সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

হেলালী বেগমকে বিদায় সংবর্ধনা দিল দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
হেলালী বেগমকে বিদায় সংবর্ধনা দিল দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক হেলালী বেগমের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা দীর্ঘ কর্মজীবনে হেলালী বেগমের দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার কথা স্মরণ করেন এবং তাঁর অবসরোত্তর জীবনের সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। পরে বিদায়ী অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে ডা. মো. সাইফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে হেলালী বেগম যে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, তা সহকর্মীদের জন্য অনুকরণীয়। সহকর্মীরা তাঁর কর্মজীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন।

Ads small one

পাটকেলঘাটায় এনজিও ঋণের কিস্তি দিতে না পারায় মমতাজ বেগম গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় এনজিও ঋণের কিস্তি দিতে না পারায় মমতাজ বেগম গ্রেপ্তার

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় এনজিও ঋণের কিস্তির টাকা দিকে না পারায় গ্রেপ্তার হয়েছে এক নারী। রবিবার দিবাগত রাতে পাটকেলঘাটা থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার নারীর নাম মমতাজ বেগম। তিনি পাটকেলঘাটার তৈলকুপি গ্রামের শাহাজাহান সরদারের স্ত্রী।

 

জানা গেছে, নিয়মিত কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় মমতাজ বেগম এর বিরুদ্ধে এনজিও উন্নয়ন প্রচেষ্টা আদালতে মামলা দায়ের করে। এ মামলায় থানা পুলিশ গতকাল রাতে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে।

সাতক্ষীরা শুধু সীমান্ত নয়, সম্ভাবনারও শেষ সীমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা শুধু সীমান্ত নয়, সম্ভাবনারও শেষ সীমানা

মো. মামুন হাসান

মানচিত্রে সাতক্ষীরাকে খুঁজলে চোখ থমকে যায় দেশের একেবারে দক্ষিণ পশ্চিম কোণে, যেখানে বাংলাদেশের ভূখণ্ড শেষ হয়ে মিশে গেছে ভারতের সীমান্তে আর সুন্দরবনের অসীম সবুজে। ভৌগোলিক অবস্থানের এই প্রান্তিকতাই দীর্ঘদিন সাতক্ষীরাকে চিনিয়েছে কেবল একটি সীমান্ত জেলা হিসেবে, উন্নয়নের মানচিত্রে যার অবস্থান প্রায়ই থেকে গেছে প্রান্তিক। কিন্তু পরিসংখ্যান আর সাম্প্রতিক নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো ভিন্ন এক গল্প বলছে, এই জেলা সীমান্ত নয়, বরং সম্ভাবনার এক অব্যবহৃত ভাণ্ডার।

 

সাদা সোনার অর্থনীতি দিয়েই শুরু করা যাক। সাতক্ষীরা প্রাকৃতিক সম্পদ, কৃষি, মৎস্য ও মানবসম্পদের কারণে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে, যেখানে চিংড়ি রপ্তানি থেকে শুরু করে কৃষিক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগ, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প ও প্রবাসী আয় মিলিয়ে এই অঞ্চল দেশের অর্থনৈতিক ভান্ডার হিসেবে বিবেচিত। সংখ্যার ভাষায় এই সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট, সাতক্ষীরায় প্রতিবছর হাজার কোটি টাকার মাছ ও চিংড়ি রপ্তানি হয়, যা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি বড় উৎস, এবং জেলার লবণাক্ততা সহিষ্ণু কৃষি প্রযুক্তি ইতিমধ্যে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যে লবণাক্ততাকে আমরা এতদিন কেবল সংকট হিসেবে দেখেছি, সেই একই লবণাক্ততার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া বাগদা চিংড়ি চাষ আজ জেলার অর্থনীতির মেরুদণ্ড।

 

নীতিগত স্বীকৃতির দিক থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরে গেছে সাতক্ষীরার ভাগ্যে। সরকারি সিদ্ধান্তে জেলাটিকে ঘোষণা করা হয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে, অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণার ফলে উৎপাদিত পণ্যের অভ্যন্তরীণ বাজার যেমন বিস্তৃত হবে, তেমনি বৈদেশিক বাণিজ্যও বাড়বে, পরিকল্পিত উপায়ে শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে এবং কাঁচামাল আমদানিতে বন্দরের গুরুত্বও বাড়বে, যার ফলে এ জেলার মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়বে এবং বেকারত্ব কমবে। এই একটি প্রশাসনিক স্বীকৃতি আসলে একটি ঘোষণাপত্র, যা বলছে, সাতক্ষীরা আর কেবল কৃষি বা মৎস্যনির্ভর প্রান্তিক জেলা থাকবে না, বরং হয়ে উঠতে পারে একটি পরিকল্পিত শিল্প ও বাণিজ্যকেন্দ্র।

 

