রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক অদ্ভুত সঙ্গীত দিবস: পরিচিত সুরের সীমানা পেরিয়ে নতুন ভাবনার জগতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক অদ্ভুত সঙ্গীত দিবস: পরিচিত সুরের সীমানা পেরিয়ে নতুন ভাবনার জগতে
সাকিবুর রহমান বাবলা
মানুষের জীবনে সঙ্গীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি অনুভূতি, চিন্তা ও সৃজনশীলতার এক অনন্য ভাষা। তবে আমরা অধিকাংশ সময় এমন সঙ্গীতই শুনি, যা আমাদের পরিচিত, স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং অভ্যাসের অংশ। সেই সীমাবদ্ধতার গণ্ডি ভেঙে নতুন সুর ও নতুন অভিজ্ঞতার দিকে মানুষকে আহ্বান জানায় ২৪ আগস্ট পালিত আন্তর্জাতিক অদ্ভুত সঙ্গীত দিবস।
১৯৯৭ সালে নিউইয়র্কের সংগীতশিল্পী ও সুরকার প্যাট্রিক গ্রান্ট এই দিবসের সূচনা করেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, মানুষের সংগীতজগত যত বিস্তৃত হবে, জীবনের অন্যান্য বিষয় সম্পর্কেও তাদের দৃষ্টিভঙ্গি তত বেশি উন্মুক্ত ও ইতিবাচক হবে। তাই তিনি ‘পূর্বধারণা ছাড়া শুনুন’—এই দর্শনকে সামনে রেখে মানুষকে এমন সঙ্গীতের সঙ্গে পরিচিত হতে উৎসাহিত করেন, যা তাদের কাছে নতুন, অপরিচিত কিংবা কিছুটা অস্বাভাবিক।
এখানে ‘স্ট্রেঞ্জ’ বা ‘অদ্ভুত’ বলতে কেবল বিচিত্র শব্দের সমাহারকে বোঝায় না; বরং এমন যেকোনো সঙ্গীতকে বোঝায়, যা শ্রোতার পরিচিত অভিজ্ঞতার বাইরে। এটি হতে পারে পরীক্ষামূলক, অ্যাভান্ট-গার্ড, ইলেকট্রনিক, নয়েজ মিউজিক কিংবা এমন কোনো ঘরানা, যা আগে কখনও শোনা হয়নি। দিবসটি উদযাপনের জন্য খুব অদ্ভুত সঙ্গীত শোনা বাধ্যতামূলক নয়; বরং নতুন কোনো ঘরানার সঙ্গীতের সঙ্গে পরিচিত হওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।
প্যাট্রিক গ্রান্ট ২৪ আগস্ট তারিখটি বেছে নিয়েছিলেন তাঁর প্রেমিকার বাবার জন্মদিনকে স্মরণ করে, যিনি তাঁর শিল্পচর্চার একজন গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা ছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দিবসটি জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং ২০০২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়ে। পরে এর নামের সঙ্গে ‘আন্তর্জাতিক’ শব্দটি যুক্ত করা হয়। বর্তমানে বিভিন্ন কনসার্ট, সাংস্কৃতিক আয়োজন, শিক্ষামূলক কর্মসূচি এবং সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে দিবসটি বিশ্বের নানা স্থানে পালিত হয়।
বিজ্ঞানও বলছে, অপরিচিত ও ব্যতিক্রমধর্মী সঙ্গীত মানুষের মস্তিষ্কে বিশেষ প্রভাব ফেলে। পরিচিত ছন্দের বাইরে থাকা সুর মস্তিষ্ককে নতুনভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করে এবং নিউরোপ্লাস্টিসিটির মাধ্যমে নতুন স্নায়বিক সংযোগ গঠনে সহায়তা করতে পারে। আবার অপ্রত্যাশিত সুর বা শব্দ মস্তিষ্কে উত্তেজনা ও আবেগীয় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যা অনেক সময় শ্রোতাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক সবসময় পরবর্তী সুর অনুমান করার চেষ্টা করে; কিন্তু স্ট্রেঞ্জ মিউজিক সেই অনুমানের ধারা ভেঙে দিয়ে মনোযোগ, কৌতূহল ও কল্পনাশক্তিকে আরও সক্রিয় করে তোলে।
দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই সঙ্গীতের তাৎপর্য গভীর। রুশ সাহিত্যতত্ত্ববিদ ভিক্টর শক্লোভস্কির তত্ত্ব অনুযায়ী, শিল্পের কাজ হলো পরিচিত বিষয়কে নতুনভাবে দেখার সুযোগ তৈরি করা। স্ট্রেঞ্জ মিউজিক ঠিক সেই কাজটিই করে—এটি আমাদের অভ্যস্ত শ্রবণজগতের বাইরে নিয়ে গিয়ে নতুন অনুভূতি ও নতুন উপলব্ধির তরঙ্গের দুয়ার খুলে দেয়।
আন্তর্জাতিক অদ্ভুত সঙ্গীত দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে পরিচিত সীমানার বাইরে। তাই ২৪ আগস্ট হতে পারে নিজের পছন্দের তালিকার একটু বাইরে গিয়ে নতুন কোনো সুর, নতুন কোনো ধারা কিংবা নতুন কোনো সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাকে গ্রহণ করার একটি অনন্য সুযোগ। কে জানে, আজকের এই অপরিচিত সুরই হয়তো আগামী দিনের প্রিয় সংগীতে পরিণত হবে।

