বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

রওশন আরা খাঁ (অন্নপূর্ণা)

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
রওশন আরা খাঁ (অন্নপূর্ণা)

গুলশানুল হক সুমন
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর অপ্রস্ফুটিত ফুল।
ভারত সরকারের পদ্মভূষণ সম্মাননা পাওয়া সংগীত সাধিকা যার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার শেকড়ের বন্ধন, সেই মহীয়সী নারীর সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর পরিচয় সামান্যই। আমরা ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁকে চিনি, ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ (পদ্মভূষন) ও পন্ডিত রবিশঙ্করকে (ভারতরতœ) জানি। কিন্তু রওশন আরা খাঁ (অন্নপূর্ণা) সব সময়ই ছিলেন আড়ালে।
সঙ্গীত সাধনা ও জীবনচর্চায় নিবৃত্তচারী রওশন আরা খাঁ আত্মকেন্দ্রিক অভিমানে সমসাময়িকদের তুলনায় অতি দ্রুত চলে যান পাদপ্রদীপের আলোর অন্তরালে। বাবার রাখা নাম রওশন আরা হলেও ভারতীয় সঙ্গীতাঙ্গনে মা অন্নপূর্ণা নামে তিনি ব্যাপক পরিচিত। তিনি ছিলেন সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর সর্ব কনিষ্ঠ কন্যা, ওস্তাদ আলী আকবর খাঁর কনিষ্ঠ বোন এবং পন্ডিত রবিশঙ্করের সহধর্মিণী। ভারতবর্ষ তথা সারা বিশ্বের সংগীত প্রেমীদের জন্য এটি দুর্ভাগ্য যে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের এই মহারতœ টির সম্পূর্ণ প্রতিভা ভারত নিতে পারেনি। তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথেই এই অমূল্য প্রতিভারও সমাধি রচিত হয়েছে।
পূর্নিমাতে জন্মনিয়েছিলেন বলে মাইহার রাজ্যের (রামপুর, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সাহেবের কর্মস্থল) মহারাজা ব্রিজনাথ হিন্দু ধর্মের দেবী অন্নপূর্ণেশ্বরী বা অন্নপূর্ণা’র নামের অনুকরণে তাঁর নাম রেখেছিলেন অন্নপূর্ণা দেবী। পরবর্তীতে ভারতীয় সংগীত জগতের সবাই তাঁকে “মা অন্নপূর্ণা দেবী” নামে ডাকতেন। অথচ বড় মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে সংগীত সংশ্লিষ্ট অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার কারণে রওশন আরা খা কে আলাউদ্দিন খাঁ সংগীত শিখাতে অনিচ্ছুক ছিলেন। ছেলে আলী আকবরের রেওয়াজের সময় ঘটনাচক্রে উনার প্রতিভার প্রকাশ পায়। আলাউদ্দিন খাঁ একদিন ছেলেকে একটা গান (রাগ) শিখতে দিয়ে বলেছিলেন আমি বাজার থেকে আসি, (খাঁসাহেব নিজ হাতে বাজার করতে পছন্দ করতেন) এসে তোমার পড়া নিব। অন্নপূর্ণার বয়স তখন ৮/১০ হবে। ভাই রেওয়াজ করার সময় বার বার স্বরলিপি ভুল করছিলেন, তখন অন্নপূর্ণা এসে বড় ভাইকে স্বরলিপির ভুল সংশোধন করে দিয়ে বললেন তুমিতো ভুল করছ, বাবাত তোমাকে এই ভাবে করতে বলে গেছেন অথচ অন্নপূর্ণা তখনও সংগীতের সাথে জড়িতই হননি।
এদিকে খাঁ সাহেব আড়ালে দাঁড়িয়ে ভাই ও বোনের কথা শুনছিলেন, তিনি আবিষ্কার করলেন মেয়ে তার অত্যন্ত প্রতিভাময়ী এবং নিখুঁত। স্বরলিপি মনে রাখার অসাধ্য সক্ষমতা তাঁর, অথচ যে এখনো শিখা শুরুই করে নাই। মেয়ের প্রতিভা দেখে আশ্চর্যান্বিত হয়ে মেয়েকে জরিয়ে ধরে বললেন মা আমার ভুল হয়ে গেছে, আমি তোমার সাথে অবিচার করেছি। আজ থেকে আমি তোমাকেও শিখাব। আর সেই ঘটনার পরে সেই দিন থেকেই শুরু হলো অন্নপূর্ণার সংগীতের পথচলা। তারপর রবিশঙ্কর আসলেন আলাউদ্দিনের ছাত্র হয়ে। রবি শংকরের মা হেমাঙ্গিনী দেবী আলাউদ্দিনকে বলেছিলেন, “দেখবেন আমার এই ছেলেটিকে, কিছুদিন আগে তার পিতা পন্ডিত শ্যামশঙ্কর চৌধুরী গত হয়েছেন। আজ থেকে আপনিই তার বাবা, আপনার হাতে তার অভিভাবকত্ব ছেড়ে দিলাম, ভুল-ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।” আবেগি মানুষ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সাহেব ক্রন্দনরত অবস্থায় রবির দায়িত্ব নিলেন এবং বললেন, “আজ থেকে আপনার ছেলে আমার ছেলে হল। আমার একটি ছেলে ছিল এখন দুটো হল, সে আমার বড় ছেলে হল।” তার পরেরটা সব ইতিহাস। খাঁ সাহেব শত শত ছাত্রদের মাঝে এই তিন মহারথীর তুলনায় বলেছিলেন প্রতিভার বিচারে আলী আকবর ও রবিশঙ্করকে এক পাল্লায় ও অন্নপূর্ণাকে অন্য পাল্লায় দিলে অন্নপূর্ণার পাল্লাই ভারী হবে।
শিক্ষা শেষে পারিবারিক সম্মতিতে ১৯৪১ সালের ১৫ মে খাঁ সাহেব রবিশঙ্কর ও অন্নপূর্ণার বিয়ে দেন, বিয়ের সময় রবিশঙ্করের বয়স ছিল ২১ এবং অন্নপূর্ণার মাত্র ১৫ পেরিয়েছে। রবিশঙ্কর ছিলেন খুবই উচ্চাভিলাষি। বিয়ের কিছুদিন পরে তাঁরা বোম্বে চলে আসেন, শুরু হয় তাদের জয়জয়কার। নিজ গুরুর কাছথেকে শেখা আলাউদ্দিন খাঁর স্পেশাল আইটেম ছিল সুরবাহার যা তিনি শুধুমাত্র অন্নপূর্ণাকেই শিখিয়েছিলেন। আর এই সুরবাহারের কল্যাণে অন্নপূর্ণা রাতারাতি রবিশঙ্করের চেয়ে বেশী জনপ্রিয় ও উপার্জনশীল হতে থাকেন, যা রবিশঙ্করের মর্ম পিড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একদিন অন্নপূর্ণা অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করলেন রবিশঙ্কর গোপনে নৃত্যশিল্পী কমলা শাস্ত্রীর সঙ্গে প্রেম এবং বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। কমলার সঙ্গে রবিশঙ্করের সম্পর্কের জেরে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে যায়।
রবিশঙ্করের ছাত্র এবং ‘দ্য নবভারত টাইমস’ এর সংগীত সমালোচক মদন লাল ব্যাস বলেন, কনসার্ট শেষে লোকজন অন্নপূর্ণা কে ছেঁকে ধরতো যা পন্ডিত জির পক্ষে সহ্য করা ছিল দুরূহ। তিনি বলেন অন্নপূর্ণা ছিলেন অসামান্যা এক প্রতিভা। এমনকি তাঁর আপসহীন, শিক্ষার সময় ক্ষমাহীন গুরুবাবা আলাউদ্দিন খাঁ তাঁকে মূর্তিমতী সরস্বতী বলে সম্বোধন করতেন। এর চেয়ে বড় প্রশংসা আর কি হতে পারে?
অন্নপূর্ণা ও রবিশঙ্করের ব্যক্তিগত জীবনের কাহিনী নিয়ে বোম্বেতে ১৯৭৩ সালে একটি খুবই জনপ্রিয় ছবি নির্মিত হয়, নাম অভিমান। অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চন প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিতে যদিও অভিনেতা-অভিনেত্রীর সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল কিন্তু প্রকৃত জীবনে সংসার ধরে রাখতে জনসমক্ষে পরিবেশনা ছেড়ে দেওয়ার মত বিশাল আত্মত্যাগের পরও অন্নপূর্ণা নিজের সংসার টিকাতে পারেননি। তারপরেই তিনি নিজেকে গুটিয়ে নেন,আর কোন দিন প্রকাশ্যে আসেননি। ভারতবর্ষ হারায় এক অমূল্য রত্মকে। যদিও রবিশঙ্কর পরবর্তীতে নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়েছিলেন।
