বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

মুক্তমত: সামেক হাসপাতাল কী এখন বহিরাগতদের দাদাগিরির হাট!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
মুক্তমত: সামেক হাসপাতাল কী এখন বহিরাগতদের দাদাগিরির হাট!

মোহাম্মদ মুজাহিদ
একটি হাসপাতাল মানে মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল যেখানে জীবন বাঁচানোর লড়াই চলে, যেখানে কান্না আর আশার মিশেলে গড়ে ওঠে মানবতার এক অনন্য ক্ষেত্র। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (সামেক) কি এখনও সেই মানবতার জায়গা ধরে রাখতে পেরেছে? নাকি এটি ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্যের এক ভয়ংকর আস্তানায়?
সাম্প্রতিক সময়ে বারবার অভিযোগ উঠছে একটি সংঘবদ্ধ বহিরাগত চক্র হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে চিকিৎসা কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করছে, রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে, এমনকি চিকিৎসকদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে এই ধরনের অরাজকতা শুধু অনাকাক্সিক্ষতই নয়, বরং চরম উদ্বেগজনক।
প্রশ্ন হলো এই সাহস তারা পায় কোথা থেকে? কার ছত্রচ্ছায়ায় এরা এতটা বেপরোয়া?
প্রতিদিন অসহায় রোগীরা যখন সেবা নিতে আসে, তখন তাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে এই তথাকথিত বহিরাগতদের দম্ভ। কখনো তারা রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে, কখনো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় অযাচিত হস্তক্ষেপ করছে। ফলে চিকিৎসা পরিবেশ হয়ে উঠছে ভয়ংকরভাবে অনিরাপদ। একজন চিকিৎসক যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারেন, তাহলে সেই হাসপাতাল থেকে জনগণ কীভাবে মানসম্মত চিকিৎসা আশা করবে?
এ যেন এক নীরব দখলদারিত্ব, যেখানে হাসপাতালের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ নয়, বরং কিছু অজ্ঞাত পরিচয়ের লোকজনই নিয়ন্ত্রণ করছে পুরো পরিবেশ। এই অবস্থা চলতে থাকলে খুব শিগগিরই সামেক হাসপাতাল তার আস্থা ও সুনাম সম্পূর্ণভাবে হারাবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
প্রথমত, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু গেটে প্রহরী বসালেই দায়িত্ব শেষ নয় কারা ঢুকছে, কেন ঢুকছে, কতক্ষণ অবস্থান করছে এসব বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত, প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। যারা বহিরাগত পরিচয়ে হাসপাতালের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী পরিচয় এখানে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
তৃতীয়ত, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, চোখের সামনে ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ নীরব থাকে এই নীরবতাই দুষ্টচক্রকে আরও বেপরোয়া করে তোলে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
চতুর্থত, সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। কারণ এই হাসপাতাল সবার এটি কোনো গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। হাসপাতাল কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়, এটি মানুষের জীবন বাঁচানোর জায়গা। এখানে যদি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি আর দখলদারিত্ব চলতে থাকে, তাহলে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য এক ভয়ংকর সংকেত। সময় এসেছে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার। নইলে একদিন এই হাসপাতালের করিডোরে চিকিৎসার চেয়ে আতঙ্কই বেশি প্রতিধ্বনিত হবে। (এটা সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব অভিমত)। লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

 

Ads small one

‘ধর্মান্ধতা’ নাকি ‘ক্রীড়া-সংস্কৃতির বিকাশ’: জেলা প্রশাসকের মন্তব্য ঘিরে সাতক্ষীরায় যা হচ্ছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
‘ধর্মান্ধতা’ নাকি ‘ক্রীড়া-সংস্কৃতির বিকাশ’: জেলা প্রশাসকের মন্তব্য ঘিরে সাতক্ষীরায় যা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাউসার আজিজের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জেলার কয়েকটি ধর্মভিত্তিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৫টায় সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আলাউদ্দিন চত্বর (নিউমার্কেট মোড়) এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

‘ওলামা মাশায়েখ পরিষদ’ ও ‘বাংলাদেশ মজলিসুন মুফাসসিরীন’ নামের দুটি সংগঠনের ব্যানারে শতাধিক মুসল্লি এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী এবং সঞ্চালনা করেন রুস্তম আলী তাওহিদী। এতে বক্তব্য দেন মাওলানা ওসমান গনি, মুহাদ্দিস ওবায়দুল্লাহ, হাফেজ মাওলানা মনিরুল ইসলাম বেলালী, হাফেজ মাওলানা শাহাদাত হুসাইন, মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা আমিনুর রহমান, মাওলানা আফজাল হোসেন জিহাদী, মাওলানা তরিকুল ইসলাম জিহাদী ও হাফেজ আরিফুল ইসলাম আজাদীসহ অন্যান্যরা।

 

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল বারী অভিযোগ করে বলেন, সাতক্ষীরাবাসীকে ‘ধর্মান্ধ’ আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা জেলার মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। জেলা প্রশাসক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হয়েও একটি খেলার অনুষ্ঠানে কেন এমন মন্তব্য করলেন, তা বোধগম্য নয়। সাতক্ষীরার চারজন সংসদ সদস্যই ইসলামপ্রিয় হওয়ার কারণেই কি তিনি এমন কথা বলেছেনÑএমন প্রশ্ন তুলে বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

 

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ সাংবাদিকদের জানান, সরকারের নীতির আলোকে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাই তিনি কেবল তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা শান্তি-অশান্তির বিষয় নেই।

 

সেই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের মূল বক্তব্য ছিল, “আমি বারবার সব জায়গায় বলছি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে এগিয়ে নিতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকাতেও খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকা- ছড়িয়ে দিতে হবে। আপনারা যারা ক্রীড়ামোদী ও ক্রীড়া সংগঠক আছেন, তারা ক্রীড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকা- নিয়ে কাজ করবেন। অনেকেই বলে সাতক্ষীরায় যে ধর্মান্ধতা চলে এসেছে, তাহলে সেটা আর বলবে না।”

 

তবে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওতে “অনেকেই বলে” শব্দটি পাওয়া যায়নি।

 

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৪ জুন বুধবার বিকেলে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জেলা প্রশাসকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কিছু অনলাইন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। জেলা প্রশাসক ‘ধর্মান্ধ’ শব্দটি কোনো ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে হেয় করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেননি। বরং খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকা-ের প্রসারের গুরুত্ব তুলে ধরতেই তিনি এই মন্তব্য করেন। বক্তব্যের আংশিক ও বিকৃত উপস্থাপনার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে, যা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী। জেলা বিএনপি এ ধরনের অপপ্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সবাইকে বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানায়।

 

পাশাপাশি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দও জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।

 

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নতুন কমিটির এক সভায় তিনি নিজেই বলেছিলেন যে, অন্ধকারাচ্ছন্ন সাতক্ষীরা থেকে মুক্তি পেতে হলে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন, ক্রীড়াঙ্গন, যাত্রা ও গান-বাজনাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকা-কে বিকশিত করতে হবে। ওই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক সভাপতিত্ব করলেও সেখানে বিতর্কিত কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ডিসি মূলত একই দৃষ্টিভঙ্গির আলোকেই কথা বলেছিলেন।

 

হাবিবুল ইসলাম হাবিব আরও বলেন, অতীতে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সাতক্ষীরার রাজনৈতিক পরিবেশকে ভিন্নমুখী করার চেষ্টা করেছে। বর্তমান সরকার ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়। অতীতে জেলা প্রশাসক ও কেবিনেট সেক্রেটারির সহায়তায় ভোট কেটে সাতক্ষীরায় এমপি জেতানো হয়েছিল, যারা সাতক্ষীরাকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যেতে চান এবং এখন পরিবেশ ঘোলা করার চেষ্টা করছেন। জামায়াত এসব চাইলেই হবে না, সরকারে এখন বিএনপি রয়েছে।

ধর্মান্ধতা ও ধর্মহীনতার রুপরেখা এবং বর্তমান বাস্তবতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ
ধর্মান্ধতা ও ধর্মহীনতার রুপরেখা এবং বর্তমান বাস্তবতা

