বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ ও তারুণ্যের জাগরণ: পুলিশ-জনতার মিলিত প্রয়াস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ ও তারুণ্যের জাগরণ: পুলিশ-জনতার মিলিত প্রয়াস

মাদক, অনলাইন জুয়া, বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং এবং সড়ক অসচেতনতার মতো সামাজিক ব্যাধিগুলো আজ আমাদের সমাজজীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করছে। এই বহুমুখী অপরাধপ্রবণতা কেবল বর্তমান প্রজন্মকেই বিপথগামী করছে না, বরং একটি সুস্থ ও মেধাভিত্তিক জাতি গঠনের পথেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এমতাবস্থায় অপরাধের বিরুদ্ধে কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একক পদক্ষেপ বা আইনি কঠোরতাই যথেষ্ট নয়; বরং এর জন্য প্রয়োজন পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধ এবং সামাজিক আন্দোলন। সম্প্রতি সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ এবং অর্ধসহস্রাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি আমাদের সেই সম্মিলিত জাগরণেরই এক আশাবাদী বার্তা শোনায়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি সঠিকভাবেই উল্লেখ করেছেন যে, অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক সুদৃঢ় করা অপরিহার্য। পাশাপাশি মাদক, অনলাইন জুয়া, বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিংসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধ নির্মূলে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার বিকল্প নেই। বিশেষ করে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানানোর যে আহ্বান তিনি জানিয়েছেন, তা অপরাধ দমনে জনসচেতনতার গুরুত্বকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।

এ আয়োজনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও অনুপ্রেরণাদায়ক দিকটি ছিল শিক্ষার্থীদের শপথগ্রহণ পর্ব। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) পরিচালনায় এবং ওসির পড়ানো শপথবাক্যে শিক্ষার্থীরা মাদক থেকে দূরে থাকা, বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিহত করা এবং একটি অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করার দীক্ষা নিয়েছে। আজকের কোমলমতি ও তারুণ্যদীপ্ত শিক্ষার্থীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে অপরাধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এই শিক্ষা শুধু বিদ্যালয়ের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং তা ছড়িয়ে পড়তে হবে প্রতিটি পরিবার ও শিক্ষাঙ্গনে।

শুধু আইন প্রয়োগ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সমাজ থেকে অপরাধ পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুশাসন এবং সঠিক নৈতিক শিক্ষার প্রসার। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মতো উদ্যোগগুলো পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আস্থার সেতুবন্ধ তৈরি করে। যখন সমাজের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হয়ে পুলিশকে তথ্য ও সহযোগিতা দিয়ে সহায়তা করবে, তখনই কেবল মাদকমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।

সাতক্ষীরার এই শিক্ষার্থী সমাবেশ ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে আমাদের যুবসমাজ সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে প্রস্তুত। এই ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম কেবল সাতক্ষীরায় নয়, বরং দেশের প্রতিটি জনপদে নিয়মিত হওয়া উচিত। তারুণ্যের শক্তিকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে পারলে এবং পুলিশ ও জনগণের কার্যকর অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা গেলে একটি বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও প্রগতিশীল সমাজ গড়ে তোলা মোটেও অসম্ভব নয়।

Ads small one

৭ নভেম্বর উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বিএনপির বর্ণাঢ্য র‌্যালি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
৭ নভেম্বর উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বিএনপির বর্ণাঢ্য র‌্যালি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি করবে জেলা বিএনপি। বুধবার (৪ নভেম্বর) জেলা বিএনপির প্রস্তুতি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কর্মসূচি অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সাতক্ষীরা শহরের মোজাহারের পেট্রোল পাম্পের পাশে সদর-২ আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ আবদুর রউফের মাইক্রো গ্যারেজ থেকে র‌্যালিটি শুরু হবে।

র‌্যালিতে জেলার সব উপজেলা ও পৌর বিএনপির পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের স্ব স্ব ব্যানার ও ফেস্টুনসহ অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৮ নভেম্বর জেলার সব উপজেলায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বুধবার জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব কর্মসূচির কথা জানানো হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

এবার শীতে ৬ শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
এবার শীতে ৬ শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস

এবার শীত মৌসুমে দেশে সর্বোচ্চ ছয়টি শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এসব শৈত্যপ্রবাহের সময় তাপমাত্রা কমে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়াতে পারে।

পাশাপাশি শীতের শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নদ-নদীর অববাহিকায় কুয়াশার ঘনত্ব বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

১ নভেম্বর প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ে দেশে চার থেকে ছয়টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে মৃদু শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে। এ ছাড়া দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা দেখা যেতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। এতে তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকলেও শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ওই মাসে ৯ অক্টোবর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেয়। অক্টোবর মাসে বঙ্গোপসাগরে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ রূপ নেয়। পরে ঘূর্ণিঝড়টি প্রবল ও অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করে।

অক্টোবর মাসে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। এ সময় বজ্রসহ দমকা ও ঝোড়ো হাওয়াও বয়ে যায়। ২ অক্টোবর সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ওই মাসে দেশের সর্বোচ্চ দৈনিক বৃষ্টিপাত ৬৪ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়।

