শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

মেধা ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধির দোয়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
মেধা ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধির দোয়া

মেধা (Intelligence) হলো নতুন কিছু শেখা, সমস্যা সমাধান, যুক্তি দিয়ে চিন্তা করা এবং পরিস্থিতি বোঝার জন্মগত ও অর্জিত বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা। অন্যদিকে, স্মরণশক্তি বা স্মৃতিশক্তি (Memory) হলো মস্তিষ্কের তথ্য ধারণ, সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনে তা পুনরায় মনে করার ক্ষমতা। মেধা ও স্মৃতিশক্তি পারস্পরিক সম্পর্কিত হলেও ভিন্ন; স্মৃতিশক্তি ধারণ করে, আর মেধা তা বিশ্লেষণ করে।

এবার চলুন আমরা কোরআন ও হাদিস থেকে জেনে নিই মেধা ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধির কিছু দোয়া-

(১) নিয়ত: প্রথমে মনে মনে নিয়ত করুন— ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তর পরিষ্কার করে দিন, আমার স্মরণশক্তি ও বোঝার ক্ষমতা বাড়িয়ে দিন’।

(২) কোরআনের আয়াতসমূহ— সূরা আল-ইনশিরাহ (১–৮) (মনের জড়তা ও অস্থিরতা দূর করে) আলাম নাশরাহ লাকা সদরাক… পূর্ণ সূরাটি ১ বার বা ৩ বার পড়ুন। সূরা ত্ব-হা আয়াত ২৫–২৮
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي
وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي
وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِي
يَفْقَهُوا قَوْلِي 

বাংলা উচ্চারণ: রব্বিশ রহ লী সদরী ওয়া ইয়াসসির লী আমরী
ওয়াহলুল উকদাতাম মিল লিসানী
ইয়াফক্বাহু ক্বাওলী
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন,
আমার কাজ সহজ করে দিন,
আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। ৩ বার পড়ুন।

(৩) হাদিস থেকে দোয়া—
اللَّهُمَّ انْفَعْنِي بِمَا عَلَّمْتَنِي، وَعَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي، وَزِدْنِي عِلْمًا
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মান ফা‘নী বিমা ‘আল্লামতানী ওয়া ‘আল্লিমনী মা ইয়ানফা‘উনী ওয়া যিদনী ‘ইলমা
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যা শিখিয়েছেন তা দ্বারা আমাকে উপকৃত করুন, আমাকে উপকারী জ্ঞান শিক্ষা দিন, এবং আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন। ৩ বা ৭ বার পড়ুন।

(৪) বিশেষ জিকির (মেধা ও হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য)—
يَا فَتَّاحُ، يَا عَلِيمُ
উচ্চারণ: ইয়া ফাত্তাহু, ইয়া ‘আলীম (৩৩ বার)।

> আমলের নিয়ম (গুরুত্বপূর্ণ)
ফজরের পর বা পড়াশোনার আগে পড়া উত্তম। চাইলে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করতে পারেন। হারাম কাজ ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকুন (এটি সবচেয়ে শক্তিশালী শর্ত) নিয়মিত করুন মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় মেধাশক্তি বৃদ্ধি পেতে থাকবে ইনশাআল্লাহ!

এবং বেশি বেশি দরুদ শরিফ পড়বেন।

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।