শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

লেখালেখি দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও খ্যাতি ছড়াচ্ছেন শাম্মী তুলতুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
লেখালেখি দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও খ্যাতি ছড়াচ্ছেন শাম্মী তুলতুল

পত্রদূত ডেস্ক: সমকালীন বাংলা সাহিত্যে বহুমাত্রিক পরিচয়ে পরিচিত মুখ কথাসাহিত্যিক ও শিশুসতিহ্যিক শাম্মী তুলতুল। চট্টগ্রাম থেকে উঠে আসা এই লেখকের সাহিত্যকর্ম এখন দুই বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পাঠকদের কাছেও সমাদৃত হচ্ছে।
শাম্মী তুলতুলের পারিবারিক ইতিহাস সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। তাঁর দাদা আব্দুল কুদ্দুস মাস্টার ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা, লেখক এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বাল্যবন্ধু। তাঁর নানি কাজী লতিফা হক বেগমও ছিলেন সমাদৃত লেখক। পৈতৃক এই সাংস্কৃতিক আবহে বেড়ে ওঠার কারণে শৈশব থেকেই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি।
দেশের প্রথম সারির বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় লেখার পাশাপাশি তাঁর রচনা এখন প্যারিস, কানাডা, নিউইর্য়ক, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির বাংলা ভাষার পত্রপত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, রেডিওর অনুষ্ঠান পরিচালক, সংবাদ পাঠক, সাংবাদিক ও ভয়েস প্রেজেন্টার হিসেবে কাজ করছেন।
বাংলাদেশ ও ভারত মিলিয়ে এ পর্যন্ত শাম্মী তুলতুলের প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৭টি। ২০২২ সালের কলকাতা বইমেলায় তাঁর গল্পগ্রন্থ ‘নরকে আলিঙ্গন’ বেশ পাঠকপ্রিয়তা পায়। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘চোরাবালির বাসিন্দা’, ‘পদ্মবু’, ‘মনজুয়াড়ি’, ‘একজন কুদ্দুস ও কবি নজরুল’ এবং শিশুতোষ গ্রন্থ ‘পিঁঁপড়ে ও হাতির যুদ্ধ’। তাঁর এই গল্পটি দীপ্ত টিভিতে নাট্যরূপে প্রচারিত হয়েছে।
সাহিত্য ও সমাজসেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি কবি রোকেয়া-সুফিয়া কামাল সম্মাননা, মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ড, মহাত্মা গান্ধী পিস অ্যাওয়ার্ড, উইমেন পাওয়ার লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ এবং সম্প্রতি ‘রবীন্দ্র রতœ পুরস্কার-২০২৬’ লাভ করেছেন।
নিজের কাজ সম্পর্কে শাম্মী তুলতুল জানান, লেখালেখি তাঁর কাছে কেবল পেশা নয়, বরং একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা। সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষের মনের অন্ধকার দূর করে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

Ads small one

আলিপুরে জামায়াতের ইউনিয়ন যুব বিভাগের ঈদ পুনর্মিলনী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
আলিপুরে জামায়াতের ইউনিয়ন যুব বিভাগের ঈদ পুনর্মিলনী

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৭ নম্বর আলিপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার গাংনিয়া বড় মসজিদ প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলিপুর ইউনিয়ন যুব বিভাগের সভাপতি মাওলানা আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের ইউনিয়ন সেক্রেটারি নুরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও যুব বিভাগের সভাপতি প্রভাষক মো. ওমর ফারুক। তিনি তাঁর বক্তব্যে যুবসমাজকে নৈতিকতা, আদর্শ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বজায় রেখে দেশ ও সমাজ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও ভোমরা ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা হাবিবুল রহমান এবং উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও আলিপুর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা শফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি মাওলানা আনিছুর রহমান, আলিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মাহমুদুন্নবী, উপজেলা যুব বিভাগের টিম সদস্য ও সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আল মামুন, ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন এবং ইউনিয়ন যুব বিভাগের সহসভাপতি মো. সাইফুদ্দীনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, এ ধরনের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পাবে, যা সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সম্পাদকীয়/উপকূলের পুষ্টিহীনতা: এক অন্তহীন দুষ্টচক্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/উপকূলের পুষ্টিহীনতা: এক অন্তহীন দুষ্টচক্র

 

সাতক্ষীরার উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নি¤œবিত্ত মানুষের কাছে লাল মাংস (গরু বা খাসির মাংস) খাওয়া এখন দূরহ বিলাসিতা। নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি আর একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিঃস্ব এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বড় অংশই বছরে কেবল কোরবানির ঈদে সামান্য মাংসের মুখ দেখে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের প্রায় ৯১ শতাংশ পরিবার কাঁচা ঘর বা ঝুপড়িতে বাস করে। এই চরম অর্থনৈতিক সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাদের খাদ্যতালিকায়, যা উপকূলের মানুষের স্বাস্থ্যকে ভয়াবহ ঝুঁকিতে ফেলছে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, শরীরে আয়রনের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উৎস হলো লাল মাংস। দীর্ঘদিন এটি না পাওয়ায় উপকূলের মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে নারীদের মাঝে তীব্র রক্তস্বল্পতা ও অপুষ্টি দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকের তথ্যমতে, গাবুরার প্রায় ৫০ শতাংশ গর্ভবতী মা মাঝারি থেকে তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছেন। মা অপুষ্টিতে ভুগলে অনাগত শিশুও জন্মগতভাবে দুর্বল ও কম ওজন নিয়ে জন্মায়, যা দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর চিকিৎসার বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। বাল্যবিবাহ, কর্মসংস্থানের অভাব এবং লবণাক্ততার কারণে শাকসবজি না জন্মানো—সব মিলিয়ে উপকূলের মানুষ পুষ্টিহীনতার এক দুষ্টচক্রে আটকে গেছেন।
যদিও বিকল্প হিসেবে মাছ বা হাঁস-মুরগির কথা বলা হয়, কিন্তু তা দিয়ে শরীরের প্রয়োজনীয় আয়রনের ঘাটতি পুরোপুরি মেটানো সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে উপকূলের দুস্থ ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ ‘পুষ্টি কার্ড’ বা খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পুষ্টি সচেতনতা বাড়াতে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

২৫ বছর আগে মৃত বোনকে ‘জীবিত’ দেখিয়ে জমি নামজারি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
২৫ বছর আগে মৃত বোনকে ‘জীবিত’ দেখিয়ে জমি নামজারি

পত্রদূত ডেস্ক: ২৫ বছর আগে মারা যাওয়া আপন বোনকে জীবিত ও প্রবাসী সাজিয়ে জমি মিউটেশন (নামজারি) করার এক অভিনব জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও জন্মনিবন্ধনের তথ্য গোপন করে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ভূমি অফিস থেকে এই নামজারি করা হয়েছে।
শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ সাইদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি এই জালিয়াতির প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেনÑবাদীর আপন বোন শাহীন আরা আক্তার, ভগ্নিপতি সৈয়দ শওকত আলী ওরফে মিঠু (সামেকের সাবেক হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা), ২৫ বছর আগে মৃত বোনের স্বামী মাজেদ সর্দার এবং ২১ জুলাই ২০২৫ তারিখে দায়িত্বে থাকা পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) বাসারাত হোসেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সুলতানপুর মৌজার ডিপি খতিয়ান নং-৩০১, জেএল-১০০ এর মূল মালিক ছিলেন মৃত শেখ লতিফার রহমান। তাঁর মৃত্যুর পর ওয়ারিশ হিসেবে ছেলে সাইদুর রহমানসহ অন্য অংশীদারেরা জমি ভোগদখলে আছেন। যার খতিযান নং ২৫/২৫৪ (তারিখ: ২৪-০৭-২০২৫।
লিখিত অভিযোগে সাইদুর রহমান উল্লেখ করেন, তাঁর আপন বোন সুলতানা বেগম ২০০১ সালের রমজান মাসে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে বাবার বাড়িতে মারা যান। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে ২৫/২৫৩ নম্বর খতিয়ানের (তারিখ: ১৮-০৭-২০২৫) অনলাইন ডিসিআর নং-২৫৮৭৮২১০০০১৭১২) এর ৬ নম্বর ক্রমিকে ২৫ বছর আগে মারা যাওয়া ওই বোনের প্রকৃত ওয়ারিশদের বঞ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে ১ থেকে ৫ নম্বর ক্রমিকে উল্লেখিত সব ওয়ারিশের ছবি গোপন করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী সাইদুর রহমান জানান, গত বছরের ২১ জুলাই ২০২৫ তারিখে পৌর ভূমি অফিসে গিয়ে বিষয়টি তৎকালীন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বাসারাত হোসেনকে জানানো হয়। তখন তিনি নিজের দায় এড়িয়ে সাইদুর রহমানকে বলেন, শাহিন আরা আক্তার ও সৈয়দ শওকত আলী একসঙ্গে ভূমি অফিসে এসে এই নামজারি করে নিয়ে গেছেন। যা ভূমি আইনের ২০২৩ সালের ৪ ও ৫ ধারা মোতাবেক একটি ফৌজদারি অপরাধ। বিষয়টি জানার পর সাইদুর রহমান তার সেজো ভাই মোমিনুর রহমান, মেজো ভাইয়ের পুত্র বখতিয়ার রহমানসহ সকলকে অবহিত করেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় বিভিন্নভাবে হেনস্তা হচ্ছেন বলে জানান সাইদুর রহমান। অপরাধের বিষয়টি বিবেচনা করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাইদুর রহমান ও তার পরিবার।