সাতক্ষীরায় একযোগে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান
নিজস্ব প্রতিনিধি: সমগ্র দেশের সঙ্গে একযোগে সাতক্ষীরায় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠান হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এককালীন আর্থিক সুবিধার অর্থ হাতে পেয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তি দেখা যায়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে যুক্ত হয়ে সারাদেশে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষকদের জাতি গঠনের কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে তাদের অবসরকালীন পাওনা যথাসময়ে পরিশোধের গুরুত্বের কথা বলেন।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রিপন বিশ্বাস, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর কবির।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদী, যুগ্ম আহ্বায়ক তাসকিন আহমেদ চিশতী, সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মিনি, সুধী সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষক ও কর্মচারীরা সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জীবনের শেষভাগে পাওয়া এ অর্থ তাদের চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সহায়তা করবে। তিনি সকলের সুস্থ, সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলার কয়েকশ অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী এ কার্যক্রমের আওতায় অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পেয়েছেন। তাঁদের অনেকের হাতে চেকের মাধ্যমে এবং কারও ক্ষেত্রে ডিজিটাল ট্রান্সফারের মাধ্যমে বকেয়া অর্থ প্রদান করা হয়।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর পাওনা অর্থ হাতে পেয়ে অনেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁদের একজন বলেন, কর্মজীবন শেষ হওয়ার পর প্রাপ্য অর্থের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। একযোগে এই অর্থ পাওয়ায় তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত ও স্বস্তি বোধ করছেন।












