বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভিউ বাণিজ্যের দৌরাত্ম্য ; সংকটে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
ভিউ বাণিজ্যের দৌরাত্ম্য ; সংকটে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা

প্রকাশ ঘোষ বিধান

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালের যুগে ভিউ বাণিজ্যের দৌরাত্ম্য বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য একটি মারাত্মক হুমকি। সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা, সত্যতা ও জনগুরুত্বের চেয়ে ভিউ, লাইক ও শেয়ারই এখন প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে সাংবাদিকতার মূল আদর্শ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অধিক ভিউ পাওয়ার অর্থই হলো বেশি রেভিনিউ বা বিজ্ঞাপন থেকে আয়, আর এই বাণিজ্যিক লোভের কারণেই তথ্যের সত্যতা ও গুণগত মান আজ উপেক্ষিত। ভিউ-বাণিজ্যের অনৈতিক দৌরাত্ম্যের কারণে বর্তমান ডিজিটাল যুগে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে।

অনলাইন মাধ্যমে ভিউ, ক্লিক ও বিজ্ঞাপনের আয় বাড়ানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতাই হলো ভিউ বাণিজ্য। এই প্রবণতা বস্তুনিষ্ঠ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় হুমকি। ভিউয়ের পেছনে ছুটতে গিয়ে গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব, অর্থাৎ তথ্যের সত্যতা যাচাই ও জনস্বার্থ রক্ষা, চাপা পড়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ভিউ বাণিজ্যের দৌরাত্ম্য বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদ প্রচারের মূল লক্ষ্য যেখানে সত্য উদ্ঘাটন এবং জনমত গঠন, সেখানে ক্লিক বা ভিউনির্ভর প্ল্যাটফর্মগুলোতে চটকদার শিরোনাম ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের প্রবণতা বাড়ছে।

ভিউ বাণিজ্যের প্রভাব ও সংকটে চটকদার শিরোনাম দেখে বিভ্রান্তিতে পাঠক। পাঠক টানতে শিরোনামে অতিরঞ্জিত তথ্য বা মিথ্যা উত্তেজনার আশ্রয় নেওয়া হয়, যা ভেতরের খবরের সাথে মেলে না। পেশাদারিত্বের সংকটে শিকারি সাংবাদিকতা বাড়ছে। ব্যক্তিগত আক্রমণ, ভিত্তিহীন খবর বা ট্রল করার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়। পেশাদার সাংবাদিকদের পাশাপাশি অনেক ভুঁইফোঁড় ও অপেশাদার অনলাইন পোর্টালের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। লাভের আশায় যারা শুধু ভিউ বা অনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য কাজ করে।

সংবাদের মূল বিষয়ের সাথে মিল না রেখে শুধু পাঠক বা দর্শককে আকৃষ্ট করতে অতিরঞ্জিত বা মিথ্যা শিরোনাম ব্যবহার করা হচ্ছে। সংবাদের ভেতরের চেয়ে ক্লিক-বেইট বা বিভ্রান্তিকর শিরোনামকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা হলুদ সাংবাদিকতা হিসেবে পরিচিত। তথ্য যাচাই না করেই শুধুমাত্র ভাইরাল করার উদ্দেশ্যে মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করা হয়। ভিউ বাণিজ্যের ফলে সমাজে অনেক সময় ভুয়া তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়ে, যা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে। ভিউ বাণিজ্যের লোভে নেতিবাচক প্রভাব চটকদার শিরোনাম ও হলুদ সাংবাদিকতা বাড়ছে।

নামসর্বস্ব কিছু অনলাইন বা আইপিটিভির কারণে প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকতা তার মর্যাদা হারাচ্ছে। ভিউয়ের নামে গুজব ও চাঁদাবাজি রোধে গণমাধ্যমের জন্য উপযুক্ত আইনি কাঠামো ও নীতিমালা প্রয়োজন। দর্শক ও পাঠকদের চটকদার খবরের বদলে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ভিউয়ের দাসত্ব থেকে বেরিয়ে গণমাধ্যমকে গুণগত মান ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ওপর জোর দিতে হবে।

ভিউ বাণিজ্যের নেতিবাচক প্রভাবে চটকদার শিরোনাম সংবাদের ভেতরের মূল বিষয়ের সাথে মিল না রেখে আকর্ষণীয়, বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা শিরোনাম ব্যবহার করা হয়, যা পাঠকদের প্রতারিত করে। চাঞ্চল্যকর বা ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে সমাজে বিকৃঙ্খলা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়। অনেক সময় অপরাধী ও মাদক কারবারিরাও নামসর্বস্ব পোর্টালের কার্ড ব্যবহার করে অপকর্ম চালাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবমূল্যায়ন করা। জাতীয় সংকট, অর্থনীতি, শিক্ষা বা আন্তর্জাতিক খবরাখবরের চেয়ে গসিপ, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অনৈতিক বিষয়বস্তু বেশি প্রচার পায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ভিডিও, ছবি বা ফটোকার্ড বানিয়ে টার্গেটেড ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হেনস্থা করা হয়, যা শিকারি সাংবাদিকতা হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

পেশাদারিত্ব রক্ষা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধিতে পেশাদার সাংবাদিকদের ঐক্য প্রয়োজন। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের দায়িত্ববোধ বাড়াতে হবে। ভিউ বাণিজ্যের ফাঁদে না পড়ে যাচাই-বাছাই করে সঠিক তথ্য প্রকাশ করা আবশ্যক। প্রেস কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে অনলাইন পোর্টাল ও আইপিটিভিগুলোর সঠিক নিবন্ধন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ভুঁইফোড় সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ জরুরি।
পাঠক বা দর্শক হিসেবে আমাদেরও ভিউ ও ক্লিকবেট নির্ভর সংবাদ এড়িয়ে চলতে হবে। খবরের সত্যতা যাচাই না করে তা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। পাঠকদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াতে হবে, তারা যেন সস্তা ও চটকদার খবর বর্জন করে মানসম্মত ও পেশাদার সংবাদমাধ্যমগুলোর সংবাদ অনুসরণে উদ্বুদ্ধ হন।

সংবাদমাধ্যমের টিকে থাকার জন্য বিজ্ঞাপন বাণিজ্য জরুরি, তবে তা যেন সাংবাদিকতার মূল স্তম্ভ বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্যতাকে গ্রাস না করে। সংবাদমাধ্যমগুলোকে বাণিজ্যিক লাভের চেয়ে পেশাগত নৈতিকতা ও সত্যনিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। ভিউ-বাণিজ্যের এই অন্ধকার বৃত্ত থেকে বের হতে না পারলে গণমাধ্যম তার চতুর্থ স্তম্ভের মর্যাদা ও জনমনে বিশ্বাসযোগ্যতা দুটোই হারাবে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

ঢাকায় রমিজ হত্যা মামলায় নজরুল ইসলাম কারাগারে, রিমান্ড শুনানি আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় রমিজ হত্যা মামলায় নজরুল ইসলাম কারাগারে, রিমান্ড শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিনিধি: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কারওয়ান বাজার এলাকায় এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাঁর রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত এ আদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ রেজা।
এর আগে সোমবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাঁকে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন আহমেদ রূপ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। তবে মঙ্গলবার তিনি আদালতে উপস্থিত না থাকায় বিচারক রিমান্ড শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট কারওয়ান বাজার এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন রূপ। বিকেলবেলা মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে আসামিদের ছোড়া গুলি তাঁর ডান চোখে লাগে। আন্দোলনকারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে কাঁঠালবাগানের একটি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত রূপের বাবা এ কে এম রকিবুল আহম্মেদ তেজগাঁও থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যসংকটে সুন্দরবনের বাঘ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যসংকটে সুন্দরবনের বাঘ

নিজস্ব প্রতিনিধি: আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস উপলক্ষে সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণে নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছে বন বিভাগ। বনে ‘বাঘের কেল্লা’ নির্মাণ ও ক্যামেরা ট্র্যাপের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও গবেষকেরা বলছেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র এখনো উদ্বেগজনক।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুন্দরবনে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন এবং খালের নাব্য হ্রাসের ফলে মিঠাপানির উৎস শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে হরিণসহ তৃণভোজী প্রাণীদের সংখ্যা কমায় বাঘের খাদ্যশৃঙ্খলে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বনজীবী নুর ইসলাম ও হরিনগর এলাকার জেলে আকবর আলী জানান, আগের মতো বনে হরিণ বা বাঘের বিচরণ এখন আর দেখা যায় না। তা ছাড়া বনদস্যু ও চোরাশিকারিদের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় বন্যপ্রাণী শিকারের ঘটনা ঘটছে। শিকারের কারণে বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনে বাঘের বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ায় বাঘ মাঝেমধ্যেই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে, যা মানুষ-বাঘ সংঘাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সাতক্ষীরা উপকূলে বাঘের আক্রমণে ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই কাঠুরে, জেলে ও মৌয়াল।

জাতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. এম মনিরুল এইচ বলেন, বাঘকে শুধু একটি প্রাণী হিসেবে দেখলে হবে না। বাঘ সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের শীর্ষ শিকারি। লবণাক্ততা বাড়া ও মিঠাপানির অভাবের পাশাপাশি মানুষের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বাঘের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তাই পরিবেশ ও স্থানীয়দের জীবিকাÑ সব মিলিয়েই সমন্বিত সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিতে হবে।
বন বিভাগের তথ্যমতে, ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সুন্দরবনে ৬২টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা সুলজ কুমার দ্বীপ বলেন, “মিঠাপানির সংকট দূর করতে বনের ভেতরে কৃত্রিম পুকুর খনন করা হয়েছে। চোরাশিকার প্রতিরোধে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপে বাঘের সংখ্যা কিছুটা বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১২৫টিতে পৌঁছেছে।”

 

 

 

 

 

চিকিৎসকের অবহেলায় যমজ সন্তানের মায়ের জীবন সংকটাপন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসকের অবহেলায় যমজ সন্তানের মায়ের জীবন সংকটাপন্ন

মো. জাবের হোসেন: যমজ সন্তান প্রসবের পর জরায়ুতে গর্ভফুলের (ফুল) অংশবিশেষ রেখেই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেওয়ার চরম অভিযোগ উঠেছে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। পর্যাপ্ত তদারকি ও চিকিৎসার গাফিলতিতে প্রসূতি রিমা খাতুন (১৮) প্রসব-পরবর্তী মারাত্মক রক্তক্ষরণে (সেকেন্ডারি পিপিএইচ) আক্রান্ত হয়েছেন। এতে ইতোমধ্যে তাঁর এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে রিমা নিজেও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। গত ৫ জুলাই সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মেলা বাজারে অবস্থিত তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটে।
মেডিকেল রিপোর্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রসবের পর গর্ভফুল বা প্রসবসংক্রান্ত উপাদান সম্পূর্ণ অপসারণ না করেই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। ফলে জরায়ুতে অবশিষ্ট অংশ থেকে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হতে থাকে এবং তিনি মারাত্মক রক্তস্বল্পতায় (অ্যানিমিয়া) ভোগেন। পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর জরায়ু পরিষ্কার ও রক্ত সঞ্চালন করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রসবের পর প্রসূতির জরায়ু সঠিকভাবে পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেওয়া চরম চিকিৎসাগত অবহেলা, যা রোগীর জীবন বিপন্ন করতে পারতো।
রিমা খাতুনের বাবা শুকুর আলী সরদার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গত ৪ জুলাই তাঁর মেয়ে রিমা ও জামাতা মো. সেলিম খাঁ পরামর্শের জন্য তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে যান। পরদিন ৫ জুলাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিকটির স্বত্বাধিকারী বিধান বাবুর পরামর্শে স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিধান নিজে উপস্থিত থেকে এক নার্সকে দিয়ে এপিসিওটমি (সাইট কাটা) ও সেলাইয়ের কাজ করান। ওই দিনই রিমা দুটি যমজ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
জন্মের পরপরই নবজাতকরা অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাদের খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে ৭ জুলাই রিমা খাতুনকে ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলে তিনিও খুলনায় সন্তানদের কাছে চলে যান। সেখানে পৌঁছানোর পরদিন রিমা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানকার চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, তাঁর জরায়ুতে গর্ভফুলের অংশ রয়ে গেছে। পরে জরুরি চিকিৎসার মাধ্যমে জরায়ু পরিষ্কার করা হয়।
রিমার স্বামী সেলিম খাঁ আক্ষেপ করে বলেন, “ডাক্তারের বদলে ক্লিনিক মালিক নিজে উপস্থিত থেকে নার্সকে দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। এই ভুল চিকিৎসার জন্যই আমার স্ত্রীর আজ এই অবস্থা, আর আমাদের একটি সন্তানও মারা গেছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।”
এদিকে ২৫ জুলাই সকালে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে গেলে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ব্যাপক অসঙ্গতি দেখা যায়। প্রসূতির চিকিৎসায় গাফিলতির চিত্রটি সেখানে পরোক্ষভাবে উঠে আসে। স্বত্বাধিকারী বিধান কখনো নিজেকে ‘মালিক’ আবার কখনো ‘ম্যানেজার’ পরিচয় দেওয়ায় কারণ জানতে চাইলে ম্যানেজার মশিউর রহমান দাবি করেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছি, তাই হয়তো তিনি এমন বলছেন।”
জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হলে প্রসূতির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সাত হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে প্রসূতির পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে, প্রসবের কাজে যুক্ত নার্স রিমা খাতুন পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এছাড়া ছাড়পত্র দেওয়ার পর রোগীর জীবনঝুঁকির কথা জেনেও কেন তাঁর কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি—সে প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেনি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।