মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ: গণপিটুনি থেকে বাঁচাতে অভিযুক্ত কিশোরকে থানায় সোপর্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ: গণপিটুনি থেকে বাঁচাতে অভিযুক্ত কিশোরকে থানায় সোপর্দ

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ষষ্ঠ শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

এদিকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচাতে অভিযুক্ত কিশোরকে কালিগঞ্জের নলতা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে এনে মঙ্গলবার বিকেলে থানায় সোপর্দ করেছেন স্বজনেরা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বিকেলে বাড়ির পাশে বন্ধুদের সঙ্গে খেলছিল ওই শিশু। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে প্রতিবেশী ওই মাদ্রাসাছাত্র খাবার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়ির ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করে। এতে শিশুটি গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে নিচে নামিয়ে আনার সময় স্থানীয় এক নারী বিষয়টি দেখে ফেললে শিশুটি চিৎকার করে। এ সময় অভিযুক্ত কিশোর পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় ওই রাতেই শিশুটিকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এবং পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সুদেষ্ণা সরকার জানান, শিশুটির যৌনাঙ্গে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং রক্তক্ষরণ হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত কিশোর কালিগঞ্জে পালিয়ে গিয়েছিল। ক্ষুব্ধ জনগণের হাত থেকে তাকে রক্ষা করতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে পরামর্শ করে মঙ্গলবার বিকেলে তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

তবে আদালত চত্বরে অভিযুক্ত কিশোর নিজের ভুল স্বীকার করে জানায়, মানুষের মারধরের ভয়ে সে ইউপি সদস্যের সঙ্গে এসে থানায় ধরা দিয়েছে। পুলিশ তাকে ব্যাংদহা বাজার থেকে গ্রেপ্তারের যে দাবি করছে, তা সঠিক নয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক সুশান্ত কুমার ঘোষ জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পর আসামিকে মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে ব্যাংদহা বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশু সুস্থ হলে তার জবানবন্দি ও ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।

সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. মঈনুদ্দিন জানান, অভিযুক্ত কিশোরকে মঙ্গলবার বিকেলে সাতক্ষীরা শিশু আদালতে হাজির করা হলে বিচারক (জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ) তাকে যশোরের পুলেরহাট শিশু ও কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

Ads small one

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য, ইতিহাস ও সাতক্ষীরার করণীয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য, ইতিহাস ও সাতক্ষীরার করণীয়
শেখ সিদ্দিকুর রহমান 
গতকাল ৮ সেপ্টেম্বর ছিল আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য—“মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা”। ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের ৬০তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। UNESCO-এর উদ্যোগে এ বছরের আন্তর্জাতিক আয়োজন ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর মেক্সিকোর চিয়াপাসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বর্তমান পৃথিবীতে সাক্ষরতার অর্থ কেবল অক্ষরজ্ঞান নয়; বরং মানুষকে জ্ঞান, দক্ষতা, সচেতনতা, প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সাক্ষরতা মানুষকে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে, জীবিকা অর্জনে সক্ষমতা বাড়ায়, সমাজে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে এবং একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে ভূমিকা রাখে।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের ইতিহাস
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
১৯৬৫ সালের ৮ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ইরানের রাজধানী তেহরানে UNESCO-এর উদ্যোগে World Congress of Ministers of Education on the Eradication of Illiteracy বা নিরক্ষরতা দূরীকরণ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীদের বিশ্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে নিরক্ষরতাকে শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে নয়, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের পথে একটি বড় বাধা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তেহরান সম্মেলনের সুপারিশের ধারাবাহিকতায় UNESCO-এর ১৪তম সাধারণ সম্মেলনে ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৯৬৭ সাল থেকে প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়ে আসছে।
অর্থাৎ ১৯৬৫ সালে তেহরানে অনুষ্ঠিত সম্মেলন ছিল দিবসটির পটভূমি তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, ১৯৬৬ সালে UNESCO আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি ঘোষণা করে এবং ১৯৬৭ সাল থেকে এর আন্তর্জাতিক উদযাপন শুরু হয়।
ছয় দশক পর আজও সাক্ষরতার প্রশ্নটি বিশ্ব থেকে মুছে যায়নি। UNESCO-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালেও বিশ্বে অন্তত ৭৩ কোটি ৯০ লাখ যুব ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মৌলিক সাক্ষরতা দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৩ সালে বিশ্বে প্রায় ২৭ কোটি ২০ লাখ শিশু ও কিশোর-কিশোরী বিদ্যালয়ের বাইরে ছিল।
তাই আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; এটি পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের শিক্ষা ও মর্যাদার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান।
সাক্ষরতা বলতে আমরা কী বুঝি?
একসময় সাক্ষরতা বলতে বোঝানো হতো শুধু পড়তে, লিখতে ও সহজ হিসাব করতে পারার সক্ষমতা। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতা সেই ধারণাকে অনেক বিস্তৃত করেছে।
এখন একজন মানুষকে এমনভাবে শিক্ষিত ও দক্ষ করে তুলতে হবে, যাতে তিনি তথ্য বুঝতে পারেন, ভুল তথ্য থেকে সত্যকে আলাদা করতে পারেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন, নিজের অধিকার সম্পর্কে জানতে পারেন, পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতে পারেন এবং নিজের জীবন ও জীবিকার উন্নয়নে জ্ঞানকে কাজে লাগাতে পারেন।
অর্থাৎ সাক্ষর মানুষ মানে শুধু অক্ষর চিনতে পারা মানুষ নয়; সাক্ষর মানুষ মানে সচেতন, দায়িত্বশীল, দক্ষ ও আত্মনির্ভর মানুষ।
আজকের দিনে ডিজিটাল সাক্ষরতা, তথ্য সাক্ষরতা, আর্থিক সাক্ষরতা ও পরিবেশগত সচেতনতাও কার্যকর সাক্ষরতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বাংলাদেশের অগ্রগতি, তবু কাজ বাকি
সাক্ষরতা বিস্তারে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর হিসাবে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর জাতীয় সাক্ষরতার হার ছিল ৭৪.৬৬ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষের সাক্ষরতার হার ৭৬.৫৬ শতাংশ এবং নারীর ৭২.৮২ শতাংশ।
অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত SVRS-এর হিসাবে সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ। একই সূত্রে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৫.৬ শতাংশ বলা হয়েছে।
দুটি পরিসংখ্যান ভিন্ন বছরের ও ভিন্ন উৎসের হওয়ায় এগুলোকে একই সময়ের হিসাব হিসেবে দেখা উচিত নয়। তবে উভয় পরিসংখ্যানই বাংলাদেশের সাক্ষরতার অগ্রগতির একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে।
এই অগ্রগতি অবশ্যই আশাব্যঞ্জক। কিন্তু পরিসংখ্যানের সংখ্যার আড়ালে আমাদের আরেকটি বাস্তবতা দেখতে হবে। দেশের এখনও একটি বড় জনগোষ্ঠী শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশু-কিশোর, দরিদ্র পরিবারের সন্তান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, সুবিধাবঞ্চিত নারী-পুরুষ এবং শিক্ষার সুযোগ না পাওয়া প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীকে কার্যকর সাক্ষরতার আওতায় আনা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
তাই এখন প্রশ্ন শুধু—কত শতাংশ মানুষ সাক্ষর?
প্রশ্ন হওয়া উচিত—কত শতাংশ মানুষ সেই সাক্ষরতা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারছেন?
সাতক্ষীরার চিত্র
সাতক্ষীরার জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ জেলা একদিকে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, পানির সংকট ও জীবিকার নানা অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করে চলেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর জেলা-ভিত্তিক হিসাবে সাতক্ষীরায় ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৫.২৩ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষের সাক্ষরতার হার ৭৮.৫৭ শতাংশ এবং নারীর ৭১.৯৪ শতাংশ।