Ads small one

খুলনায় সমন্বিত ইপিআই, এইচপিভি, ওপেন এসআরপি এবং স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
খুলনায় সমন্বিত ইপিআই, এইচপিভি, ওপেন এসআরপি এবং স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা কর্মশালা

খুলনা বিভাগের সমন্বিত ইপিআই, এইচপিভি, ওপেন এসআরপি এবং স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা  (Workshop on Integrated EPI, HPV, Open SRP and Health Program Review in Khulna Division)  শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা আজ (রবিবার) খুলনা হোটেল সিটি ইনে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

প্রধান অতিথি বলেন, জরায়ুমুখ ক্যান্সার রোধে কিশোরীদের এইচপিভি টিকা দেওয়া হচ্ছে। জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমের আওতায় এইচপিভি টিকার শতভাগ কাভারেজ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশে ১০ বছর বয়সী সকল কিশোরীকে এইচপিভি টিকার আওতায় আনতে হবে।

 

দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় মাইলফলক এইচপিভি টিকা। এই টিকা দিলে কিশোরীরা জরায়ুমুখ ক্যান্সার থেকে মুক্ত থাকবে। তিনি আরও বলেন, এইচপিভি টিকার বিষয়ে মিডিয়ায় প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে হবে। এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সকল মসজিদের ইমামরা এবিষয়ে মুসল্লিদের অবগত করতে পারেন। স্বাস্থ্যসেবার সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে তাহলে একটি সুস্থ জাতি উপহার দেওয়া সম্ভব।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. শেখ মো: মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ ও ইউনিসেফের হেলথ ম্যানেজার ডা. রিয়াদ মাহমুদ। কর্মশালায় অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন খুলনা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের পরিচালক মো: মোজাম্মেল হক, এমআইএস’র পরিচালক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইউনিসেফ খুলনা চিফ মো: কাওসার হোসেন, ইপিআই’র সহকারী পরিচালক ডা. সাব্বির হায়দার ও খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. অপর্ণা বিশ্বাস। কর্মশালায় বিভাগ, জেলা ও উপজেলার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ১০ জেলার সিভিল সার্জন, চিকিৎসক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা,  ইপিআই সুপার, ১০ জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, ইউনিসেফ, বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তথ্যবিবরণী

কলারোয়া থানার নবাগত ওসির সাথে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
কলারোয়া থানার নবাগত ওসির সাথে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান রিমু প্রেসক্লাবের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সাথে এক সৌজন্য মতবিনিময় করেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় ওসির আহবানে কলারোয়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিকগণ ওসির কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

 

সৌজন্য মতবিনিময়কালে থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান রিমু কলারোয়ার সকল ভালো কাজে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। সেই সাথে কলারোয়ার মাদক, ইভটিজিংসহ সন্ত্রাসী কর্মকা- ও বিশৃঙ্খলা রোধে থানা পুলিশের কঠোর অবস্থান থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

তিনি শহরের যানজট নিরসনে ভূমিকা নেওয়ার কথাও বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া প্রেসক্লাবের আহবায়ক তাওফিকুর রহমান সঞ্জু, যুগ্ম আহবায়ক এম এ সাজেদ, সাংবাদিক শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, আব্দুর রহমান, প্রধান শিক্ষক রাশেদুল হাসান কামরুল, সহকারী অধ্যাপক কে এম আনিছুর রহমান, প্রভাষক আরিফ মাহমুদ, সাইফুল্লাহ আজাদ, আতাউর রহমান, কাজী সিরাজুর রহমান, প্রভাষক সাইফুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম মনি, সুজাউল হক, ওহিদুজ্জামান খোকা, দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

শ্যামনগরে কীটনাশক পানে গৃহবধুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে কীটনাশক পানে গৃহবধুর মৃত্যু

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কীটনাশক পানে মিনারা বেগম(২৭) নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল ৯টার দিকে পিতার বাড়িতে বসে কীটনাশক পানের পর দুপুরের দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু হয়। তিনি ছিলেন উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নের মুন্দিরআটি গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী। এক কন্যা সন্তানের জননী মিনারা প্রায় দু’বছর ধরে পিতা মুনসুর রহমান মোল্যার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

নিহত মিনারার স্বজনদের দাবি পারিবারিক কলহের জেরে দু’বছর ধরে মিনারা তার পিতার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ার কারনে ইতিপুর্বে একাধিকবার তাকে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নেয়া হয়েছিল।

এসব নিকটাত্বীয়ের দাবি রোববার সকালে নিজের শোবার ঘরে ঢুকে কীটনাশক পান করে মিনারা। একপর্যায়ে তার কাশির শব্দে পরিবারের সদস্যরা সেখানে পৌছে কিটনাশকের ঘ্রাণ পেয়ে দ্রুত শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান অনেক বেশী কীটনাশক পান করেছিলেন তিনি। পাকস্থলী ওয়াশের পরও অল্প সময়ের মধ্যে তিনি শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম জানান মিনারা মানসিক রোগে আক্রান্ত থাকার প্রমান দিয়ে পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মৃতদেহ দাফনের অনুমতি চায়। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় মৃতদেহ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।