে সচেতনতামূলক আলোচনা শুরু করল। স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্মান, সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা এবং সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে নিয়মিত কথা হতে লাগল। ধীরে ধীরে গ্রামের পরিবেশ বদলাতে শুরু করল।
করিম সাহেব আবার সেই ফুলদানির সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, কৃত্রিম ফুল দেখতে সুন্দর হতে পারে, কিন্তু তার কোনো সুগন্ধ নেই। তেমনি প্রতারণা ও অবৈধ সম্পর্ক হয়তো সাময়িক মোহ সৃষ্টি করে, কিন্তু সেখানে প্রকৃত ভালোবাসা, শান্তি ও মর্যাদা থাকে না। সত্যিকারের সুখ ফুটে ওঠে বিশ্বাস, বিশ্বস্ততা এবং পারস্পরিক সম্মানের বাগানে। ফুলদানির পাশে রাখা একটি তাজা গোলাপ তখন হালকা বাতাসে দুলছিল। তার সুগন্ধে যেন ঘর ভরে উঠল। শুধু নিঃশব্দে কান্না করতে লাগলো ফুলদানিটা তাজা গোলাপ আঁকড়ে রাখতে না পারার কারণে। একটি পরিবার টিকে থাকে বিশ্বাস, সততা ও দায়িত্ববোধের ওপর। সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষা, আত্মসংযম এবং পারস্পরিক সম্মানই একটি সুস্থ পরিবার ও সুন্দর সমাজ গঠনের ভিত্তি।
কোনো ব্যক্তিকে উদ্যেশ্য প্রনোদিত করে নয়। সম্পূর্ণ কাল্পনিক ঘটনা।

Ads small one

সাতক্ষীরা সদরের কাশেমপুর রাস্তা জনগনের মরণফাঁদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সদরের কাশেমপুর রাস্তা জনগনের মরণফাঁদ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাশেমপুর সিটি কলেজ মোড় হতে সাংবাদিক সেলিম হোসেনের বাড়ির সামনে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পিচ ও ইটের খোয়া উঠে গিয়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ফলে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় ধীরে ধীরে এর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে গর্তে পানি জমে পথচারী ও যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও ভ্যানচালকদের প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, কাশেমপুরের এই সড়কটি স্থানীয়দের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়রা দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে নিরাপদ ও চলাচল উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সংস্কার করা না হলে আগামী দিনে সড়কটির দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। দ্রুত সংস্কারের জন্য মাননীয় সংসদ সদস্য সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

শ্যামনগরে হিলফুল ফুযুল ইয়ুথ সোসাইটির উদ্যোগে বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে হিলফুল ফুযুল ইয়ুথ সোসাইটির উদ্যোগে বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি

সংবাদদাতা: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং বৃক্ষরোপণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে হিলফুল ফুযুল ইয়ুথ সোসাইটি-এর উদ্যোগে বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে চিংড়াখালী বিদ্যানিকেতন (কালমেঘা মাধ্যমিক বিদ্যালয়) প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কল্যাণপুর কালমেঘা স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাবু জয়দেব মন্ডল এবং যাদবপুর মাদ্রাসার শিক্ষক মোঃ আবুজার গিফারী।

হিলফুল ফুযুল ইয়ুথ সোসাইটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি এস. এম. রবিউল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান ও দপ্তর সম্পাদক মোঃ আনিসুর রহমান। এছাড়াও স্বেচ্ছাসেবী রাসেল রানা, আশিকুর রহমান, জাকারিয়া, মোঃ আশরাফ হোসেনসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচির একপর্যায়ে আমন্ত্রিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আগত প্রতিনিধিদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেন প্রধান অতিথি আলহাজ্ব মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ। এ সময় অতিথিরা পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে উপস্থিতদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা ও সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, উপকূলীয় জনপদে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য শুধু চারা বিতরণ নয়, রোপণের পর নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আয়োজক হিলফুল ফুযুল ইয়ুথ সোসাইটি জানায়, পরিবেশ সুরক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সংগঠনটি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণের মতো পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা সংগঠনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের নেতৃত্বে পরিবেশ সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হলে একটি সবুজ ও বাসযোগ্য সমাজ গঠনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরিবেশ বাঁচাতে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার প্রত্যয় নিয়ে শেষ হয় হিলফুল ফুযুল ইয়ুথ সোসাইটির এ বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি।

 

আশাশুনিতে ৭৫০জন নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে ৭৫০জন নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ

আশাশুনি প্রতিনিধি:  সরকার অনুমোদিত নিত্যপণ্য ন্যায্য মূল্যে আশাশুনির কাদাকাটিতে ৭৫০জন নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়নের হোলদিপোতা সংলগ্ন বিএনপির কার্যালয়ে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়নের ১, ২, ৩ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৭৫০ জন মানুষকে কার্ডের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়েছে।

প্রাণের আলো ফাউন্ডেশন ও ডেইলী সেবা বাংলাদেশ এর আয়োজনে অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব ডাঃ জাহাঙ্গীর হোসেন টুকু, কাদাকাটি ২ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন কৃষক দলের সাবেক আহবায়ক মোঃ আব্দুল হান্নান সরদার, ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ শরিফুল ইসলাম খোকন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ বদরুল আলম, ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ লিফটন, ৩নং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি মোঃ কামরুল ইসলাম, এছাড়া মুনসুর আলী, রাসেল সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ৭৫০ ব্যক্তিকে সোয়াবিন তেল ২ লিঃ, ডাল ১ কেজি, আটা ১ কেজি, লবণ ১ কেজি, সরিষার তেল ২০০ এমএল, ডিটার্জেন্ট পাওডার অর্ধ কিঃ, গায়ে মাখা সাবান ১০০ গ্রাম, ডিশ ওয়াশ ৫০০ গ্রাম একটি করে প্যাকেজ বিতরণ করা হয়। প্রতি প্যাকেজের মূল্য ৭৫০ টাকা। বিতরণকারী সংস্থা ২২ ধরনের প্যাকেজে মালামাল বিতরণ করে থাকে।

 

বর্তমান সময়ে ১০ নং প্যাকেজের মালামাল বিতরণ করা হচ্ছে। প্রত্যেক ইউনিয়নে মাসে ৩ দিন করে ৩ স্থানে মালামাল বিতরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে জেলার সকল উপজেলার সব কয়টি ইউনিয়নে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য বিতরণ করা হবে। স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেয়ে এলাকার নিম্নআয়ের মানুষ আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।