শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

বর্ষার পানিতে ভাসে দুর্ভোগ, মুক্তি মিলবে কবে ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
বর্ষার পানিতে ভাসে দুর্ভোগ, মুক্তি মিলবে কবে ?

এম.এম হায়দার আলী

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও গ্রামীণ জনপদে একই চিত্র দেখা যায়। কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতেই রাস্তা-ঘাট, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। সৃষ্টি হয় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হয় এবং অর্থনৈতিক কর্মকা-েও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

 

গত দুই দিনের প্রায় ১০ ঘণ্টা ভারী বর্ষন-ই তার বাস্তব প্রমাণ। ছয় ঋতুর এদেশে বর্ষা মৌসুমে বর্ষা হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো অপরিকল্পিতভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর, সড়ক-মহাসড়ক ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ। অনেক ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক খাল, জলাধার, নালা ও পানি চলাচলের পথ ভরাট করে স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। আবার নতুন সড়ক নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক কালভার্ট নির্মাণ না করায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারে না। বহু পুরোনো কালভার্ট ভেঙে গেলেও বছরের পর বছর সংস্কার হয় না।

 

ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় ময়লা-আবর্জনায় ভরে গিয়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষক, সবজি চাষি ও মৎস্য চাষীরা। মাঠের সবজি কয়েক দিন পানির নিচে থাকলেই নষ্ট হয়ে যায়। মাছের ঘের ও পুকুর প্লাবিত হয়ে মাছ ভেসে যায় অথবা মারা যায়। এতে কৃষক ও মৎস্য চাষীদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

 

অনেক পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং নতুন করে উৎপাদনে ফিরতে হিমশিম খায়। অন্যদিকে কৃষিপণ্যের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সবজি, মাছসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ কমে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বাজারদরে। সবজি ও মাছের দাম বেড়ে যায়, ফলে সীমিত আয়ের সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অর্থাৎ জলাবদ্ধতার ক্ষতি শুধু কৃষকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এর প্রভাব পুরো বাজার ব্যবস্থা ও সাধারণ ভোক্তার জীবনেও পড়ে।

জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না, রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, কর্মজীবীরা সময় মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেন না। রাস্তা-ঘাট দ্রুত নষ্ট হয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা পানিতে মিশে যায়। যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং জলাবদ্ধ পানিতে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। শুধু কি তাই, প্রত্যেক বছর বর্ষা মৌসুমে হাজার হাজার পরিবার তাদের বসতভিটা ফেলে বিবাহ যোগ্য মেয়েকে নিয়ে থাকতে হয় বিভিন্ন সাইক্লোন সেন্টার, স্কুল কলেজে ও উচু কোন সড়ক মহাসড়কের উপর খোলা আকাশের নিচে। তবে সমাধানের পথ হিসেবে,জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বল্প মেয়াদি নয়, দীর্ঘ মেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। এজন্য, পরিকল্পিত নগরায়ণ ও অবকাঠামো নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে।

 

প্রাকৃতিক খাল, জলাধার ও পানি প্রবাহের পথ দখলমুক্ত করে পুনরুদ্ধার করতে হবে।সড়ক ও মহাসড়ক নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক কালভার্ট নির্মাণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। নষ্ট ও অকার্যকর কালভার্ট দ্রুত সংস্কার বা পুনর্র্নিমাণ করতে হবে। ড্রেন ও নালা নিয়মিত পরিষ্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। পানি চলাচলের পথ দখল ও অবৈধ ভরাটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

নতুন ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের আগে পরিবেশ সম্মত ড্রেনেজ পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি ও মৎস্য খাতের ক্ষতি গ্রস্থদের জন্য দ্রুত ক্ষতিপূরণ, সহজ শর্তে ঋণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

স্থানীয় সরকার, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। জলাবদ্ধতা কোনো অনিবার্য নিয়তি নয়; অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি অপরিকল্পিত উন্নয়ন, অবহেলা ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার ফল। পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে প্রতি বর্ষায় মানুষের দুর্ভোগ, কৃষকের লোকসান এবং বাজারে মূল্যবৃদ্ধি সবই উল্লেখযোগ্য ভাবে কমানো সম্ভব। উন্নয়নের প্রকৃত লক্ষ্য তখনই সফল হবে, যখন সেই উন্নয়ন মানুষের জীবনকে নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক এবং টেকসই করবে। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

 

Ads small one

সুলতানপুর চাউল ব্যবসায়ী সমিতির কমিটি গঠন সভাপতি বিপুল সম্পাদক মামুন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
সুলতানপুর চাউল ব্যবসায়ী সমিতির কমিটি গঠন সভাপতি বিপুল সম্পাদক মামুন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা শহরের ঐতিহ্যবাহী সুলতানপুর বড়বাজার চাউল ব্যবসায়ী সমিতির দ্বিতীয় বার্ষিক সভা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ব্যবসায়ীদের ঐক্য, সংগঠনের শৃঙ্খলা এবং ব্যবসায়ীদের ন্যায্য অধিকার রক্ষার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে আগামী তিন বছরের জন্য নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে।
সমিতির সকল সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি এবং ৫ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদন করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট চাউল ব্যবসায়ী বিপুল কুমার সাহা। সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিনয় কৃষ্ণ সাহা, সহ-সভাপতি শেখ জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আজম খান (মামুন), সহ-সাধারণ সম্পাদক আলহাজ রবিউল ইসলাম।
এছাড়া কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন গৌতম দেবনাথ, সহকারী কোষাধ্যক্ষ শেখ জাহিদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সাহা, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাবু, আজিবর, সৌরভ ও লাল্টু।
অন্যদিকে সমিতির উপদেষ্টা পরিষদে মনোনীত হয়েছেন নুরুল ইসলাম, রুহুল আমিন, মোকারাম হোসেন, মো. নুর ইসলাম ও তপন কুমার সাহা।
সভায় বক্তারা বলেন, সুলতানপুর বড়বাজার চাউল ব্যবসায়ী সমিতি শুধু ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠন নয়, এটি ব্যবসায়ীদের ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও অধিকার রক্ষার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। নবগঠিত কমিটি ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, বাজারের পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যবসায়িক সমস্যা দ্রুত সমাধান এবং সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় সমিতির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রতি তিন মাস অন্তর নিয়মিত সভা এবং প্রতি বছর বার্ষিক সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহযোগিতা ও ঐক্য বজায় রেখে বাজারের উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির নেতৃবৃন্দ ব্যবসায়ীদের আস্থা ও সহযোগিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, চাউল ব্যবসায়ী সমাজের কল্যাণ, বাজারের সুষ্ঠু পরিবেশ এবং সংগঠনের মর্যাদা বৃদ্ধিতে তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবেন।

