সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: কৃষকের কান্না ও বিপন্ন কৃষি; ধান আছে, দাম নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: কৃষকের কান্না ও বিপন্ন কৃষি; ধান আছে, দাম নেই

সাতক্ষীরার দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে এখন সোনালি ধানের নাচন। কৃষকের উঠোন ভরে ওঠার কথা নতুন ধানের ঘ্রাণে। কিন্তু বাস্তবতা বড়ই নির্মম। সাতক্ষীরার বোরো চাষিদের চোখে এখন আনন্দের বদলে অনিশ্চয়তার জল। হাড়ভাঙা খাটুনি আর চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ফলানো ফসল এখন তাঁদের কাছে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমিক সংকট, আকাশছোঁয়া মজুরি আর প্রকৃতির প্রতিকূলতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ধানের আশঙ্কাজনক দরপতন। সব মিলিয়ে এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত সাতক্ষীরার কৃষি খাত।
মাঠজুড়ে পাকা ধান পাহার দিলেও তা ঘরে তোলার লোক মিলছে না। জেলার সদর থেকে শুরু করে জেলারÑসর্বত্রই শ্রমিকের হাহাকার। যে সুযোগে দিনমজুরদের দৈনিক মজুরি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এক বিঘা জমির ধান কাটতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তোলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে কালবৈশাখীর ভ্রুকুটি। পেকে যাওয়া ধান ঝরে পড়ার ভয়ে কৃষক যখন হন্যে হয়ে শ্রমিক খুঁজছেন, ঠিক তখন বাজারে ধানের দাম পড়ে যাওয়াটা কেবল দুর্ভাগ্যজনক নয়, বরং এক ধরনের অবিচার।
কৃষকদের এই সংকটের মূলে রয়েছে বিপণন ব্যবস্থার ত্রুটি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম যখন আকাশচুম্বী, তখন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফলানো প্রধান খাদ্যশস্যের দাম নি¤œমুখী হওয়াটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। সিন্ডিকেট ও ফড়িয়াদের কারসাজিতে কৃষকের ন্যায্য পাওনা হাতবদল হয়ে চলে যাচ্ছে সুবিধাবাদীদের পকেটে। সরকার ধান সংগ্রহের ঘোষণা দিলেও তার সুফল প্রান্তিক কৃষকের দ্বারে পৌঁছাচ্ছে না বলেই অভিযোগ উঠছে। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার প্রক্রিয়াটি আজও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপমুক্ত হতে পারেনি।
কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবেÑএটি কেবল রাজনৈতিক স্লোগান হয়ে থাকলে চলবে না। সাতক্ষীরার কৃষকদের এই ‘সর্বনাশের’ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে সরকারকে অবিলম্বে ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে সরাসরি কৃষকের কার্ডের মাধ্যমে ধান কেনার পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটার জন্য ‘কম্বাইন হারভেস্টার’ সহ আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা বাড়াতে হবে, যাতে শ্রমিক সংকটের মুখে কৃষককে জিম্মি হতে না হয়।
মনে রাখতে হবে, কৃষি আমাদের অর্থনীতির মেরুদ-। সেই মেরুদ- যদি লোকসানের বোঝায় ভেঙে পড়ে, তবে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। সাতক্ষীরার চাষিদের মুখের হাসি ফিরিয়ে আনতে এবং কৃষি খাতকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।

 

 

 

 

 

 

Ads small one

বুড়িগোয়ালিনী বিএনপির মধ্যস্থতায় দুই পরিবারের ছেলে-মেয়ের বিয়ে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
বুড়িগোয়ালিনী বিএনপির মধ্যস্থতায় দুই পরিবারের ছেলে-মেয়ের বিয়ে

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুটি পরিবারের ছেলে-মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। সোমবার (২৫ মে) দুপুরে বুড়িগোয়ালিনী বিএনপি কার্যালয়ে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে এ বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক জটিলতা ও ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিয়েটি নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের নজরে এলে তারা উভয় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আলোচনা করেন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সমাধানের মাধ্যমে ছেলে-মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করান।

এসময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবেক সেনা সদস্য জিএম রুস্তম আলী, কুদরতে খোদা, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের মহিলার সদস্যা নিপা চক্রবর্তী, ফজলুল করিম, মহিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম।

 

এসময় কুদরতে খোদা বলেন, সমাজে বিরোধ মীমাংসা, মানবিক সহায়তা এবং পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের এ উদ্যোগে দুই পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয়রা বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

