শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরার ঘোনায় সেই হামলার ঘটনার ৯ দিন পর চিকিৎসাধনি রকিবের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার ঘোনায় সেই হামলার ঘটনার ৯ দিন পর চিকিৎসাধনি রকিবের মৃত্যু

পত্রদূত রিপোর্ট: একটি নারী ঘটিত ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার ঘোনায় হামলার নয় দিন পর আহত আব্দুর রকিব ঝনু মারা গেছেন। বৃহষ্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে ঢাকা মেডিকেলের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুর রকিব ঝনু (৪০) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের শ্রীরডাঙা গ্রামের ডাঃ আব্দুর রশিদের ছেলে।

এদিকে রকিবের মৃত্যুর প্রায় আধ ঘণ্টা আগে ইউপি সদস্য শাহীনুর রহমান লাল্টুর ভাই আশরাফুল আলম ডাবলু বাদি হয়ে বৃহষ্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ৩৫ মিনেটে একটি হত্যা চেষ্টা মামলা করেন।

নিহত আব্দুর রকিব ঝনুর বাবা আব্দুর রশিদ জানান, স্থানীয় রুহুল আমিনের ছেলে ইমন ও ঘোনা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য শাহীনুর রহমান ওরফে লাল্টুর ছেলে নাজমুলের সঙ্গে বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ৮ আগষ্ট রাত ৯টার দিকে শ্রীডাঙার মোড়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলাকারিদের লোহার রডের আঘাতে তার ছেলে আব্দুর রকিব ঝনুর মাথা মারাত্মক জখম হয়। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আব্দুর রকিবের অবস্থার অবনতি হওয়ায় ৯ আগষ্ট সন্ধ্যায় তাকে ঢাকা মেডিকেলের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। বৃহষ্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

আব্দুর রশিদ আরো জানায়, শুক্রবার দুপুরে থানায় মামলা করতে যেয়ে তিনি জানতে পারেন যে, শাহীনুর রহমান লাল্টুর ভাই আশরাফুল আলম ডাবলু বাদি হয়ে বৃহষ্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে নজরুল ইসলামের ছেলে পশু চিকিৎসক ও ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হোসেনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। এতে হামলার সঙ্গে জড়িত অনেকেই থেকে যাবে ধরা ছোঁয়ার বাইরে বলে তিনি দাবী করেন।
নিহত আব্দুর রকিব ঝুনুর ভাই বেলাল হোসেন জানান, ঢাকা মেডিকেলের মর্গে শুক্রবার বিকেলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রাতে ১০টার দিকে লাশ বাড়িতে পোঁছানোর সম্ভবনা রয়েছে। রাতেই ঝনুর লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদুর রহমান জানান, আব্দুর রকিব ঝনুর উপর হামলার ঘটনায় ভিকটিমের সঙ্গে ছবিতে একসাথে থাকা ঘোনার শ্রীডাংগার আছিরউদ্দিন সরদারের ছেলে আশরাফুল আলম ডাবলু বাদি হয়ে একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে পশু চিকিৎসক জাহিদ হোসেনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে শুক্রবার রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা (৪৭নং, তাং-২১.০৮.২৬ সদর) দায়ের করেছেন। ভিকটিমের মৃত্যু সংক্রান্ত কাগজপত্র পাওয়ার পর হত্যা চেষ্টা মামলার সাথে ৩০২ ধারা সংযুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।

প্রসঙ্গত, প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় আগে লাল্টু মেম্বরের মেয়েকে কলেজে ও প্রাইভেট পড়তে যাওয়া-আসার পথে বিরক্ত করতো একই গ্রামের এক বখাটে। এনিয়ে রুহুল আমিন ও তার পরিবারের সাথে লাল্টু মেম্বরের সম্পর্কের অবনতি হয়। এ ছাড়া লাল্টু মেম্বরের ভাই লাভলু সরদারের সঙ্গে একই গ্রামের জনৈক গৃহবধুর অনৈতিক সম্পর্ক আছে মর্মে প্রচার করা হয়। এনিয়ে গত ৮ আগষ্ট শনিবার দুপুরে ফেসবুকে ছড়ানো একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়াকে কেন্দ্র করে মোবাইল ফোনে দু’জনার কথাকাটাকাটি হয়।

