সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সুন্দরবন বন্ধ, তবু সুন্দরবনের স্বাদ মিলছে আকাশনীলায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন বন্ধ, তবু সুন্দরবনের স্বাদ মিলছে আকাশনীলায়

ইব্রাহিম খলিল : বন্যপ্রাণীর নিরাপদ প্রজনন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বনজ সম্পদ রক্ষায় প্রতিবছরের মতো এবারও তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ। ফলে বনভ্রমণের সুযোগ না থাকলেও সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন আকাশনীলা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। তাদের দাবি, সুন্দরবনে প্রবেশ না করেও এখানে অনেকটাই সুন্দরবনের অনুভূতি পাওয়া যায়।

শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কলবাড়ি এলাকায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠেছে আকাশনীলা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার। চুনা ও মালঞ্চ নদীর কোলঘেঁষা এই পর্যটনকেন্দ্রের ওপারেই বিস্তৃত সুন্দরবন। চারপাশে কেওড়া, গেওয়াসহ ম্যানগ্রোভের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, পাখির কলকাকলি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে।

পর্যটনকেন্দ্রে রয়েছে হাঁটার ট্রেইল, ওয়াচ টাওয়ার, আবদুস সামাদ ফিস মিউজিয়াম, আবাসিক ইকো কটেজ ‘বনবিলাস’, বিশ্রামাগার, ‘বাদাবনের হেঁসেল’ নামে রেস্টুরেন্ট এবং নৌভ্রমণের ব্যবস্থা। এখান থেকে সুন্দরবনের খুব কাছাকাছি গিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন বলেন, সুন্দরবন বন্ধ থাকায় পর্যটকদের মধ্যে বনভ্রমণ করতে না পারার আক্ষেপ থাকে। সেই শূন্যতা অনেকটাই পূরণ করছে আকাশনীলা। এখানে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে, জোয়ারের পানি ওঠানামা করে, মাঝেমধ্যে হরিণ চলে আসে, কুমিরেরও দেখা মেলে। সুন্দরবন খোলা থাকুক বা বন্ধ এখানে এলে সেই অনুভূতি পাওয়া যায়।

সাংবাদিক আমেনা বিলকিস ময়না বলেন, আকাশনীলায় এসে মনে হয়েছে যেন সুন্দরবনেরই একটি অংশে এসেছি। সুন্দরবনের মতো পরিবেশ, বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, গেস্ট হাউস ও নৌভ্রমণের সুবিধা সব মিলিয়ে জায়গাটি অসাধারণ। পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসার জন্য এটি দারুণ একটি স্থান।

বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা শিক্ষার্থী নুরজাহান বলেন, আগে শুধু আকাশনীলার কথা শুনেছিলাম। এবার এসে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। পার্কে দাঁড়িয়েই সুন্দরবন দেখা যায়। সুন্দরবন বন্ধ থাকলেও এখানে এসে তার সৌন্দর্য ও পরিবেশ উপভোগ করা যায়।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা রেহানা খাতুন বলেন, সুন্দরবনে প্রবেশ করা না গেলেও এখান থেকে তার সৌন্দর্য কাছ থেকে উপভোগ করা যায়। ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে এসে খুব ভালো সময় কাটিয়েছি। সুযোগ পেলে সবাইকে এখানে আসার আহ্বান জানাব।

আকাশনীলা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারের সুপারভাইজার রবীন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, এখানে প্রবেশমূল্য মাত্র ২০ টাকা। প্রতিবছর জুন, জুলাই ও আগস্ট এই তিন মাস সুন্দরবন বন্ধ থাকায় অনেক পর্যটক বনের ভেতরে যেতে পারেন না। তখন আকাশনীলাই তাদের অন্যতম গন্তব্য হয়ে ওঠে। বর্তমানে পর্যটক কিছুটা কম থাকলেও ছুটির দিনগুলোতে ভালো ভিড় হয়। পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।”

শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আকাশনীলাকে আরও আকর্ষণীয় করতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সুন্দরবনের কোলঘেঁষা এই পর্যটনকেন্দ্র ইতোমধ্যে সাতক্ষীরায় ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সুন্দরবন বন্ধের তিন মাসে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন আকাশনীলাকে।

Ads small one

এসএসসির চেয়ে দাখিলে পাসের হার কম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
এসএসসির চেয়ে দাখিলে পাসের হার কম

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসির তুলনায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার কম। এবছর সাধারণ শিক্ষাবোর্ডগুলোর গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, আর দাখিলে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এসএসসির তুলনায় দাখিলে পাসের হার কম ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এদিন সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন।

ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এবার সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় পাস করেছে ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৫৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। বিপরীতে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসিতে প্রতি ১০০ জনে প্রায় ৬৪ জন পাস করেছে।

