শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

সবচেয়ে কম ও বেশি বয়সী প্রেম এবং বিয়ের রেকর্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
সবচেয়ে কম ও বেশি বয়সী প্রেম এবং বিয়ের রেকর্ড

আজহারুল ইসলাম সাদী

প্রেমের কোনো বয়স নেইÑএই চিরন্তন সত্যটি নিয়ে মানুষের আবেগের শেষ নেই। প্রকৃতপক্ষে প্রেম একটি মানবিক অনুভূতি, যা যেকোনো বয়সে, যেকোনো পরিস্থিতিতে মানুষের হৃদয়ে জেগে উঠতে পারে। এটি নিছক শারীরিক বা বয়স-কেন্দ্রিক কোনো বিষয় নয়, বরং দুটি মনের গভীর মিল ও অনুভূতির ওপর নির্ভরশীল।

ছোটবেলার প্রেম সাধারণত নিষ্পাপ আবেগ ও আকর্ষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। এটি বয়ঃসন্ধির আগে বা শুরুর দিকে আবেগ, কৌতূহল এবং একসাথে সময় কাটানোর আনন্দ থেকে শুরু হতে পারে। এই বয়সের প্রেম অনেকটা মোহ বা বন্ধুত্বের মতো হয়, যেখানে মানুষের মনের গভীর অনুভূতির চেয়ে ভালোলাগাটাই প্রধান হয়ে ওঠে।

বুড়ো বয়সের প্রেম: বার্ধক্যে মানুষের জীবনের কর্মব্যস্ততা কমে যায়। এই বয়সে মানুষ একা হয়ে পড়তে পারে এবং মানসিক প্রশান্তি ও গভীর সাহচর্যের খোঁজ করে। বার্ধক্যের প্রেম শারীরিক আকর্ষণের চেয়ে মানসিক বোঝাপড়া, শ্রদ্ধা, যতœ এবং একাকীত্ব দূর করার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়। এটি দু’জন মানুষের জীবনের শেষ দিনগুলো সুন্দর ও অর্থপূর্ণ করে তুলতে সাহায্য করে।

বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী প্রেমিক-প্রেমিকা বা বিবাহিত দম্পতির বিষয়টি মূলত বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা ও সামাজিক প্রথা থেকে জানা যায়। কোনো নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক রেকর্ড না থাকলেও, কিছু আলোচিত ঘটনা রয়েছে:
আনা ও রিচার্ড: ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী বাগদান বা বিয়ের ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি হলো অ্যানা মব্রে এবং রিচার্ড অব শ্রুজবেরির।

মাত্র ৫ বছর বয়সে ৪ বছর বয়সী রিচার্ডের সাথে অ্যানার বিয়ে বা বাগদান হয়েছিল।
গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সিরিয়ায় ৫ বছর বয়সী খালিদ ও ৩ বছর বয়সী হালা নামের দুই শিশুকে সবচেয়ে কম বয়সী যুগল হিসেবে ধরা হয়। তাদের পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বাগদান সম্পন্ন করেছিল।

সউদী আরব: ২০০৮ সালে সৌদি আরবের জিজান প্রদেশে ১২ বছর বয়সী এক ছেলে ও ১১ বছর বয়সী তার চাচাতো বোনকে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা তৎকালীন সময়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক নবদম্পতি: যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার বাসিন্দা মার্জোরি ফিটারম্যান (১০২) এবং বার্নি লিটম্যান (১০০) বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক দম্পতি যারা বিয়ে করেছেন ১৯ মে, ২০২৪ সালে। তারা একই রিটায়ারমেন্ট কমিউনিটিতে থাকার সময় একটি কস্টিউম পার্টিতে একে অপরের প্রেমে পড়েন এবং দীর্ঘ ৯ বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর বিয়ে করেন।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্যমতে, ইতিহাসে এককভাবে সবচেয়ে বয়স্ক বর হিসেবে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন হ্যারি স্টিভেন্স ১৯৮৪ সালে ১০৩ বছর বয়সে ৮৪ বছর বয়সী থেলমা লুকাসকে বিয়ে করেন তিনি।
সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া দুই শিশুর প্রেম ও বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার বিষয়টি ব্যাপক উদ্যেগ ও উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে।

ভালোবাসার টানে পরিবারের অমতে ঢাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রাজবাড়ীর পাংশায় চলে আসে পঞ্চম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই শিশু।

গভীর রাতে অ্যাম্বুলেন্সে এত অল্পবয়সী শিশুদের দেখে পুলিশের সন্দেহ হলে তাদের উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুদের নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় পুলিশ।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মিরপুর এলাকার একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহুল স্থানীয় একটি হোটেলে খ-কালীন কাজ করত। সেখানে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মাহির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে, যা পরে শিশুতোষ প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। পরিবারের আপত্তির কারণে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ের উদ্দেশ্যে রাজবাড়ীর পাংশায় যাওয়ার পরিকল্পনা করে।

৭ জুলাই-২০২৬ ভোরে পাংশা সরদার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে টহলরত পুলিশের নজরে আসে বিষয়টি। সন্দেহ হলে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং পরে থানায় নিয়ে যায়।

জিজ্ঞাসাবাদে দুই শিশু জানায়, তারা একে অপরকে ভালোবাসে এবং বিয়ে করতে চায়। পরিবারের সম্মতি না পাওয়ায় তারা বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছে। অন্যদিকে তাদের সঙ্গে থাকা বন্ধু রোজান জানায়, সে শুরুতে পুরো বিষয়টি জানত না; পথিমধ্যে এসে বিষয়টি বুঝতে পারে।

পরে শিশুদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে, পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে সন্তানদের শনাক্ত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এত অল্প বয়সে শিশুদের এমন সিদ্ধান্ত উদ্বেগজনক। পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজকে শিশুদের মানসিক বিকাশ, নিরাপদ ব্যবহার এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। তারা মনে করেন, শিশুদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, পারিবারিক বন্ধন এবং নৈতিক শিক্ষা জোরদার করা হলে এ ধরনের ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের আবেগকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা প্রদান করা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত জরুরি।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Ads small one

হাঁক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
হাঁক

মোঃ রহমত আলী
কথায় কথায় লাফালাফি,
তালে তালে নাচানাচি!
গোয়াল ঘরে ছাগল বেঁধে,
পাগল হয়ে মাতামাতি।

ঘোড়ার ডিম, ঘোড়ার ডিম,
হাতির হলো কবে শিং!
জেগে জেগে স্বপ্ন হাজার,
ঘুমের ঘোরে সোনার ডিম।

সোনার হরিণ, সোনার হরিণ,
আবোল-তাবোল বাড়াবাড়ি!
বড্ড বেশি কাড়াকাড়ি,
তা ধিন- ধিনা ধিন- তা ধিন।

বাহ্ অকারণে হাসাহাসি,
কারণ পেলেই দাপাদাপি!
ঘরের ঘোড়া ভুখা রেখে,
পরের মহিষ হাঁকাহাঁকি।

‘পুষ্প্য শয্যা’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
‘পুষ্প্য শয্যা’

শহীদুল্লা হক ভূইয়া
জীবনের নাম যদি
রাখা হয় ফুল,
তা রয়ে যাবে আজীবন ভুল।
ফুল পবিত্র নেই তার কুল,
মানুষ সবজান্তা
তথাপি নেই তার মিল।
পুষ্প্য ফুটে দেখায়
ত্রুটিহীন আতœপ্রকাশ,
মানুষ প্রাণী কলংক এঁকে
রাখে তার ভ্রান্তি অবকাশ।

পুষ্প্য তার সৌরভ দিয়ে
ডেকে রাখে বসুন্ধরাকে,
দূর্গন্ধরূপী জ্বাল বিস্তার
করে মানুষ ধরাকে।

ফুল সারাজাহানের
সংকীর্ণ প্রণালী ঘর,
তাকে করা যাবেনা
ক্ষনিকের ধরণী পর।

পুষ্প্য ছাড়া ভুলে যেত
মানুষ আপন ধন,
মানুষই পারে পুষ্প্যের ন্যায়
গড়তে তাজা প্রাণ।

অন্তরের অন্তরালে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ
অন্তরের অন্তরালে

বাপী নাগ
এই জীবনের পথে চলতে গিয়ে
পথ যে ফেলি হারিয়ে।
ঠিক-ভুলের নেই কোনো হিসাব
রাখি নিজেকে সরিয়ে।
অজান্তেই ভুল করে পাই সাজা
নিঃশব্দে রয়েছি নিরবে।
দিনের পর দিন সময় যায় বয়ে
এ মন অজান্তে হারাবে।

স্বপ্ন গুলো হঠাৎই ধুলোয় মিশে
নীরবতার’ই আড়ালে।
হাসির মুখোশ পরেই অভিমানে
লুকাই যে অন্তরালে।

হাজার মানুষের ভিড়ের মাঝেও
নিজেকেই খুঁজি একা।
চেনা-অচেনা এই জীবন পথেই
স্মৃতি’র হয় শুধু দেখা।

ভাঙা বিশ্বাস এই বুকের ভেতর
রক্ত ক্ষরণ হয়েই রয়।
যাদের কে আপন ভেবে ছিলাম
তাদের মাঝে হবে জয়।

তবুও এই জীবন থেমে থাকে না
এ পথ নিয়তির ডাকে।
অশ্রু ভেজা প্রতি’টি প্রহর নতুন
সাহস রেখে যায় ফাঁকে।