শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় বধ্যভূমি আজও সংরক্ষিত হয়নি, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় বধ্যভূমি আজও সংরক্ষিত হয়নি, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের পেছনে পাকহানাদার বাহিনীর হাতে নিহত ৭০০ শরণার্থীর স্মরণে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ভারতে গমনোচ্ছুক এসব মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এই বধ্যভূমিটি আজও সংরক্ষিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্টজনেরা।

মঙ্গলবার বিকেলে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের পেছনের সেই বধ্যভূমিতে ‘বধ্যভূমি স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি’র উদ্যোগে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সুভাষ সরকার।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, একাত্তরের এই দিনে আশ্রয়ের সন্ধানে আসা সাত শতাধিক মানুষকে স্থানীয় রাজাকার ও আলবদরদের সহযোগিতায় ঘিরে ফেলে পাকিস্তানি বাহিনী। এদের অধিকাংশ ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের। রাতের আঁধারে গুলি করে এবং বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যার পর তাঁদের লাশ দীনেশ কর্মকারের পুকুরে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

বক্তারা আক্ষেপ করে বলেন, সারাদেশে বধ্যভূমি সংরক্ষণে সরকারি প্রকল্প থাকলেও এই স্থানটি আজও অবহেলিত। এমনকি যাতায়াতের রাস্তাটিও একটি মহল টিন দিয়ে ঘিরে বন্ধ করে দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বধ্যভূমিটি রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস বিকৃত হবে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বধ্যভূমি স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট ফাহিমুল হক কিসলু, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, অ্যাডভোকেট শেখ আজাদ হোসেন বেলাল, মাধব চন্দ্র দত্ত প্রমুখ। সভায় অন্যান্যের মধ্যে সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ, অধ্যাপক ইদ্রিস আলী ও শিক্ষক শুভাশিষ পাল উপস্থিত ছিলেন।

স্মরণসভার শুরুতে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। সন্ধ্যার আঁধারে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা অনতিবিলম্বে এই বধ্যভূমিটি সরকারিভাবে সংরক্ষণ ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবি জানান।

 

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।