প্রাথমিক শিক্ষা পদকে শ্যামনগরে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক বাবু লাল ও শ্রেষ্ঠ স্কুল খ্যাগড়াদানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক শিক্ষা পদকে শ্যামনগরে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক বাবু লাল ও শ্রেষ্ঠ স্কুল খ্যাগড়াদানা

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: চলতি বছরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার তালিকায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক (পুরুষ) ১৪ নং চিংড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু লাল মিস্ত্রী ও শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯১ খ্যাগড়াদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে প্রকাশ, ২০২৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষা পদকের তালিকায় অন্যান্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক (পুরুষ) ১৩ নং হায়বাতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আমিনুর রহমান, শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক(মহিলা) ৯১ খ্যাগড়াদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাছরিন আক্তার।

 

শ্রেষ্ঠ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহীন হোসেন, শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (পুরুষ) ৯১ খ্যাগড়াদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ সুমন আহমেদ, শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (মহিলা) ১৭৫ নং দক্ষিণ পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিনা খাতুন ও শ্রেষ্ঠ কর্মচারী মোঃ খায়রুল আলম।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার এনামুল হক বলেন সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রাপ্তদের নির্ধারিত কমিটি কর্তৃক যাচাই বাছাই করে নির্বাচন করা হয়েছে এবং পদক প্রাপ্ত সকলকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করা হয়েছে।

 

শ্যামনগরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কম আয়ের মানুষরা পেল ১৪৮ মেট্রিক টন চাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কম আয়ের মানুষরা পেল ১৪৮ মেট্রিক টন চাল

রনজিৎ বর্মন, সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর): পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় সরকারিভাবে একটি পৌরসভা ও এগারটি ইউনিয়নের দরিদ্র ব্যক্তি বা কম আয়ের মানুষ ১৪ হাজার ৮৮৬ টি ভিজিএফ কার্ডধারীরা পরিবার পিছু ১০ কেজি হারে পাবে ১৪৮.৮৬০ মেট্রিকটন চাউল।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে প্রকাশ, উপজেলায় ১১ টি ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ডধারীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৩৭ জন। এই কার্ডের বিনিময়ে বরাদ্দকৃত চাউলের পরিমান ১৩৩.৩৭০ মেট্রিকটন। শ্যামনগর পৌরসভায় কার্ডধারীর সংখ্যা হল ১৫৪৯ জন এবং এই কার্ডের বিনিময়ে চাউল বরাদ্ধ ১৫.৪৯ মেট্রিকটন।

ইউনিয়ন অনুযায়ী কার্ড ধারীর সংখ্যা ও বরাদ্ধকৃত চাউল ভূরুলিয়া ইউনিয়নে কার্ড সংখ্যা ৮৭৯ টি ও বরাদ্ধকৃত চাউল ৮.৭৯ মেট্রিকটন, কাশিমাড়ী ইউপির কার্ড সংখ্যা ১২৫২ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১২.৫২০ মেট্রিকটন, নুরনগর ইউপির কার্ড সংখ্যা ৮৯৯টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ৮.৯৯০ মেট্রিকটন, কৈখালী ইউপির কার্ড সংখ্যা ১৩৫২ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১৩.৫২০ মে.টন, রমজাননগর ইউপির কার্ডধারী ১১১২ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১১.১২০ মে.টন, মুন্সিগঞ্জ ইউপির কার্ড সংখ্যা ১৪৬৫ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১৪.৬৫০ মে.টন, ঈশ^রীপুর ইউপির কার্ড সংখ্যা ১১৮৫ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১১.৮৫০ মে.টন, বুড়িগোয়ালিনী ইউপির কার্ড সংখ্যা ১২৭২টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১২.৭২০ মে.টন, আটুলিয়া কার্ড সংখ্যা ১৩৭৩টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১৩.৭৩০ মে.টন, পদ্মপুকুর ইউপির কার্ড সংখ্যা হল ১২১৯ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১২.১৯০ মে.টন ও গাবুরা ইউপির কার্ড সংখ্যা হল ১৩২৯টি, বরাদ্ধকৃত চউাল ১৩.২৯০ মে.টন।

 

সব মিলিয়ে ১১টি ইউপিতে কার্ড সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৩৭টি এবং বরাদ্ধকৃত চাউল ১৩৩ মেট্রিক টন ৩৭০ কেজি।

জানা যায় ঈদের পূর্বেই সকল ইউনিয়নে চাউল বিতরণ সমাপ্ত করা হবে। চাউল বিতরণের সময় প্রত্যেকটি ইউপির ভিজিএফ কমিটি ও নির্ধারিত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে মাস্টার রোলের মাধ্যমে চাউল বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।