মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

বর্ষাকাল উপকূলীয় মানুষের জন্য বিপদসংকুল সময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
বর্ষাকাল উপকূলীয় মানুষের জন্য বিপদসংকুল সময়

প্রকাশ ঘোষ বিধান

বর্ষাকাল বাংলাদেশের উপকূলীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপদসংকুল ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়। সমুদ্র উত্তাল থাকে এবং পূর্ণিমা ও অমাবস্যার জোয়ারের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার জোয়ারের পানি উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করে। সক্রিয় মৌসুমী বায়ু, ভারী বৃষ্টিপাত এবং সমুদ্রের বৈরী পরিবেশের কারণে এই সময়ে উপকূলের জনজীবনে চরম ভোগান্তি ও বিপর্যয় নেমে আসে।

বর্ষাকালে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ও সাইক্লোন সৃষ্টি হয়, যা বিশাল জলোচ্ছ্বাস নিয়ে উপকূলে আঘাত হানে। জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধগুলো পানির তীব্র চাপে ভেঙে যায় এবং মাইলের পর মাইল এলাকা প্লাবিত হয়। ভৌগোলিক অবস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের চরম আঘাত এই সময়ে উপকূলের বাসিন্দাদের নানামুখী তীব্র সংকটের মুখোমুখি হতে হয়।

বর্ষায় বাংলাদেশের উপকূলবর্তী এলাকার মানুষের জীবন হয়ে ওঠে চরম সংকটাপন্ন ও বিপর্যস্ত। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে নিয়মিত বৃষ্টি, পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ার, এবং ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের কারণে প্রতি বছর উপকূলীয় জনপদের হাজার হাজার মানুষকে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই সময়ে সাগরে সৃস্ট ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নড়বড়ে বেড়িবাঁধের সাথে যুদ্ধ করে তাদের টিকে থাকতে হয়। বর্ষার আগমনে উপকূলের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।

বর্ষায় আকাশের কালো মেঘ এবং উপকূলের কান্না এক আবেগঘন দৃশ্য। আকাশে কালো মেঘ জমে প্রকৃতির রূপ যেমন থমথমে ও বিষণœ হয়ে ওঠে, তেমনি উপকূলের কান্না প্রকৃতির দুর্যোগ বা মানুষের দুঃখ-দুর্দশার প্রতীক। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত আর উপকূলের কান্না ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস বা অবিরাম বর্ষণে উপকূলবাসীর ঘরবাড়ি ও জীবনের যে ক্ষতি হয়, তাকে বোঝায়। বর্ষায় এ অভিগজ্ঞতা উপকূলবাসীর জন্য নতুন কিছু নয়।

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কাছে বর্ষায় কালো মেঘ সবসময়ই আতঙ্কের নাম। আকাশজুড়ে যখন ভারী কালো মেঘ জমে, তখন চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে এবং শুরু হয় অঝোর বৃষ্টি। ঝড়-বৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস আর বাঁধ ভাঙা নদীর রূপ তাদের জীবনে নিয়ে আসে কান্না ও হাহাকার। উত্তাল সমুদ্রের গর্জন, উপকূলের ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ আর বর্ষার দুর্যোগে তাদের ঘরবাড়ি হারানোর ভয়, সব মিলিয়ে এটি হয়ে ওঠে উপকূলের মানুষের দীর্ঘশ্বাসের প্রতিচ্ছবি।

গ্রীষ্মের দাবদাহ শেষে যখন আকাশ ভারী কালো মেঘে ঢেকে যায়, তখন চারপাশ এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতায় ছেয়ে যায়। কালো মেঘের আড়ালে বিদ্যুতের চমকানি আর গর্জনে প্রকৃতি যেন তার রুদ্র রূপ প্রকাশ করে। মেঘলা দিনের এই থমথমে রূপ মানুষের মনে লুকানো বিষাদ ও গভীর আবেগ জাগিয়ে তোলে। সাগরের উত্তাল ঢেউ আর উপকূলের ভাঙন যেন মানুষের না বলা কষ্টের কান্না। বর্ষার মেঘের মতোই উপকূলের মানুষের হাহাকার আর অশ্রু মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত লাখ লাখ মানুষের জীবনপ্রবাহ প্রতি মুহূর্তে জলবায়ু পরিবর্তন এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়। অতিবৃষ্টি ও প্রবল বাতাসে কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে। অনেক পরিবারকে পলিথিন টাঙিয়ে বা অন্যের বাড়িতে মানবেতর জীবন কাটাতে হয়। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার মতো স্থায়ী সমস্যাগুলো তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।

অধিকাংশ উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ অত্যন্ত নাজুক বা জরাজীর্ণ। বর্ষার জোয়ারের পানি ও প্রবল বৃষ্টিতে এই বাঁধ ভেঙে বা উপচে লোকালয় ও ফসলি জমি তলিয়ে যায়, যার ফলে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়। জোয়ারের নোনা পানি বাড়ির আঙিনা ও পুকুরে ঢুকে পড়ে। এর ফলে বর্ষার সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দেয় এবং পানিবন্দী মানুষদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। বছরের এ সময়টাতে উপকূলীয় এলাকায় ডায়রিয়া, আমাশয় ও চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ে। বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং স্যাঁতসেঁতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলে।