রবিশঙ্কর ও অন্নপূর্ণার বৈবাহিক জীবনের একমাত্র সাক্ষী তাঁদের একমাত্র ছেলে শুভেন্দ্র শঙ্কর যিনি পরবর্তীতে আমেরিকাতে মারা যান। রবিশঙ্কর ষাটের দশকের প্রথম দিকে প্রেমিকা কমলা শাস্ত্রীকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষ ত্যাগ করেন। কমলা শাস্ত্রীর সঙ্গে লিভ টুগেদার এবং তাকে বিয়ে করতে না পারার প্রসঙ্গে রবিশঙ্কর তাঁর আত্মজীবনী “রাগ অনুরাগে” বলেছেন, “কি জানি, নিজের বিয়ে এবং অন্য অনেকের বিয়ে দেখে বিয়ের উপর থেকে আমার সমস্ত শ্রদ্ধা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবে ভালো স্ত্রী বা সঙ্গীরা একজন পুরুষকে সফল হতে অনুপ্রেরণা দেয়।” দীর্ঘদিন পর ১৯৮২ সালে অন্নপূর্ণা ও রবিশঙ্করের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
উনার রেওয়াজের ঘরে কারোই যাওয়ার অনুমতি ছিল না। রবিশঙ্করের কাছে তাঁর প্রতিভার কথা জেনে ১৯৭০ সালে আমেরিকার বিশ্ব বিখ্যাত রক সংগীতের দল ঞযব ইবধঃষবং এবং পৃথিবী বিখ্যাত বেহালা বাদক ণবযঁফর গবহঁযরহ তাঁর রেওয়াজ দেখার জন্য ভারতে আসেন কিন্তু অনুমতি পাননি, পরবর্তীতে ভারতের ততকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিশেষ অনুরোধে তাঁদেরকে অনানুষ্ঠানিক ভাবে পাশের রুম থেকে রেওয়াজ দেখার অনুমতি দিয়েছিলেন। যদিও তিনি ইতিপূর্বে তাঁর পারফমেন্স সরাসরি দেখার ব্যাপারে ইন্দিরা গান্ধীর নিজের অনুরোধকেই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
উনার অনেক বিখ্যাত শিষ্য আছেন যারা এখন সারা বিশ্ব মাতিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাঁর শিষ্যত্ব নেওয়াটাও ছিল দুরূহ। পাঁচ থেকে দশ বৎসরও অপেক্ষা করতে হয়েছে। তাঁর বিখ্যাত ছাত্রদের অন্যতম কয়েকজন হলেন ১। ওস্তাদ আশীষ খাঁ সরোদ ২। পন্ডিত অমিত ভট্টাচার্য সরোদ ৩। ওস্তাদ বাহাদুর খাঁ সরোদ ৪। পন্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া বাসুরী ৫। পন্ডিত নিত্যানন্দ হলদিপুর বাসুরী ৬। পন্ডিত বসন্ত বাবরা সরোদ ৭।পন্ডিত জতীন ভট্টাচার্য সরোদ ৮। পিটার কল্ট সেতার।
ভারতীয়দের বিশ্বাস অনুযায়ী একানব্বই বৎসর বয়সে চলে গেলেন বটে,তবে এ যাওয়া দেবী অন্নপূর্ণার মতই বারবার ফিরে আসার জন্য যাওয়া। তাঁর বিস্ময়কর প্রতিভার যে অমরত্ব ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত কে ছেয়ে আছে, সেই অমরত্তেই বসবাস করবেন এই সংগীতের দেবী চিরকাল।” পদ্মভূষণ” ছাড়াও তিনি “সংগীত নাটক একাদেমি” পুরষ্কার এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে “দেশিকোত্তম” পুরস্কারে ভূষিত হোন। শেষ জীবনে মুম্বাইয়ের আকাশগঙ্গা অ্যাপার্টমেন্টে তাঁর ছাত্ররাই সন্তান রূপে আবির্ভূত হয়ে মাতৃসমা মমত্বে তাঁকে দেখাশোনা করতেন। তাদের অন্যতম ছিলেন পন্ডিত নিত্যানন্দ হলদিপুর।

Ads small one

গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্চিত ঘোষণা, ধর্ষণের অভিযোগে আইনের আওতায় আনার দাবি 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্চিত ঘোষণা, ধর্ষণের অভিযোগে আইনের আওতায় আনার দাবি 

 

 

সাতক্ষীরা-৪ সংসদীয় আসনের (শ্যামনগর) জামায়াত দলীয় এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টায় শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বক্তারা এমন দাবি জানান। এর আগে পৌরসদরের জেসি কমপ্লেক্স চত্বর থেকে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শত শত নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণে একটি মিছিল পৌর সদরের বিভিন্ন সড়ক পরিদ দক্ষিণ করে। বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা এ সময় হাতে ঝাড়ু ও জুতা নিয়ে নজরুল ইসলামের ছবিতে আঘাত করতে থাকে। বিক্ষোভ মিছিল শেষে

উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহবায়ক আলহাজ্ব সুলাইমান কবিরের সভাপতিত্বে উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত পথসভায় অংশগ্রহণ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। এসময় বক্তারা কাজী নজরুল ইসলামকে ধর্ষক আখ্যা দিয়ে একটা আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সাথে অবাঞ্চিত ঘোষণা করার পাশাপাশি বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

বক্তারা বলেন ১৩ তারিখে ঘটনাটি ঘটলেও গাজী নজরুল ইসলাম কৌশলে তা ধামাচাপা দিতে চাইছিল। কিন্তু তার ড্রাইভার দাবিকৃত টাকা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওগুলো ভাইরাল করে দিলে কৌশলের অংশ হিসেবে শুরুতেই এআই প্রযুক্তির সৃষ্টি বলে দাবি করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠানগুলো ভিডিও চিত্রের সত্যতা নিশ্চিত করার পর কাজী নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগীরা ওই তরুণীকে বিয়ের নাটক সাজিয়েছে।

পদে পদে জালিয়াতি এবং মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে শরীয়ত মোতাবেক পরিচালিত হওয়ার দাবি করা রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর আদর্শ প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবু সাঈদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা প্রমুখ।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন একটা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন রীতিমতো ধর্ষণের সমান অপরাধ। মহান জাতীয় সংসদের একজন প্রবীণ সদস্য হিসেবে নজরুল ইসলামের এ ঘটনা পবিত্র সংসদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। মহান জাতীয় সংসদের পবিত্রতা রক্ষা এবং শিশু সুরক্ষা আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রদর্শনের অংশ হিসেবে অবিলম্বে কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনের আওতায় এনে ধর্ষণকাণ্ডের বিচার করতে হবে। বক্তারা আরো বলেন ১৭ই জুন বিয়ের কথা বলে ২১ তারিখ বিকালে কাবিনের ঘটনা তার জালিয়াতি ও মিথ্যাচারকে প্রমাণ করে ঠিক আছে দিয়েছে। এমতাবস্থায় অবিলম্বে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এছাড়া নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে জামায়েত ইসলামীর অবস্থান স্পষ্ট করতে আমিরেৎ জামায়েত ডাক্তার শফিকুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: ডেঙ্গু সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৩:০০ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: ডেঙ্গু সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ

বর্ষার স্থায়িত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলনার পাইকগাছায় হঠাৎ করেই ডেঙ্গু রোগীর প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি দাঁড়িয়েছে। হঠাৎ করে এডিস মশাবাহিত এই রোগের বিস্তার স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, বাসাবাড়ির আঙিনায় কিংবা আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি—যেমন পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার, ড্রেন ও ডাবের খোসাই এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হিসেবে কাজ করছে। এ ছাড়া উপজেলার বাইরে থেকেও আক্রান্ত রোগী আসার কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সচেতনতামূলক প্রচার চালানো সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। চিকিৎসকদের বক্তব্য স্পষ্ট—ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা এবং মশারির ব্যবহার প্রাথমিক ও কার্যকর প্রতিরোধক।
তবে বাস্তবতা হলো, কেবল সচেতনতামূলক বার্তা কিংবা পরামর্শ প্রদান করে এমন জনস্বাস্থ্য সংকট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের নিজস্ব সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত সমন্বয় এখানে অত্যন্ত জরুরি।
পাইকগাছার বর্তমান পরিস্থিতি যেন মহামারীর দিকে মোড় না নেয়, সে জন্য অবিলম্বে কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তা হলোÑ পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর উদ্যোগে পাইকগাছার প্রতিটি ওয়ার্ডে অবিলম্বে কার্যকর ওষুধ প্রয়োগ (ফগিং ও লার্ভিসাইড স্প্রে) শুরু করতে হবে। ড্রেন, বদ্ধ জলাশয় ও জমে থাকা পানির স্থানগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়মিত পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নিতে হবে। জ্বর হলেই যেন রোগীরা হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করান, সে লক্ষ্যে চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য রাখা এবং গ্রামপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের নজরদারি বাড়াতে হবে। কাজের তাগিদে বা ভ্রমণের কারণে যারা বাইরে থেকে উপজেলায় আসছেন, তাঁদের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি জটিল রূপ নেওয়ার আগেই সমন্বিত ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনিক তৎপরতা এবং জনসচেতনতাÑএই দুইয়ের সমন্বয় ছাড়া পাইকগাছাকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে জোর দেবেনÑএমনটাই প্রত্যাশা।