 

বি.ডি.এফ প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন: সভাপতি আমিনুল, সাধারণ সম্পাদক আরশাদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
বি.ডি.এফ প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন: সভাপতি আমিনুল, সাধারণ সম্পাদক আরশাদ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিক সংগঠন বি. ডি. এফ (ব্রহ্মরাজপুর, ধুলিহর, ফিংড়ী) প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। ১০ জুলাই (শুক্রবার) বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর বাজারস্থ ক্লাব কার্যালয়ে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশ করা হয়। নির্বাচনে সভাপতি পদে জি. এম আমিনুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আরশাদ আলী বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চূড়ান্ত ফলাফল শীট অনুযায়ী, সভাপতি পদে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে দৈনিক পত্রদূতের নিজস্ব প্রতিনিধি জি. এম আমিনুল হক ১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দৈনিক কালের চিত্রের প্রতিনিধি মো. আব্দুল হাকিম পেয়েছেন ০৬ ভোট।
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে দৈনিক যুগের বার্তার প্রতিনিধি মো. আরশাদ আলী পেয়েছেন ১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দৈনিক চৌকোশ-এর প্রতিনিধি আবু সাঈদ ৪ ভোট।
এর আগে আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে, সদস্য সচিব মুকুল হোসেন এবং সদস্য মেহেদী হাসান শিমুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় ক্লাবের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শেষে উপস্থিত সকল সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সাথে তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন এস. এম. ইসমাইল হোসেন, গ্রাম্য ডাক্তার জিয়াউর রহমান জিয়া এবং আব্দুস সামাদ।
ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ ফলাফল বিবরণীতে স্বাক্ষর করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত “নির্ভীক কলম সৈনিকদের প্রতিষ্ঠান” হিসেবে পরিচিত এই প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব আগামী দুই বছর এই অঞ্চলের সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও পেশাগত মানোন্নয়নে কাজ করবে। নব-নির্বাচিত কমিটিকে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: জনভোগান্তির সেতু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: জনভোগান্তির সেতু

Oplus_131072

একটি সেতু নির্মিত হলে গ্রামীণ জনপদে আশার আলো সঞ্চারিত হওয়ার কথা। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা আর চিকিৎসার পথ সুগম হওয়ার কথা। কিন্তু সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী এলাকায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি এখন স্থানীয়দের কাছে এক নির্মম পরিহাস ও গভীর ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূল কাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার এক মাস পার হলেও দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) তৈরি করা হয়নি। ফলে বিশাল ব্যয়ের এই সেতুটি এখন খালের মাঝে এক ‘বিচ্ছিন্ন দ্বীপ’ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যা কোনো কাজেই আসছে না।

পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, টেংরাখালী, পার্শ্বেখালী, মিরগাং, কালিঞ্চী ও ঠাকুরঘেরী—এই পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি নড়বড়ে কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। যেখানে একটি আধুনিক সেতু মানুষের যাতায়াত সহজ করার কথা ছিল, সেখানে উল্টো দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।

এই প্রকল্পের পেছনে যে অনিয়ম ও চরম উদাসীনতা রয়েছে, তা স্থানীয়দের অভিযোগে স্পষ্ট। অভিযোগ উঠেছে, সংযোগ সড়কের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে মাটি কেটে বাইরে বিক্রি করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আরিফ এন্টারপ্রাইজ’। অপরিকল্পিতভাবে এই মাটি কাটার ফলে সড়কের দুই পাশে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে আশপাশের বসতবাড়িও এখন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। একজন ভুক্তভোগী বাসিন্দার বসতঘর খালের মধ্যে ভেঙে পড়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস করার এই অধিকার ঠিকাদারকে কে দিলÑতা এক মস্ত বড় প্রশ্ন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বর্ষা ও বৃষ্টির অজুহাত দিয়ে কাজ ব্যাহত হওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, প্রকল্প যখন শুরু হয়, তখন কি আবহাওয়া ও ঋতুর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয় না? তাছাড়া সংযোগ সড়কের মাটি কেটে বিক্রি করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের মুখে বৃষ্টির অজুহাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি স্পষ্টতই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাবকে আড়াল করার চেষ্টা।

আমাদের মনে করি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এমন দায়সারা গোছের মানসিকতা এবং অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকারের টাকা জনগণের করের টাকা, এবং তা জনগণের কল্যাণের জন্যই ব্যয় হওয়া উচিত। ৩৩ লাখ টাকার প্রকল্প এভাবে ফেলে রেখে পাঁচ গ্রামের মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার পেছনে যারা দায়ী, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি।

আমরা আশা করি, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন। সংযোগ সড়কের মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে, কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটিকে চলাচলের উপযোগী করা হোক এবং অবর্ণনীয় এই জনভোগান্তির অবসান ঘটানো হোক।