সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় কলেজ মোড়–মাছখোলা সড়ক যেন মরণফাঁদ: সংস্কারের দাবিতে আলটিমেটাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কলেজ মোড়–মাছখোলা সড়ক যেন মরণফাঁদ: সংস্কারের দাবিতে আলটিমেটাম

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ কলেজ মোড় থেকে মাছখোলা পর্যন্ত সড়কটি এখন কয়েক লাখ মানুষের কাছে মূর্তিমান এক আতঙ্কের নাম। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া এবং সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কারণে সড়কটি এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই ‘নরক যন্ত্রণা’ থেকে মুক্তি পেতে রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সাতক্ষীরা পৌর প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজ মোড় থেকে মাছখোলা পর্যন্ত সড়কের অধিকাংশ জায়গায় কার্পেটিংয়ের চিহ্ন পর্যন্ত নেই। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। সামান্য বৃষ্টিতেই সেসব গর্ত ছোটখাটো ডোবায় পরিণত হয়। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি দীর্ঘ সময় পানির নিচে তলিয়ে থাকে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাত্র কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এখন ৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
এই সড়কটি কেবল একটি রাস্তা নয়, বরং ক্লাব মোড়, মাছখোলা, পারমাছখোলা, গোয়ালপোতা, দামারপোতা ও শাল্ল্যেসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এই পথ দিয়ে যাতায়াত করলেও বর্তমানে এটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
রাস্তা জীর্ণ হওয়ায় এই এলাকায় কোনো যানবাহন সহজে ঢুকতে চায় না। স্থানীয়দের অভিযোগÑরাস্তার অজুহাতে রিকশা ও ইজিবাইকচালকরা দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন। সন্ধ্যার পর কোনো চালক এই রুটে যেতে চান না। ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা আদিত্য কুমার আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা পৌরসভার ভেতরে থেকেও যেন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বাস করছি। সন্ধ্যার পর কোনো অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত এই রাস্তায় আসতে চায় না।”
জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ রাস্তাটি টেকসইভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়ে রোববার বিকেল ৩টার দিকে পৌর প্রশাসকের হাতে আবেদনপত্র তুলে দেন এলাকাবাসী। এ সময় সাংবাদিক মাসুদ রানা, রবিউল ইসলাম রবি, মনির হোসেন, অনিমেষ সরকারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এলাকাবাসীর হুঁশিয়ারি, আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই যদি সংস্কার কাজ শুরু না হয়, তবে এই ক্ষোভ গণ-আন্দোলনে রূপ নিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, পৌর কর্তৃপক্ষ এই দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি নিরসনে কতটুকু দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

Ads small one

ঢাকায় মরিয়মের মৃত্যু: গাজী নজরুলের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল শ্যামনগর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ণ
ঢাকায় মরিয়মের মৃত্যু: গাজী নজরুলের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল শ্যামনগর

পত্রদূত ডেস্ক: রাজধানীর ন্যাম ভবনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গাজী নজরুলের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে শ্যামনগর। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলা সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

সমাবেশে বক্তারা মরিয়মের মৃত্যুর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা, গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বাতিল এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনে পুননির্বাচনের দাবি জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শান্তি, এমনকি ফাঁসির দাবি করেন তারা। বক্তব্য দেন নওয়াবেকী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান মিঠু, নূরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আবু ইউসুফ, বিএনপি নেতা আবুল কালামসহ স্থানীয় নাগরিকরা।

এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে ডিবি, পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক টিম যায়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও শ্যালক ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ গাজী নজরুল ও মাকসুদা বেগমকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

মরিয়মের মৃত্যুর একদিন আগে, ২০ সেপ্টেম্বরই গাজী নজরুল পল্লবী থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া আট সপ্তাহের জামিনের নথি ঢাকার বিচারিক আদালতে দাখিল করেন। ওই মামলাটি তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান ২১ জুলাই দায়ের করেছিলেন। এজাহারে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করা হয়। ১০ আগস্ট হাইকোর্ট গাজী নজরুলকে ওই মামলায় আট সপ্তাহের জামিন দেন।

ঘটনার সূত্রপাত জুলাইয়ে। ২০ জুলাই রাতে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন তিনি দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়ম খাতুন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ১৭ জুন ঢাকায় পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে হয়।

এরপর ২১ জুলাই গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন ওবায়দুর রহমান। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ভিডিও ফাঁসের সন্দেহ ও সম্পর্কের বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁকে মারধর এবং শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় তদন্তে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২৩ জুলাই তাঁকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দেয় জামায়াত।

