মৎস্যচাষিদের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা
সংবাদদাতা: আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খামারকে লাভজনক করার লক্ষ্য নিয়ে সাতক্ষীরায় মৎস্যচাষিদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) শহরের এল্লারচরের মৎস্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের উদ্যোগে ‘মাছ চাষে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এই দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ (সিনিয়র) মৎস্য কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলাম। ব্র্যাক ফিশারিজ এন্টারপ্রাইজের দক্ষিণ-পশ্চিম (সাউথ-ওয়েস্ট) অঞ্চলের আঞ্চলিক বিপণন ব্যবস্থাপক (রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার) কিংকর হালদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ব্র্যাক ফিশারিজের উপকূলীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক বিপণন ব্যবস্থাপক রাকিব আহমেদ, সাতক্ষীরা অঞ্চলের বিক্রয় কর্মকর্তা মো. বিপ্লব হোসেন ও আসিফ হাসান প্রমুখ।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, সঠিক পদ্ধতিতে পুকুর প্রস্তুত করা, পানির গুণগত মান বজায় রাখা, উন্নত মানের পোনা নির্বাচন এবং সুষম খাদ্য প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। আর এর মাধ্যমেই মৎস্যচাষিরা অধিক লাভবান হতে পারেন। বর্তমান সময়ে সনাতন পদ্ধতি পরিহার করে চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকতে হবে।
দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে পুকুর প্রস্তুতি, পানির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, পোনা মজুদ, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং মাছের রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে চাষিদের বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। এছাড়া মাছ চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার—যেমন প্রোবায়োটিক প্রয়োগ, এয়ারেটর (কৃত্রিম অক্সিজেন সরবরাহ যন্ত্র) ব্যবহার এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মশালার উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে মৎস্যচাষিরা মাছ চাষের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নানাবিধ সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং বিশেষজ্ঞরা তার সমাধানমূলক পরামর্শ দেন। চাষিদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা বাড়াতে অনুষ্ঠান শেষে একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী মৎস্যচাষিদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। আয়োজক সংস্থা ব্র্যাক ফিশারিজ এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের মৎস্য খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও খামারিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে দেশের বিভিন্ন জেলায় বছরব্যাপী এই ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।






