বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় শিশু সুরক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সংবর্ধনা 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় শিশু সুরক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সংবর্ধনা 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় শিশুদের সুরক্ষা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অনন্য কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ এক শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে টাউন সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস রুমে ‘আরেফ-তায়েমা ট্রাস্ট, সাতক্ষীরা’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত সচিব (অবসরপ্রাপ্ত)  আহমেদুর রহিম।

টাউন সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) পারভীন বিলকিসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ সুলতানপুর বায়তুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব  হাফেজ কাজী সাইদুর রহমান, সাতক্ষীরা প্রি ক্যাডেট স্কুলের উপাধ্যক্ষ ছন্দা সিনহা রাহা, সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কাজী সাহাবুদ্দিন সাজু।

বক্তারা বলেন, “শিশুদের সুরক্ষায় সমাজ ও পরিবারের সচেতনতা সবার আগে প্রয়োজন। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে প্রতিটি শিশুই আগামী দিনে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে।” তিনি শিক্ষার্থীদের এই কৃতিত্বের ধারা বজায় রেখে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। অন্য বক্তারা শিশুদের নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সুরক্ষার বিষয়টি মনে করতে হবে। বুঝেশুনে চলতে হবে।

আগে যেভাবে শিক্ষদের সম্মান করতো এখন আর করে না। পারিবারিক শিক্ষা জরুরী। মুল্যবোধের জায়গা থেকে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক শিক্ষিকা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

Ads small one

আশাশুনির বাওচাষে শিশুর শ্লীলতাহানির লিখিত অভিযোগ ছাড়াই দপ্তরী বরখাস্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনির বাওচাষে শিশুর শ্লীলতাহানির লিখিত অভিযোগ ছাড়াই দপ্তরী বরখাস্ত

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী বিকাশ চন্দ্র বাছাড়কে ছুটির দিনে বহিরাগত এক প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে বাড়ি থেকে তুলে এনে আটক রেখে তিন দফায় নির্যাতন চালানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ ছাড়া ওই নৈশ প্রহরীর বিরুদ্ধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে রাজী না হওয়ায় প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জিম্মি করে সাময়িক বরখাস্ত করতে বাধ্য করানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘটনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ঠাদের লোকজনের নিকট থেকে ভিন্ন ভিন্নরূপ বক্তব্য পাওয়া গেছে। গত পহেলা ও ২ জুন এ হামলার ঘটনার পর বিকাশ সস্ত্রীক আত্মগোপনে রয়েছে। আতঙ্কে রয়েছে তার পরিবার ও স্বজনরা।

সরেজমিনে বৃহষ্পতিবার আশাশুনি উপজেলার বাঁকড়া গ্রামে যেয়ে দেখা গেছে, বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী বিকাশ চন্দ্র বাছাড়ের বাড়িতে তার বাবা সন্তোষ বাছাড়া, মা উর্মিলা বাছাড় ও ছোট ভাই সুভাষ বাছাড়ের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। বিকাশের কথা জানতেই মা উর্মিলা বাছাড় কেঁদে ফেললেন। উপস্থিত প্রতিবেশিসহ মা ও বাবা পহেলা জুন সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দাতা আলাল উদ্দিনের বাড়িতে বিকাশকে বহিরাগত এক প্রথম শ্রেণীর ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ মারপিট করার বর্ণনা দেন। পরদিন সকাল ১০টায় ও দুপুর ১২টায় দুই বার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারতে মারতে ইয়াছিনের দোকানে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন মা উর্মিলা। সাবেক ইউপি সদস্য সাহেব আলীসহ কয়েকজন না থাকলে বিকাশকে মব সৃষ্টিকারিদের হাতে জীবন দিতে হতো বলে অভিযোগ করেন তারা।

