মেয়েদের পড়াশোনা স্নাতক-ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
মেয়েদের জন্য পড়াশোনা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেইসঙ্গে নারীদের রান্নার কষ্ট লাঘবে এলপিজি কার্ড দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টায় যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বিএনপির সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেছেন, ‘জনগণের শান্তি নষ্ট হবে, এমন কাজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না। কোনও টিকিট বিক্রি নয়, জনগণের জন্য কাজ করবে বিএনপি সরকার।’
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সমর্থন দিয়েছে জনগণ। বিএনপি তা বাস্তবায়ন করবে। দেশের মানুষের স্বার্থে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ শেষ করবে এই সরকার। দেশের জনগণই বিএনপির রাজনীতি। দেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারীদের পেছনে ফেলে কোনও উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
বিএনপির ওপর দেশের মানুষের আস্থা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাধাগ্রস্ত করতে চায় একটি মহল, যারা নির্বাচনের আগে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছিল। দেশের সেবা করার জন্য বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে জনগণ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জনগণ শান্তিতে ও ভালোভাবে বসবাস করতে চায়। জনগণ বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন দেখতে চায়। যারা স্বাধীনতার সময় জনগণকে বিভ্রান্ত করেছিল, তারা এখনও জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্তি ছড়াবে, আর বিএনপি জনগণের জন্য কাজ করবে।’
নারী শিক্ষা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, প্রথমবার করেছেন স্কুল পর্যায়ে, দ্বিতীয়বার করেছেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ে। খালেদা জিয়ার সেই কর্মসূচির অংশকে আমরা সামনে নিয়ে যেতে চাই। এজন্য আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে, ইনশাআল্লাহ নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত অর্থাৎ উচ্চতর পর্যন্ত বিনামূল্যে ব্যবস্থা করবো। শুধু মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করবো তা নয়, একইসঙ্গে আমাদের যে মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করতে পারবে তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করবো। যাতে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মা-বোনদের একটি কারণে খুব কষ্ট হয়, রান্নাবাড়ির ব্যাপারে কষ্ট হয়, সেটি গ্রামের মা-বোনই হোক, সেটি শহরের মা-বোনই হোক। আমরা যেমন সারা দেশের মায়েদের কাছে আমরা যেমন ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি, সেরকম আরেকটি কাজ দিতে চাই। সেটি হবে এলপিজি কার্ড। এর মাধ্যমে এলপিজি গ্যাস মা-বোনদের পৌঁছে দেবো। যাতে করে মা-বোনদেরকে রান্নাবান্নার জন্য কষ্ট করতে না হয়।’
সমাবেশে খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে বিএনপি ক্ষমতায় এসে দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে দেশে আমরা শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবো। ইনশাআল্লাহ আগামী ৫ বছরে আমরা চেষ্টা করবো সারাদেশে এই উলাশী খালের মতো প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল আমরা খনন করতে চাই। যাতে করে গ্রামের মানুষ, গ্রামে বসবাসকারী মানুষ, কৃষক ভাই-বোনেরা, এলাকাবাসী এবং তরুণ সমাজের সদস্যরা বিভিন্ন রকম আয় রোজগারের সুবিধা সেখান থেকে করতে পারে। আমরা খাল খনন সেই জন্য করতে চাই।’
কৃষক ও শ্রমিকদের কল্যাণে নেওয়া পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম যে বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষক ভাইদের জন্য আমরা কৃষি কার্ড দেবো। কৃষক ভাইদের আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ যেটা আছে সেটা আমরা মওকুফের ব্যবস্থা করবো। আল্লাহর রহমতে আমরা সেই কাজও শুরু করেছি এবং সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই আমরা কৃষকদের যাদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ ছিল তাদের সেই কৃষি ঋণ আমরা মওকুফ করেছি। এছাড়া বিভিন্ন চিনিকল ও কলকারখানা যেগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বহু মানুষ বেকার হয়ে গিয়েছে, সেই কলকারখানাগুলো চালুর ব্যবস্থা ইনশাআল্লাহ করবো। আগামী দুই-চার মাসের মধ্যে বাংলাদেশের অনেক বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা আবার চালু করা সম্ভব হবে। যার ফলে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। পাশপাশি অনেক দেশে জনশক্তি রফতানি সীমিত ও বন্ধ রয়েছে। সেসব দেশের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। দ্রুতই অনেক দেশে আমরা জনশক্তি রফতানিতে গতি আনতে পারবো।’
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দোলোয়ার হোসেন খোকনের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, যুগ্ম মহাসচিব ও পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুন্ডু প্রমুখ।
এর আগে সকাল সোয়া ১০টায় ঢাকা থেকে যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে শার্শা উপজেলার উলাশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে যান। খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে সমাবেশে বক্তব্য দেন। দুপুর ২টায় যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। এরপর যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন।