অর্থাৎ ২০২২ সালের হিসাবে সাতক্ষীরার সাক্ষরতার হার জাতীয় গড় ৭৪.৬৬ শতাংশের চেয়ে সামান্য বেশি। এটি অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু একই সঙ্গে একটি বিষয় বিশেষভাবে ভাবতে হবে—সাতক্ষীরায় নারী ও পুরুষের সাক্ষরতার মধ্যে ব্যবধান প্রায় ৬.৬৩ শতাংশ পয়েন্ট।
এই ব্যবধান কমাতে না পারলে সামগ্রিক সাক্ষরতার উন্নয়নও পূর্ণতা পাবে না।
কারণ একটি পরিবারে মা যদি শিক্ষিত ও সচেতন হন, তার প্রভাব শুধু একজন মানুষের ওপর পড়ে না; তা সন্তানের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, পারিবারিক অর্থব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও পড়ে।
সাতক্ষীরায় সাক্ষরতা বাড়ানোর লড়াই কোথায়?
সাতক্ষীরার বাস্তবতায় সাক্ষরতা বিস্তারের পরিকল্পনা করতে হলে জেলার ভৌগোলিক ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিতে হবে।
উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন না। নদী, খাল, দূরবর্তী গ্রাম, যোগাযোগের সমস্যা এবং দুর্যোগের কারণে অনেক পরিবারের জীবনযাত্রা অনিশ্চিত। দরিদ্র পরিবারের অনেক শিশু-কিশোরও অল্প বয়সে শ্রমে যুক্ত হয়ে পড়ে।
তাই সাতক্ষীরায় সাক্ষরতা আন্দোলনকে শুধু বিদ্যালয়কেন্দ্রিক রাখলে চলবে না।
গ্রাম, পরিবার, বাজার, কর্মক্ষেত্র ও স্থানীয় সামাজিক প্রতিষ্ঠান—সব জায়গাকে সাক্ষরতা আন্দোলনের অংশ করতে হবে।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নতুন উদ্যোগ
যে মানুষটি শৈশবে বিদ্যালয়ে যেতে পারেননি, তাঁর জন্য শিক্ষার দরজা বন্ধ হয়ে যেতে পারে না। প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষরতা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করতে হবে।
প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে সন্ধ্যাকালীন বা সুবিধাজনক সময়ে সাক্ষরতা কেন্দ্র চালু করা যেতে পারে। স্থানীয় শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সামাজিক সংগঠন ও এনজিওগুলোকে যুক্ত করে ছোট ছোট “সাক্ষরতা দল” গড়ে তোলা যেতে পারে।
বিশেষ করে নারী ও বয়স্কদের জন্য সময়সূচি এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে গৃহস্থালি ও জীবিকার কাজের সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
শুধু বই হাতে তুলে দিয়ে অক্ষর শেখানো নয়—শেখাতে হবে জীবনমুখী জ্ঞান।
ওষুধের লেবেল পড়া, মোবাইল ফোন ব্যবহার, ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবা বোঝা, কৃষি ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য পড়া, দুর্যোগের সতর্কবার্তা বোঝা, সরকারি সেবা সম্পর্কে জানা, নিজের অধিকার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বুঝতে পারা—এসবও কার্যকর সাক্ষরতার অংশ।
ডিজিটাল সাক্ষরতা এখন সময়ের দাবি
বর্তমান পৃথিবীতে শুধু কাগজের বই পড়তে পারা যথেষ্ট নয়। একজন মানুষকে ডিজিটাল জগতের সঙ্গেও পরিচিত হতে হবে।
স্মার্টফোনে পাওয়া তথ্য সত্য না মিথ্যা তা যাচাই করা, প্রতারণামূলক বার্তা শনাক্ত করা, অনলাইন ফরম পূরণ করা, সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করা, ডিজিটাল আর্থিক সেবা নিরাপদে ব্যবহার করা—এসবও এখন সাক্ষরতার অংশ।
সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে ডিজিটাল সাক্ষরতার আওতায় আনতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, গ্রন্থাগার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় করা যেতে পারে।
একজন মানুষ অক্ষরজ্ঞান অর্জন করলেন, কিন্তু ডিজিটাল প্রতারণার শিকার হলেন—তাহলে তাঁর শিক্ষা এখনও অসম্পূর্ণ।
জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সাক্ষরতার সম্পর্ক
এবারের প্রতিপাদ্যের একটি শব্দ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—“পৃথিবী”।
সাতক্ষীরার মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত সবচেয়ে কাছ থেকে অনুভব করেন। লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, পানির সংকট ও কৃষিতে পরিবর্তন—এসব এখানকার মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে।
তাই সাতক্ষীরার সাক্ষরতা কর্মসূচিতে পরিবেশ ও জলবায়ু শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
মানুষকে জানতে হবে কীভাবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যায়, নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে হয়, দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা কীভাবে বুঝতে হয়, সুন্দরবন কেন রক্ষা করতে হবে, নদী-খাল দখল ও দূষণের ক্ষতি কী এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে কীভাবে নিজেদের জীবন ও জীবিকাকে খাপ খাওয়ানো যায়।
যে সাক্ষরতা মানুষকে নিজের পৃথিবী রক্ষার শিক্ষা দেয়, সেটিই প্রকৃত অর্থে আধুনিক সাক্ষরতা।
আর্থিক সাক্ষরতাও জরুরি
দারিদ্র্য কমানোর সঙ্গে সাক্ষরতার সম্পর্ক গভীর। কিন্তু শুধু পড়তে ও লিখতে পারলেই অর্থনৈতিকভাবে সচেতন হওয়া যায় না।
মানুষকে সঞ্চয়, ঋণ, সুদ, কিস্তি, ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, বীমা এবং অনলাইন আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে মৌলিক ধারণা দিতে হবে।
সাতক্ষীরার কৃষক, মৎস্যজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিনমজুর ও প্রান্তিক নারীদের জন্য জীবিকাভিত্তিক আর্থিক সাক্ষরতা চালু করা যেতে পারে।
এতে মানুষ প্রতারণা থেকে যেমন রক্ষা পাবে, তেমনি নিজের সীমিত আয়কে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
নারী সাক্ষরতায় বিশেষ গুরুত্ব
সাতক্ষীরার সামগ্রিক সাক্ষরতার হার বাড়াতে হলে নারীদের সাক্ষরতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। ২০২২ সালের সরকারি পরিসংখ্যানেই পুরুষ ও নারীর সাক্ষরতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান দেখা যায়।
নারীদের জন্য পৃথক ও নমনীয় সাক্ষরতা কর্মসূচি, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ও অধিকারভিত্তিক শিক্ষা চালু করা যেতে পারে।
একজন নারী যখন নিজের নাম লিখতে পারেন, নিজের সন্তানের বিদ্যালয়ের নোটিশ পড়তে পারেন, চিকিৎসকের পরামর্শ বুঝতে পারেন, মোবাইল ফোনে প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে পারেন—তখন তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষমতায়ন ঘটে।
আর সেই ক্ষমতায়নের প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারে।
বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধ করতে হবে
নতুন করে প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষর করার পাশাপাশি শিশুদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া বন্ধ করা আরও জরুরি।