এ ছাড়া অক্টোবরের বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। সিলেটে ১৭ অক্টোবর ওই মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

অন্যদিকে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২৭ অক্টোবর তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড করা হয়। মাসটিতে দেশের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় যথাক্রমে ১ দশমিক ৮, শূন্য দশমিক ৪ ও ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নভেম্বর মাসে দেশের মাটির আর্দ্রতা ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। বিভাগভেদে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে দেখা গেছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও খুলনায় স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়ার এ পূর্বাভাস তৈরিতে প্রাপ্ত আবহাওয়া উপাত্ত, ঊর্ধ্বাকাশের আবহাওয়ার বিন্যাস, বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের বিশ্লেষণ, জলবায়ু মডেল, এল-নিনো ও লা-নিনার অবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস পর্যালোচনা করা হয়েছে।

রাজধানীর বায়ুদূষণে পরিবহন খাতের দায় ৫০ শতাংশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
রাজধানীর বায়ুদূষণে পরিবহন খাতের দায় ৫০ শতাংশ

রাজধানীর বায়ুদূষণের বড় একটি অংশের জন্য দায়ী পরিবহন খাত। এ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ফিটনেসবিহীন ও অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন চলাচল বন্ধ, মানসম্মত জ্বালানি ও লুব্রিকেন্টের ব্যবহার নিশ্চিত এবং চালকদের পরিবেশবান্ধব গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যানজট কমানো এবং পরিবহন খাতে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার।

সভাপতির বক্তব্যে এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণের অন্তত ৫০ শতাংশের জন্য পরিবহন খাত দায়ী। এ দূষণের কারণে ক্যানসার, হৃদরোগসহ নানা ধরনের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। পরিবহন খাতের দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে অন্তত ১০ শতাংশ স্বাস্থ্যব্যয় কমানো যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আইন অমান্য করাকে এখন কিছু মানুষের কাছে গর্বের বিষয় হিসেবে দেখা হয়। এ মানসিকতার কারণে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তনে ক্যাব, বাপাসহ অন্যান্য নাগরিক সংগঠনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা যেন নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করেন, সে বিষয়ে নাগরিক সংগঠনগুলোকে সোচ্চার হতে হবে।

মূল প্রবন্ধে ঢাকার বায়ুদূষণের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে অধ্যাপক কামরুজ্জমান বলেন, রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর, মিরপুর-১০, গুলিস্তান ও গাবতলীসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। এমনকি ধানমন্ডি, গুলশান ও শাহবাগের মতো এলাকাতেও মাত্রাতিরিক্ত দূষণ হচ্ছে।

গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু দিনের বেলাতেই নয়, মাঝরাত ও ভোররাতেও রাজধানীতে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ সিটি করপোরেশনের রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার কার্যক্রম, ভবন নির্মাণকাজ এবং ভারী পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল। আব্দুল্লাহপুর থেকে সদরঘাট পর্যন্ত বাসরুটের অধিকাংশ এলাকাই বায়ুদূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে নিকুঞ্জ ও বিমানবন্দর এলাকায় বায়ুর মান তুলনামূলক ভালো।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির বলেন, পরিবেশদূষণ রোধে ইমারত নির্মাণসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা থাকলেও সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। ফলে নগরবাসী কার্যত একটি গ্যাস চেম্বারের মধ্যে বসবাস করছে। দূষণের কারণে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি চিকিৎসাব্যয়ও বাড়ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের একটি অংশ নিজেরাই বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ফলে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে।

সভায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিনিধিরা বলেন, রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় যানজট বাড়ছে। এতে যানবাহনের জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বারবার ব্রেক করা ও পুনরায় গতি বাড়ানোর কারণে কার্বন নিঃসরণও বাড়ছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত আলোচনা সভা

তাদের মতে, পরিবেশ সুরক্ষায় সড়কে যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি গতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অন্যদিকে, গণপরিবহনে পুরোনো ইঞ্জিন ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে দাবি করেন সড়ক পরিবহন মালিকপক্ষের নেতারা। তাদের মতে, মানহীন জ্বালানি তেল ও ভেজাল মবিলের কারণে যানবাহন থেকে কালো ধোঁয়া নির্গমনের পরিমাণ বাড়ছে। এ সমস্যা সমাধানে জ্বালানি তেল ও লুব্রিকেন্টের মান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে মান যাচাই এবং চালকদের জন্য সরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

বিআরটিএর পরিচালক রুবাইয়াত-ই-আশিক বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণ কমাতে যানবাহনের ফিটনেস ও নির্গমন পরীক্ষা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। মেয়াদোত্তীর্ণ, অনুপযুক্ত ও অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিবহন মালিকদের নিয়মিত যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকদের পরিবেশবান্ধব গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড. এস এম সালাউদ্দীন বলেন, রাজধানীর বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন ও নীতিমালা প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। এগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন, নিয়মিত নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, চালক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও নাগরিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রতিদিন যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষায় ফিটনেসবিহীন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গাড়ি প্রতিদিন ডাম্পিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও পরিবেশ সুরক্ষায় বিআরটিএর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।