​মিরপুরে সাবেক গাড়িচালককে ‘হত্যার চেষ্টা’, এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
​মিরপুরে সাবেক গাড়িচালককে ‘হত্যার চেষ্টা’, এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

Oplus_131072

​পত্রদূত ডেস্ক: ​সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অসামাজিক কার্যকলাপের গোপন তথ্য জেনে ফেলার কারণে সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুর রহমানকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির বিচার দাবি করে এবং নিজের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী ওবায়দুর রহমান। আবেদনটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে।
​আবেদনে ওবায়দুর রহমান (জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর: ২৩৬৭৪৫০৬৫৩) উল্লেখ করেন, বিগত ১৪ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পল্লবী থানার উত্তর কালশীর আলীনগরে অবস্থিত ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার ২’-এর একটি ফ্ল্যাটে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
​আবেদনকারীর দাবি, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নির্দেশে তিন ব্যক্তি লাঠিসোটা নিয়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেন। হামলার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আবেদনে বলা হয়, ওবায়দুরের চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে তাঁর মা ও ছোট বোন এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি প্রাণভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
​হামলার পেছনের কারণ হিসেবে ওবায়দুর রহমান আবেদনে দাবি করেন, তিনি এমপি গাজী নজরুলের দীর্ঘদিনের গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। এই সুবাদে এমপির বিভিন্ন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত অসামাজিক কার্যকলাপের তিনি প্রত্যক্ষদর্শী।
​আবেদনে অভিযুক্ত সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এলাকায় জমি ও বালুমহাল দখল, ঘুষ গ্রহণ এবং গ্যাং বা ‘মব’ গঠন করে সন্ত্রাসের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে এমপির বিতর্কিত গতিবিধির কয়েকটি নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ের কথা আবেদনে উল্লেখ করে তা সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানানো হয়। ​এমপি গাজী নজরুলের আদেশে এই হামলা চালানো হয়েছে দাবি করে ওবায়দুর রহমান অভিযুক্ত হামলাকারী এবং নির্দেশদাতার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
এদিকে বিতর্কের মুখেই ২১ জুলাই নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি লিখিত বিবৃতি দিয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। লিখিত বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাটি গত ১৩ জুলাইয়ের এবং এর পেছনে তাঁর নিজস্ব গাড়িচালকের সুপরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির নীল নকশা রয়েছে।
বিবৃতিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তাঁর প্রথমা স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে মগবাজারে অবস্থিত দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তাঁরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। অবস্থানকালে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ সুকৌশলে ৬ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে ওই কার্যালয়ে ঢোকার ব্যবস্থা করে দেয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওই অপরিচিত ব্যক্তিরা কক্ষে ঢুকে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের পরিচয় জানতে চেয়ে চরম হেনস্তা করে। একপর্যায়ে তাঁদের কার্যালয়ের নিচে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। সে সময় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু টাকা প্রদান করার পরই তাঁরা সেখান থেকে রেহাই পান।
ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতিতে গাজী নজরুল ইসলাম জানতে পারেন যে, এই পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তাঁর গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ, যিনি সম্পর্কে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা। সংসদ সদস্য জানান, তাঁর শ্বশুর মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর দুলাভাইয়ের পারিবারিক পূর্বশত্রুতা ছিল। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওবায়দুল্লাহ তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা এবং মাসুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং পরিবারের ক্ষতি করার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়।