মুহাদ্দিস ওবায়দুল্লাহ

ধর্মান্ধতা ও ধর্মহীনতার রুপরেখা এবং ধর্মনিষ্ঠার ব্যাপারে মুহাম্মদ (সা.) দর্শন: আল্লাহ তায়ালা আল কুরআনে অত্যন্ত দ্ব্যার্থহীন ও স্পষ্ট ভাষায় সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেকটি সামাজিক ব্যধির নিরোসনকল্পে চমকপ্রদ ও ত্রুটিহীন বিধি-বিধান আরোপ করেছেন এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই বিধানকে বাস্তব অনুশীলনের মাধ্যমে সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। যিনি হলেন বিশ্বশান্তির অগ্রদূত ও মডেল এবং সমগ্র মানবতার জন্য উসুওয়াতুন হাসানা তথা সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ মডেল।

 

একই সাথে তিনি হলেন সমগ্র মানবজগতের একমাত্র নেতা ও পথপ্রদর্শক। বিদায় হজ্জ্বের ভাষণে তিনি ঘোষণা করেছিলেন-“আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যদি তোমরা এই দুটি জিনিস আঁকড়িয়ে ধরতে পারো তাহলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। আর সেদুটি হলো আল কুরআন ও রাসুলের সুন্নাহ।” সুত্র: মুওয়াত্তা ইবনে মালেক, মিশকাত শরীফ: হা. নং-১৮৬। পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিটি মুমিনের মুল অস্তিত্ব ও জীবন চলার পাথেয় হলো এই গ্রন্থদুটি। যা প্রতিটি মুমিন হৃদয় তাঁর অন্তরে ধারণ করে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে মানসপটে বদ্ধমূল করেছে। যখন থেকে মুসলিম জাঁতি তাঁদের পথ চলার এই পাথেয় দুটির হুকুমাতকে ভুলে তদস্থলে বিপরীত পন্থাকে বিধান ও শাসন ব্যবস্থার পাথেয় নির্ধারণ করেছে।

 

ঠিক সেই দিন থেকে মুসলিম সমাজে শান্তির পরিবর্তে নেমে এসেছে অন্ধকারের ঘোর তমসা। বর্তমান সময়ে যিনা-ব্যভিচার যে ঘাতক মহাব্যধিতে রুপ নিয়েছে সেটি প্রকাশ করার মতো ভাবভাষা আমার জানা নেই। গত কয়েকদিন আগে মাগুরায় আট বছর বয়সী একজন শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আল কুরআনে এদেরকে চতুষ্পদী জন্তু জানোয়ারের চেয়ে নিকৃষ্ট বলা হয়েছে। অতীতেও এমন ঘটনার দৃষ্টান্ত আছে। ওরা বর্বর, ওরা পশু; ওদের ছোবল থেকে মুক্তি পাই না, চার বছরের শিশু। শান্তিপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ সমাজ ব্যবস্থাকে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করে খানখান করছে মানুষ রুপী এই পশুরা।

 

ধর্মান্ধতা ও ধর্মহীনতা এই দুটিই সামাজিক শান্তি শৃংখলা প্রতিষ্ঠার জন্য বড় প্রতিবন্ধক এবং এই দুই শ্রেণীর দ্বারাই যিনা ব্যভিচার থেকে শুরু করে যাবতীয় সামাজিক অন্যায় ও সন্ত্রাসবাদের বাদের জন্ম। ইসলামের সুশীতল ছাঁয়াতলে এই দুই শ্রেণীর ভন্ড চরিত্রের কোনো আশ্রয় নেই। বিশেষ করে ইসলাম ধর্মে জ্ঞানহীন কিছু মূর্খ ও ভন্ড পন্ডিত ব্যক্তিবর্গ ধর্মান্ধের মাপকাটি নির্ধারণ করেছেন ঠিক এভাবে-“ইসলাম ধর্মের প্রত্যেকটি বিধানের প্রতি যারা গভীর শ্রদ্ধাশীল এবং ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে জাতীয় জীবনে তাঁর প্রত্যেকটি হুকুম আহকামকে অনুকরণ ও অনুসরণ করে মানবতার একমাত্র রাহমাত ও কল্যাণকামী বন্ধু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

 

বিপরীত মেরু থেকে মূর্খ পন্ডিতরা এই শ্রেণীর ধর্মপ্রাণ মুসলিমদেরকে ধর্মান্ধ বলে আখ্যায়িত করে।” সুতরাং যারা প্রকৃত ধার্মিক তাঁদেরকে ধমান্ধ বলে এই শ্রেণীর বৃদ্ধিজীবীরা সামাজ ব্যবস্থার শান্তিকে বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত ও লন্ডভন্ড করেছে। কুরআন সুন্নাহ ও ভাষা তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এখন ধর্মান্ধের সংজ্ঞা নিরুপণ করবো। ধর্মের প্রতি নিষ্ঠা তথা ধর্মনিষ্ঠা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার যা বাংলাদেশের সংবিধানের আর্টিকেল ৪১ এ স্পষ্ট উল্লেখ আছে। অতএব ধর্মের প্রতি আন্তরিক অনুরাগ এবং সাধ্যানুসারে ধর্মের পথ অনুসরণকারীদেরকে ধর্মান্ধ বলাও সংবিধানের খেলাপ। বাংলা একাডেমির আধুনিক বাংলা অভিধানের ৬৯৪ পৃষ্ঠায় ধর্মান্ধের দুটি অর্থ লেখা হয়েছে।

 

যথা-এক. কোনো ধর্মীয় মতবাদের অন্ধ অনুসারী; গোঁড়া। দুই. পরধর্ম-বিদ্বেষী অর্থাৎ অন্যধর্মের প্রতি অসহিষ্ণুতা, উগ্রতা প্রকাশ করা। এখানে দ্বিতীয় অর্থটির উপর ভিত্তি করে প্রথমটি গ্রহণ করার মধ্যে যথেষ্ঠ যৌক্তিকতা রয়েছে। যেমন: একজন মুসলিম মাসজিদে ইবাদত করবে, একজন খ্রিস্টান গির্জায় ও একজন হিন্দু মন্দিরে উপসানা ও পূজা-অর্চনা করবে। যখন এই তিনজন ব্যক্তি একে অন্যের ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতার পরিবর্তে চরমপন্থী হয়ে অসহিষ্ণুতার ভাব প্রকাশ করবে তখন তাকে আমরা বলি ধর্মান্ধ যা বাংলা একাডেমি কর্তৃক রচিত আধুনিক বাংলা অভিধানের সাথে অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ।

 

আর আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা যে, পৃথিবীর বুকে সাম্প্রদায়িক সম্পৃতির এক উদার দৃষ্টান্তের নাম হলো আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। সুতরাং যে ব্যক্তি আপন ধর্মের বিধি-বিধানের প্রতি আন্তরিক অনুরাগী ও সাধ্যানুসারে ধর্মের পথের অনুসারী এবং একই সাথে ভিন্নধর্মের প্রতি পরম সহিষ্ণু ও গভীর শ্রদ্ধাশীল তাঁকে ধর্মান্ধ বলা চরম মূর্খতার পরিচয়। একই সাথে আমাদের সংবিধানের প্রতি অসম্মানবোধ ও উগ্রতা প্রদর্শন করার শামিল যা অবশ্যই দন্ডনীয় অপরাধ। অন্ধের বিপরীত শব্দ হলো চক্ষুষ্মান। যে ব্যক্তি চক্ষুষ্মান থাকা সত্ত্বেও ধর্মের বিধিবিধানের প্রতি আত্ম-পূজারী ও অন্তরান্ধ হয়ে বিতৃষ্ণা, বিরাগ সৃষ্টি করে এবং গোঁড়ামিতা, উগ্রতা প্রদর্শন করে একই সাথে যারা আপন আপন ধর্মের প্রতি অনুরাগী এবং পরধর্মে সহিষ্ণুপ্রিয় তাদের প্রতি অসম্মানবোধ সৃষ্টি করে সে ব্যক্তিই প্রকৃত ধর্মান্ধ ও আত্ম-পূজারী।

 

এই শ্রেণীর ব্যক্তিদের ধর্মান্ধতা ও ধর্মহীনতার কারণে ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তিদ্বয়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম খতের সৃষ্টি হয়। আর তাদের এই মূর্খতার কারণে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার সামাজিক ইউনিটের প্রত্যেকটি জনপদে অশান্তির দাবানল জ্বলছে। ধর্মান্ধদের সম্পর্কে কাজী নজরুল ইসলাম যথার্থই বলেছেন-ধর্মান্ধরা শোনো! অন্যের পাপ গনিবার আগে নিজেদের পাপ গোনো। সুত্র: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, পৃষ্ঠা নং: ৬৯৪। ধর্মহীনতার নামে ধমান্ধতা প্রকাশ করা হলো এক চরম মূর্খতাসূলভ আচরণ যা কখনো কাম্য নয়।

 

ধর্মহীনতা বনাম ধর্মনিষ্ঠার ইসলামিক রুপরেখা: মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাক্কী জীবনে যতগুলো সুরাহ অবতীর্ণ হয়েছে তন্মধ্যে সুরাহ কাফিরুনের মধ্যে শিরকের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের সাথে সাথে তাওহীদের ভিত্তিমুলকে হৃদয়পটে ধারণ করে ইবাদত, গোলামী ও দাসত্বকে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য নিবেদনের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। বিখ্যাত ইসলামী সিরাত গ্রন্থকার আল্লামা ইবনে ইসহাক (রহ.), ইবনে জারীর (রহ.), ত্ববারানী (রহ.) একযোগে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন-“কুরাইশ কাফেরগণ একদা রাসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গিয়ে বললো, হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি যদি চান যে, আপনার সম্পাদের প্রয়োজন আছে, তবে আমরা আপনাকে মক্কার সর্ববৃহৎ ধনী বানিয়ে দিবো। আর বিবাহ করতে চাইলেও আমাদের আরবের সর্বোচ্ছ সুন্দরী রুপসী ও গুণবতী মহিলাটি আপনাকে বিবাহ করিয়ে দিবো।

 

তথাপিও আপনি আমাদের মাবুদ’সমুহকে আর গালি দিবেন না। আর যদি একথায় একমত না হন, তবে আপনি আমাদের খোদাগুলোকে এক বছর পূজা করবেন, পরে আমরাও আপনার প্রভুকে একবছর পূজা করবো। অতঃপর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, একটু অপেক্ষা করো, দেখি আমার প্রভু তাতে কি বলেন। অতঃপর এই প্রেক্ষাপটে আল্লাহ সুরাহ আল কাফিরুন নাজিল করেন।” সুত্র: তাফসিরে জালালাইন (আরবী-বাংলা),মাকতাবাতুল ইসলাম, পৃষ্টা নং: ৭/৫৯৬, তাফসিরে ইবনে কাসির(আরবী), পৃষ্ঠা নং: ৪/৬৯৫।

 

ধর্মনিষ্ঠার চমৎকার পরিচয় সুরাহ কাফিরুনের মধ্যে স্পষ্ট চিত্রায়িত হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে-“(১) হে নাবী! তুমি বলে দাও, হে কাফেররা। (২) আমি তাদের ইবাদত করি না যাদের ইবাদত তোমরা করো। (৩) না তোমরা (তাঁর)ইবাদত করো,যার ইবাদত আমি করি। (৪) এবং আমি কখনোই তাদের ইবাদত করবো না,যাদের তোমরা ইবাদত করো। (৫) না তোমরা (তাঁর)ইবাদত করো,যার ইবাদত আমি করি। (৬) অতএব, তোমাদের দ্বীন তোমাদের জন্যে আর আমার দ্বীন (ইসলাম) আমার জন্যে।” সুত্র: সুরাহ কাফিরুন, আয়াত: ১-৬। একই প্রসঙ্গে সুরাহ বাকারার ২৫৬ নং আয়াতে উদ্ধৃত হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে-“(আল্লাহর) দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জোর জবরদস্তি নেই, (কারণ) সত্য (দ্বীন ইসলাম) মানবরচিত মন্দ ধর্ম থেকে পরিষ্কার হয়ে গেছে।

 

এরপর কোনো ব্যক্তি যদি বাতিল মতাদর্শকে অস্বীকার করে,আল্লাহর দেওয়া জীবন আদর্শের উপর ঈমান আনে, সে যেনো এর মাধ্যমে এমন এক মজবুত রশি ধরলো, যা কোনো দিন ছিঁড়ে যাবার নয়। আল্লাহ সবকিছু শোনেন এবং জানেন।” ইসলামের সর্বশেষ বার্তাবাহক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল কুরআনের অমীয় বাণী ও মানবমুক্তির গাইড লাইন দেওয়ার জন্য আরব উপদ্বীপে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে আগমন করেছিলেন। আল কুরআন নাজিল হওয়ার সাথে সাথে আহলে কিতাব ধারী তথা ইহুদি ও নাসারাদেরকেও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত দ্বীন ইসলামকে কবুল করার দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।

 