 

বর্ষায় নদী উত্তাল থাকায় জেলেরা মাছ ধরতে যেতে পারেন না। এছাড়া জলোচ্ছ্বাসের পানিতে ভেসে যায় চিংড়ি ঘের ও ফসলি জমি। এতে কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষের ঘরে ঘরে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দেয়। ভাঙনপ্রবণ এলাকায় বর্ষা এলেই নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। অনেক পরিবার চোখের পলকে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়।

সিডর, আইলা, আম্ফান বা রেমালের মতো প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলো বারবার আঘাত হেনে উপকূলের বেড়িবাঁধ ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। ফলে জোয়ারের নোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে, ফসল ও মাছের ঘের তলিয়ে যায়। দুর্যোগের পরে সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ দেখা দেয় বিশুদ্ধ পানির। লবণাক্ত পানির কারণে চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগ মহামারি আকার ধারণ করে। লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কৃষিজমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষকরা ফসল ফলাতে পারে না। ফলে পেশা হারিয়ে বাধ্য হয়ে অনেকে পরিবেশগত উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়।

জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ এবং প্রয়োজনের তুলনায় সাইক্লোন সেন্টারের স্বল্পতার কারণে মানুষ চরম আতঙ্কে থাকে। দুর্যোগের পর ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতেও নানাবিধ আমলাতান্ত্রিক ও পরিবহন জটিলতা দেখা দেয়, যার ফলে ভুক্তভোগীরা দীর্ঘমেয়াদী কষ্টের মধ্যে পড়েন। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য ম্যানুয়াল পদ্ধতি ও উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে টেকসই কংক্রিটের বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নিরাপদ পানির স্থায়ী ব্যবস্থা এবং কার্যকরী সাইক্লোন সেন্টার তৈরি করা সবচেয়ে জরুরি।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

তালায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
তালায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

 

খলিশখালী (পাটকেলঘাটা) প্রতিনিধি: তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের মাছিয়াড়া বাদামতলা এলাকায় পুকুরে ডুবে আরিয়ান মোড়ল নামের সাড়ে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল তিনটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আরিয়ান মাছিয়াড়া বাদামতলা এলাকার রাজমিস্ত্রি মো. আসাদুল মোড়লের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে পরিবারের অজান্তে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায় আরিয়ান। স্বজনেরা দেখতে পেয়ে তাকে দ্রুত উদ্ধার করলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়। শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কপিলমুনিতে কাচির কোপে ৩ ভাই জখম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
কপিলমুনিতে কাচির কোপে ৩ ভাই জখম

কপিলমুনি (পাইকগাছা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে ধারালো কাচির কোপে তিন ভাই জখম হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রেজাকপুর বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদের সামনে সড়কের ওপর এ ঘটনা ঘটে।
আহত তিন সহোদর হলেন রেজাকপুর গ্রামের শেখ আব্দুল আলীমের ছেলে শেখ বাবলু (৩৫), শেখ লাভলু (৩০) ও শেখ ডাবলু (২৭)। স্থানীয়দের দাবি, মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে।
আহতদের পরিবারের অভিযোগ, সোমবার রাতে একই গ্রামের মোঃ হাফিজুর গাজী ও তাঁর ছেলেরা শেখ বাবলুকে মারধর করে। মঙ্গলবার সকালে বাবলুর ভাইয়েরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাফিজুর গাজী, তাঁর ছেলে অপু গাজী ও ভাই দিপু গাজী তাঁদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে ধারালো কাচি দিয়ে তাঁদের ঘাড়, মাথা ও হাতে কোপানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শেখ বাবলু ও শেখ লাভলুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে এ ঘটনার জেরে স্থানীয়দের মারধরে হাফিজুরের ছেলে অপু গাজী আহত হলে তাকেও পাইকগাছা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাফিজুল গাজী বলেন, তাঁর ছেলে মাদকসেবী এবং তাকে মারধর করা ভুল হয়েছে। অন্যদিকে আহতদের বাবা শেখ আব্দুল আলীম জানান, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর ছেলেদের কোপানো হয়েছে। পাইকগাছা থানায় এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

 

পাটকেলঘাটায় ইসলামী আন্দোলনের ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় ইসলামী আন্দোলনের ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পাটকেলঘাটা থানা শাখার নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। ১৭ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটিতে মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনকে সভাপতি, মো. তুহিন হোসেনকে সহসভাপতি এবং মোহাম্মদ রবিউল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে পাটকেলঘাটা থানা শাখার ইসলামী আন্দোলনের কার্যালয়ে এ কমিটি গঠন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পাটকেলঘাটা থানা শাখার ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি মুহাদ্দীস মোস্তফা শামসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হক, পাটকেলঘাটা থানা শাখার মাওলানা মুফতি মইনুদ্দিন বুখারী ও ইসলামী যুব আন্দোলনের পাটকেলঘাটা থানা শাখার সভাপতি আব্দুল আলিম।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন কাজ করে যাচ্ছে। মানুষের পাশে থাকার এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্যায়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মাওলানা রবিউল ইসলাম।