বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

বিশ্ব হ্রদ দিবস: মিঠাপানির ভাণ্ডার রক্ষায় বৈশ্বিক অঙ্গীকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
বিশ্ব হ্রদ দিবস: মিঠাপানির ভাণ্ডার রক্ষায় বৈশ্বিক অঙ্গীকার
সাকিবুর রহমান বাবলা 
২৭ আগস্ট পালিত হয় ‘বিশ্ব হ্রদ দিবস’। পৃথিবীর হ্রদ, জলাধার ও মিঠাপানির বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং এর সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে জাতিসংঘ এই দিবস ঘোষণা করেছে। ​২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সর্বসম্মত রেজোলিউশন (এ/আর‌ইএস/৭৯/১৪২)-এর মাধ্যমে ২৭ আগস্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর আগে, ২০২৪ সালের মে মাসে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত ১০ম বিশ্ব জল ফোরামে এই সুপারিশ উত্থাপিত হয়েছিল। দিবসটির কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি।
হ্রদ পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এগুলো শুধু জলাধার নয়; বরং পরিবেশ, জলবায়ু, জীববৈচিত্র্য, অর্থনীতি ও মানবজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি জটিল বাস্তুতন্ত্র। পৃথিবীতে বর্তমানে ১১ কোটি ৭০ লক্ষেরও বেশি হ্রদ রয়েছে, যা বিশ্বের স্থলভাগের প্রায় ৪ শতাংশ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। পৃথিবীর অধিকাংশ মিঠাপানি হিমবাহ ও ভূগর্ভে সঞ্চিত থাকলেও বরফমুক্ত ভূপৃষ্ঠে বিদ্যমান তরল মিঠাপানির প্রায় ৯০ শতাংশই হ্রদে সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে পানীয় জল, কৃষি, শিল্প, মৎস্যসম্পদ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার জন্য হ্রদের গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রকৃতির অমূল্য রত্ন হ্রদগুলো অতিরিক্ত পানি ধারণ করে বন্যা রোধ, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সমৃদ্ধ এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত বাড়িয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। একই সঙ্গে, এগুলো অতিরিক্ত তাপ শোষণ ও কার্বন সংরক্ষণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়, বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এবং পর্যটন ও মৎস্য শিকারের মতো কার্যক্রমে লাখো মানুষের জীবিকার উৎস হিসেবে অনন্য ভূমিকা পালন করে। এবং এর জলজ ও তীরবর্তী পরিবেশ নানা ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণীর খাদ্যশৃঙ্খল টিকিয়ে রাখে।
তবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলসম্পদ বর্তমানে বহুমাত্রিক সংকটের মুখোমুখি। দ্রুত নগরায়ন, শিল্পায়ন, কৃষিতে রাসায়নিক সার ও অতিরিক্ত কীটনাশক  ব্যবহার, অপরিশোধিত বর্জ্য নির্গমন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের অনেক হ্রদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন মূল্যায়নে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত বর্জ্যজলের প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত অপরিশোধিত অবস্থায় নদী, হ্রদ ও অন্যান্য জলাশয়ে প্রবেশ করে। এর ফলে পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে, জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে এবং মানবস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন হ্রদগুলোর জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে হ্রদের পানির তাপমাত্রা বাড়ছে, বাষ্পীভবনের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অনেক হ্রদের আয়তন সংকুচিত হচ্ছে। বিভিন্ন অঞ্চলে বরফে আচ্ছাদিত হ্রদগুলোর বরফস্তর দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। ফলে জলচক্রের স্বাভাবিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে এবং খরা ও বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে অস্থিতিশীল ভূমি ব্যবহার ও বন উজাড়ের কারণে অনেক হ্রদের স্বাভাবিক পুনর্ভরণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে।