তবে দল থেকে বহিষ্কার হলেই সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না বলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। স্পিকার বা জাতীয় সংসদ থেকে আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স পেলে আইন ও সংবিধান পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল কমিশন।
মরিয়মের মৃত্যুর পর ২০ সেপ্টেম্বর জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গাজী নজরুল বর্তমানে জামায়াতের কেউ নন এবং ঘটনাটি ব্যক্তিগত বিষয়। তাঁর ভাষ্য, মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব সরকারের।

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর পৃথিবীর ইতিহাসে একটি বিশেষ মুহূর্ত: মাহদী আমিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর পৃথিবীর ইতিহাসে একটি বিশেষ মুহূর্ত: মাহদী আমিন

যুক্তরাষ্ট্রে যেতে একদিন, ফিরতে একদিন। মাঝে চার দিন। এক মুহূর্তও নষ্ট না করে, এই চার দিনেই একের পর এক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি এবং বাংলাদেশের স্বার্থে কূটনৈতিক ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে মাত্র ছয় দিনের সফর। আনুষ্ঠানিক সফরসঙ্গী ৩৫ জন। এর মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ১৫ জন। রয়েছেন নিরাপত্তা, মিডিয়া ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত অত্যাবশ্যকীয় ব্যক্তিরা। এই সফর একইসঙ্গে পৃথিবীর ইতিহাসেও একটি বিশেষ মুহূর্ত।

রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর নিউ ইয়র্ক সফর নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এ নিয়ে বিশেষ স্ট্যাটাস দেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

এতে তিনি লেখেন, আড়ম্বর অনুষ্ঠান নয়; মানুষের জন্য কাজ। ক্ষমতা প্রদর্শন নয়; বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা। পৃথিবীর ইতিহাসেও এ সফর একটি বিশেষ মুহূর্ত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর তাদের সন্তান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দাঁড়াবেন জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে। একই পরিবারের তৃতীয় প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বলবেন, বাংলাদেশের মানুষের কথা, দেশের স্বার্থ, সরকারের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কথা।

মাহদী আমিন বলেন, এই সফরের আরও একটি অনন্য দিক রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যখন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, ঠিক সেই জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতির আসনে থাকবেন তারই সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দীর্ঘ দুই দশকের অনিঃশেষ ত্যাগ-সংগ্রাম ও আন্দোলন-গণঅভ্যুথান পেরিয়ে, গণতান্ত্রিক সরকার আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে। বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কণ্ঠ নিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বের দরবারে।

তিনি মনে করেন, এটি শুধু একটি বিদেশ সফর নয়। এটি শুধু জাতিসংঘে দেশকে তুলে ধরা নয়। এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব। এটি আবেগ, অনভূতি ও আদর্শের ঐতিহ্য। এটি বাংলাদেশের স্বার্থ, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাসের সূচনা।

স্পিকারকে জানিয়ে গ্রেফতার দেখানো হলো সংসদ সদস্য গাজী নজরুলকে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ণ
স্পিকারকে জানিয়ে গ্রেফতার দেখানো হলো সংসদ সদস্য গাজী নজরুলকে

ন্যাম ভবন থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। স্পিকারকে অবহিত করে তাদের গ্রেফতার দেখানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও জোনের ডিসি ইবনে মিজান বলেন, স্পিকারকে অবহিত করে নজরুল ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মরিয়ম খাতুনের বাবা মাসুম বিল্লাহর করা মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে ইবনে মিজান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করেছি। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে। মরদেহটি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’ এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা তদন্ত শেষে বলা যাবে বলেও জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নং ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান ভবনটির লোকজন। এ সময় শেরেবাংলা নগর থানায় ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ডিএমপি তেজগাঁও জোনের ডিসি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে জানালা দিয়ে মরদেহ দেখে পিবিআই এবং সিআইডি’র ফরেনসিক টিমকে আসতে বলেন।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই এক তরুণীর সঙ্গে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে জামায়াতে ইসলামী ২২ জুলাই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। বহিষ্কার আদেশে দলীয় তদন্তে তার ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং তারা চলতি বছরের ১৭ জুন বিয়ে করেছেন।

বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। জামায়াত তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে জানালেও দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় তার এমপি পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়নি। এ নিয়ে সংসদীয় কমিটিতেও বিতর্ক হয় এবং একটি কমিটি থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়।

সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নজরুল ইসলাম দাবি করেন, বহিষ্কারের পরও ‘খাতা-কলমে’ তিনি জামায়াতের সদস্য। এ বক্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা হয়।