কারণ একজন শিশু আজ বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়লে কয়েক বছর পর তাকে আবার সাক্ষরতার কর্মসূচিতে ফিরিয়ে আনতে অনেক বেশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।
দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা উপকরণ, পুষ্টি, বিদ্যালয়ে নিরাপদ পরিবেশ এবং প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা বাড়াতে হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, নাগরিক সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে প্রতিটি এলাকায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর তালিকা তৈরি করে তাদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
গ্রন্থাগার ও পাঠাগার হতে পারে সাক্ষরতা আন্দোলনের কেন্দ্র
সাতক্ষীরায় সরকারি-বেসরকারি গ্রন্থাগার ও পাঠাগারগুলোকে আরও সক্রিয় করা প্রয়োজন। একটি গ্রন্থাগার শুধু বই রাখার জায়গা নয়; এটি হতে পারে একটি এলাকার জ্ঞানকেন্দ্র।
গ্রন্থাগারে শিশুদের পাঠচক্র, নারীদের সাক্ষরতা ক্লাস, বয়স্কদের পড়াশোনা, ডিজিটাল প্রশিক্ষণ, সংবাদপত্র পাঠ, পরিবেশ শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার বিষয়ে আলোচনা চালু করা যেতে পারে।
প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে কার্যকর কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার গড়ে তোলা গেলে সাতক্ষীরার সাক্ষরতা আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।
চাই সমন্বিত জেলা পরিকল্পনা
সাতক্ষীরায় সাক্ষরতার হার আরও বাড়াতে হলে শুধু একটি দিবসের কর্মসূচি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি জেলা সাক্ষরতা পরিকল্পনা।
জেলা প্রশাসন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক সমাজ, এনজিও, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজকে নিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
প্রথমে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক জরিপ করে কোথায় সাক্ষরতার হার কম, কোন বয়সের মানুষ বেশি পিছিয়ে, নারী-পুরুষের ব্যবধান কোথায় বেশি—এসব চিহ্নিত করতে হবে।
তারপর নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।
শুধু “সাক্ষরতা বাড়াতে হবে” বললে হবে না; বলতে হবে—কত বছরে কত শতাংশে উন্নীত করা হবে।
লক্ষ্য হোক ৯০ শতাংশ, তারপর ১০০
সাতক্ষীরার ৭৫.২৩ শতাংশ সাক্ষরতার হার একটি অর্জন। কিন্তু এখানেই থেমে থাকার সুযোগ নেই।
পরবর্তী ধাপে জেলার সাক্ষরতার হারকে ৮০, ৮৫ এবং ৯০ শতাংশে উন্নীত করার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে লক্ষ্য হতে পারে সর্বজনীন সাক্ষরতা।
তবে সেই শতভাগ সাক্ষরতা যেন শুধু পরিসংখ্যানের শতভাগ না হয়। মানুষ যেন বাস্তব জীবনে পড়তে, লিখতে, হিসাব করতে, তথ্য যাচাই করতে, প্রযুক্তি ব্যবহার করতে এবং নিজের জীবন সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারে—সেই নিশ্চয়তাও থাকতে হবে।
সাক্ষরতা মানেই মানুষের মুক্তি
আসলে সাক্ষরতার সঙ্গে মানুষের মুক্তির সম্পর্ক গভীর।
যে মানুষ পড়তে পারেন না, তিনি অনেক সময় নিজের অধিকার সম্পর্কে জানেন না। যে মানুষ তথ্য বুঝতে পারেন না, তিনি সহজেই গুজব ও প্রতারণার শিকার হন। যে মানুষ হিসাব বুঝতে পারেন না, তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। যে মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন না, তিনি আধুনিক অর্থনীতি ও সেবা থেকে পিছিয়ে পড়েন।
তাই সাক্ষরতা শুধু কোনো একটি মন্ত্রণালয় বা সরকারি দপ্তরের বিষয় নয়।
সাক্ষরতা একটি সামাজিক আন্দোলন।
এটি পরিবারকে শক্তিশালী করে, মানুষকে সচেতন করে, অর্থনীতিকে গতিশীল করে, পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখে এবং একটি দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে সহায়তা করে।
আমাদের করণীয় কী?
সাতক্ষীরায় সাক্ষরতার হার আরও বাড়াতে কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে—
প্রথমত, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক সাক্ষরতা জরিপ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তৃতীয়ত, নারী ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নমনীয় সময়ের সাক্ষরতা কেন্দ্র চালু করতে হবে।
চতুর্থত, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডিজিটাল ও তথ্য সাক্ষরতা বাড়াতে হবে।
পঞ্চমত, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ সাতক্ষীরায় পরিবেশ ও দুর্যোগ-সচেতনতা শিক্ষাকে সাক্ষরতা কর্মসূচির অংশ করতে হবে।
ষষ্ঠত, গ্রন্থাগার, পাঠাগার ও কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারগুলোকে স্থানীয় জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সপ্তমত, সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তুলতে হবে।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—সাক্ষরতার হিসাব শুধু পরীক্ষার খাতায় নয়, মানুষের জীবনে কতটা পরিবর্তন আনছে, সেটিও পরিমাপ করতে হবে।
শেষ কথা
আজ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক—সাতক্ষীরার কোনো শিশু যেন দারিদ্র্যের কারণে শিক্ষা থেকে ঝরে না পড়ে, কোনো নারী যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, কোনো প্রবীণ মানুষ যেন অক্ষরজ্ঞান না থাকার কারণে সারাজীবন অন্যের ওপর নির্ভরশীল না থাকেন।
আমরা এমন একটি সাতক্ষীরা চাই, যেখানে মানুষ শুধু নিজের নাম লিখতে জানবে না—নিজের অধিকার জানবে, নিজের দায়িত্ব বুঝবে, প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, পরিবেশ রক্ষা করবে এবং নিজের জীবন ও সমাজের উন্নয়নে জ্ঞানকে কাজে লাগাবে।
কারণ সাক্ষরতা মানে শুধু অক্ষর চেনা নয়; সাক্ষরতা মানে মানুষকে মানুষ হিসেবে শক্তিশালী করে তোলা।
এবারের প্রতিপাদ্য তাই আমাদের সামনে একটি সুস্পষ্ট বার্তা নিয়ে এসেছে—“মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা।”
এই তিনটি শব্দের মধ্যে রয়েছে আমাদের ভবিষ্যতের পথনির্দেশ।
সাক্ষর মানুষ চাই—সমৃদ্ধ সাতক্ষীরার জন্য।
সচেতন মানুষ চাই—সুন্দর পৃথিবীর জন্য।
দক্ষ মানুষ চাই—টেকসই বাংলাদেশের জন্য।
সাক্ষরতার আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি ঘর, প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি ইউনিয়ন এবং আমাদের প্রিয় সাতক্ষীরা।
লেখক: সাবেক ব্যাংকার, কবি ও লেখক। 

টাকার মলিন ময়লা চেহারা আর ভিন্ন দেশের মুদ্রা!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ
টাকার মলিন ময়লা চেহারা আর ভিন্ন দেশের মুদ্রা!

আল মুতাসিম বিল্লাহ সুমন

সেদিন সকালে সাতক্ষীরা শহরের লাবনী মোড় যাওয়ার জন্য ইজিবাইক থেকে নামার পর ইজিবাইক চালককে একটি পঞ্চাশ টাকার নোট দিলাম। তিনি ভাড়া কেটে আমাকে যে বিশ টাকার নোটটি ফেরত দিলেন, সেটি হাতে নিয়েই আমার মনটা বেশ খারাপ হয়ে গেল। নোটটির মাঝ বরাবর একটি বড় ছিদ্র, কিনারায় স্বচ্ছ কসটেপ লাগানো, আর সারা গায়ে ময়লার কালচে আস্তরণ। নোটটি থেকে এক ধরনের ভ্যাপসা গন্ধও আসছিল। আমি রিকশাচালককে বললাম, “এই ছেঁড়া টাকাটা তো কেউ নিতে চাইবে না, অন্য একটা নোট দেন।” তিনি মলিন হেসে বললেন, “আমার কাছেও তো কেউ একজন এই টাকাটাই দিছে। আমি গরিব মানুষ, এই ছেঁড়া টাকা নিয়ে কই যাব?”

