বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

সংবিধানে ফিরেছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
সংবিধানে ফিরেছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বহাল রইলো বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এই রায় দেন।

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তিনটি আপিল হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি একটি এবং নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন পৃথক আপিল করেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার একটি আপিল করেন।

২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ মামলাটির শুনানি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসাদ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত হবে মর্মে মুলতবির আদেশ দিয়েছিলেন।

সেদিন আদালতে রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

গত ৮ ডিসেম্বর আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূইয়া। শুনানিকালে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল চেয়ে চেয়েছেন বদিউল আলম মজুমদারের এই আইনজীবী। শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীতে যদি পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকে, তাহলে তো পুরোটাই একবারেই বাতিল করা যায়।

এদিকে গত ২ ডিসেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলে পক্ষভুক্ত হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে এনেছেন আদালত।

আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। এই গণতন্ত্র বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে তাতে জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন হয়নি। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের আত্মবিশ্বাস জনগণের মধ্যে জন্ম নেয়নি। যার ফলশ্রুতিতে হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান। রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।

বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন, রিটকারী সুজনের বদিউল আলমের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া। বিএনপির পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল। জামায়াতের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিকী। ইনসানিয়াত বিপ্লবের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। চার আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জুনায়েদ আহমেদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ, ইন্টারভেনর হিসেবে ছিলেন ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে এই রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেন, অনুচ্ছেদ দুটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছে, যেটি হচ্ছে গণতন্ত্র। পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেছেন আদালত। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।

রায়ে আদালত আরও বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার আগামী জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন আদালত। রায়ে আদালত আরও বলেছেন, সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে বিধানগুলো সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতার স্বীকৃতির বিষয়, ২৬ মার্চের ভাষণের বিষয়গুলো রয়েছে।

গণভোটের বিষয়ে রায়ে হাইকোর্ট বলেন, গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা হয়, যেটি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ ছিল। এটি ১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংশোধনীতে যুক্ত হয়। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোটের বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হলো।

হাইকোর্টের রায়ে ৭ ক, ৭ খ এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়েছে। ৭ ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ ইত্যাদি অপরাধ এবং ৭ খ সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করার কথা বলা ছিল। এদিকে ৪৪ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ বিষয়ে বলা আছে। ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ বলছে, এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোনও আদালতকে তার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ওই সব বা এর যেকোনো ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করতে পারবেন। এই অনুচ্ছেদটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে রায়ে।

পরে গত ৮ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করা রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর ১৩৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ এই রায় প্রকাশ করা হয়।

এরপর গত ৩ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করা হয়। আপিল আবেদনে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চাওয়া হয়। রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এই আপিল দায়ের করেন। এরই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

এরপর গত ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত।

Ads small one

দেবহাটায় ম্যান ফর ম্যান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় ম্যান ফর ম্যান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ম্যান ফর ম্যান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলার সুশীলগাতী এলাকায় সংগঠনটির নিজস্ব কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শেখ এমরানুল হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কর্মকর্তা অলিউল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলফেরদাউস আলফা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সবুজ, উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আলী, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর. কে. বাপ্পা, চিকিৎসক ডা. আরিফ হোসাইন এবং সমাজসেবক চিকিৎসক রবিউল ইসলাম।

এ সময় সংগঠনের সেক্রেটারি ফয়সাল আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাদের, সাংস্কৃতিক সম্পাদক উজ্জ্বল হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ডা. আরিফ হোসাইনের নেতৃত্বে চিকিৎসক দল এলাকার অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।
সবশেষে সংগঠনের কার্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয় এবং পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে উপস্থিতদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

এ সময় অতিথিরা ম্যান ফর ম্যান ফাউন্ডেশনের এমন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সমাজসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সংগঠনটির পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তারা।

মামলার হুমকি এলো এমবাপ্পের বিরুদ্ধে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
মামলার হুমকি এলো এমবাপ্পের বিরুদ্ধে

চলমান বিশ্বকাপ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে কিলিয়ান এমবাপ্পের। যখন কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঠিক তখন মামলার হুমকিও পাচ্ছেন। তারকা এই স্ট্রাইকারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ প্যারাগুয়ের সেনেটর সেলেস্তে আমারিয়া। এমনকি এমবাপ্পের বিরুদ্ধে মামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে এমবাপ্পেকে তার মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এমবাপ্পের বিরুদ্ধে লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা ও নারীর প্রতি রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন আমারিয়া। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ‘উপনিবেশ ক্যামেরুনের একজন’ ও ‘বর্বর’ বলে বর্ণবাদী আক্রমণ করেছিলেন প্যারাগুয়ের সেনেটর সেলেস্তে আমারিয়া।

এরপর তাকে তীব্র ভাষায় পাল্টা জবাব দেন ফরাসি ফুটবল অধিনায়ক এমবাপ্পে। আমারিয়াকে ‘ঘৃণ্য নারী’ উল্লেখ করে, এমবাপ্পে বলেন, ওই পদে থাকার অযোগ্য তিনি। এরপরই চরম ক্ষুব্ধ হয়ে এমবাপ্পের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিলেন আমারিয়া।

এক্সে শেয়ার করা এক পোস্টে আমারিয়া লেখেন, আমাকে ঘৃণ্য এবং অযোগ্য নারী বলার আপনি কে, যখন আপনি আমাকে এমনকি ঠিকমতো জানেনও না?

এটি নির্জলা এবং সোজাসাপ্টা লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা! একজন নারীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সহিংসতা। এমন একজন নারী যিনি জনগণের ভোটে এই পদমর্যাদায় আছে।

আপনি আমাকে অবজ্ঞা করেছেন বিশেষ করে আমার লিঙ্গের কারণে। আপনি আমাকে তুচ্ছজ্ঞান করেছেন বিশেষত আমি একজন নারী বলে। আপনার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিন। আপনার ফরাসি নাগরিকত্বকে সম্মান করুন এবং ক্ষমা চান। নাহলে আমি লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার জন্য আইনি ব্যবস্থা নিতে পারি।

এক্সে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে আমারিয়া এও লেখেন যে, তার বিরোধ এমবাপ্পের সঙ্গে, ফ্রান্সের সঙ্গে নয়। তিনি জানান, এমবাপ্পে হয়তো জানেন না তিনি কে। তিনি শৈশব থেকে ফরাসি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন এবং ফ্রান্সের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ফুটবল বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে খেলার আগে ও খেলা চলাকালে এমবাপ্পে উদ্ধত আচরণ করেছেন এবং প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের অবজ্ঞা করেছেন।

তা ছাড়া ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষককেও এমবাপ্পে সম্মান দেখাননি বলেও অভিযোগ করেন আমারিয়া। তার ভাষ্য, প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান দেখানো খেলার অন্যতম মৌলিক মূল্যবোধ। তবে আমারিয়া স্বীকার করেছেন যে, আবেগের বশে দেওয়া আগের পোস্টটি তিনি পরে মুছে ফেলেছেন। তিনি বলেন, নিজের ভাষা নিয়ে অনুতপ্ত হওয়ায় সেটি সরিয়ে দেন।

এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। যদিওবা বর্তমানে ৮ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে এক আসরে সর্বোচ্চ ১৩ গোলের রেকর্ডটি রয়েছে ফরাসি কিংবদন্তি জ্যাঁ ফন্তেইনের দখলে। সেই রেকর্ড ছুঁতে হলে মেসিকে আরও ৫টি গোল করতে হবে।

চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৫ শতাংশ: এডিবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৫ শতাংশ: এডিবি

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৫ শতাংশে সীমিত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে এসময়ে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮.৮ শতাংশের মতো উচ্চ পর্যায়ে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক তাদের সাম্প্রতিক ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (জুলাই ২০২৬)’ প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দিয়েছে।
প্রতিবেদনে এডিবি বলেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রপ্তানি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, জ্বালানি সংকট এবং প্রতিকূল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবেশের কারণে গেলো অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল। তবে চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমা, ব্যবসা পরিচালনার নিয়মকানুন সহজ করা, সুশাসনের উন্নতি, কর প্রশাসনে সংস্কার এবং প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এডিবি সতর্ক করে বলেছে, প্রবৃদ্ধির গতি খুব দ্রুত বাড়বে না। কারণ ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ঘাটতি এখনও বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

হালনাগাদ প্রতিবেদনে এডিবি আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪.৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখলেও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। এপ্রিলে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের মূল্যস্ফীতি ৮.৫ শতাংশ হবে বলে ধারণা করা হলেও, সর্বশেষ প্রতিবেদনে তা বাড়িয়ে ৮.৮ শতাংশ করা হয়েছে।

এডিবির মতে, জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, বিনিময় হারজনিত চাপ এবং খাদ্য ও সেবা খাতে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীরে কমবে।

এডিবির বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুবাগা বলেন, কঠিন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সেবা খাতের স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সহায়তা করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সুশাসন এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে সংস্কার জরুরি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হলে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, যা মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক লেনদেনের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। একইসঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন শুল্ক বা বিধিনিষেধ, প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর অর্থনৈতিক ধীরগতি, বৈদেশিক অর্থায়নের কঠোর পরিবেশ এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকিও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে।