শাপলা চত্বর গণহত্যা মামলায় লতিফ সিদ্দিকী কারাগারে
২০১৩ সালের মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
শুনানিতে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, শাপলা চত্বরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আবেদন না থাকায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
এর আগে বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
গত ২৭ জুলাই এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একই সঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, মামলায় দুটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমটি ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জন নিহত হওয়ার ঘটনা এবং দ্বিতীয়টি ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জন নিহত হওয়ার অভিযোগ। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে গুলি, নির্যাতন, হত্যাচেষ্টা, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিপীড়নের ঘটনাও অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে এই মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, শাহরিয়ার কবির, আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুসহ মোট আটজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। অন্যদিকে সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও আবদুর রাজ্জাক অন্য মামলায় কারাগারে আছেন এবং বাকি আসামিরা পলাতক বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।






