বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

রওশন আরা খাঁ (অন্নপূর্ণা)

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
রওশন আরা খাঁ (অন্নপূর্ণা)

গুলশানুল হক সুমন
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর অপ্রস্ফুটিত ফুল।
ভারত সরকারের পদ্মভূষণ সম্মাননা পাওয়া সংগীত সাধিকা যার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার শেকড়ের বন্ধন, সেই মহীয়সী নারীর সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর পরিচয় সামান্যই। আমরা ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁকে চিনি, ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ (পদ্মভূষন) ও পন্ডিত রবিশঙ্করকে (ভারতরতœ) জানি। কিন্তু রওশন আরা খাঁ (অন্নপূর্ণা) সব সময়ই ছিলেন আড়ালে।
সঙ্গীত সাধনা ও জীবনচর্চায় নিবৃত্তচারী রওশন আরা খাঁ আত্মকেন্দ্রিক অভিমানে সমসাময়িকদের তুলনায় অতি দ্রুত চলে যান পাদপ্রদীপের আলোর অন্তরালে। বাবার রাখা নাম রওশন আরা হলেও ভারতীয় সঙ্গীতাঙ্গনে মা অন্নপূর্ণা নামে তিনি ব্যাপক পরিচিত। তিনি ছিলেন সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর সর্ব কনিষ্ঠ কন্যা, ওস্তাদ আলী আকবর খাঁর কনিষ্ঠ বোন এবং পন্ডিত রবিশঙ্করের সহধর্মিণী। ভারতবর্ষ তথা সারা বিশ্বের সংগীত প্রেমীদের জন্য এটি দুর্ভাগ্য যে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের এই মহারতœ টির সম্পূর্ণ প্রতিভা ভারত নিতে পারেনি। তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথেই এই অমূল্য প্রতিভারও সমাধি রচিত হয়েছে।
পূর্নিমাতে জন্মনিয়েছিলেন বলে মাইহার রাজ্যের (রামপুর, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সাহেবের কর্মস্থল) মহারাজা ব্রিজনাথ হিন্দু ধর্মের দেবী অন্নপূর্ণেশ্বরী বা অন্নপূর্ণা’র নামের অনুকরণে তাঁর নাম রেখেছিলেন অন্নপূর্ণা দেবী। পরবর্তীতে ভারতীয় সংগীত জগতের সবাই তাঁকে “মা অন্নপূর্ণা দেবী” নামে ডাকতেন। অথচ বড় মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে সংগীত সংশ্লিষ্ট অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার কারণে রওশন আরা খা কে আলাউদ্দিন খাঁ সংগীত শিখাতে অনিচ্ছুক ছিলেন। ছেলে আলী আকবরের রেওয়াজের সময় ঘটনাচক্রে উনার প্রতিভার প্রকাশ পায়। আলাউদ্দিন খাঁ একদিন ছেলেকে একটা গান (রাগ) শিখতে দিয়ে বলেছিলেন আমি বাজার থেকে আসি, (খাঁসাহেব নিজ হাতে বাজার করতে পছন্দ করতেন) এসে তোমার পড়া নিব। অন্নপূর্ণার বয়স তখন ৮/১০ হবে। ভাই রেওয়াজ করার সময় বার বার স্বরলিপি ভুল করছিলেন, তখন অন্নপূর্ণা এসে বড় ভাইকে স্বরলিপির ভুল সংশোধন করে দিয়ে বললেন তুমিতো ভুল করছ, বাবাত তোমাকে এই ভাবে করতে বলে গেছেন অথচ অন্নপূর্ণা তখনও সংগীতের সাথে জড়িতই হননি।
এদিকে খাঁ সাহেব আড়ালে দাঁড়িয়ে ভাই ও বোনের কথা শুনছিলেন, তিনি আবিষ্কার করলেন মেয়ে তার অত্যন্ত প্রতিভাময়ী এবং নিখুঁত। স্বরলিপি মনে রাখার অসাধ্য সক্ষমতা তাঁর, অথচ যে এখনো শিখা শুরুই করে নাই। মেয়ের প্রতিভা দেখে আশ্চর্যান্বিত হয়ে মেয়েকে জরিয়ে ধরে বললেন মা আমার ভুল হয়ে গেছে, আমি তোমার সাথে অবিচার করেছি। আজ থেকে আমি তোমাকেও শিখাব। আর সেই ঘটনার পরে সেই দিন থেকেই শুরু হলো অন্নপূর্ণার সংগীতের পথচলা। তারপর রবিশঙ্কর আসলেন আলাউদ্দিনের ছাত্র হয়ে। রবি শংকরের মা হেমাঙ্গিনী দেবী আলাউদ্দিনকে বলেছিলেন, “দেখবেন আমার এই ছেলেটিকে, কিছুদিন আগে তার পিতা পন্ডিত শ্যামশঙ্কর চৌধুরী গত হয়েছেন। আজ থেকে আপনিই তার বাবা, আপনার হাতে তার অভিভাবকত্ব ছেড়ে দিলাম, ভুল-ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।” আবেগি মানুষ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সাহেব ক্রন্দনরত অবস্থায় রবির দায়িত্ব নিলেন এবং বললেন, “আজ থেকে আপনার ছেলে আমার ছেলে হল। আমার একটি ছেলে ছিল এখন দুটো হল, সে আমার বড় ছেলে হল।” তার পরেরটা সব ইতিহাস। খাঁ সাহেব শত শত ছাত্রদের মাঝে এই তিন মহারথীর তুলনায় বলেছিলেন প্রতিভার বিচারে আলী আকবর ও রবিশঙ্করকে এক পাল্লায় ও অন্নপূর্ণাকে অন্য পাল্লায় দিলে অন্নপূর্ণার পাল্লাই ভারী হবে।
শিক্ষা শেষে পারিবারিক সম্মতিতে ১৯৪১ সালের ১৫ মে খাঁ সাহেব রবিশঙ্কর ও অন্নপূর্ণার বিয়ে দেন, বিয়ের সময় রবিশঙ্করের বয়স ছিল ২১ এবং অন্নপূর্ণার মাত্র ১৫ পেরিয়েছে। রবিশঙ্কর ছিলেন খুবই উচ্চাভিলাষি। বিয়ের কিছুদিন পরে তাঁরা বোম্বে চলে আসেন, শুরু হয় তাদের জয়জয়কার। নিজ গুরুর কাছথেকে শেখা আলাউদ্দিন খাঁর স্পেশাল আইটেম ছিল সুরবাহার যা তিনি শুধুমাত্র অন্নপূর্ণাকেই শিখিয়েছিলেন। আর এই সুরবাহারের কল্যাণে অন্নপূর্ণা রাতারাতি রবিশঙ্করের চেয়ে বেশী জনপ্রিয় ও উপার্জনশীল হতে থাকেন, যা রবিশঙ্করের মর্ম পিড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একদিন অন্নপূর্ণা অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করলেন রবিশঙ্কর গোপনে নৃত্যশিল্পী কমলা শাস্ত্রীর সঙ্গে প্রেম এবং বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। কমলার সঙ্গে রবিশঙ্করের সম্পর্কের জেরে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে যায়।
রবিশঙ্করের ছাত্র এবং ‘দ্য নবভারত টাইমস’ এর সংগীত সমালোচক মদন লাল ব্যাস বলেন, কনসার্ট শেষে লোকজন অন্নপূর্ণা কে ছেঁকে ধরতো যা পন্ডিত জির পক্ষে সহ্য করা ছিল দুরূহ। তিনি বলেন অন্নপূর্ণা ছিলেন অসামান্যা এক প্রতিভা। এমনকি তাঁর আপসহীন, শিক্ষার সময় ক্ষমাহীন গুরুবাবা আলাউদ্দিন খাঁ তাঁকে মূর্তিমতী সরস্বতী বলে সম্বোধন করতেন। এর চেয়ে বড় প্রশংসা আর কি হতে পারে?
