শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রাত পোহালেই ঈদুল আজহা: কোরবানি উপলক্ষে সাতক্ষীরায় চুইঝালের কদর বেড়েছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
রাত পোহালেই ঈদুল আজহা: কোরবানি উপলক্ষে সাতক্ষীরায় চুইঝালের কদর বেড়েছে

আসাদুজ্জামান সরদার: রাত পোহালেই মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। আর কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে সাতক্ষীরাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মাংসের স্বাদ বাড়াতে অপরিহার্য উপাদান ‘চুইঝাল’ কেনার ধুম পড়েছে।

ঈদুল আজহার পশু কোরবানির পর চুইঝাল ছাড়া মাংসের রান্নাই যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায় এ অঞ্চলের ভোজনরসিকদের কাছে। ফলে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার বাজারগুলোতে এই বিশেষ মসলাজাতীয় উদ্ভিদের কদর ও চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। চাহিদা বাড়ার এই সুযোগে খুচরা ও পাইকারি বাজারে চুইঝালের দামও বেশ চড়া।

খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলে চুইঝালের ঐতিহাসিক জনপ্রিয়তা থাকলেও বর্তমানে দেশের অন্যান্য জেলাতেও ঝাল ও সুগন্ধি হিসেবে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

ঈদের আগে সাতক্ষীরা শহরের ঐতিহ্যবাহী বড় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় ও মাঝারি বিভিন্ন আকারের চুইঝালের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। কোরবানির মাংসের স্বাদ ও সুঘ্রাণ দ্বিগুণ করতে দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। সাধারণ সময়ে বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি চুইঝাল ৪০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও, এখন আকার ও মান অনুযায়ী তা ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

শহরের রাজার বাগান এলাকা থেকে বড় বাজারে আসা মেহেরুন্নেসা নামে এক ক্রেতা বলেন, আমার পরিবারের সবাই চুইঝাল খুবই পছন্দ করে। শুধু গরুর মাংসই না-সব ধরনের মাংস, বড় মাছ ও অন্যান্য মুখরোচক খাবারে আমরা চুইঝাল খাই। তবে কোরবানির ঈদে গরুর মাংসের সাথে চুইঝাল না হলে একদমই চলে না। আগামীকাল ঈদ, তাই চুইঝাল কিনতে এসেছি। ঈদ উপলক্ষে দাম কিছুটা বেশি হলেও মাংসের স্বাদ পেতে চুইঝাল আমাদের লাগবেই। কারণ ঈদের দিন অতিথিদের চুইঝাল দিয়ে রান্না করা মাংস পরিবেশন করা এ অঞ্চলের একটি রেওয়াজ।”

 

বাজার করতে আসা শহরের মুনজিতপুর এলাকার চাকরিজীবী শরিফুল ইসলাম বলেন, “বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ঈদের আগে চুইঝালের দাম কেজিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন পাইকারি বাজারে দাম বেশি, তাই আমাদেরও বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। দাম যতই বাড়ুক, কোরবানি ঈদের মাংসে চুইঝালের স্বাদ না থাকলে ঈদের রান্নার তৃপ্তিই আসে না।

বড় বাজার মসজিদের সামনের চুইঝাল বিক্রেতা সাইদুল ইসলাম বলেন, মাংসে চুইঝাল দিলে রান্নায় অন্যরকম একটা অতুলনীয় স্বাদ ও সুঘ্রাণ আসে। এ কারণে ঈদের আগের এই কয়েকদিন বেচা-বিক্রি অনেক ভালো হচ্ছে। আমরা সাতক্ষীরা সদর, তালা, দেবহাটা, কালিগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকা থেকে গাছ ও চুইঝাল সংগ্রহ করি। আবার অনেক সময় পাইকারি ব্যবসায়ীরাও বাজারে আমাদের দিয়ে যান। শহরের বেশ কয়েকটি হোটেল চুইঝালের মাংসের জন্য বিখ্যাত হওয়ায় সারা বছরই এর ভালো চাহিদা থাকে, তবে কোরবানির উৎসবে বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এবার পাইকারি বাজারে চড়া দাম হওয়ায় আমাদেরও কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আসাদুল ইসলাম নামে অন্য এক চুইঝাল বিক্রেতা বলেন, কোরবানি উপলক্ষে বাজারে আকস্মিক চাহিদা বাড়ায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা চুইঝালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। যে চিকন চুইঝাল আগে আমরা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় এবং কিছুটা মোটা ও ভালো মানের চুইঝাল ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতাম, তা এখন পাইকারি দরেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে বর্তমানে চুইঝালের সাইজ ও পরিপক্বতা অনুযায়ী কেজি প্রতি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে হচ্ছে।”

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর কোরবানির ঈদ এলেই এ অঞ্চলে চুইঝালের কদর ও বাণিজ্যিক চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ২৩ হেক্টর জমিতে চুইঝালের আবাদ হয়েছে। বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর, তালা এবং কলারোয়া উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ হচ্ছে। এছাড়া জেলার বাকি উপজেলাগুলোতে গ্রামীণ পর্যায়ে বাড়ির আনাচে-কানাচে ও বিভিন্ন গাছে গাছে চুইঝাল লাগানো হয়। এটি চাষে আলাদা কোনো জমির প্রয়োজন হয় না; যেকোনো বড় আম, মেহগনি বা জিওল গাছে এটি আরোহী লতা হিসেবে বেড়ে ওঠে। অনেকেই এখন বাণিজ্যিকভাবে ও শখের বশে চুইঝাল চাষ করে সংসারে বাড়তি আয় করছেন।

