লেবাননে ড্রোন হামলায় নিহত নাহিদুলের মরদেহ গ্রামে, শোকের ছায়া
বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কফিনবন্দি হয়ে নিজ ভূমে ফিরেছেন লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের প্রবাসী মো. নাহিদুল ইসলাম (২০)। রোববার সকালে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের বুকফাটা কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এর আগে গতকাল শনিবার গভীর রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে অঞ্চলের জিবদিন এলাকায় নিজ বাসভবনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হন কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদেরের বড় ছেলে নাহিদুল ইসলাম। প্রায় এক মাসের বেশি সময় পর সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হলো। আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, বিমানবন্দরে সরকারের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে স্বজনেরা মরদেহ গ্রহণ করেন।
নাহিদের অকালমৃত্যুতে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তাঁর পরিবার। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বাবা-মা ও ছোট ভাইকে রেখে তাঁর এই প্রয়াণে পুরো পরিবার এখন দিশেহারা। স্থানীয় বাসিন্দারা এই অসহায় পরিবারটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সরকারের বিশেষ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
খুলনার প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মো. খালেদুর রহমান জানান, মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরেই দাফন-কাফন বাবদ ৩৫ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে ৩ লাখ টাকা এবং জীবনবিমা বাবদ ১০ লাখ টাকাসহ মোট ১৩ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা পাবে নিহত নাহিদুলের পরিবার।
রোববার দুপুরে নামাজে জানাজা শেষে মরহুমকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু, আশাশুনি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুল ওয়াদুদ, কুল্যা ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ছাকি পলাশ, কাদাকাটি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক তুহিন উল্ল্যাহ তুহিন, ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. আবুবকর, কাদাকাটি আরার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বদিউজ্জামান ও ইউপি সদস্য মো. ইয়াকুব আলী বেগসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।











