সাতক্ষীরায় বধ্যভূমি আজও সংরক্ষিত হয়নি, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ
সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের পেছনে পাকহানাদার বাহিনীর হাতে নিহত ৭০০ শরণার্থীর স্মরণে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ভারতে গমনোচ্ছুক এসব মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এই বধ্যভূমিটি আজও সংরক্ষিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্টজনেরা।
মঙ্গলবার বিকেলে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের পেছনের সেই বধ্যভূমিতে ‘বধ্যভূমি স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি’র উদ্যোগে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সুভাষ সরকার।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, একাত্তরের এই দিনে আশ্রয়ের সন্ধানে আসা সাত শতাধিক মানুষকে স্থানীয় রাজাকার ও আলবদরদের সহযোগিতায় ঘিরে ফেলে পাকিস্তানি বাহিনী। এদের অধিকাংশ ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের। রাতের আঁধারে গুলি করে এবং বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যার পর তাঁদের লাশ দীনেশ কর্মকারের পুকুরে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
বক্তারা আক্ষেপ করে বলেন, সারাদেশে বধ্যভূমি সংরক্ষণে সরকারি প্রকল্প থাকলেও এই স্থানটি আজও অবহেলিত। এমনকি যাতায়াতের রাস্তাটিও একটি মহল টিন দিয়ে ঘিরে বন্ধ করে দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বধ্যভূমিটি রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস বিকৃত হবে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বধ্যভূমি স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট ফাহিমুল হক কিসলু, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, অ্যাডভোকেট শেখ আজাদ হোসেন বেলাল, মাধব চন্দ্র দত্ত প্রমুখ। সভায় অন্যান্যের মধ্যে সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ, অধ্যাপক ইদ্রিস আলী ও শিক্ষক শুভাশিষ পাল উপস্থিত ছিলেন।
স্মরণসভার শুরুতে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। সন্ধ্যার আঁধারে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা অনতিবিলম্বে এই বধ্যভূমিটি সরকারিভাবে সংরক্ষণ ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবি জানান।