অন্নপূর্ণা ও রবিশঙ্করের ব্যক্তিগত জীবনের কাহিনী নিয়ে বোম্বেতে ১৯৭৩ সালে একটি খুবই জনপ্রিয় ছবি নির্মিত হয়, নাম অভিমান। অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চন প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিতে যদিও অভিনেতা-অভিনেত্রীর সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল কিন্তু প্রকৃত জীবনে সংসার ধরে রাখতে জনসমক্ষে পরিবেশনা ছেড়ে দেওয়ার মত বিশাল আত্মত্যাগের পরও অন্নপূর্ণা নিজের সংসার টিকাতে পারেননি। তারপরেই তিনি নিজেকে গুটিয়ে নেন,আর কোন দিন প্রকাশ্যে আসেননি। ভারতবর্ষ হারায় এক অমূল্য রত্মকে। যদিও রবিশঙ্কর পরবর্তীতে নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়েছিলেন।
রবিশঙ্কর ও অন্নপূর্ণার বৈবাহিক জীবনের একমাত্র সাক্ষী তাঁদের একমাত্র ছেলে শুভেন্দ্র শঙ্কর যিনি পরবর্তীতে আমেরিকাতে মারা যান। রবিশঙ্কর ষাটের দশকের প্রথম দিকে প্রেমিকা কমলা শাস্ত্রীকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষ ত্যাগ করেন। কমলা শাস্ত্রীর সঙ্গে লিভ টুগেদার এবং তাকে বিয়ে করতে না পারার প্রসঙ্গে রবিশঙ্কর তাঁর আত্মজীবনী “রাগ অনুরাগে” বলেছেন, “কি জানি, নিজের বিয়ে এবং অন্য অনেকের বিয়ে দেখে বিয়ের উপর থেকে আমার সমস্ত শ্রদ্ধা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবে ভালো স্ত্রী বা সঙ্গীরা একজন পুরুষকে সফল হতে অনুপ্রেরণা দেয়।” দীর্ঘদিন পর ১৯৮২ সালে অন্নপূর্ণা ও রবিশঙ্করের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
উনার রেওয়াজের ঘরে কারোই যাওয়ার অনুমতি ছিল না। রবিশঙ্করের কাছে তাঁর প্রতিভার কথা জেনে ১৯৭০ সালে আমেরিকার বিশ্ব বিখ্যাত রক সংগীতের দল ঞযব ইবধঃষবং এবং পৃথিবী বিখ্যাত বেহালা বাদক ণবযঁফর গবহঁযরহ তাঁর রেওয়াজ দেখার জন্য ভারতে আসেন কিন্তু অনুমতি পাননি, পরবর্তীতে ভারতের ততকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিশেষ অনুরোধে তাঁদেরকে অনানুষ্ঠানিক ভাবে পাশের রুম থেকে রেওয়াজ দেখার অনুমতি দিয়েছিলেন। যদিও তিনি ইতিপূর্বে তাঁর পারফমেন্স সরাসরি দেখার ব্যাপারে ইন্দিরা গান্ধীর নিজের অনুরোধকেই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
উনার অনেক বিখ্যাত শিষ্য আছেন যারা এখন সারা বিশ্ব মাতিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাঁর শিষ্যত্ব নেওয়াটাও ছিল দুরূহ। পাঁচ থেকে দশ বৎসরও অপেক্ষা করতে হয়েছে। তাঁর বিখ্যাত ছাত্রদের অন্যতম কয়েকজন হলেন ১। ওস্তাদ আশীষ খাঁ সরোদ ২। পন্ডিত অমিত ভট্টাচার্য সরোদ ৩। ওস্তাদ বাহাদুর খাঁ সরোদ ৪। পন্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া বাসুরী ৫। পন্ডিত নিত্যানন্দ হলদিপুর বাসুরী ৬। পন্ডিত বসন্ত বাবরা সরোদ ৭।পন্ডিত জতীন ভট্টাচার্য সরোদ ৮। পিটার কল্ট সেতার।
ভারতীয়দের বিশ্বাস অনুযায়ী একানব্বই বৎসর বয়সে চলে গেলেন বটে,তবে এ যাওয়া দেবী অন্নপূর্ণার মতই বারবার ফিরে আসার জন্য যাওয়া। তাঁর বিস্ময়কর প্রতিভার যে অমরত্ব ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত কে ছেয়ে আছে, সেই অমরত্তেই বসবাস করবেন এই সংগীতের দেবী চিরকাল।” পদ্মভূষণ” ছাড়াও তিনি “সংগীত নাটক একাদেমি” পুরষ্কার এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে “দেশিকোত্তম” পুরস্কারে ভূষিত হোন। শেষ জীবনে মুম্বাইয়ের আকাশগঙ্গা অ্যাপার্টমেন্টে তাঁর ছাত্ররাই সন্তান রূপে আবির্ভূত হয়ে মাতৃসমা মমত্বে তাঁকে দেখাশোনা করতেন। তাদের অন্যতম ছিলেন পন্ডিত নিত্যানন্দ হলদিপুর।

Ads small one

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: ডেঙ্গু সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৩:০০ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: ডেঙ্গু সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ

বর্ষার স্থায়িত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলনার পাইকগাছায় হঠাৎ করেই ডেঙ্গু রোগীর প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি দাঁড়িয়েছে। হঠাৎ করে এডিস মশাবাহিত এই রোগের বিস্তার স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, বাসাবাড়ির আঙিনায় কিংবা আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি—যেমন পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার, ড্রেন ও ডাবের খোসাই এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হিসেবে কাজ করছে। এ ছাড়া উপজেলার বাইরে থেকেও আক্রান্ত রোগী আসার কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সচেতনতামূলক প্রচার চালানো সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। চিকিৎসকদের বক্তব্য স্পষ্ট—ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা এবং মশারির ব্যবহার প্রাথমিক ও কার্যকর প্রতিরোধক।
তবে বাস্তবতা হলো, কেবল সচেতনতামূলক বার্তা কিংবা পরামর্শ প্রদান করে এমন জনস্বাস্থ্য সংকট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের নিজস্ব সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত সমন্বয় এখানে অত্যন্ত জরুরি।
পাইকগাছার বর্তমান পরিস্থিতি যেন মহামারীর দিকে মোড় না নেয়, সে জন্য অবিলম্বে কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তা হলোÑ পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর উদ্যোগে পাইকগাছার প্রতিটি ওয়ার্ডে অবিলম্বে কার্যকর ওষুধ প্রয়োগ (ফগিং ও লার্ভিসাইড স্প্রে) শুরু করতে হবে। ড্রেন, বদ্ধ জলাশয় ও জমে থাকা পানির স্থানগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়মিত পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নিতে হবে। জ্বর হলেই যেন রোগীরা হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করান, সে লক্ষ্যে চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য রাখা এবং গ্রামপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের নজরদারি বাড়াতে হবে। কাজের তাগিদে বা ভ্রমণের কারণে যারা বাইরে থেকে উপজেলায় আসছেন, তাঁদের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি জটিল রূপ নেওয়ার আগেই সমন্বিত ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনিক তৎপরতা এবং জনসচেতনতাÑএই দুইয়ের সমন্বয় ছাড়া পাইকগাছাকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে জোর দেবেনÑএমনটাই প্রত্যাশা।

​মিরপুরে সাবেক গাড়িচালককে ‘হত্যার চেষ্টা’, এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
​মিরপুরে সাবেক গাড়িচালককে ‘হত্যার চেষ্টা’, এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

Oplus_131072

​পত্রদূত ডেস্ক: ​সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অসামাজিক কার্যকলাপের গোপন তথ্য জেনে ফেলার কারণে সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুর রহমানকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির বিচার দাবি করে এবং নিজের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী ওবায়দুর রহমান। আবেদনটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে।
​আবেদনে ওবায়দুর রহমান (জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর: ২৩৬৭৪৫০৬৫৩) উল্লেখ করেন, বিগত ১৪ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পল্লবী থানার উত্তর কালশীর আলীনগরে অবস্থিত ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার ২’-এর একটি ফ্ল্যাটে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
​আবেদনকারীর দাবি, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নির্দেশে তিন ব্যক্তি লাঠিসোটা নিয়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেন। হামলার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আবেদনে বলা হয়, ওবায়দুরের চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে তাঁর মা ও ছোট বোন এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি প্রাণভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
​হামলার পেছনের কারণ হিসেবে ওবায়দুর রহমান আবেদনে দাবি করেন, তিনি এমপি গাজী নজরুলের দীর্ঘদিনের গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। এই সুবাদে এমপির বিভিন্ন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত অসামাজিক কার্যকলাপের তিনি প্রত্যক্ষদর্শী।
​আবেদনে অভিযুক্ত সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এলাকায় জমি ও বালুমহাল দখল, ঘুষ গ্রহণ এবং গ্যাং বা ‘মব’ গঠন করে সন্ত্রাসের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে এমপির বিতর্কিত গতিবিধির কয়েকটি নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ের কথা আবেদনে উল্লেখ করে তা সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানানো হয়। ​এমপি গাজী নজরুলের আদেশে এই হামলা চালানো হয়েছে দাবি করে ওবায়দুর রহমান অভিযুক্ত হামলাকারী এবং নির্দেশদাতার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
এদিকে বিতর্কের মুখেই ২১ জুলাই নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি লিখিত বিবৃতি দিয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। লিখিত বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাটি গত ১৩ জুলাইয়ের এবং এর পেছনে তাঁর নিজস্ব গাড়িচালকের সুপরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির নীল নকশা রয়েছে।
বিবৃতিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তাঁর প্রথমা স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে মগবাজারে অবস্থিত দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তাঁরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। অবস্থানকালে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ সুকৌশলে ৬ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে ওই কার্যালয়ে ঢোকার ব্যবস্থা করে দেয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওই অপরিচিত ব্যক্তিরা কক্ষে ঢুকে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের পরিচয় জানতে চেয়ে চরম হেনস্তা করে। একপর্যায়ে তাঁদের কার্যালয়ের নিচে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। সে সময় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু টাকা প্রদান করার পরই তাঁরা সেখান থেকে রেহাই পান।
ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতিতে গাজী নজরুল ইসলাম জানতে পারেন যে, এই পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তাঁর গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ, যিনি সম্পর্কে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা। সংসদ সদস্য জানান, তাঁর শ্বশুর মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর দুলাভাইয়ের পারিবারিক পূর্বশত্রুতা ছিল। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওবায়দুল্লাহ তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা এবং মাসুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং পরিবারের ক্ষতি করার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়।

দেশের সীমানা পেরিয়ে বিবিসির খবরেও এমপি গাজী নজরুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২:৫০ পূর্বাহ্ণ
দেশের সীমানা পেরিয়ে বিবিসির খবরেও এমপি গাজী নজরুল

Oplus_131072

ভিডিওতে ভাইরাল, জামায়াত এখন কী করবে
পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি কেন্দ্র করে সংসদ সদস্য, তাঁর প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী, শ্বশুর ও দলীয় নেতাদের কাছ থেকে নানা ব্যাখ্যামূলক ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ইন্টারনেটে দ্বিতীয় স্ত্রীর একটি বিতর্কিত জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) ও কাবিননামা ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে। বিষয়টি মঙ্গলবার টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। দেশের সীমানা পেরিয়ে বিবিসির খবরেও স্থান পায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। বিবিসির খবরে বলা হয়Ñ এক তরুণীর সাথে নিজের ‘ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিও’ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বলছেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তার দাবি, তিনি তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে গত ১৭ই জুন ওই তরুণীকে বিয়ে করেছেন।
যদিও সামাজিক মাধ্যমে ওই তরুণীর একটি জীবন বৃত্তান্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সবুজ কালির কলমে ‘জোর সুপারিশ করছি’ লিখে স্বাক্ষর করেছেন মি. ইসলাম, যাতে তারিখ উল্লেখ আছে ২২শে জুন ২০২৬। ওই জীবন বৃত্তান্তে তরুণীটির বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ রয়েছে।
ভাইরাল হয়ে পড়া ওই জীবন বৃত্তান্ত অনুযায়ী তরুণীটি ২০০৮ সালের ২২শে মে জন্মগ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ ৭৭ বছর বয়েসি মি. ইসলামের দাবি অনুযায়ী ১৭ই জুন বিয়ে হলে ওই দিন তরুণীটির বয়স ছিল ১৮ বছর ২৬দিন।
গাজী নজরুল ইসলাম এর আগে পঞ্চম ও অষ্টম জাতীয় সংসদে জামায়াত দলীয় সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সম্প্রতি জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে জানিয়েছিলেন যে, মি ইসলাম একজন মুক্তিযোদ্ধা।
এদিকে তরুণীর সাথে ঘনিষ্ঠতার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ‘মেয়েদের শালীনভাবে চলাফেরা ও মাথায় পর্দা রাখার পরামর্শ’ দেওয়া নিয়ে মি. ইসলামের একটি বক্তব্যের পুরনো ভিডিও নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারের সময় তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন যে ঘটনাটির দিকে তারা দলীয়ভাবে নজর রাখছেন এবং বেআইনি বা অবৈধ কিছুর প্রমাণ পেলে সে অনুযায়ী দল ব্যবস্থা নিবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার দল জামায়াতে ইসলামীর দিক থেকেও একই বক্তব্য দিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় গাজী নজরুল ইসলামকে সালোয়ার কামিজ পরিহিত এক তরুণীর সাথে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে। তার এই ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য মি. ইসলাম ওই তরুণীর এক মামাকে দায়ী করেছেন।
কিন্তু ওই তরুণী তার বিবাহিত স্ত্রী হয়ে থাকলে তার মামা কেন এটি করবে সেই প্রশ্নের কোনো জবাব আসেনি কোনো পক্ষ থেকে।
সোমবার বিকেল থেকেই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতে শুরু করলে প্রথম দিকে ফেসবুকে তার সমর্থকরা এটি ‘এআই ব্যবহার করে করা হয়েছে’ উল্লেখ করে পাল্টা প্রচারণা শুরু করে। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল নাগাদ কয়েকটি ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান দাবি করে যে ভিডিও এআই দিয়ে বানানো নয়।
এসব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মঙ্গলবার বেলা ১২টা ০১ মিনিটে নিজের ফেসবুক পাতায় একটি বিবৃতি দিয়েছেন গাজী নজরুল ইসলাম।
এতে তিনি দাবি করেন, গত ১৭ই জুন পারিবারিকভাবে তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার বাসভবনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে তার বিরুদ্ধে ‘প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই’ বলে দাবি করেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন যে, গত ১৩ জুলাই, ২০২৬ ইং তারিখে তিনি তার প্রথমা ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ব্যবসায়িক অফিসে যান।
“সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি। আমরা উক্ত অফিসে অবস্থানকালে যোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫/৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে ১ লক্ষ টাকা আদায় করে”।
তিনি ওই বিবৃতিতে আরও বলেন, “আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এসময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মোঃ মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
‘’পরবর্তীতে, হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”।
কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতের একজন এমপিকে তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা বা তার লোকেরা জিম্মি করে টাকা আদায় করবেন- এ দাবি কতটা যৌক্তিক তাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নজরুল ইসলামের দাবি অনুযায়ী ঘটনাটি ঘটেছে মগবাজারে, যেটি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কাছেই। সাধারণত ওই এলাকায় জামায়াতের বহু কর্মী সমর্থকের উপস্থিতি থাকে।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলছেন, “কথাটা হয়তো যৌক্তিক মনে হচ্ছে না কিন্তু এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন যে তিনি তার স্ত্রীদের নিয়েই সেখানে গিয়েছিলেন। তার স্ত্রীরাও সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন। তারপরেও আমরা সাংগঠনিকভাবে দেখবো যে তাকে হেয় করার চেষ্টা হয়েছে নাকি অন্য কিছু হয়েছে। সেটি দেখে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিবো আমরা”।
মঙ্গলবার দুপুরের পর পর গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী পরিচয় দিয়ে মাকসুদা ইসলাম একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন সামাজিক মাধ্যমে। সেখানে তাকে লিখিত বিবৃতি পড়তে দেখা গেছে।
এতে তিনি বলেছেন, “আমার স্বামী গাজী নজরুল ইসলামের সহিত মরিয়মের (দ্বিতীয় স্ত্রী) সাথে বিবাহ হয়েছে। যারা এটা নিয়ে কুৎসা রটাচ্ছে তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এ থেকে বিরত না থাকলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো”।
এরপর নিজেকে গাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী পরিচয় দিয়েও আরেকটি বক্তব্য দেন গাজী নজরুল ইসলামের সাথে দেখা যাওয়া তরুণী। এই ভিডিওতে তাকে মুখে মাস্ক পরা দেখা গেছে। সেখানে ওই তরুণী বলেছেন, “আমার স্বামী সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যে ভিডিও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে সে বিষয়ে আমি দেশবাসীর সামনে প্রকৃত ঘটনা সংক্ষেপে তুলে ধরতে চাই।’’
তিনি বলেন, “প্রথমত আমাদের বিয়ে কোনো গোপন বা অনৈতিক বিষয় নয়। ২০২৬ সালের ১৭ই জুন সাতক্ষীরার শ্যামনগর আমার বাবার বাসায় উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। তেরই জুলাই গাজী নজরুল ইসলাম তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে মগবাজারে আমার বাবার অফিসে যান”।
জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদীয় দলের উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বিবিসি বাংলাকে বলছেন, বিষয়টি তাদের দৃষ্টিতে এসেছে এবং তারা এ বিষয়ে নজর রাখছেন।
“সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নানাভাবে এসেছে। ওনার ও তার স্ত্রীদের বক্তব্যও এসেছে। তিনি যদি বেআইনি ও অবৈধ কিছু না করেন তাহলে সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু তিনি যদি বেআইনি ও অবৈধ কিছু করে থাকেন তাহলে অবশ্যই জামায়াত দল হিসেবে ব্যবস্থা নিবে,” বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলছেন, “এমপি সাহেব বলেছেন সাথে তার স্ত্রী ছিল। এখন সেই ভিডিও কিভাবে ভাইরাল হলো সেই তথ্য উদঘাটন করতে হবে। এটি কী তাকে হেয় করার চেষ্টা নাকি অন্য কোনো বিষয় সেটি সাংগঠনিকভাবে দেখে, শুনে ও বুঝে আমরা পদক্ষেপ নিব”।
গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল শোরগোলের মধ্যেই জামায়াতে ইসলামী বিবৃতি দিয়ে বলেছে যে, “গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে”।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য জনাব গাজী নজরুল ইসলাম কে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব খবরাখবর প্রচারিত হয়েছে তার প্রেক্ষিতে আজ ২১শে জুলাই (মঙ্গলবার) এক বিবৃতি প্রদান করেছেন।
তিনি বলেন, “অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে”।
“ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জনাব গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে আরও খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে,” বিবৃতিতে দলটি বলেছে।