শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩

মন্ত্রিসভায় রদবদলের প্রজ্ঞাপন জারি: কে কোন মন্ত্রণালয়ে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ
মন্ত্রিসভায় রদবদলের প্রজ্ঞাপন জারি: কে কোন মন্ত্রণালয়ে

বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রথমবারের মতো রদবদল হয়েছে। নতুন করে শপথ নেওয়া চার পূর্ণ মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। একই সঙ্গে একজন মন্ত্রীর দফতর পরিবর্তন এবং একজন মন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর বিধি ৩(৪) অনুযায়ী জারি করা প্রজ্ঞাপনে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন ও পুনর্বণ্টনের কথা জানানো হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর পর্যায়ক্রমে চার পূর্ণ মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীকে শপথ পড়ান তিনি।

নতুন চার পূর্ণ মন্ত্রী হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী।

নতুন দুই প্রতিমন্ত্রী হলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

কে কোন দায়িত্ব পেলেন

রাষ্ট্রপতি হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান।

প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণ মন্ত্রী হওয়া রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। এতদিন তিনি এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানমকে (রিতা) অন্য একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বান্দরবানের সংসদ সদস্য ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন দীপেন দেওয়ান। পরে তিনি পদত্যাগ করেন। বর্তমানে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতদিন এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন জহির উদ্দিন স্বপন। তাকে মন্ত্রী সমমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা করা হয়েছে।

গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) দায়িত্ব পালন করছেন।

 

নতুন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ে আগে থেকেই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। ফলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দুজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে আছেন খলিলুর রহমান।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব বণ্টন ও পুনর্বণ্টনের এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। আগের প্রজ্ঞাপনের অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকবে।

মন্ত্রিসভায় প্রথম বড় পরিবর্তন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন।

এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল পদত্যাগ করে যথাক্রমে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব নেন। পরে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানও পদত্যাগ করেন।

সবশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও শূন্য হয়।

এসব শূন্যতা ও দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের প্রেক্ষাপটে এবার মন্ত্রিসভায় প্রথম বড় রদবদল হলো। নতুন ছয় সদস্যের দায়িত্ব বণ্টনের পাশাপাশি আফরোজা খানমের দফতর পরিবর্তন এবং জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করার মধ্য দিয়ে মন্ত্রিসভায় এ পরিবর্তন এসেছে।

Ads small one

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাজুর দাফন সম্পন্ন: জানাজায় ক্রিকেটার মোস্তাফিজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাজুর দাফন সম্পন্ন: জানাজায় ক্রিকেটার মোস্তাফিজ

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার আলিমুজ্জামান সাজুর দাফন নিজ গ্রামের বাড়িতে সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার বরেয়া গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর জানাজায় জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় মোস্তাফিজুর রহমানসহ কয়েক শ মানুষ অংশ নেন।
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে ভোমরা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্টে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সাজুর মরদেহ বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

বেলা তিনটার দিকে সাজুর মরদেহবাহী গাড়ি বরেয়া গ্রামে পৌঁছায়। তখন আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন, কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। তবে বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় থাকেননি স্বজন, প্রতিবেশী ও সাধারণ মানুষ। প্রিয় সাজুকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই শত শত মানুষ তাঁর বাড়িতে ছুটে আসেন।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। সাজুকে শেষবারের মতো দেখতে আসা মানুষের চোখেমুখে ছিল গভীর শোকের ছায়া। স্থানীয়রা স্মৃতিচারণ করে বলেন, সাজু ছিলেন সদালাপী, সৎ ও সহজ-সরল স্বভাবের মানুষ। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

বৃষ্টি কিছুটা কমার পর আসরের নামাজ শেষে বাড়ির পাশের মসজিদ প্রাঙ্গণে সাজুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান, তাঁর বাবা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা অংশ নেন। জানাজায় স্থানীয় বিপুলসংখ্যক মানুষও উপস্থিত ছিলেন।

মোস্তাফিজুর রহমানের বাবা আবুল কাশেম গাজী জানান, সাজুর পরিবারের সঙ্গে তাঁদের পারিবারিক আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের টানেই শেষ বিদায়ে তাঁরা উপস্থিত হয়েছিলেন।

জানাজা শেষে সাজুর মরদেহ দাফন করা হয়। স্বজনদের কান্না আর প্রিয়জন হারানোর বেদনার মধ্য দিয়েই শেষ হয় সাজুর শেষ যাত্রা।

এদিকে একই অগ্নিকাণ্ডে নিহত কালিগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবাতি সরকারের মরদেহ পরিবারের অনুরোধে কলকাতাতেই সৎকার করা হয়েছে।

সাতক্ষীরায় ৩ মাসে ১৩৬ জনের অপমৃত্যু ও ৬৮৪টি অপরাধের ঘটনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ৩ মাসে ১৩৬ জনের অপমৃত্যু ও ৬৮৪টি অপরাধের ঘটনা

মানবাধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ
পত্রদূত রিপোর্ট: চলতি বছর মে থেকে জুলাই পর্যন্ত এই তিন মাসে সাতক্ষীরা জেলায় অন্তত ৩৩টি মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে উত্তরণ-ডিএইচআর এনএস প্রকল্পের আওতায় লিগ্যাল সাপোর্ট দেওযা হয়েছে ৫জনকে, চলমান মামলায় সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে ১৭জনকে, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা হয়েছে ৪টি। সাতক্ষীরা জিআরও অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, এই সময়ে জেলার আটটি থানায় ৬৮৪টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। অপরাধগুলোর মধ্যে ডাকাতি ১, ডাকাতির প্রস্তুতি ৩, দস্যুতা ৩, খুন ৯, দ্রুত বিচার আইনে ৫, ধর্ষণ ২১, বিভিন্নভাবে নারী নির্যাতন ৫০, শিশু নির্যাতন ৭, অপহরণ ৬, সিধেল চুরি ১১, গবাদিপশু চুরি ৩, গাড়িচুরি ৩, অন্যান্য চুরি ১৩, সড়ক দুর্ঘটনায় ৫টি মামলা, পর্নোগ্রাফি আইনে ৪টি, সাইবার নিরাপত্তা আইনে ৫টি, অস্ত্র আইনে ৩টি, চোরাচালান আইনে ১২টি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২৫১টি, চেতনানাশক খাতে ৪টি এবং অন্যান্য খাতে ৩৪২টি অপরাধে মামলা হযেছে। এর আগের তিনমাসে জেলায় ৬৩২টি অপরাধে মামলা হয়েছিল। মে মাসে জেলায় নিষ্পত্তিঅন্তে নারী, শিশু, মানবপাচার ও পিটিশন মিলে মোট বিচারাধীন মামলা ছিল ৪হাজার ৩২১টি, জুন মাসে তা ৪হাজার ৩২৭টিতে এবং জুলাই মাসে দাঁড়ায় ৪হাজার ৩৩৭টিতে।
মে থেকে জুলাই এই তিনমাসে জেলায় অপমৃত্যু হয়েছে ১৩৬জনের। এরমধ্যে মে মাসে ৪৯, জুন মাসে ৪৪ এবং জুলাই মাসে ৪৩জনের অপমৃত্যু হয়। একই সময়ে জেলায় আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে ৬৫টি। এরমধ্যে মে মাসে ২৬, জুন মাসে ২২ এবং ১৭ জনের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন-(এমএসএফ) এর সহযোগিতায় উত্তরণ-ডিএইচআরএনএস প্রকল্পের আওয়াতায় শনিবার বিকেলে ত্রৈমাসিক সভায় এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এমএসএফ-এর সেক্রেটারিয়েল সাপোর্ট স্টাফ অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মুনিরুদ্দীন এই রিপোর্ট পেশ করেন।
সাতক্ষীরার ম্যানগোভ সভা কক্ষে সাতক্ষীরা ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের এডভোকেসী ডায়লগ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিস্টিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক এর আহবায়ক এড. আবুল কালাম আজাদ। তিনি স্বাগত বক্তব্যে সাতক্ষীরার মানবাধিকার বিষয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত হয়ে ধারনাপত্র উপস্থাপনসহ এইচ আরডি নেটওয়ার্কের করণীয় বিষয়ে দিক নির্দেশনামুলক বক্তব্য প্রদান করেন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন এর সমন্বয়কারী সোফিয়া হাসিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদান করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ পরিচালক নাজমুন নাহার, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের মনিটরিং অফিসার সাহিদ মাহফুজ। অতিথি হিসাবে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদান করেন এইচ আর ডি নেটওয়ার্কের যুগ্ম আহবায়ক মাধব চন্দ্র দত্ত, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসার আব্দুল হামিদ, অধ্যক্ষ পবিত্র মোহন সরকার, সিনিয়র সাংবাদিক কল্যান ব্যানার্জী, জার্নালিস্ট এইচ আরডি নেটওয়ার্কেও সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, অধ্যক্ষ এ আর এম মোবাশ্বেরুল হক জ্যোতি। এ ছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন নারী নেত্রী সাবেক কাউন্সিল ফরিদা আক্তার বিউটি, প্রভাষক এড. নাজমুন নাহার ঝুমুর, এড. খায়রুল বদিউজ্জামান, এড বিপ্লব হোসেন, এড. ফারজানা ইয়াসমিন লিমা, নাগরিক কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আলি নুর খান বাবুল, যুব এইচ আর ডি নেটওয়ার্কেও আহবায়ক সালা উদ্দিন রানা, সাকিবুর রহমান বাবলা, সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক হোসেন আলী, সাইবার ট্রাইবুলালের সদস্য মাহবুবর রহমান, ভুমিহীন নেতা জনাব আব্দুস সামাদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতির স্বাগত বক্তব্য ও প্রধান অতিথির ধারনা পত্র উপস্থাপনের পর নেটওয়র্কেরসদস্য সচিব বিগত ৩ মাসে ঘটে যায়া ঘটনার উপর রিপোর্ট পেশ করা হয়। সভায় ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস নেটওয়াক কর্তৃক অর্জনকৃত রিপোর্ট এবং সাতক্ষীরা বিভিন্নভাবে নিরীহ ও সাধারণ মানুষকে হয়রানী ও নির্যাতনের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তুলে ধরা হয়।