কিয়ামতের ভয়ঙ্কর মুসিবাতের দিনে ইসলাম ছাড়া অন্যকোনো দ্বীন আল্লাহ গ্রহণ করবেন না। আর এ বিষয়ে সুরাহ ইমরানে আল্লাহ তায়ালা দ্বার্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন- “যদি কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো জীবন বিধান অনুসন্ধান করে তবে তার কাছ থেকে সে (নবউদ্ভাবিত জীবনপ্রথা) কখনো দ্বীন হিসাবে গ্রহণ করা হবে না। আর পরকালের দিবসে সে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।” সুত্র: প্রাগুক্ত, আয়াত নং: ৮৫।

 

উপরে বর্ণিত সুরাহ কাফিরুনে আমরা দেখেছি শত প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলাম নামক কল্যাণমুখী জীবন ব্যবস্থার কর্মনীতি থেকে একচুল পরিমাণ নড়চড় করেননি বরং তিনি কাফেরদেরকে বলেছিলেন আমি আমার আমার দ্বীনের বিধানের উপর সুদৃঢ় ও অটল এবং তোমরা তোমাদের দ্বীন নিয়ে থাক। লক্ষণীয় যে, ভিন্নধর্ম ও মতের প্রতি স্বয়ং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহনশীল থেকে ঘোষণা করেছেন দ্বীনের মধ্যে কোনো প্রকার জবরদস্তি নেই।

 

পরকালে ইসলাম ছাড়া অন্য দ্বীন আল্লাহ তায়ালা গ্রহণ করবেন না এটি আল্লাহ তায়ালা আপন ফয়সালার বিষয় কিন্তু একজন মুমিন-মুসলমান হিসাবে ভিন্নধর্মের নীতির প্রতি সহনশীল থাকতে হবে। ইসলামের দাওয়াত ভিন্নমতের মানুষের কাছে পৌছিয়ে দিতে হবে কিন্তু কাউকে জোর জবরদস্তি করার কোনো বিধান ইসলাম কাউকে দেয়নি। কেননা হেদায়াতের একচ্ছত্র ইখতিয়ার আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার হাতে আপন মহিমা ও কুদরাতে সংরক্ষিত। ধর্মনিষ্ঠার ব্যাপারে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারাটা জীবন ত্যাগ কুরবানীর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পৃথিবীবাসির কাছে রেখে গেছেন।

 

পরিশেষে বলবো যে, একজন মুসলিম হিসাবে সুগভীর আন্তরিকতা ও পরম অনুরাগ দিয়ে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পরিপূর্ণ আনুগত্যে করে ধর্মনিষ্ঠাকে ব্যক্তিজীবন থেকে জাতীয় জীবনের সকলস্তরে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কবি নজরুল যথার্থই বলেছেন- “ভয় নাহি, নাহি ভয়! মিথ্যা হইবে ক্ষয়! সত্য লভিবে জয়।” অন্তবাক্যে বলবো ধর্মহীনতা নয় বরং সত্যদ্বীন ও ধর্মনিষ্ঠাই হোক মানবতার একমাত্র চলার পথ ও পাথেয়, (আমিন)।

লেখক: ইসলামী গবেষক, প্রভাষক, আল হাদিস বিভাগ (কামিল), সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসা

 

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি প্রেসক্লাবের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি প্রেসক্লাবের

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সময়োপযোগী একটি বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে কথিত গণমাধ্যমকর্মীসহ একটি মহল।

ধর্মান্ধতার আড়ালে ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি পবিত্র ও মহান ধর্ম ইসলামও সমর্থন করেনা। বর্তমান তরুণ সমাজে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকান্ডের গুরুত্ব বোঝাতে জেলা প্রশাসকের এ বক্তব্য নিয়ে কোনভাবেই বিভ্রান্তি তৈরি করার সুযোগ নেই।

মুলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে এ ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। পাশাপাশি সাতক্ষীরার স্থিতিশীল পরিবেশকে অস্থিতিশীল তৈরী করা অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।

বিবৃতিদাতারা হলেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম, সহ-সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, যুগ্ম সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন গোলদার, অর্থ সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ ময়না, দপ্তর সম্পাদক মাসুদুর জামান সুমন, সাহিত্য সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক আকরামুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে এড. খায়রুল বদিউজ্জামান, আবু তালেব, কাজী জামালউদ্দিন মামুন, আব্দুস সামাদ, আসাদুজ্জামান সরদারসহ সকল সদস্য। প্রেস বিজ্ঞপ্তি