এরই জের ধরে ৮ আগষ্ট রাত ৯টার দিকে ঘোনার মোবারকের মোড় থেকে মঞ্জুরুল আলম বাপ্পি ও ছাত্রদল নেতা জাহিদ হোসেন ঘটনাস্থলে যায়। একই সময় ৫০/৬০ জন হাতে লাহার রড, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে লাল্টু মেম্বরের বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় শ্রীডাঙ্গার মোড়ে মাজেদের চায়ের দোকানের সামনে লাল্টুকে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। খবর পেয়ে সেখানে ছুঁটে আসা লাল্টুর ছেলে নাজমুল, জাহাঙ্গীর আলম, সামছুর রহমান, আশরাফুল আলম ডাবলু, আব্দুর রকিব ঝনু ও খালিদ হোসেনকে পিটিয়ে জখম করা হয়। পরবর্তীকে আব্দুর রকিব ঝনুকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং লাল্টু ও জাহাঙ্গীরকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

পরে খবর পেয়ে একগ্রুপের লোকজন সদর হাসপাতালের ১ নং ওয়ার্ডে যেয়ে লাল্টু ও জাহাঙ্গীরকে তুলে আনার চেষ্টা করে। রাত দুটোর দিকে বিএনপি তার অঙ্গ সংগঠেনের লোকজন তাদেরকে গ্রেপ্তারের দাবিতে খুলনা রোডের মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করলে পুলিশ লাল্টু ও জাহাঙ্গীরকে হাসপাতালের বেড থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। রাত আড়াইটার দিকে বিএনপির অঙ্গ সংগঠণের নেতা কর্মীরা থানার সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে লাল্টু ও জাহাঙ্গীরকে আওয়ামী লীগের লোক হিসেবে চিহ্নিত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি করে। পুলিশ পরে সামছুর রহমান নামের এক লাল্টু সমর্থককে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে ইমন ও বিএনপির নামে কটুক্তি করা হয়েছে উল্লেখ করে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে লাল্টু মেম্বর ও তার লোকজন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মঞ্জুরুল আলম বাপ্পিসহ তার লোকজনের উপর হামলা করে ৬/৭জনকে আহত করে বলে ৯ আগষ্ট মঞ্জুরুল আলম বাপ্পি বাদি হয়ে ইউপি সদস্য শাহীনুর রহমান লাল্টু ও সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান মুসাসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১২ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে তারা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শহরে কয়েকবার বিক্ষোভ মিছিল করে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানের অপসারণ দাবি করা হয়।

 

Ads small one

কলকাতায় আগুনে নিহত রেবতীকে কলকাতাতেই সৎকার, ভোমরা দিয়ে আসছে আলিমের মরদেহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ
কলকাতায় আগুনে নিহত রেবতীকে কলকাতাতেই সৎকার, ভোমরা দিয়ে আসছে আলিমের মরদেহ

পত্রদূত ডেস্ক: কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকান্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। একজনের মরদেহ সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অপর নিহত রেবতী সরকারের মরদেহ কলকাতাতেই সৎকার করতে চায় তার পরিবার।

সাতক্ষীরার বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে পাঠানো হবে।
অন্যদিকে বেনাপোল দিয়ে যাদের মরদেহ দেশে পাঠানো হবে- তারা হলেন কুষ্টিয়ার বাসিন্দা ও আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাদের তিন বছর বয়সী সন্তান শর্ণশীষ দত্ত, দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলী এবং ঢাকার সাভারের বাসিন্দা আহামেদ বাবু।

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের বাসিন্দা রেবতী সরকারের মরদেহ কলকাতায় সৎকারের বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে আগ্রহ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রেবতী সরকারের ছেলে তার মায়ের মরদেহ কলকাতাতেই সৎকারের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তবে এ জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। বিষয়টি ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেবতী সরকারের ছেলে অনিক সরকার বলেন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে নিউমার্কেট থানার পুলিশ তার মায়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে। এরপর কলকাতাতেই তার সৎকার করার ইচ্ছা পরিবারের।

এদিকে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) গঠন করেছে। তদন্তকারীরা ইতোমধ্যে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া এবং বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের চিঠি দেওয়ার পরও নিউমার্কেট থানা থেকে জেনারেল ডায়েরির (জিডি) কপি না পাওয়ায় মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে নিহতদের স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ বলেন, জিডির কপি না পাওয়ায় মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে শুক্রবার বিকেলের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবারের মধ্যে মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

অন্যদিকে অগ্নিকান্ডের পর নিউমার্কেট এলাকার আরও ১৭টি আবাসিক হোটেলের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গের দমকল বিভাগ। ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকার অভিযোগে এসব নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে একই এলাকায় ৯টি আবাসিক হোটেল ও চারটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছিল। নতুন ১৭টি হোটেলসহ এ পর্যন্ত মোট ২৬টি হোটেল ও চারটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করল দমকল বিভাগ।

 

ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

বিশ্ব আজ নানা ধর্ম, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের ৮০০ কোটির অধিক মানুষের মিলিত আবাস। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনও পৃথিবীর বহু অঞ্চলে মানুষ কেবল তাদের ধর্ম বা বিশ্বাসের কারণে বৈষম্য, নিপীড়ন, হামলা এবং সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এই বাস্তবতা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেয় এবং মানবাধিকারের মৌলিক চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ তার এ/আরইএস/৭৩/২৯৬ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রতি বছর ২২ আগস্টকে “ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে সংঘটিত সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস” হিসেবে ঘোষণা করেছে। ২০১৯ সাল থেকে দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হচ্ছে।

এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো ধর্ম বা বিশ্বাসের কারণে সংঘটিত সহিংসতার শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা, তাদের জন্য যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করা এবং বিশ্বব্যাপী সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা। জাতিসংঘ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে, কোনো ধর্ম, বিশ্বাস বা মতাদর্শকে কখনোই মানুষের জীবন, মর্যাদা ও মানবাধিকারের ওপর আক্রমণের বৈধতা হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।

মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদে ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবুও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তি, সম্প্রদায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং উপাসনালয় হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এসব ঘটনা শুধু নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ক্ষতি করে না, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তিকেও দুর্বল করে।

ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও বিদ্বেষ মোকাবিলায় জাতিসংঘ বিভিন্ন নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক কাঠামো, রেজল্যুশন ১৬/১৮ এবং রাবাত কর্মপরিকল্পনা। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ঘৃণামূলক বক্তব্য, বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধ করা এবং বাকস্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। একই সঙ্গে ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টার বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তদন্ত ও প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করে চলেছেন।

বর্তমান বিশ্বে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তবে একই সঙ্গে ঘৃণা, গুজব, অপপ্রচার ও বিভাজন ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রও তৈরি করেছে। এ প্রেক্ষাপটে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং উসকানিমূলক বক্তব্য প্রতিরোধে কার্যকর নীতি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের গুরুত্ব বেড়েছে। জাতিসংঘ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ডিজিটাল মাধ্যম শান্তি, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের সংবিধানও ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমতা এবং বৈষম্যহীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। সংবিধানের ১২, ২৭, ২৮ ও ৪১ অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের সমান অধিকার এবং স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন ও প্রচারের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। পাশাপাশি দন্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় উপাসনালয় ভাঙচুর, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, ধর্মীয় সমাবেশে বাধা এবং সহিংস কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে। এসব আইনি সুরক্ষা সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

বিশ্বে আনুমানিক ১০ হাজারেরও বেশি স্বতন্ত্র ধর্ম ও আঞ্চলিক বিশ্বাসের চর্চা রয়েছে। এই বৈচিত্র্য মানবসভ্যতার এক মূল্যবান সম্পদ। তাই কয়েকজন ব্যক্তি বা উগ্র গোষ্ঠীর কর্মকান্ডের জন্য কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায় সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং সহিংসতার প্রকৃত কারণ ও প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি। পৃথিবীতে প্রধান ও বড় ধর্মগুলোর বাইরে ক্ষুদ্র অনুসারী বা কম প্রচলিত ধর্মের মধ্যে রয়েছে; শিখ ধর্ম, ইহুদি ধর্ম, বাহাই ধর্ম, তাওবাদ, কনফুসিয়ানিজম, জৈন ধর্ম, শিন্তো ধর্ম, জরথুষ্ট্রবাদ বা পার্সি ধর্ম, আত্মাবাদ বা স্পিরিটিজম ও টেনরিকিও।

সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতা, মানবাধিকার ও গণমাধ্যমকর্মী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি ধর্মীয় নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমান বিশ্বজুড়ে পরিচিত ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্মের প্রধান পোপ ফ্রান্সিস, তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের আধ্যাত্মিক নেতা দালাইলামা এবং শিয়া মুসলিম ধর্মীয় সর্বোচ্চ ইরানের নেতা মোজতবা খামেনিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা সহনশীলতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বার্তা প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। সংলাপ ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি শক্তিশালী করতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২২ আগস্টের এই আন্তর্জাতিক দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মানবাধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য নয়; এটি প্রত্যেক মানুষের অধিকার। এমন একটি বিশ্ব গড়ে তোলা আমাদের যৌথ দায়িত্ব, যেখানে ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে যথার্থ সম্মান করা হবে এবং প্রত্যেক মানুষ নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবে। ঘৃণার পরিবর্তে সহমর্মিতা, বিভেদের পরিবর্তে সংলাপ এবং সহিংসতার পরিবর্তে শান্তির পথই হতে পারে মানবতার টেকসই ভবিষ্যতের ভিত্তি।

তিনি ছিলেন আমার মাথার ওপর ছায়ার মতো: শাকিব খান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
তিনি ছিলেন আমার মাথার ওপর ছায়ার মতো: শাকিব খান

বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র নায়করাজ রাজ্জাক। শুক্রবার (২১ আগস্ট) এই কিংবদন্তি অভিনেতাকে হারানোর ৯ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৭ সালের এই দিনে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রয়াণ দিবসে রাজ্জাককে গভীর আবেগে স্মরণ করেছেন ঢাকাই সিনেমার সুপারস্টার শাকিব খান। রাজ্জাককে শুধু কিংবদন্তি নয়, চলচ্চিত্রের অভিভাবক, অনুপ্রেরণা ও ভালোবাসার অন্যতম আশ্রয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

রাজ্জাকের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতি তুলে ধরে শাকিব বলেন, ‘তিনি ছিলেন আমার মাথার ওপর ছায়ার মতো। স্নেহ দিয়েছেন, আগলে রেখেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন। অনেক দিন দেখা না হলেও কীভাবে যেন বুঝে যেতেন, আমি কেমন আছি, কীসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি! তাকে হারানোর বেদনা আমার কাছে নিজের অভিভাবক হারানোর মতো – খুবই ব্যক্তিগত।’

নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত আলোচিত ৫ চলচ্চিত্রনায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত আলোচিত ৫ চলচ্চিত্র
কিং খান পোস্টে আরও লেখেন, ‘তিনি নেই, কিন্তু তার স্নেহ, শিক্ষা ও আশীর্বাদ এখনও আমার পথচলার অনুপ্রেরণা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যতদিন থাকবে, নায়করাজ ততদিনই থাকবেন আমাদের হৃদয়ে, আমাদের অহংকার হয়ে।’

সবশেষে তিনি জানান, ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করি আপনাকে। শান্তিতে থাকুন, আমাদের প্রিয় নায়করাজ।’