তার কথা শুনে আমি আর কিছু বলতে পারলাম না। টাকাটা পকেটে রেখে দিলাম। কিন্তু সারা রাস্তা একটা বিষয়ই আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল, কেন আমাদের দেশের টাকার এমন করুণ অবস্থা? বাংলাদেশের কাগুজে মুদ্রা, বিশেষ করে ছোট মানের নোটগুলোর (যেমন: ২, ৫, ১০, ২০ এবং ৫০ টাকা) দিকে তাকালে মাঝে মাঝে খুব হতাশা কাজ করে। এই টাকাগুলো এত বেশি ময়লা, ছেঁড়া আর ফাটা থাকে যে, অনেক সময় এগুলো ব্যবহার করাই মুশকিল হয়ে পড়ে।

আজ আমি আপনাদের সাথে এই বিষয়টি নিয়েই বিস্তারিত কিছু কথা বলতে চাই। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার মনে হয়েছে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এই পরিচিত সমস্যাটি নিয়ে আলোচনা হওয়া খুব প্রয়োজন।

আমাদের দেশের টাকার এই জরাজীর্ণ অবস্থার পেছনে কোনও একটি নির্দিষ্ট কারণ নেই, বরং আমাদের বেশ কিছু বদভ্যাস এবং অসচেতনতাই এর জন্য প্রধানত দায়ী। আমি যদি কারণগুলো একটু গুছিয়ে বলি, তবে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে মানিব্যাগ বা ওয়ালেট ব্যবহারের প্রবণতা তুলনামূলক ভাবে কম। অনেকেই টাকা ভাঁজ করে শার্টের বুক পকেটে, প্যান্টের পকেটে বা লুঙ্গির গিঁটে রাখেন। বারবার এভাবে মুড়িয়ে বা কুঁচকে রাখার ফলে কাগুজে নোটের ফাইবার বা তন্তু খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। একটা নতুন নোট বাজারে আসার কয়েক মাসের মধ্যেই মাঝখান থেকে ছিঁড়তে শুরু করে স্্েরফ এই বারবার ভাঁজ করার কারণে।

কাঁচাবাজার, মাছের বাজার বা মাংসের দোকানগুলোতে গেলে একটি সাধারণ দৃশ্য চোখে পড়ে। বিক্রেতারা মাছ বা মাংস কাটছেন, হাত রক্ত বা কাদায় মাখামাখি, আর সেই অবস্থাতেই তারা ক্রেতার কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন বা ভাংতি দিচ্ছেন। এই রক্ত, পানি এবং কাদা টাকার গায়ে লেগে যায়। এরপর সেই টাকা যখন অন্যের হাতে যায়, তখন সেটিতে আরও ধুলাবালি জমতে থাকে। ধীরে ধীরে নোটটি তার আসল রঙ হারিয়ে কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে যায়।

এটি আমাদের দেশের আরেকটি অদ্ভুত এবং ক্ষতিকর বদভ্যাস। অনেক সময় দেখা যায় টাকার গায়ে কেউ নিজের নাম লিখে রেখেছেন, কেউ ফোন নম্বর লিখেছেন, আবার কেউবা কলম ঠিকমতো কালি দিচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য টাকার ওপর হিজিবিজি দাগ কেটেছেন। ব্যাংকগুলোতেও অনেক সময় হিসাব মেলানোর সুবিধার জন্য টাকার বান্ডিলের ওপর সিল মারা হয় বা পেনসিল দিয়ে লেখা হয়। এই লেখালেখির কারণে নোটটি দ্রুত তার মান হারায়।

আগে ব্যাংক থেকে টাকার বান্ডিল দেওয়ার সময় মাঝখানে এমনভাবে স্টেপলারের পিন মারা হতো যে, পিন খুলতে গেলেই টাকা ছিঁড়ে যেত। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে টাকায় পিন মারার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তবুও এর রেশ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। অনেক সময় পিনের ছিদ্র থাকা টাকাগুলো হাতবদল হতে হতে সেই ছিদ্র বড় হয়ে টাকা দুই টুকরো হয়ে যায়।

টাকা একটু ছিঁড়ে গেলেই আমরা তার ওপর আঠালো কসটেপ লাগিয়ে দিই। কিছুদিন পর কসটেপের নিচের আঠা কালো হয়ে যায় এবং পুরো নোটটি শক্ত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

আমাদের টাকার এই বেহাল দশার কথা ভাবতে গিয়ে আমার মনে হলো, উন্নত দেশগুলোর মুদ্রার অবস্থা কেমন সেটি জানা দরকার। আমরা যদি মার্কিন ডলার, ব্রিটিশ পাউন্ড বা ইউরোপের ইউরোর দিকে তাকাই, তাহলে আকাশ-পাতাল পার্থক্য দেখতে পাবো।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডলার মূলত সাধারণ কাগজ দিয়ে তৈরি হয় না। এটি ৭৫ শতাংশ তুলা এবং ২৫ শতাংশ লিনেন-এর মিশ্রণে তৈরি। ফলে এটি সাধারণ কাগজের চেয়ে অনেক বেশি টেকসই হয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, একটি এক ডলারের নোট ছিঁড়ে যাওয়ার আগে প্রায় ৪,০০০ বার ভাঁজ করা যায়। এছাড়া আমেরিকানদের মধ্যে মানিব্যাগ ব্যবহারের হার প্রায় শতভাগ। তারা নোটগুলো ভাঁজ না করে সোজা অবস্থায় মানিব্যাগে রাখেন। ফলে একটি নোট বছরের পর বছর নতুনের মতো থাকে।