Ads small one

মাস্টার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
মাস্টার

গৌতম ম-ল
মাস্টার মানে জ্ঞানের আলো,
দূর করেন অজ্ঞতার কালো।
চকের আঁচড়ে স্বপ্ন আঁকেন,
নতুন দিনের পথটা দেখেন।
অক্ষর শেখান ধীরে ধীরে,
সাহস জাগান অন্তরে নীরে।
শাসন করেন মমতা ভরে,
রাখেন সবার মঙ্গল করে।
তাঁর কথাতে জাগে আশা,
দূর হয় মনের সব নিরাশা।
নিজে থাকেন নীরব হয়ে,
ছাত্র-ছাত্রী গড়েন যতœ লয়ে।
তাঁর ত্যাগের নেই যে তুলনা,
তাঁর অবদান ভোলার নয় না।
শ্রদ্ধা জানাই সেই মানুষকে,
আলোকিত করেন যিনি দেশকে।
মাস্টার শুধু একটি নাম নয়,
মানুষ গড়ার শ্রেষ্ঠ পরিচয়।

কফিন থেকে বলছি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
কফিন থেকে বলছি

ফিনিক্স সুজন
কফিন থেকে বলছি, কফিন থেকে বলছি আমি,
আমাকে বের করে নাও, অথবা পুড়িয়ে দাও পুনরায;
পৃথিবীর গাছ গুলো ধীরে যাচ্ছে জ্বলে কামনার বশে।
কফিনে পুষ্পস্তবক তবে ফুলের সংকট প্রেমিকার হাতে,
কফিনে থেকে উপরের পাপ দেখতে বড্ড খারাপ লাগে।
সবাই যদি ধর্ষকের বিচার না করে, ধর্ষিত হোক সকলে,
কেউ যদি কথা না কয় ধর্ষনের বিপক্ষে, ধর্ষিত হোক মুখ।

এইখানে একসময় একটা বাগান ছিল, পাখি গাইতো খুব
এখন সেখানেই রয়েছে তিনটে কফিন, একটা আমার
আরেকটাও আমারই, বাকি আরেকটা সেটাও আমারই।
পৃথিবী জুড়ে অসংখ্য কফিন আর মোর অসংখ্য লাশ।

যেখানে কিছুকাল আগে ছিল ক্যামেলিয়া ফুল বাগান,
এখন আর নেই, সেখানেই তৈরি হয়েছে লাশকাটা ঘর।
কক্ষনো সেখানেই আমি বিশ্রাম করতাম বিষন্ন হলে,
এখন আর বিশ্রামের দরকার হয়না, শুয়ে থাকি কফিনে;

কফিনে শুয়ে শুয়ে দেখি সুখতারা জলে মিটিমিটি করে,
পরক্ষণে দেখি শিশুকে ধর্ষণ করে সংঘবদ্ধ হয়ে হয়ে।
যার থাকার কথা ছিল মায়ের কোমল কোলে আরামে,
সে রয়েছে কফিনে মুড়িয়ে আমার ডান দিকে চোখ খুলে।
দেখছিলাম আমি উপরের পাপ,দোষ দিচ্ছিলাম প্রভুকে,
এখন সেই দোষ দিচ্ছে আমারে,আমি কিছুই করিনি বলে,
আমারে আরো বলল সে, পৃথিবীতে কেনো ফেলিনি বোমা,
ধ্বংস না করে মানব সভ্যতা, কেনো আমি কফিনে একা?

তার কথা শুনে বড্ড কষ্ট হলো, যদিও কষ্ট পাইনি আগে,
তাইতো বলছি কফিন থেকে তুলে জ্বালিয়ে দাও মোরে!
পৃথিবীর পাপ দেখা যাচ্ছে না আর মোর এদুই চোখে,
কফিন থেকে বলছি, হয় জ্বালিয়ে দাও আমার শরীর
নয়তো উপড়ে ফেলো আমার চোখ দুটো একেবারেই।

 

বেনাপোলে বৃক্ষ রোপনের কর্সসুচি উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
বেনাপোলে বৃক্ষ রোপনের কর্সসুচি উদ্বোধন

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: সামাজিক বানায়নের আওতায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপন কর্মসুচি বাস্তবায়নের আওতায় বেনাপোলে বৃক্ষ রোপনের কর্সসুচি উদ্বোধন করা হয়েছে।

 

শনিবার দুপুরে বেনাপোল ওযেব্রীজের পাশে গাছ রোপন করে কর্মসুচির উদ্বােধন করের উপজেলা নির্বাহী অফিকার ও পৌর প্রশাসক ফজলে ওয়াহিদ। এসময় পৌর প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি বরাদ্ধ পাওয়া বিশেষ তহবিল থেকে ১৮০ দিনে সড়ক ও খালের পাড়সহ বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার গাছের চারা রোপন করা হবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

তবে ৬ মাসে ১ হাজার গাছের চারা রোপন অনেকটা কম বলে জানান পরিবেষ কর্মীরা। সমাজিক বনায়নে পৌর ও উপজেলা জুড়ে কমপক্ষে বছরে বিশহাজার ফলজ বনজ ও ওষুধী গাছের চারা রোপনের দাবী জানান সাধারণ নাগিরিকেরা।