বিশ্বব্যাপী পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক দেশের নদী, হ্রদ ও জলাধারের মতো মিঠাপানির বাস্তুতন্ত্রগুলো দ্রুত অবক্ষয়ের দিকে যাচ্ছে, যা পরিবেশগত সংকটের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে এক বড় বাধা। এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রায় তিন দশক ধরে ইউএনইপি-ডিএইচআই সেন্টার ইন্টিগ্রেটেড ওয়াটার রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট ও টেকসই হ্রদ ব্যবস্থাপনার প্রসারে কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি নীতিগত পরামর্শ প্রদান, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সক্ষমতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মিঠাপানির টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থাপনায় বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক অর্থে বড় আকারের হ্রদ তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও দেশের অসংখ্য বিল, হাওর, বাঁওড়, দিঘি, জলাধার, জলাভূমি এবং কৃত্রিম লেক একই ধরনের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ভূমিকা পালন করে। কাপ্তাই হ্রদ দেশের বৃহত্তম কৃত্রিম মিঠাপানির জলাধার হিসেবে মৎস্যসম্পদ, পর্যটন ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এছাড়া সিলেট অঞ্চলের হাওরসমূহ, গোপালগঞ্জের বিলাঞ্চল, খুলনা-সাতক্ষীরার বাঁওড়সমূহ এবং দেশের বিভিন্ন জেলার দিঘি ও জলাধার স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সম্পদ সংরক্ষণ ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
কিন্তু বাংলাদেশের জলাশয়গুলোও নানা সমস্যার সম্মুখীন। দখল, ভরাট, দূষণ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, প্লাস্টিক বর্জ্য, কৃষিজ রাসায়নিকের ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বহু জলাশয় হারিয়ে যাচ্ছে বা পরিবেশগত সক্ষমতা হারাচ্ছে। নগরাঞ্চলের অনেক লেক ও খাল দূষণের চাপে তাদের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হারিয়েছে। ফলে জীববৈচিত্র্য হ্রাস, জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পরিবেশের অবনতি ঘটছে। যদিও বাংলাদেশ পরিবেশ আইন, ১৯৯৫, বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন, ২০১৭’সহ সংশ্লিষ্ট আরো কয়েকটি প্রচলিত আইন থাকার শর্তেও এসব প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
পৃথিবীর সুন্দর প্রাকৃতিক লেকগুলোর মধ্যে কানাডার লেক মোরাইন তার বরফঢাকা পাহাড় ও নীল পানির জন্য, ক্রোয়েশিয়ার প্লিতভিসে লেক জলপ্রপাতসমৃদ্ধ ১৬টি লেকের দলের জন্য এবং স্লোভেনিয়ার লেক ব্লেড মাঝের দ্বীপ ও আল্পস পর্বতের সুন্দরের জন্য বিখ্যাত। এছাড়া গুয়াতেমালার লেক আতিতলান আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে তৈরি হওয়ার কারণে এবং নিউজিল্যান্ডের লেক টেকাপো স্বচ্ছ নীল পানি ও ফুলের তীরের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
বিশ্ব হ্রদ দিবসের মূল বার্তা হলো—মিঠাপানির এই অমূল্য ভাণ্ডারকে রক্ষা করা এখন আর শুধু পরিবেশগত দায়িত্ব নয়; এটি মানবজাতির টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত। হ্রদ ও জলাশয় সংরক্ষণে কার্যকর আইন প্রয়োগ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, টেকসই কৃষি চর্চা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা জরুরি। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৬.৬ নম্বর লক্ষ্য অনুযায়ী জল-সম্পর্কিত বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