বিশ্বের অনেক দেশ এখন কাগুজে নোটের বদলে পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট ব্যবহার করছে। ১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়া প্রথম তাদের দেশে পলিমার নোট চালু করে। এরপর যুক্তরাজ্য, কানাডা, নিউজিল্যান্ডসহ বহু দেশ এই পথে হেঁটেছে। পলিমার নোটের সুবিধা হলো এটি পানিতে ভেজে না, সহজে ছেঁড়ে না এবং ময়লা হলে মুছে ফেলা যায়। যুক্তরাজ্যের ব্যাংক অব ইংল্যান্ড যখন পলিমার নোট চালু করে, তখন তারা দেখিয়েছিল যে এই নোটগুলো সাধারণ কাগজের নোটের চেয়ে অন্তত আড়াই গুণ বেশি টেকসই। আমাদের দেশেও ২০০০ সালের দিকে একবার ১০ টাকার পলিমার নোট চালু করা হয়েছিল, কিন্তু অজানা কারণে সেটি বেশিদিন টেকেনি এবং বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়।

জানলে অবাক হবেন, বিশ্বের অনেক দেশে তাদের মুদ্রার যতœ নেওয়া শুধু নাগরিক দায়িত্বই নয়, বরং এটি আইনের অংশ। আপনি চাইলেই অন্য কোনও দেশের মুদ্রার সাথে যথেচ্ছ আচরণ করতে পারবেন না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, সে দেশের মুদ্রাকে ইচ্ছাকৃত ভাবে কাটা, ছিঁড়ে ফেলা, লেখালেখি করা, ময়লা করা, বা যে কোনোভাবে বিকৃত করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যদি কেউ এই আইন ভঙ্গ করে, তবে তাকে মোটা অঙ্কের জরিমানা এমনকি ৬ মাস পর্যন্ত কারাদন্ড ভোগ করতে হতে পারে।

তুরস্কেও তাদের মুদ্রা ‘লিরা’র অবমাননা বা ইচ্ছাকৃত ভাবে নষ্ট করাকে রাষ্ট্রীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ মুদ্রার গায়ে তাদের জাতির পিতা মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের ছবি থাকে। ভারতেও রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) “ক্লিন নোট পলিসি” বা পরিচ্ছন্ন নোট নীতি গ্রহণ করেছে, যার অধীনে টাকার ওপর কিছু লেখা সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে এই ধরনের কড়া আইন বা তার সঠিক প্রয়োগ নেই। মুদ্রা যে একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতীক, এই বোধটুকু আমাদের অনেকের মাঝেই অনুপস্থিত।
অনেকেই হয়তো ভাবছেন, টাকা একটু ময়লা হলে সমস্যা কী? এটি তো আর আমরা খাচ্ছি না! কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা।

ময়লা, স্যাঁতসেঁতে এবং ফাটা টাকা জীবাণুর এক বিশাল আস্তানা। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পুরনো কাগুজে নোটে প্রায় ৩,০০০ ধরণের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যার মধ্যে ই. কোলাই এবং সালমোনেলার মতো মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াও রয়েছে, যা ডায়রিয়া এবং ফুড পয়জনিংয়ের কারণ হতে পারে। আমাদের দেশে যক্ষ্মা বা চর্মরোগে আক্রান্ত কোনও ব্যক্তি যদি তার ব্যবহৃত ময়লা টাকা আরেকজনকে দেন, তবে সেই জীবাণু খুব সহজেই সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে শিশুরা অনেক সময় না বুঝে টাকা মুখে দিয়ে ফেলে, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ।

এছাড়া এর একটি বড় অর্থনৈতিক দিকও রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা খরচ করে পুরনো, ছেঁড়া নোট পুড়িয়ে ফেলে নতুন নোট ছাপাতে হয়। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় অপচয়। আমরা যদি একটু যতœশীল হয়ে আমাদের নোটগুলো ব্যবহার করি, তাহলে এই বিশাল অংকের সরকারি অর্থ বেঁচে যায়, যা দেশের অন্য কোনও উন্নয়নমূলক কাজে লাগানো সম্ভব।

এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় কী? আমি মনে করি, সরকার এবং জনগণ উভয়কেই এখানে সমান দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংককে “ক্লিন নোট পলিসি” আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। টাকার গায়ে লেখা বা পিন মারা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া, ছোট মানের নোটগুলো (যেমন ১০, ২০, ৫০ টাকা) যা সবচেয়ে বেশি হাতবদল হয় এবং দ্রুত নষ্ট হয়, সেগুলোর জন্য উন্নতমানের কাগজ বা পুনরায় পলিমার নোট চালু করার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত।

আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন। টাকা শুধু বিনিময়ের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের স্বাধীন দেশের একটি প্রতীক। টাকার ওপর আমাদের জাতির পিতার ছবি থাকে, জাতীয় স্মৃতিসৌধ বা শহীদ মিনারের ছবি থাকে। একটি ছেঁড়া বা ময়লা টাকা দেশের ভাবমূর্তির সাথেও বেমানান। আমাদের উচিত ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের শেখানো যে টাকাকে কীভাবে সম্মান করতে হয়।

সবাইকে মানিব্যাগ ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। টাকা ভাঁজ করে বা দুমড়ে-মুচড়ে পকেটে রাখার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। যারা কাঁচাবাজারে কাজ করেন, তাদের উচিত একটি শুকনো কাপড় বা তোয়ালে রাখা, যাতে ভেজা বা ময়লা হাতে সরাসরি টাকা ধরতে না হয়।
বর্তমানে আমাদের দেশে বিকাশ, নগদ, রকেট-এর মতো মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারও বাড়ছে। আমরা যদি ছোটখাটো কেনাকাটায় কাগুজে নোটের পরিবর্তে ডিজিটাল পেমেন্টের অভ্যাস গড়ে তুলি, তবে কাগুজে নোটের ওপর চাপ অনেক কমে যাবে এবং টাকা দীর্ঘদিন পরিষ্কার থাকবে।

একটি দেশের মুদ্রা সে দেশের সভ্যতার আয়না। বিদেশ থেকে আসা কোনও পর্যটক যখন তার হাতে একটি পরিষ্কার, ঝকঝকে টাকা পান, তখন দেশের প্রতি তার এক ধরনের ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। বিপরীতভাবে, কসটেপ লাগানো, দুর্গন্ধযুক্ত একটি ছেঁড়া টাকা আমাদের সম্পর্কে একটি নেতিবাচক বার্তাই দেয়।

আমি আশা করি, আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। আমরা শিখব কীভাবে নিজের দেশের সম্পদের যতœ নিতে হয়। প্রতিদিন সকালে রিকশা ভাড়া বা চায়ের বিল দেওয়ার সময় যেন আমাদের কোনও ছেঁড়া বা ময়লা নোট নিয়ে বিতর্কে জড়াতে না হয়, সেই সুদিনের অপেক্ষায় রইলাম। আসুন, আজ থেকেই আমরা নিজের পকেটের টাকাটার যতœ নিতে শুরু করি। কারণ, পরিবর্তনটা শুরু হতে হবে আমার এবং আপনার হাত ধরেই।

লেখক: আল মুতাসিম বিল্লাহ সুমন, রাজার বাগান, সাতক্ষীরা।

তানযীমূল উম্মাহ হিফয মাদ্রাসার বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
তানযীমূল উম্মাহ হিফয মাদ্রাসার বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী

তানযীমূল উম্মাহ ফাউন্ডেশন পরিচালিত তানযীমূল উম্মাহ হিফয মাদ্রাসা, সাতক্ষীরা (রাজার বাগান ও বাইপাস) শাখার বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৬ আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) ‘জেলা শিল্পকলা একাডেমি’ সাতক্ষীরায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়। তাছাড়া অনুষ্ঠানে সারাবছরের মেধা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেরিট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়, পাশাপাশি ইবতেদায়ী বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এ বৃত্তিপ্রাপ্ত ০৬ শিক্ষার্থীদের বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

 

এছাড়াও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে দেওয়া হয় শুভেচ্ছা পুরস্কার। পুরস্কার বিতরণীর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ছিল কবিতা আবৃত্তি, হামদ, নাত, দেশের গান, জুলাইয়ের গান, কিরাত এবং আরবি, ইংরেজি, বাংলা বক্তৃতা ও নাটিকাসহ প্রাণবন্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশনা উপস্থিত অতিথি, অভিভাবক ও দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং পুরো অনুষ্ঠানকে আরও উৎসবমুখর করে তোলে।

 

অনুষ্ঠানে ১ম সেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: আবুল হাশেম এবং প্রধান আলোচক ছিলেন আগরদাঁড়ী আমিনিয়া কামিল মাদ্রাসার সম্মানিত অধ্যক্ষ ড. মো. রুহুল আমীন। এবং অনুষ্ঠানের ২য় সেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মইনুল ইসলাম মইন এবং প্রধান আলোচক ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর শহীদুল ইসলাম মুকুল।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন তানযীমূল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর এম এম রবিউল ইসলাম। শাখা প্রধান আবু বকর সিদ্দীক, সহকারী প্রধান হাফিজুর রহমান ও মো. হাবীবুল্লাহ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তানযীমূল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের সম্মানিত ডিরেক্টর ও খুলনা জোনের জোনাল ইনচার্জ আ ল ম মাসুম বিল্লাহ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি