রান্নাঘর ঝাড়ু দিতে গিয়ে সাপের কামড়: কলারোয়ায় তরুণীর করুণ মৃত্যু
মো. সিরাজুল ইসলাম: সকালবেলার স্বাভাবিক ব্যস্ততা ছিল চন্দনপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ সরদারের বাড়িতে। আঠারো বছর বয়সী মেয়ে বিথী খাতুন প্রতিদিনের মতো ঘরকন্যার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সকাল আটটার দিকে রান্নাঘর ঝাড়ু দেওয়ার সময় হঠাতই পায়ে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করেন তিনি। মুহূর্তেই বোঝা যায়, শান্ত এই সকালে বিষধর সাপের দংশন কেড়ে নিতে চলেছে এক প্রাণচঞ্চল তরুণীর স্বপ্ন।
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার এই বিয়োগান্তক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা জানান, কামড় লাগার পরপরই বিথীকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। তবে যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে তাকে যখন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, ততক্ষণে সময় অনেকটাই পেরিয়ে গেছে। সকাল ১১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফয়সাল সরদার বিথীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষের তীব্রতা এবং হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হওয়াÑপ্রাথমিকভাবে এই দুটি বিষয়কেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
“হাসপাতালে যখন তাকে আনা হয়, তখন তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছিল। আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে ফেরানো সম্ভব হয়নি” Ñবলেন চিকিৎসক ফয়সাল সরদার।
বিথীর মৃত্যুর খবর চন্দনপুর গ্রামে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দুপুরের দিকে স্বজনরা তার নিথর দেহ নিয়ে বাড়িতে ফেরেন। পরিবারের বড় আদরের মেয়েটিকে এভাবে হারানো মেনে নিতে পারছেন না গ্রামবাসী।
বর্ষা বা স্যাঁতসেঁতে সময়ে গ্রামাঞ্চলে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবং জীবন বাঁচাতে কিছু সতর্কতা জরুরি বলে মন্তব্য করেন চিকিৎসকরা। তারা বলেনÑওঝা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর ভরসা না করে সরাসরি নিকটস্থ সদর হাসপাতাল বা যেখানে ‘অ্যান্টিভেনম’ আছে সেখানে নিয়ে যান। আক্রান্ত স্থানটি যতটা সম্ভব কম নাড়াচাড়া করতে হবে।
অস্থিরতা রক্তে বিষ দ্রুত ছড়িয়ে দেয়। কামড়ের জায়গার কিছুটা ওপরে কাপড় দিয়ে হালকা করে বাঁধুন, তবে তা যেন রক্ত চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ না করে দেয়। বাড়ির চারপাশ এবং রান্নাঘরের অন্ধকার কোণগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। রাতে চলাচলের সময় টর্চলাইট ব্যবহার করুন। বিথীর এই অকাল মৃত্যু আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে সচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করাই জীবন বাঁচানোর একমাত্র উপায়।









