শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ উপকূলের নিরাপত্তা ও মেগা প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ উপকূলের নিরাপত্তা ও মেগা প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে

উপকূলীয় অঞ্চল শ্যামনগরের দুই দুটি অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের সাম্প্রতিক পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় কেবল একটি আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক সফর নয়, বরং এটি শ্যামনগরের প্রান্তিক জনপদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সংকট ও মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্র পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। গাবুরায় চলমান মেগা প্রকল্পের কাজের মান পর্যবেক্ষণ এবং মুণ্ডা জনগোষ্ঠীর জীবনমান নিয়ে পৃথক দুটি বৈঠকে ভূখণ্ডটির মূল সমস্যাগুলো অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে উঠে এসেছে—যেখানে প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে জলদস্যুদের পুনরুত্থান, অবকাঠামোগত অনিশ্চয়তা, মেগা প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও জলবায়ু-দুর্গত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন।

গাবুরার মতো বিচ্ছিন্ন উপকূলীয় দ্বীপে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা স্বস্তির। তবে স্থানীয় অধিবাসীদের মূল আশঙ্কার জায়গাটি প্রকল্পের নকশা প্রকাশের অভাব, স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং কাজের গুণগত মান নিয়ে। উপকূলীয় এলাকায় বারবার দেখা গেছে, সঠিক তদারকি ও টেকসই পরিকল্পনার অভাবে কোটি কোটি টাকার বাঁধ অল্প কয়েক বছরের মধ্যে নদীর পেটে বিলীন হয়ে যায়। তাই জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে মেগা প্রকল্পের কাজের মান ও সঠিক নকশা জনসমক্ষে প্রকাশের যে দাবি উঠেছে, তা প্রশাসনিক গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা উচিত। শুধু দৃষ্টিনন্দন উন্নয়ন নয়, টেকসই বাঁধ ও সড়ক নির্মাণই পারে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এই জনপদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে।

একই সঙ্গে সুপেয় পানির তীব্র সংকট, স্বাস্থ্যসেবার দৈন্যদশা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব উপকূলীয় এলাকার নিত্যদিনের বাস্তবতা। আরও ভয়াবহ সংকেত দিচ্ছে সুন্দরবনে জলদস্যুদের নতুন করে বেপরোয়া তৎপরতা। একসময় আত্মসমর্পণ করা জলদস্যুদের কেউ কেউ আবারও পুরানো অপরাধের পথে পা বাড়াচ্ছে—এ তথ্য উপকূলের জেলে, বাওয়ালি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং জীবিকাকে চরম হুমকিতে ফেলেছে। জলদস্যু দমন না হলে সুন্দরবন-নির্ভর হাজার হাজার পরিবারের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে, সুন্দরবনের ভূমিপুত্র বলে পরিচিত আদিবাসী মুণ্ডা সম্প্রদায়ের সংকট আরও গভীর ও সংবেদনশীল। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রথম শিকার এই নৃগোষ্ঠী আজ নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি, খাসজমি ও মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার মুখোমুখি। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঠিক বণ্টন ও উপবৃত্তির সুযোগ সম্প্রসারণের দাবিগুলো তাদের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের সঙ্গেই সম্পর্কিত।

জেলা প্রশাসক উভয় স্থানেই সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ ও সংকট নিরসনের আশ্বাস দিয়েছেন, যা ইতিবাচক। কিন্তু উপকূলীয় মানুষের কাছে মৌখিক আশ্বাস অপেক্ষা কার্যকর বাস্তবায়ন বহুগুণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা মনে করি, গাবুরার মেগা প্রকল্পে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের পর্যবেক্ষণের সুযোগ এবং নিয়মিত কারিগরি অডিট জরুরি। সুন্দরবনে জলদস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ড, পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বিত এবং জোরালো চিরুনি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে মুণ্ডা জনগোষ্ঠীর মতো পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ভূমি বণ্টন ও সামাজিক সুরক্ষার বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক রূপরেখা তৈরি করা আবশ্যক। সুন্দরবন উপকূলের টেকসই উন্নয়ন কেবল বড় বাজেটের প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ নয়; তার মূল চাবিকাঠি প্রজা-বান্ধব স্বচ্ছতা, জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার মধ্যেই নিহিত।

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।