প্রধান অতিথি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমান মানবাধিকরা পরিস্থিতি আমাদের কাজকে আরও গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরী করে তুলেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার তথ্য অনুযায়ী রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনী, সংখ্যালঘু নির্য়াতন অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার, এবং নারীর প্রতি সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের এপিল মে জুন ৩ মাসে মবের মাধ্যমে ১৯৬টি ঘটনায় ৮৬ জন নিহত এবং ২৪৬জন আহত হয়েছেন। একইভাবে সংখ্যালঘু জনগোষ্ট্রির উপর ধারাবাহিক হামলা এবং সহিংসতার ঘটনাও আমাতের গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। এ ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ককে মানবাধিকার লঙ্ঘন মনিররিং, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট করা, প্রতিবাদ সংগঠিত করতে হবে। অভিযুক্তের শাস্তি নিশ্চিত করা, ভিকটিম সাপোর্ট করা, এবং এডভোকেসী প্রসাশসনের সাথে সমন্বয় করা। মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি ঘটনা শুধুমাত্র একটি সংখ্যা নয় এটি একটি মানুষের জীবন, একটি পরিবারের কষ্ট, একটি সমাজের ব্যর্থতা রাষ্ট্রের অযোগ্যতা প্রমান করে। সেকারণে এ থেকে উদ্ধার হতে সকলেই মিলে একসাথে কাজ করতে হবে। এছাড়া অন্যন্য বক্তারা বলেন; সাতক্ষীরার মানবাধিকার পরিস্থিতি ও করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করেন। বিশেষ করে সাতক্ষীরা জজ কোর্টের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নিযৃাতন দমন ট্যাইবুনালে দিঘ্যদিন বিজ্ঞ বিচারক না থাকায় নারী ও শিশু অপরাধ মামলা ফাইলিং হচ্ছে না, বিচার কার্যক্রম ও ব্যহত হওয়ায় বহু নারীরা অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে। এবিষয়ে হাউজের সর্ব সম্মতিক্রমে আাগামী ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জজ কোর্টেও সামনে মানববন্ধনসহ সিনিয়র জেলা ও দায় জজ সাহেবের নিকট স্মরকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
সভায় স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় খবরের সূত্র তুলে ধরে বলা হয়Ñ সাতক্ষীরা জেলায় মে থেকে জুলাইÑএই তিন মাসে মোট ৬৮ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি আহত এবং সুন্দরবনে মাছ ধরার সময় মুক্তিপণের দাবিতে ৩২ জন জেলে অপহরণের শিকার হয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠন ‘উত্তরণ’-এর ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক (ডিএইচআরএনএস) প্রকল্প থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। আঞ্চলিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে তৈরি তথ্য বিবরণীতে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার এই চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, তিন মাসে সর্বাধিক ১৫টি হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মে মাসে ৩টি, জুনে ৫টি এবং জুলাইয়ে ৭টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত করা হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন (মে মাসে ৪ জন ও জুলাইয়ে ২ জন)। আত্মহত্যা ও মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে ৯টি। এ ছাড়া বজ্রপাত ও ঝড়ে ৮ জন এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন ৭ জন। পানিতে ডুবে ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে জুলাই মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ৫ জন। এ ছাড়া সাপের কামড়, ভীমরুলের আক্রমণ ও বিদেশে ড্রোন হামলায় মৃত্যু মিলিয়ে ৬ জনের প্রাণহানি নথিভুক্ত হয়। গাছ ও ছাদ থেকে পড়ে ৫ জন, কারাগারে ১ জন, পিলার ও দেয়াল চাপায় ১ জন এবং বমি করে অস্বাভাবিকভাবে ১জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে সীমান্ত ও সামগ্রিক নিরাপত্তার চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, জুন মাসে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক আহত হন। অন্যদিকে সুন্দরবন অঞ্চলে মে থেকে জুলাই—এই তিন মাসে মাছ ধরার সময় মুক্তিপণের দাবিতে ডাকাতদের হাতে ৩২ জন জেলে অপহরণের শিকার হয়েছেন। তথ্য বিবরণী বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলায় প্রতি মাসে গড়ে ২২টির বেশি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এইচ আর ডি নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব এড. মুনিরুদ্দীন।

ধুলিহরে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না রিয়াজুলের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
ধুলিহরে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না রিয়াজুলের

এসএম বিপ্লব হোসেন: বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশের মানুষের সেবা করার স্বপ্ন ছিল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের বয়ারবাতান গ্রামের মেধাবী তরুণ রিয়াজুল ইসলামের। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ২৭ বছর বয়সেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন এই স্বপ্নবান তরুণ। মাত্র ৯ মাস আগে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া রিয়াজুলের অকালমৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, বন্ধু ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
রিয়াজুল ইসলাম বয়ারবাতান গ্রামের সমশের আলী গাজীর ছেলে। কয়েক দিন ধরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনি ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
রিয়াজুলের বন্ধু ও স্বাস্থ্য সহকারী আফজাল হোসেন জানান, তারা একই সঙ্গে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। ২০২৩ সালে তাদের মাস্টার্স সম্পন্ন হয়। এরপর রিয়াজুল ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দেন। তবে তার মূল স্বপ্ন ছিল প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেওয়া। একবার বিসিএস পরীক্ষায় অংশও নিয়েছিলেন তিনি। সামনে আবার বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
রিয়াজুলের বড় ভাই আক্তারুল ইসলাম আক্তার জানান, কয়েক দিন ধরে তার ভাই ডেঙ্গুতে ভুগছিলেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
পরিবার ও স্বজনরা জানান, রিয়াজুল ছিলেন মেধাবী, শিক্ষিত ও স্বপ্নবান একজন তরুণ। সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে মানুষের সেবা করার প্রবল ইচ্ছা ছিল তার। প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি নিয়মিত বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু ডেঙ্গুর কাছে হার মেনে অকালেই থেমে গেল তার সেই স্বপ্নযাত্রা।
প্রায় ৯ মাস আগে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন রিয়াজুল ইসলাম। সংসারজীবনের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তার এমন মৃত্যুতে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা শোকে ভেঙে পড়েছেন। মৃত্যুকালে তিনি বাবা-মা, স্ত্রী, ভাই, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) বাদ জোহর বয়ারবাতান গ্রামের বাড়িতে রিয়াজুল ইসলামের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, বন্ধু, সহপাঠী ও স্বজনরা অংশ নেন।
রিয়াজুলের অকালমৃত্যুতে পরিবার, বন্ধু, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও বন্ধুদের আক্ষেপ, যে তরুণ প্রশাসন ক্যাডার হয়ে দেশ ও মানুষের সেবার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ডেঙ্গু কেড়ে নিল তার সেই স্বপ্ন, থামিয়ে দিল সম্ভাবনাময় একটি জীবনের পথচলা।