বিএড স্কেল প্রাপ্তি: সুপ্রিম কোর্টের আদেশে ২৩ বেসরকারি কলেজের সনদ বহাল
পত্রদূত রিপোর্ট: সারা দেশের বেসরকারি ২৩টি বিএড (ব্যাচেলর অব এডুকেশন) কলেজ থেকে ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষকদের বিএড স্কেল সুবিধা প্রদানের বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আদালতের রায় ও অবমাননা মামলার আদেশ বহাল থাকায় এই ২৩টি কলেজের সনদধারীদের পূর্বের ন্যায় বিএড স্কেল দেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আইন শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে মাউশির মহাপরিচালককে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। সহকারী সচিব মো. আব্দুল জলিল মজুমদার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে পূর্বের প্রজ্ঞাপন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, দেশের বেসরকারি বিএড কলেজ পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে ২০০৮ সালের ১৫ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করেছিল। ওই পরিপত্রের কার্যকারিতার ওপর হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নম্বর: ৫০৩৮/২০০৯) দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগ মন্ত্রণালয়ের ওই পরিপত্রটি বাতিল করে রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল (নম্বর: ৯৯/২০১৪) এবং পরবর্তীতে আদালত অবমাননার পিটিশন (নম্বর: ১৫৩/২০১৪) দায়ের করা হয়।
সর্বোচ্চ আদালতের এই আইনি প্রক্রিয়ার প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন আইন কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) ডা. মো. ফারুক হোসেনের স্বাক্ষরে রিটকারী পক্ষের ২৩টি বেসরকারি বিএড কলেজের সনদের বৈধতা ও বিএড স্কেল প্রাপ্তির বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই মোতাবেক দীর্ঘদিন ধরে এই ২৩টি কলেজ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা বিএড স্কেল পেয়ে আসছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আদেশ এবং আদালত অবমাননার পিটিশন বহাল থাকার পরও কতিপয় ক্ষেত্রে নির্দেশনা উপেক্ষা করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সুনির্দিষ্ট অনুমোদিত তালিকাভুক্ত এই ২৩টি বেসরকারি কলেজ ছাড়া অন্য কোনো অননুমোদিত বেসরকারি কলেজের সার্টিফিকেটের বিপরীতে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ বিল প্রদান করা হলে তা আর্থিক অনিয়ম বা অর্থ তছরুপ হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।
এই জটিলতা নিরসনে এবং আদালতের রায় প্রতিপালনের লক্ষ্যে, ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি জারিকৃত স্মারকটি (শিম/আইন সেল(রীট)-৬/সাতক্ষীরা/২০০৯/৪৬) শতভাগ বাস্তবায়নের জন্য মাউশিকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
চিঠির অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও অবগতির জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, সকল অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইসিটি অধিশাখাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।