দাখিল পরীক্ষাতেও ছাত্রীদের ফল ছাত্রদের তুলনায় ভালো। দাখিলে ছাত্রদের পাসের হার ৫১ দশমিক ৬৪ শতাংশ, আর ছাত্রীদের ৫৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। অর্থাৎ দাখিলে পাসের হারেও মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট এগিয়ে।

সামগ্রিকভাবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে সামগ্রিক পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

গত বছর পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। ফলে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।

এবার এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ, যা সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসির চেয়েও কম। ফলে তিন ধারার ফলাফলে সাধারণ এসএসসি এগিয়ে, এরপর ভোকেশনাল এবং সর্বশেষ দাখিল।

মানবিক বিভাগে প্রতি ১০০ ছাত্রে ফেল ৫৯ জন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ণ
মানবিক বিভাগে প্রতি ১০০ ছাত্রে ফেল ৫৯ জন

চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে ছেলেদের ফলাফলে বড় ধরনের অবনমন দেখা গেছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মানবিক বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৪১ দশমিক ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ এই বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি ১০০ জন ছাত্রের মধ্যে প্রায় ৫৯ জনই পাস করতে পারেনি।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এদিন সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন।

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের তিনটি বিভাগের মধ্যে মানবিকেই ছাত্রদের পাসের হার সবচেয়ে কম। এ বিভাগে ছাত্রীদের পাসের হার অবশ্য তুলনামূলকভাবে বেশি—৫৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ মানবিক বিভাগে ছাত্রীদেরও প্রতি ১০০ জনে প্রায় ৪৬ জন পাস করতে পারেনি।

মানবিক বিভাগের ছাত্র ও ছাত্রীদের পাসের হারের ব্যবধান ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। অর্থাৎ একই বিভাগে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো ফল করেছে।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, মানবিকের তুলনায় বিজ্ঞান বিভাগে ফলাফল অনেক ভালো। বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৭৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৮৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, আর ছাত্রীদের ৬৯ দশমিক ৯২ শতাংশ।

অর্থাৎ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর তিন বিভাগেই ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে থাকলেও মানবিক বিভাগে ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। একই সঙ্গে ছাত্রদের পাসের হারও এই বিভাগে সবচেয়ে কম।

সামগ্রিক ফলাফলেও এবার পাসের হার কমেছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি পাসের হার ঢাকা বোর্ডে—৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এরপর যশোরে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, কুমিল্লায় ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, রাজশাহীতে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, বরিশালে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, সিলেটে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, দিনাজপুরে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

সার্বিকভাবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে সার্বিক পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট।

এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। ফলে এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।

ফলাফলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, পাসের হারে মানবিক বিভাগের ছাত্রদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও তিন বিভাগেই মেয়েদের পাসের হার বেশি। ফলে এবারের ফলাফলে মানবিক বিভাগে ছাত্রদের কম পাসের হার এবং ছেলে-মেয়েদের ফলাফলের বড় ব্যবধান বিশেষভাবে নজরে এসেছে।

ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ ৩৭.৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করেছে।

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ১৭ হাজার ৬৯৪ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ১১ হাজার ৭৯১ জন। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছাত্রের সংখ্যা ছাত্রীদের চেয়ে ৫ হাজার ৯০৩ জন বেশি।

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় এবার পাসের হারে ছেলেদের চেয়ে বেশ এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। ছেলেদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ, বিপরীতে মেয়েদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ৮ দশমিক ৮২ শতাংশীয় পয়েন্ট এগিয়ে।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এদিন সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন।

এবার পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ১৭ হাজার ৬৯৪ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ১১ হাজার ৭৯১ জন। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছাত্রের সংখ্যা ছাত্রীদের চেয়ে ৫ হাজার ৯০৩ জন বেশি।

তবে উত্তীর্ণের সংখ্যায় মেয়েরা অনেক এগিয়ে। এবার ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৮ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৩৯ জন ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ ছেলেদের চেয়ে ৭৭ হাজার ১ জন বেশি মেয়ে পাস করেছে।

জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। এবার ৫২ হাজার ৭৮০ জন ছাত্র এবং ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। অর্থাৎ জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্রীর সংখ্যা ছাত্রদের চেয়ে ১১ হাজার ১১৬ জন বেশি।

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও মেয়েদের এগিয়ে থাকার চিত্র দেখা গেছে। বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৭৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, আর ছাত্রীদের ৮৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। মানবিক বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৪১ দশমিক ১৪ শতাংশ, ছাত্রীদের ৫৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, আর ছাত্রীদের ৬৯ দশমিক ৯২ শতাংশ।

অর্থাৎ তিনটি বিভাগেই মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে বেশি হারে উত্তীর্ণ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ব্যবধান মানবিক বিভাগে—এখানে ছাত্রীদের পাসের হার ছাত্রদের চেয়ে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।

সামগ্রিকভাবে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে সামগ্রিক পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট।

এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। অর্থাৎ এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।