মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

মাইক্রোপ্লাস্টিক ও আমাদের সন্তানদের দাঁত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ণ
মাইক্রোপ্লাস্টিক ও আমাদের সন্তানদের দাঁত

আখলাকুর রহমান

ধরুন একটি সকাল। শীতের কুয়াশা তখনও কাটেনি সম্পূর্ণ। আপনার ছোট্ট সন্তানটি ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে গিয়েছে, প্রতিদিনের মতোই ব্রাশ হাতে নিয়েছে, টুথপেস্ট লাগিয়েছে, দাঁত মেজেছে। আপনি রান্নাঘরে ব্যস্ত, চা বসিয়েছেন, ভাবছেন আজকের দিনটা কেমন যাবে। কিছুদিন পর লক্ষ করলেন সন্তানটির পেটে মাঝেমধ্যেই ব্যথা হয়, খাবারে অরুচি, কখনো কখনো ত্বকে র‌্যাশ দেখা দেয়। ডাক্তারের কাছে ছোটাছুটি করলেন। নানারকম পরীক্ষা হলো। শেষে যে কারণটি বের হলো তা শুনে আপনি হয়তো বিশ্বাসই করতে পারবেন না প্রথমে। ডাক্তার বললেন, প্রতিদিন সকালে যে টুথপেস্টটি সে ব্যবহার করছে, তার ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য শত্রু। নাম তার মাইক্রোপ্লাস্টিক।

এই গল্পটি কল্পনা নয়। আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, প্রতিদিন সকালে ও রাতে যে পেস্টটুকু আপনি নিজের ও সন্তানের ব্রাশে তুলে দিচ্ছেন, তার ভেতরে আসলে কী আছে? সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে বাজারে প্রচলিত অসংখ্য টুথপেস্টে অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মিশে থাকে, যাদের বলা হয় মাইক্রোবিডস বা মাইক্রোপ্লাস্টিক। এই কণাগুলো এত ছোট যে খালি চোখে দেখা যায় না, অথচ প্রতিদিন দুবেলা এগুলো আমাদের মুখগহ্বরে প্রবেশ করছে, রক্তে মিশছে, শরীরের ভেতরে জমা হচ্ছে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তখনও পূর্ণাঙ্গভাবে গড়ে ওঠেনি।

মাইক্রোপ্লাস্টিক আসলে কী, আর কেন তা এত বিপজ্জনক?
মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো পাঁচ মিলিমিটারের চেয়েও ছোট প্লাস্টিক কণা। টুথপেস্ট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একসময় দাঁত পরিষ্কারের ক্ষমতা বাড়াতে এবং টুথপেস্টের গঠন আকর্ষণীয় করতে এই পলিইথিলিন কণা ব্যবহার শুরু করেছিল। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, যে জিনিস আমরা খাই না অথচ প্রতিদিন মুখে নিয়ে কুলকুচি করি, তা যদি অংশত গিলেই ফেলি, তবে কী হতে পারে? গবেষকরা দেখেছেন এই কণাগুলো দাঁতের ফাঁকে, মাড়ির কিনারে আটকে মাড়ির প্রদাহ ঘটায়, দাঁতের ক্ষয় বাড়িয়ে দেয়। গিলে ফেলা কণাগুলো পাকস্থলীতে গিয়ে হজমে ব্যাঘাত ঘটায়, অন্ত্রের স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করে। দীর্ঘমেয়াদে এই প্লাস্টিক কণা হরমোনজনিত সমস্যা, প্রদাহজনিত রোগ, এমনকি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণ হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

শিশুরা প্রতিদিন গড়ে দুবার ব্রাশ করে, বছরে প্রায় সাতশো বার। এই সাতশো বারের প্রতিবারে সামান্য পরিমাণ প্লাস্টিক যদি শরীরে প্রবেশ করে, বছর শেষে তার পরিমাণটা কি সত্যিই নগণ্য থাকে? আমরা যারা অভিভাবক, আমরা প্রতিদিন সন্তানকে যতœ করে খাওয়াই, রোদ থেকে বাঁচাই, অসুখ হলে ছুটে যাই ডাক্তারের কাছে, তবে প্রতিদিন সকালে যে টিউব থেকে পেস্ট বের করে দিচ্ছি সন্তানের ব্রাশে, তার উপাদান নিয়ে আমরা কি কখনো প্রশ্ন তুলেছি?

উত্তরটা হলো, না। মানুষ বহু হাজার বছর ধরে দাঁতের পরিচর্যা করে আসছে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে। প্রাচীন মিশরীয়রা প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে এক ধরনের গুঁড়ো তৈরি করত, যাতে থাকত ষাঁড়ের খুরের ছাই, পোড়া ডিমের খোসা এবং ঝামা পাথরের গুঁড়ো। প্রাচীন গ্রিক ও রোমানরা দাঁত পরিষ্কারের জন্য ব্যবহার করত হাড়ের গুঁড়ো এবং ঝিনুকের খোসা। ভারতীয় উপমহাদেশে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাশাস্ত্রে নিম, বাবলা এবং বিভিন্ন গাছের ছাল দিয়ে দাঁত মাজার প্রচলন ছিল বহু শতাব্দী ধরে।
তাহলে মাইক্রোপ্লাস্টিক কীভাবে ঢুকে পড়ল আমাদের দৈনন্দিন জীবনে?

আধুনিক টুথপেস্টের যাত্রা শুরু হয় উনিশ শতকে, চক পাউডার, সাবান ও নানারকম প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ফ্লোরাইড যুক্ত হলো, দাঁতের ক্ষয় রোধে যা কার্যকর প্রমাণিত হলো। কিন্তু এরপর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো টুথপেস্টকে করে তুলল আরও রঙিন, আরও সুগন্ধি, আরও চকচকে। প্রশ্ন হলো, এই চকচকে ভাব আনতে গিয়ে আমরা কি আসলে স্বাস্থ্যের বিনিময়ে সৌন্দর্য কিনে নিলাম?

আমাদের দাদা পরদাদার আমলে টুথপেস্টের প্রচলন ছিল না বললেই চলে। গ্রামবাংলার মানুষ দাঁত মাজত নিমের ডাল দিয়ে। ভোরবেলা উঠে নিমগাছ থেকে একটি সরু ডাল ভেঙে তার আগা চিবিয়ে ব্রাশের মতো তৈরি করে দাঁত মাজতেন তারা। নিমের রয়েছে প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক গুণ, যা মুখগহ্বরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করত। অনেকে ব্যবহার করতেন কাঠ কয়লার গুঁড়ো, যা দাঁতের হলদেটে দাগ তুলতে সাহায্য করত। কেউ কেউ সরিষার তেলের সঙ্গে সামান্য লবণ মিশিয়ে আঙুল দিয়ে মাড়িতে মালিশ করতেন, যা মাড়ি শক্ত করত এবং দাঁতের গোড়া মজবুত রাখত।

মধ্যপ্রাচ্যে এবং মুসলিম বিশ্বে বহু শতাব্দী ধরে প্রচলিত ছিল মেসওয়াক বা দাঁতনের ব্যবহার। আরাক গাছের শিকড় বা ডাল থেকে তৈরি এই মেসওয়াকে প্রাকৃতিকভাবেই থাকে ফ্লোরাইড, ট্যানিন এবং জীবাণুনাশক উপাদান। তাহলে প্রশ্ন জাগে, আধুনিক বিজ্ঞান যে ফ্লোরাইডকে টুথপেস্টে রাসায়নিকভাবে যোগ করছে, তা কি প্রকৃতি বহু আগেই একটি সাধারণ গাছের ডালে দিয়ে রেখেছিল?

তবে কি আমাদের পূর্বপুরুষদের দাঁত সত্যিই বেশি মজবুত ছিল?
প্রবীণদের মুখে এখনো শোনা যায়, আশি নব্বই বছর বয়সেও তাদের বাবা দাদারা শক্ত সুপারি চিবিয়ে খেতেন, দাঁত পড়ত না সহজে। তাহলে কারণটা কী? শুধুই প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার, নাকি তাদের খাদ্যাভ্যাসও এর পেছনে ভূমিকা রেখেছিল? চিনিযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার তখন ছিল না বললেই চলে, আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া হতো, যা দাঁত ও মাড়ি প্রাকৃতিকভাবে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করত।

প্রশ্ন হলো, আমরা কি আবার সম্পূর্ণভাবে সেই পুরনো অভ্যাসে ফিরে যাব? বাস্তবতা হলো আধুনিক জীবনযাত্রায় সম্পূর্ণভাবে ফিরে যাওয়া কঠিন, তবে কিছু অভ্যাস কি আমরা চাইলেই মিশিয়ে নিতে পারি না দৈনন্দিন জীবনে? বাজারে এখন মাইক্রোপ্লাস্টিকমুক্ত টুথপেস্ট পাওয়া যায়, প্যাকেটের গায়ে খুঁজে দেখা যেতে পারে পলিইথিলিন বা মাইক্রোবিড উপাদান আছে কিনা। সপ্তাহে দুই একদিন নিমের ডাল বা মেসওয়াক ব্যবহার করলে কি ঐতিহ্যকে ধরে রাখার পাশাপাশি মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যও রক্ষা করা যায় না? শিশুদের ছোটবেলা থেকেই আঁশযুক্ত ফলমূল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস করানো গেলে তাদের দাঁত ও মাড়ি কি স্বাভাবিকভাবেই মজবুত থাকবে না?

আমরা যা কিছু আমাদের সন্তানের মুখে তুলে দিচ্ছি, তার প্রতিটি উপাদান সম্পর্কে জানার অধিকার কি আমাদের নেই? টুথপেস্টের প্যাকেটের গায়ে লেখা উপাদানের তালিকাটুকু কি একবার পড়ে দেখা যায় না? শুধু বিজ্ঞাপনের চাকচিক্যে মুগ্ধ না হয়ে প্রশ্ন তোলা কি উচিত নয়, এই পেস্ট আসলে কী দিয়ে তৈরি?

সেই সকালের গল্পে ফিরে আসি। যে মা তার সন্তানের অসুখের কারণ খুঁজে পেয়েছিলেন টুথপেস্টে, তিনি সেদিন থেকে বদলে ফেলেছিলেন তাদের দৈনন্দিন অভ্যাস। ঘরে ফিরিয়ে এনেছিলেন নিমের ডাল, বেছে নিয়েছিলেন সতর্কতার সঙ্গে টুথপেস্ট। প্রকৃতি আমাদের যা দিয়েছে, তা কি সত্যিই ফেলনা? আধুনিকতাকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান নয়, বরং প্রাচীন প্রজ্ঞা আর বর্তমান বিজ্ঞানকে একসঙ্গে মিলিয়ে চলাই কি হতে পারে না প্রকৃত সমাধান? আমাদের সন্তানদের জন্য এই সচেতনতা আজই কি জরুরি নয়, কালকের অপেক্ষায় থাকলে হয়তো দেরি হয়ে যাবে বলে?

লেখক : একজন উদ্যোক্তা

Ads small one

ঢাকায় রমিজ হত্যা মামলায় নজরুল ইসলাম কারাগারে, রিমান্ড শুনানি আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় রমিজ হত্যা মামলায় নজরুল ইসলাম কারাগারে, রিমান্ড শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিনিধি: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কারওয়ান বাজার এলাকায় এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাঁর রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত এ আদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ রেজা।
এর আগে সোমবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাঁকে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন আহমেদ রূপ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। তবে মঙ্গলবার তিনি আদালতে উপস্থিত না থাকায় বিচারক রিমান্ড শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট কারওয়ান বাজার এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন রূপ। বিকেলবেলা মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে আসামিদের ছোড়া গুলি তাঁর ডান চোখে লাগে। আন্দোলনকারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে কাঁঠালবাগানের একটি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত রূপের বাবা এ কে এম রকিবুল আহম্মেদ তেজগাঁও থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যসংকটে সুন্দরবনের বাঘ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যসংকটে সুন্দরবনের বাঘ

নিজস্ব প্রতিনিধি: আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস উপলক্ষে সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণে নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছে বন বিভাগ। বনে ‘বাঘের কেল্লা’ নির্মাণ ও ক্যামেরা ট্র্যাপের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও গবেষকেরা বলছেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র এখনো উদ্বেগজনক।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুন্দরবনে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন এবং খালের নাব্য হ্রাসের ফলে মিঠাপানির উৎস শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে হরিণসহ তৃণভোজী প্রাণীদের সংখ্যা কমায় বাঘের খাদ্যশৃঙ্খলে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বনজীবী নুর ইসলাম ও হরিনগর এলাকার জেলে আকবর আলী জানান, আগের মতো বনে হরিণ বা বাঘের বিচরণ এখন আর দেখা যায় না। তা ছাড়া বনদস্যু ও চোরাশিকারিদের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় বন্যপ্রাণী শিকারের ঘটনা ঘটছে। শিকারের কারণে বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনে বাঘের বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ায় বাঘ মাঝেমধ্যেই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে, যা মানুষ-বাঘ সংঘাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সাতক্ষীরা উপকূলে বাঘের আক্রমণে ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই কাঠুরে, জেলে ও মৌয়াল।

জাতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. এম মনিরুল এইচ বলেন, বাঘকে শুধু একটি প্রাণী হিসেবে দেখলে হবে না। বাঘ সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের শীর্ষ শিকারি। লবণাক্ততা বাড়া ও মিঠাপানির অভাবের পাশাপাশি মানুষের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বাঘের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তাই পরিবেশ ও স্থানীয়দের জীবিকাÑ সব মিলিয়েই সমন্বিত সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিতে হবে।
বন বিভাগের তথ্যমতে, ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সুন্দরবনে ৬২টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা সুলজ কুমার দ্বীপ বলেন, “মিঠাপানির সংকট দূর করতে বনের ভেতরে কৃত্রিম পুকুর খনন করা হয়েছে। চোরাশিকার প্রতিরোধে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপে বাঘের সংখ্যা কিছুটা বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১২৫টিতে পৌঁছেছে।”

 

 

 

 

 

চিকিৎসকের অবহেলায় যমজ সন্তানের মায়ের জীবন সংকটাপন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসকের অবহেলায় যমজ সন্তানের মায়ের জীবন সংকটাপন্ন

মো. জাবের হোসেন: যমজ সন্তান প্রসবের পর জরায়ুতে গর্ভফুলের (ফুল) অংশবিশেষ রেখেই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেওয়ার চরম অভিযোগ উঠেছে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। পর্যাপ্ত তদারকি ও চিকিৎসার গাফিলতিতে প্রসূতি রিমা খাতুন (১৮) প্রসব-পরবর্তী মারাত্মক রক্তক্ষরণে (সেকেন্ডারি পিপিএইচ) আক্রান্ত হয়েছেন। এতে ইতোমধ্যে তাঁর এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে রিমা নিজেও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। গত ৫ জুলাই সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মেলা বাজারে অবস্থিত তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটে।
মেডিকেল রিপোর্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রসবের পর গর্ভফুল বা প্রসবসংক্রান্ত উপাদান সম্পূর্ণ অপসারণ না করেই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। ফলে জরায়ুতে অবশিষ্ট অংশ থেকে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হতে থাকে এবং তিনি মারাত্মক রক্তস্বল্পতায় (অ্যানিমিয়া) ভোগেন। পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর জরায়ু পরিষ্কার ও রক্ত সঞ্চালন করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রসবের পর প্রসূতির জরায়ু সঠিকভাবে পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেওয়া চরম চিকিৎসাগত অবহেলা, যা রোগীর জীবন বিপন্ন করতে পারতো।
রিমা খাতুনের বাবা শুকুর আলী সরদার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গত ৪ জুলাই তাঁর মেয়ে রিমা ও জামাতা মো. সেলিম খাঁ পরামর্শের জন্য তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে যান। পরদিন ৫ জুলাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিকটির স্বত্বাধিকারী বিধান বাবুর পরামর্শে স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিধান নিজে উপস্থিত থেকে এক নার্সকে দিয়ে এপিসিওটমি (সাইট কাটা) ও সেলাইয়ের কাজ করান। ওই দিনই রিমা দুটি যমজ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
জন্মের পরপরই নবজাতকরা অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাদের খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে ৭ জুলাই রিমা খাতুনকে ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলে তিনিও খুলনায় সন্তানদের কাছে চলে যান। সেখানে পৌঁছানোর পরদিন রিমা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানকার চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, তাঁর জরায়ুতে গর্ভফুলের অংশ রয়ে গেছে। পরে জরুরি চিকিৎসার মাধ্যমে জরায়ু পরিষ্কার করা হয়।
রিমার স্বামী সেলিম খাঁ আক্ষেপ করে বলেন, “ডাক্তারের বদলে ক্লিনিক মালিক নিজে উপস্থিত থেকে নার্সকে দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। এই ভুল চিকিৎসার জন্যই আমার স্ত্রীর আজ এই অবস্থা, আর আমাদের একটি সন্তানও মারা গেছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।”
এদিকে ২৫ জুলাই সকালে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে গেলে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ব্যাপক অসঙ্গতি দেখা যায়। প্রসূতির চিকিৎসায় গাফিলতির চিত্রটি সেখানে পরোক্ষভাবে উঠে আসে। স্বত্বাধিকারী বিধান কখনো নিজেকে ‘মালিক’ আবার কখনো ‘ম্যানেজার’ পরিচয় দেওয়ায় কারণ জানতে চাইলে ম্যানেজার মশিউর রহমান দাবি করেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছি, তাই হয়তো তিনি এমন বলছেন।”
জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হলে প্রসূতির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সাত হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে প্রসূতির পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে, প্রসবের কাজে যুক্ত নার্স রিমা খাতুন পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এছাড়া ছাড়পত্র দেওয়ার পর রোগীর জীবনঝুঁকির কথা জেনেও কেন তাঁর কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি—সে প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেনি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।