কালিগঞ্জে ক্লিনিকে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ
সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা সদরের এআই ক্লিনিকে কোনো বিশেষজ্ঞ অবেদনবিদ (অ্যানেস্থেটিস্ট) ছাড়াই অস্ত্রোপচার করার সময় সাবিনা খাতুন (২৫) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত সাবিনা খাতুন কালিগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের কওছার আলীর স্ত্রী।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় সন্তান প্রসবের জন্য স্থানীয় চিকিৎসক রেজাউল ইসলামের পরামর্শে সাবিনাকে কালিগঞ্জের এআই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ১৫ হাজার টাকায় চুক্তির পর চিকিৎসক তানিয়া সুলতানা অস্ত্রোপচার করবেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সজীব অবেদনবিদ হিসেবে থাকবেন বলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানায়।
স্বজনদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে অবেদনবিদ না এনে চিকিৎসক তানিয়া সুলতানা নিজেই প্রসূতিকে অবশ করার ওষুধ প্রয়োগ করেন এবং অস্ত্রোপচার শুরু করেন। এতে প্রসূতি দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তালা ঝুলিয়ে সটকে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় একটি মহলের মধ্যস্থতায় ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি সুরাহা করা হয়। ফলে পুলিশি বাধ্যবাধকতা থাকলেও ময়নাতদন্ত ছাড়াই প্রসূতির মরদেহ তড়িঘড়ি দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে চিকিৎসক তানিয়া সুলতানা নিজের পরিচয় অস্বীকার করে ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। ক্লিনিকের মালিক শাহাবুদ্দিনও তাঁর ক্লিনিকে কোনো রোগীর মৃত্যুর কথা অস্বীকার করেন।
তবে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডালিয়া আক্তার জানান, হাসপাতালে আনার আগেই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছিল। বিষয়টি থানাকে অবহিত করা হয়েছিল।
অন্যদিকে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকেরা জানান, খবর পেয়ে ক্লিনিকে লোক পাঠানো হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় এবং স্থানীয় একটি পক্ষের তদ্বিরের কারণে তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।






