বাংলাদেশের বিপক্ষে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যেতে চায় ভুটান। দলের অধিনায়ক চেঞ্চো গেইলশেনের কণ্ঠে সেই প্রত্যয় স্পষ্ট। তবে ম্যাচের আগে তার মনে কিছুটা আক্ষেপও প্রকাশ পেয়েছে। বাংলাদেশের তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরী প্রথম ম্যাচে খেলছেন না। তাই হামজার মতো ফুটবলারের বিপক্ষে মাঠে নামার পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে শেখার সুযোগও হাতছাড়া হচ্ছে ভুটান অধিনায়কের।
বুধবার প্রথম ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে চেঞ্চো বলেন, ‘হামজা খেললে আমরা তার বিপক্ষে খেলতে পছন্দ করতাম। সবাই জানে, তিনি সাফ অঞ্চলের বড় তারকা। ভালো মানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার খেলা আমাদের জন্য ইতিবাচক হতো। তার কাছ থেকে শেখারও সুযোগ থাকত। দুর্ভাগ্যবশত, শুনেছি প্রথম ম্যাচে তিনি আসছেন না।’
তবে হামজা না থাকলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্য থেকে সরে আসছে না ভুটান। চেঞ্চো বলেন, ‘সাফ কাপ জেতা প্রতিটি দলেরই স্বপ্ন। আমরা প্রথম ম্যাচ জেতার চেষ্টা করব, যেন সেমিফাইনালে যাওয়ার পথে নিজেদের অবস্থান নিরাপদ করতে পারি।’
গতবার ভুটানের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে চোটের কারণে সেই ম্যাচে খেলতে পারেননি চেঞ্চো। এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার অপেক্ষায় তিনি।
অন্যদিকে ভুটানের কোচ গ্যারি মাইকেল ফিলিপস স্বীকার করেছেন, সাফের জন্য তাদের প্রস্তুতি আশানুরূপ হয়নি। কোনো প্রস্তুতি ম্যাচও খেলতে পারেনি দলটি। গত ফিফা উইন্ডোতে ভুটানের জাতীয় লিগ থাকায় খেলোয়াড়দের একসঙ্গে পাওয়াও কঠিন ছিল।
কোচ বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতিটা ধাপে ধাপে হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা কোনো ম্যাচ খেলিনি। বাংলাদেশের মতো অন্য দলগুলোর যে ধরনের প্রস্তুতি হয়েছে, আমাদের তা হয়নি। তবে আমরা আত্মবিশ্বাস নিয়েই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছি।’
ভুটান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। তাই এই টুর্নামেন্টকে খেলোয়াড়দের যাচাই করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের এএফসি ও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রস্তুতির সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি।
বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের ওপর চাপের বিষয়টিও মাথায় রাখছেন ফিলিপস। তার মতে, ঘরের মাঠে খেলার কারণে বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ থাকবে। তবে এই প্রতিযোগিতা বাছাইপর্বের টুর্নামেন্ট নয়; বরং আঞ্চলিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ।
ভুটান দলে এবার বেশ কয়েকজন তরুণ ও নতুন মুখ রয়েছেন। অধিনায়ক চেঞ্চোও দলের নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতির জন্য আমরা খুব বেশি সময় পাইনি। ভুটানের মৌসুম শেষ হওয়ার পরপরই জাতীয় দলের খেলোয়াড় নির্বাচন করতে হয়েছে। দলে বেশিরভাগই তরুণ ও নতুন মুখ। তবে কোচের অভিজ্ঞতার কারণে এখন আমি বেশ আত্মবিশ্বাসী।’
দলে শতভাগ স্থানীয় ফুটবলার থাকায় গর্বের কথাও জানিয়েছেন চেঞ্চো। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো দলগুলোতে প্রবাসী বা বংশোদ্ভূত ফুটবলার থাকলেও ভুটান জাতীয় দলে সবাই স্থানীয়।
চেঞ্চোর ভাষায়, ‘বিশ্ব ফুটবল এখন অনেক বদলে গেছে। শুধু বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কা নয়, অনেক দেশই বিদেশে জন্ম নেওয়া বা অন্য দেশের ফুটবলারদের নাগরিকত্ব দিয়ে দলে নিচ্ছে। আমার মনে হয়, ভুটানই একমাত্র দল, যারা শতভাগ ভুটানি ফুটবলার নিয়ে খেলছে। জাতীয় দলের হয়ে শতভাগ ভুটানিকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত।’