বাওচাষ গ্রামের এক দিনমুজুরের বাড়িতে গেলে তার ছেলে আব্দুল কাদের বলেন, তার দুলা ভাই আশাশুনি উপজেলার বলাডাঙা গ্রামের বাসিন্দা। এক বছর যাবৎ তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করায় বোন ও ভাগ্নি মাঝে মাঝে তাদের বাড়িতে আসেন। ভাগ্নি রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে পড়ে। পহেলা জুন তার দুই ভাগ্নি বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে দোলনা খেলতে গেলে প্রথম শেণীতে পড়–য়া (বলাডাঙা) ওই ভাগ্নির শ্লীলতাহানি করে বিকাশ। বিষয়টি জানতে পেরে তারা বিদ্যালয়ের জমি দাতা আলালউদ্দিনকে জানান। কয়েকজন বিকাশকে মারপিট করেছেন স্বীকার করে কাদের বলেন, তারা কোথাও কোন লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

আত্মগোপনে থাকা বিকাশ বাছাড় জানান, পহেলা জুন সোমবার বিদ্যালয় ছুটি থাকলেও প্রতিদিনের ন্যায় তিনি বিকেলে প্রতিষ্ঠানের গাছ গাছালিতে পানি দিতে যান। এ সময় বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী এক ব্যক্তির দুই নাতনি (সাত থেকে আট বছর বয়সী) বিদ্যালয়ে বেড়াতে আসেন। বেড়াতে আসেন বিদ্যালয়ের পাশ^বর্তী আব্দুল কাদেরের ছেলে মোহিন, তুহিন, আহছানের ছেলে তবিবুর, ইউনুসের ছেলে হানজানা, মহিদুলের ছেলে শামীম ও ইয়াকুবের ছেলে বাদশাসহ কয়েকজন। সোয়া ছয়টার দিকে ওই দুই মেয়ে চলে যায়। এরপরপরই মোহিন, তুহিনসহ তাদের দুই ভাইপোসহ মাঠে উপস্থিত সকলকে নিয়ে তিনিও বিদ্যালয় থেকে চলে আসেন। সন্ধ্যায় সাতটার দিকে বাওচাষ গ্রামের আব্দুল কাদের বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দাতা আলাউল তাকে যেতে বলেছে বলে ডাকতে আসে। তিনি আলাউলের বাড়িতে চলে আসার পর তাকে কিছুক্ষণ আগে বিদ্যালয়ে বেড়াতে যাওয়া এক শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করে গালে থাপ্পড় মারেন ওই মেয়েটির মা। এ সময় জমি দাতা আলাউল বিষয়টি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনকে অবহিত করলে তার কাছ থেকে বিদ্যালয়ের চাবি নিয়ে নিতে বলা হয়। তিনি চাবি দিয়ে বাড়িতে চলে আসেন। রাত ১১টার দিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনকে একটি মহল জোরপূর্বক বিদ্যালয়ে আসতে বাধ্য করেন।

বিকাশ বাছাড় অভিযোগ করে বলেন, ২ জুন মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি বাড়িতে অবস্থান করাকালে গতদিনের ভিকটিমের মামা আব্দুল কাদের, বাওচাষ গ্রামের রহমতের ছেলে হাফিজুল ইসলাম, একই গ্রামের আব্দুর রব এর ছেলে ঈদুল আযহা’র পরদিন ভারত থেকে পালিয়ে আসা হযরত আলীসহ কয়েকজন তার ঘরে ঢুকে একমাত্র শিশু সন্তানকে কোল থেকে মাটিতে আঁছড়ে ফেলে দিয়ে পরিবারের সদস্যদের সামনে মারতে মারতে বিদ্যালয়ের পাশে নিয়ে যায়। স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় তিনি বাড়ি ফিরে আসলে কাদের, হাফিজুল ও হযরতসহ বাওচাষ, বাঁকড়া ও হাজিপুর গ্রামের ৭০ থেকে ৮০ জন তাকে আবারো বাড়ি থেকে মারতে মারতে ইয়াছিনের দোকানে নিয়ে আটকে রাখে। সেখানে তাকে নির্যাতনের ফলে ডান কানের শ্রবন শক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সাহেব আলী, ভুট্টো ও প্রতিবেশি হাফেজ সাহেব প্রতিবাদ করে রুখে দাঁড়িয়ে তাকে মব সৃষ্টিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। রাতে আবারো তাকে ডেকে নিয়ে শালিস করা হয়। শালিসে তাকে ওই শিশুর শ্লীলতাহানির বিষয়ে স্বীকার করতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। সেখান থেকে বাড়ি ফিরে জীবন বাঁচাতে তিনি স্ত্রী ও একমাত্র শিশু সন্তানকে নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে মর্মে তিনি অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাজির হলে সহকারি শিক্ষক শাহজাহান শামীম, রামপ্রসাদ বাছাড় ও রুবনা ইয়াসমিন জানান, তাদের বিদ্যালয়ে ২৯০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। নয়জনের মধ্যে প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারি শিক্ষকের পদ শূন্য। একজন মাতৃত্বকালিন ছুটিতে। ছয়জন শিক্ষক বর্তমানে কর্মরত। ১৯২১ সালে ওই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। মনোরম পরিবেশ ও উন্নতমানের পড়াশুনার জন্য ২০২৪ সালে বিদ্যালয়টি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে।

দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী বিকাশের বিরুদ্ধে ছুটির দিনে এক বহিরাগত শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির বিষয়টি সিসি ক্যামরা, সেই সময়ে উপস্থিত ওই বহিরাগত শিক্ষার্থীর নিজের খালাত বোনসহ স্থানীয় আটজনের কাছে ঘটনার সত্যতা মেলেনি বলে জানান ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয় কয়েকজন। বিষয়টি যেভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাতে শুধু তাদের নয়, বিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট হয়েছে। বিকাশের কারণে বিদ্যালয়ের বাগান পরিচর্যায় সৌন্দর্য বৃদ্ধি ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।

জানতে চাইলে বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের বাসিন্দা মোহিন ও তুহিন জানান, বিদ্যালয় থেকে বিকাশের সঙ্গে তারা একসাথে বেরিয়ে যাওয়া ও শ্লীলতাহানি সম্পর্কে ঘটনার কোন সত্যতা না থাকার বিষয়টি তারা সকলের উপস্থিতিতে উপস্থাপন করেন। ঘটনা ঠিক নয় বলে জানায় ওই ভিকটিমের নিজের খালাত বোন। এরপরও ওই ভিকটিমের পরিবার কোন লিখিত অভিযোগ না করায় কিভাবে বিকাশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো তা তাদের বোধগম্য নয়।

বিদ্যালয়ের জমি দাতা আলাউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বিদালয় পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দাবিকৃত ঘটনার সময় ওই ভিকটিমের খালাত বোনসহ উপস্থিত আটজন ঘটনা সঠিক নয় বলে দাবি করেন। সিসি ক্যামেরায় ও ঘটনার সত্যতা মেলেনি। এরপরও স্থানীয় একটি মহলের আগ্রাসী মনোভাব তাকে ও প্রধান শিক্ষককে ভীতসন্ত্রস্ত করে তোলে। একপর্যায়ে তারা ভিকটিম পরিবারের লিখিত অভিযোগ ছাড়াই বিকাশকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে আশাশুনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার বর্মণের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন ধরেননি।

বাউচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। লিখিত অভিযোগ, কোন যৌতিক কারণ ও প্রমান ছাড়া বিকাশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না চাইলে তাকে বিভিন্ন ভাবে অপমান অপদস্ত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

 

বিশ্ব ফুটবলের রঙে মাতালেন বাংলাদেশের মডেলরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
বিশ্ব ফুটবলের রঙে মাতালেন বাংলাদেশের মডেলরা

বিশ্বকাপ ফুটবলের আবহে রঙিন এক সন্ধ্যার সাক্ষী হলো রাজধানী। দেশের শীর্ষস্থানীয় মডেলদের অংশগ্রহণে বর্ণিল জার্সির সমারোহে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘ঢাকা ফুটবল ফিয়েস্তা’র বিশেষ ফ্যাশন শো। ফুটবলপ্রেম আর ফ্যাশনের মেলবন্ধনে আয়োজিত এই পর্ব যেন বিশ্বকাপ উন্মাদনায় নতুন মাত্রা যোগ করল।

ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের জার্সি পরে র‌্যাম্পে হাঁটেন জনপ্রিয় মডেলরা। সাইয়েদ রুমার কোরিওগ্রাফিতে প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় ফুটে ওঠে বিশ্ব ফুটবলের রঙিন সংস্কৃতি। আলোকসজ্জা, সংগীত আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো আয়োজন পরিণত হয় এক ফুটবল উৎসবে।

মডেলিংয়ে ছিলেন, সাদিয়া শাবনাজ ইমি, রাখি, আলিশা, দিলরুবা দোয়েল, অ্যাঞ্জেল ডি কস্টা, আসিফ আহমেদ প্রমুখ।

ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে আয়োজিত ‘ঢাকা ফুটবল ফিয়েস্তা’য় উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া, গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো, ফুটবলার মোরসালিনসহ দেশের ফুটবলের বিভিন্ন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে তারা বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং একদিন বিশ্বকাপের মঞ্চে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব দেখার স্বপ্নের কথা জানান।

 

হাউজ ও অ্যাথলিট স্পোর্টস গিয়ারের যৌথ উদ্যোগে এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশব্যাপী ১৩টি ‘ফ্যান জোন’ তৈরির ঘোষণাও দেওয়া হয়। বিশ্বকাপ চলাকালে এসব ফ্যান জোনে বড় পর্দায় খেলা দেখার পাশাপাশি থাকবে ফুড স্টল, গেমিং জোন, জার্সি ফেস্ট ও নানা আয়োজন।

 

সব মিলিয়ে ‘ঢাকা ফুটবল ফিয়েস্তা’ শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়, যার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফুটবলের রঙে রাঙানো এই বর্ণিল ফ্যাশন শো।

পুশইন প্রতিরোধে সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে নীলডুমুর ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
পুশইন প্রতিরোধে সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে নীলডুমুর ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশইন) প্রতিরোধ এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নীলডুমুর ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ১০ জুন ২০২৬ তারিখে নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের প্রতিপক্ষ ৭৪ ও ৭৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায়, ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ১.৫ থেকে ২ কিলোমিটার ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ১২ থেকে ১৫ জন বিভিন্ন বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশুকে পুশ-ইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, এসব ব্যক্তিকে নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৭ বিজিবি সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং একাধিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তের সংশ্লিষ্ট বিওপিগুলোতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও এটিভির মাধ্যমে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত রাত্রিকালীন টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে পুশইন বিষয়ে সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে। টহলরত সদস্যরা বাঁশি, শক্তিশালী লাইট ও মেগাফোন ব্যবহার করে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছেন। এছাড়া নদী সীমান্তের শূন্যরেখা দিয়ে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে হাই স্পিড বোটের মাধ্যমে নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হচ্ছে, যাতে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।

এদিকে, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে সার্বক্ষণিক দুই সেকশনের একটি কুইক রিঅ্যাকশন ফোর্স (ছজঋ) প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাদের সদস্যরা সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।

এবিষয়ে ১৭ বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ শাহারিয়ার রাজিব বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ১৭ বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশের ভূখন্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, প্রচলিত আইন এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থী যেকোনো পুশইন অপচেষ্টা ১৭ বিজিবি কর্তৃক কঠোরভাবে প্রতিহত করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পুশইন প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম বহুগুনে জোরদার করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তায় এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় ১৭ বিজিবি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।