Ads small one

তালার উন্নয়নের সঙ্গে প্রেসক্লাব ভবনেরও উন্নয়ন হবে: হাবিবুল ইসলাম হাবিব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
তালার উন্নয়নের সঙ্গে প্রেসক্লাব ভবনেরও উন্নয়ন হবে: হাবিবুল ইসলাম হাবিব

তালা প্রতিনিধি: তালা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) মাগরিবের নামাজের পর তালা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জোয়ার্দার ফারুখ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাধারণ সম্পাদক শেখ শফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আবুল কালাম বিশ্বাস, রেজাউল ইসলাম রেজা এবং তালা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মীজা আতিয়ার রহমান।

এ সময় তালা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আছাদুজ্জামান রাজু, যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রেন্টু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মোতাহিরুল হক শাহিন, প্রচার সম্পাদক সেকেন্দার আবু জাফর বাবু, সাহিত্য সম্পাদক অর্জুন বিশ্বাস, নির্বাহী সদস্য জয়দেব চক্রবর্তী, ইমরান হোসেন, কাজী লিয়াকত হোসেন, মশিয়ার রহমান, কামাল হোসেন ও রফিকুল ইসলামসহ প্রেসক্লাবের সদস্য, স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছাত্রনেতা রিপন হোসেন ও যুবদল নেতা সরদার কামরুল উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও মানবতার জন্য তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, তালা প্রেসক্লাবকে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক প্রেসক্লাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তালার সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে তালা প্রেসক্লাব ভবনের উন্নয়নও এগিয়ে যাবে। তিনি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।

আলোচনা সভা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন তালা উপজেলা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা তাওহিদুর রহমান।

সাতক্ষীরায় জেলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জেলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ

সংবাদদাতা: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও দেশব্যাপী সবুজায়ন আন্দোলনকে বেগবান করতে সাতক্ষীরা জেলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এক বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে এ বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও প্রায় ১০০টি পরিবারের মাঝে ফলদ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

 

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, বর্তমান সরকারের ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের যে মহাউদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতেই এ কর্মসূচির আয়োজন। পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি সুন্দর, বাসযোগ্য ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

বৃক্ষরোপণকালে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে বাঁচতে ও পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তবে কেবল গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না নিয়মিত সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে সেগুলোকে বড় করে তুলতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পৃথিবী রেখে যেতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

 

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক খবর বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি ও সাপ্তাহিক সূর্যের আলো-এর সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার শেখ রেজাউল ইসলাম বাবলু, সাধারণ সম্পাদক দৈনিক দক্ষিণের মশাল-এর স্টাফ রিপোর্টার ও দৈনিক গণ তদন্ত পত্রিকার সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি সাইফুল আজম খান মামুন, সহ-সভাপতি ও দৈনিক স্বাধীন মত-এর সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি আহাদুর রহমান জনি, সাপ্তাহিক সূর্যের আলো-এর সহকারী সম্পাদক মারুফ আহমেদ খান শামীম, দৈনিক যশোর বার্তা-এর সহসম্পাদক মোহাম্মদ মুজাহিদ, দৈনিক নব চেতনা ও দক্ষিণের মশাল পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শেখ হাসান গফুর, দৈনিক আইনবার্তা, দৈনিক আমাদের কণ্ঠ ও ডেইলি ফিন্যান্সিয়াল পোস্ট-এর জেলা প্রতিনিধি আক্তারুল ইসলাম, দৈনিক তৃতীয় মাত্রা পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মো. ইদ্রিস আলী, শাহ নেওয়াজ মৃণাল, দৈনিক আজকের বসুন্ধরা-এর সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, দৈনিক সাতক্ষীরা সকাল-এর আতাউর রহমান, দৈনিক আলোকিত সকাল-এর স্টাফ রিপোর্টার জাহাঙ্গীর সরদার, গাজী হাবিব, আলমগীর হোসেন, মো. কামাল হোসেনসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

সাতক্ষীরায় সম্পত্তির জেরে বৃদ্ধ পিতার উপর পুত্রের হামলার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সম্পত্তির জেরে বৃদ্ধ পিতার উপর পুত্রের হামলার অভিযোগ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ধানদিয়া চৌরাস্তা বাজারে ফসলি জমি নষ্ট করাকে কেন্দ্র করে সম্পত্তির জের ধরে এক বৃদ্ধ পিতার উপর ছোট ছেলের হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত ২২ আগস্ট (শনিবার) দুপুর ১২টার দিকে ধানদিয়া চৌরাস্তা বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পিতা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিলকণ্ঠপুর গ্রামের মৃত জালাল উদ্দীন মোড়লের ছেলে আব্দুল মজিদ মোড়ল (৭০) ধানদিয়া মৌজার ধানদিয়া চৌরাস্তা থেকে সরসকাটি বাজারগামী পিচ রাস্তার ধারের একটি জমিতে বোরো/আউশ ধান চাষের জন্য চারা রোপণ করেন।

 

অভিযোগ উঠেছে, সে সময় তার আপন ছোট ছেলে মো. লিটন হোসেন (৩২), লিটনের স্ত্রী মোছা. সামিরা খাতুন (২৮), ভাগনে সুজন হোসেন (২৪) ও বোন হালিমা খাতুনসহ (৪৭) কয়েকজন ব্যক্তি ওই ফসলি জমি নিজেদের স্ট্যাম্পকৃত সম্পত্তি দাবি করে রোপণ করা ধানের চারা তুলে নষ্ট করে ফেলেন। এ সময় পিতা আব্দুল মজিদ এবং তার বড় ছেলে মো. উজ্জ্বল হোসেন চারা উপড়ে ফেলতে বাধা দিলে ছোট ছেলে লিটন ক্ষিপ্ত হয়ে পিতার ওপর চড়াও হন। তিনি পিতাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধামকি দিয়ে হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির উপক্রম হলে স্থানীয় এলাকাবাসী এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃদ্ধ পিতা আব্দুল মজিদ মোড়ল অভিযোগ করে বলেন, “ছোট ছেলের সাথে আমার সম্পর্ক ভালো না। সে সবসময় আমার উপর চড়াও হয়ে মারতে আসে। বৃদ্ধ বয়সে তার কাছ থেকে কোনো ভালো ব্যবহার পাইনি। সে আমাকে খেতে দেয় না, দেখভালও করে না; তার এমন আচরণে আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি। যার কারণে আমি আমার মোট সম্পত্তির মধ্য থেকে ৭ বিঘা সম্পত্তি আমার বড় ছেলের নামে লিখে দিয়েছি। ইতোমধ্যে আমার বড় ছেলে তার অংশের সম্পত্তি থেকে ছোট ভাইকেও দলিল করে দিয়েছে। কিন্তু লিটন বড় ভাইয়ের অংশের সম্পত্তি ছাড়াও বিভিন্ন জাল দলিল ও স্ট্যাম্প তৈরি করে মিথ্যা মামলার মাধ্যমে সব সম্পত্তি জবরদখল নেওয়ার পাঁয়তারা করছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত মো. লিটন হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার বাবা সব সম্পত্তি আমার বড় ভাইকে লিখে দিয়েছেন। পরে ভাই আমাকে টাকার বিনিময়ে সাড়ে তিন বিঘা জমি লিখে দিয়েছেন। কিন্তু লিখে দেওয়া সেই জমি আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। জমি বুঝে পাওয়ার জন্য আমি বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরছি।

 

স্ট্যাম্পের বুনিয়াদে আমার পাওনা জমিতে বাবা ধান রোপণ করায় আমি ওই ধান রোয়া উপড়ে ফেলেছি। বড় ভাই মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, “আমার বাবা ছোট ভাইয়ের উপর অভিমান করে তার সম্পত্তি আমাকে লিখে দেন। আমি ছোট ভাইকে কোনো ফাঁকি দিইনি, বরং লিখে দেওয়া সম্পত্তির অর্ধেক আমি নিজেই ছোট ভাইকে রেজিস্ট্রি করে ফেরত দিয়েছি। সে তার ভাগের সব সম্পত্তি বুঝিয়ে নিয়ে বর্তমানে ভোগদখল করে খাচ্ছে, তবুও অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করছে। স্থানীয়রা এ ধরনের পারিবারিক কলহ ও পিতার গায়ে হাত তোলার চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।