বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সাজা শুনে আদালত থেকে পালালেন আসামি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
সাজা শুনে আদালত থেকে পালালেন আসামি

সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির মামলায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের রায় ঘোষণার পর আদালত থেকে কৌশলে পালিয়ে গেছেন আব্দুর জলিল নামে এক আসামি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার আরবিট্রেশন আদালতের বিচারক ইসরাত জেনিফার জেরিনের আদালতে এ ঘটনা ঘটে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যুক্তিতর্কের সময়ও আসামি কাঠগড়ায় ছিলেন। পরে কোনও একসময় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি আদালত থেকে বেরিয়ে যান।

আইনজীবী জানান, সাড়ে ১৫ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগে ২০২০ সালে আব্দুর জলিলের বন্ধু আক্তার হোসেন মামলা করেন।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দীন ইসলামের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, আব্দুর জলিলের হ্যান্ডরাইটিং সংক্রান্ত বিষয়ে ঢাকার সপ্তম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে রিভিশন করা হয়েছিল। সেটি নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার জন্য কয়েকদিন সময় চাওয়া হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন। এরপর তিনি আদালত থেকে চলে যান।

দীন ইসলাম বলেন, পরে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলার শুনানিতে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কনস্টেবল কাদের ফোন করে তাকে জানান, তার আসামি আদালত থেকে চলে গেছেন এবং বিচারক তাকে ডেকেছেন। পরে কয়েকজন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিচারকের সঙ্গে দেখা করেন।

তার ভাষ্য, পরে আসামির সঙ্গে ফোনে কথা হলে আব্দুর জলিল জানান, সময়ের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি আদালত থেকে চলে গেছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, আসামির আদালত থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিচারক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারেন।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খায়রুল কবীর বলেন, চেক ডিজঅনার মামলার মূল উদ্দেশ্য অর্থ উদ্ধার; সাজা দেওয়া মামলার অন্যতম বিষয় হলেও অর্থ উদ্ধারের বিষয়টিই মুখ্য। এ কারণে এ ঘটনায় নতুন মামলা হবে না বলেও তিনি জানান।

মামলার নথি সম্পর্কে জানতে চাইলে আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ইসমাইল বলেন, নথি বিচারকের কাছে রয়েছে। রবিবার আসতে হবে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী দীন ইসলাম জানান, দুই বন্ধু ধামরাইয়ে একটি অ্যাগ্রো ফার্ম করার জন্য টাকা দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ওই লেনদেনকে কেন্দ্র করেই মামলা হয়। তবে মামলায় সাড়ে ১৫ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগ করা হয়েছিল।

সম্প্রতি মো. শরিফুল ইসলাম নামে হত্যা মামলার আসামিকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশের হাত থেকে কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শরীফুল এ নিয়ে দুইবার পালিয়েছে।

Ads small one

সম্পাদকীয়: মাদুরশিল্প বাঁচাতে উদ্যোগ জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: মাদুরশিল্প বাঁচাতে উদ্যোগ জরুরি

সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী মাদুরশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। একসময় তালা উপজেলার বহু পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন ছিল মাদুর তৈরি। পাটকেলঘাটার মাদুরের সুনামও ছিল দেশের বিভিন্ন এলাকায়। কিন্তু কাঁচামালের সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, মাদুরের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং প্লাস্টিক পণ্যের দাপটে এ শিল্প এখন সংকটে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, মেলে ঘাসের দাম বেড়েছে, অথচ মাদুরের বিক্রিমূল্য সেই তুলনায় বাড়েনি। ফলে শ্রম ও উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কারিগরদের হাতে সামান্য অর্থ থাকছে। এ কারণে অনেকেই পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে ব্যাংকঋণের অপ্রতুলতা ও সরকারি সহায়তার অভাবও শিল্পটির সংকট বাড়াচ্ছে।
এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে হলে প্রথমে মাদুরশিল্পীদের সহজ শর্তে ঋণ, কাঁচামাল সংগ্রহে সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি মাদুরের নকশা ও ব্যবহার বহুমুখী করে বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ে মাদুর মেলার আয়োজন এবং দেশীয় ও অনলাইন বাজারে বিপণনের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।
পাটকেলঘাটার মাদুরশিল্প শুধু একটি পেশা নয়, এটি স্থানীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ অর্থনীতির অংশ। তাই শিল্পটি পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার আগেই সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এতে ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি বহু প্রান্তিক পরিবারের কর্মসংস্থানও টিকে থাকবে।

 

কলারোয়ায় ৪৬টি ম-পে দুর্গাপূজা, ঝুঁকিপূর্ণ নয় কোনটিই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় ৪৬টি ম-পে দুর্গাপূজা, ঝুঁকিপূর্ণ নয় কোনটিই

কলারোয়া প্রতিনিধি: সামনেই শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবকে ঘিরে কলারোয়া উপজেলার সব ম-পে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রঙ-তুলির শেষ মুহূর্তের ছোঁয়া। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রস্তুতিতে কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
বৃহস্পতিবার পৌরসভার তুলসীডাঙ্গা ঘোষপাড়া মাতৃমন্দির, উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া ও গোয়ালঘাটা পূজাম-প ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমার নির্মাণ ও রঙের কাজ প্রায় শেষ। ম-পে ম-পে প্রতিমা দেখার জন্য স্থানীয় হিন্দুধর্মাবলম্বী মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। উৎসব ঘিরে সর্বত্র সম্প্রীতিময় পরিবেশ বজায় রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কলারোয়ায় এবার ৪৬টি ম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে, যা গতবারের চেয়ে একটি বেশি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভায় জানানো হয়, উপজেলার সবকটি ম-প সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। কোনো ম-পকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

পৌরসভার আটটি ম-প হলোÑতুলসীডাঙ্গা ঘোষপাড়া সর্বজনীন, তুলসীডাঙ্গা গোয়ালঘাটা, উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া, মুরারিকাটি দক্ষিণ পাড়া, মুরারীকাটি দক্ষিণ হরিসভা, গোপীনাথপুর ঘোষপাড়া, গোপীনাথপুর দক্ষিণ পাড়া ও ঝিকরা হরিতলা সর্বজনীন পূজাম-প।
ইউনিয়ন পর্যায়ের ম-পগুলোর মধ্যে জয়নগরে আটটি, দেয়াড়ায় ছয়টি, কুশোডাঙ্গায় চারটি, জালালাবাদ, কেঁড়াগাছি ও হেলাতলায় তিনটি করে, কয়লা, লাঙ্গলঝাড়া, চন্দনপুর, কেরালকাতা ও যুগিখালিতে দুটি করে এবং সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নে একটি ম-পে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
সার্বিক পরিবেশ নিয়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট কলারোয়া উপজেলা শাখার সভাপতি প্রকাশ চন্দ্র হালদার ও সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দাস দেবু সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে এবং কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সবার সহযোগিতায় উৎসবমুখর পরিবেশে এবারও পূজা সম্পন্ন হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

তালায় দুর্গাপূজা ঘিরে নবাগত ওসির মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
তালায় দুর্গাপূজা ঘিরে নবাগত ওসির মতবিনিময় সভা

শাহিন আলম, খলিষখালী (পাটকেলঘাটা): শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তালার খলিষখালীতে বিভিন্ন পূজাম-পের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে পাটকেলঘাটা থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় খলিষখালী রামকৃষ্ণ আশ্রমে এ সভা হয়।
খলিষখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাবীর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাটকেলঘাটা থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা শেখ নূর আহম্মেদ ও শেখ আব্দুল হান্নান, তালা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র মজুমদার, খলিষখালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. সায়েম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. জিহাদ হোসেন এবং জয়দেব বাবু। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন তালা উপজেলা যুবদলের নেতা মেহেদী হাসান।