তবে এই সম্ভাবনার পথে বাধাও কম নয়, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও সাতক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরে থেকে গেছে অবহেলিত।অবকাঠামোগত ঘাটতি, যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের অবহেলার শিকার সাতক্ষীরা শ্যামনগর মহাসড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা, বাগদা চিংড়িসহ রুই কাতলা ভেটকি ও পারশে মাছ সংরক্ষণ ও রপ্তানির জন্য একটি আধুনিক মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ জোন প্রতিষ্ঠা করা, এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ ও চোরাচালান রোধে সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী সড়ক নির্মাণ করা। এই তিনটি দাবিই আসলে একটি অভিন্ন বার্তা দেয়, সাতক্ষীরার সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে পারছে না অবকাঠামোর অভাবে, সম্পদের অভাবে নয়।

 

এই আলোচনায় সুন্দরবনের ভূমিকাকেও পুনর্মূল্যায়ন করা দরকার। সাতক্ষীরা কেবল একটি কৃষি বা মৎস্য জেলা নয়, এটি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনের প্রবেশদ্বারও বটে। সুন্দরবনের ভৌগোলিক অবস্থান পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার একটি বড় হাতিয়ার হতে পারে। যদি মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিকল্পিত শিল্পায়ন আর সুন্দরবনকেন্দ্রিক ইকো ট্যুরিজম একসঙ্গে একটি সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামোয় গাঁথা যায়, তবে সাতক্ষীরা হয়ে উঠতে পারে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার, যেখানে রপ্তানি বাণিজ্য, কৃষি উদ্ভাবন আর পর্যটন একসঙ্গে একটি নতুন অর্থনৈতিক বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলবে।

 

শেষ পর্যন্ত সাতক্ষীরার গল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় শিক্ষা দেয়। সীমান্তবর্তী অবস্থান কোনো জেলাকে প্রান্তিক করে রাখার কারণ হতে পারে না, বরং সঠিক পরিকল্পনায় সেই একই অবস্থান হয়ে উঠতে পারে কৌশলগত সুবিধা। অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্বীকৃতি ইতিমধ্যে দরজা খুলে দিয়েছে, এখন প্রয়োজন সড়ক, বন্দর সুবিধা আর প্রক্রিয়াজাতকরণ অবকাঠামোর মাধ্যমে সেই দরজা দিয়ে প্রকৃত বিনিয়োগ আর কর্মসংস্থান প্রবেশ করানো। সাতক্ষীরা তাই আক্ষরিক অর্থে দেশের সীমান্ত হলেও, তার সম্ভাবনার কোনো সীমানা নেই, প্রয়োজন কেবল সেই সম্ভাবনাকে চেনার আর লালন করার সাহস।

 

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান,ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

সম্পাদকীয়/ নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীসহ স্থানীয় সুশীল সমাজ। রবিবার ‘পত্রদূত’-এ প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, মে থেকে জুলাই পর্যন্ত মাত্র তিন মাসে জেলায় ৬৮৪টি অপরাধের ঘটনা এবং ১৩৬ জনের অপমৃত্যুর তথ্য আমাদের চিন্তিত করে। ২৫১টি মাদক মামলা, ৫০টি নারী নির্যাতন, ২১টি ধর্ষণ এবং ৯টি হত্যাকা-ের মতো ঘটনা প্রমাণ করে যে, অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ কতটা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সর্বাধিক চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক অস্থিরতার প্রকাশ। তিন মাসে ৬৫টি আত্মহত্যার ঘটনা কোনো সাধারণ পরিসংখ্যান নয়; এটি তীব্র মানসিক সংকট, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও সামাজিক সহমর্মিতার অভাব নির্দেশ করে। এর পাশাপাশি সুন্দরবনে ডাকাতদের হাতে ৩২ জন জেলের অপহরণ এবং সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা উপকূলীয় ও সীমান্তঘেঁষা মানুষের জীবিকা ও জীবনকে প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।
আইনশৃঙ্খলার এই ধসের পাশাপাশি বিচারপ্রার্থী মানুষের আইনি সুরক্ষার পথও আজ অবরুদ্ধ। সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘদিন বিচারক না থাকায় শত শত ভুক্তভোগী নারী ও শিশু বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেনÑযা মানবাধিকারের আরেকটি বড় লঙ্ঘন। বিচারিক প্রক্রিয়ার এই স্থবিরতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। মানবাধিকার রক্ষা কেবল কোনো নির্দিষ্ট সংস্থার একক দায়িত্ব হতে পারে না; এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি। সাতক্ষীরার এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অবিলম্বে কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তা হলোÑ মাদক ট্রাফিকিং, চুরি-ডাকাতি ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পুলিশের দৃশ্যমান ও কঠোর টহল নিশ্চিত করা। জজ কোর্টের শূন্য পদে দ্রুত বিচারক নিয়োগ দিয়ে স্থবির হয়ে থাকা মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করা। সীমান্তে কঠোর কূটনৈতিক তদারকি এবং সুন্দরবনে জেলেদের নিরাপত্তায় কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের যৌথ অভিযান জোরদার করা। আত্মহত্যা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগে কাউন্সেলিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করা।
একটি সভ্য সমাজে সংখ্যা দিয়ে মানুষের জীবনের মূল্য বিচার করা যায় না। প্রতিটি অপমৃত্যু ও অপরাধের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি। জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সুশীল সমাজকে অবিলম্বে একসঙ্গে বসে এই নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে।