কেউ পাস করেনি- এমন প্রতিষ্ঠান বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি—এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৫ সালে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি। এবার তা বেড়ে হয়েছে ৩১২টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ১৭৮টি। শতকরা হিসাবে এ বৃদ্ধি প্রায় ১৩৩ শতাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এদিন সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১৩৪টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে ৩১২টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
একই সময়ে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কমেছে। ২০২৫ সালে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ৯৮৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। এবার এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে হয়েছে ৬৬৯টি। অর্থাৎ শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান কমেছে ৩১৫টি।
ফলে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে এবার দুই ধরনের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে—শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে, আর শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে।
অন্যদিকে সামগ্রিক ফলাফলেও অবনমন হয়েছে। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট।
এবার মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৭ জন। গত বছর পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ জন এবং উত্তীর্ণ হয়েছিল ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন।
এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।


