হামের উচ্চঝুঁকি : প্রতিরোধ ও প্রতিকার জরুরি
এম শফিকুল ইসলাম
২০২৬ সালের মার্চ থেকে দেশে হামের প্রার্দুভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক প্রতিবেদনে এবং গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর মধ্য মার্চ থেকে শুরু করে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হাম ও সন্দেহজনক উপসর্গে ৯০৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৯ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৮০৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা বিভাগের সংক্রমণ ও মৃত্যু বেশি হলেও রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগেও এর প্রভাব রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময় মত টিকা না দেওয়া এবং শিশুদের পুষ্টিহীনতা এ মৃত্যুর প্রধান কারণ। বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। জাতীয়ভাবে অবস্থা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বলে মূল্যায়ন করছে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ সংক্রমণ ছড়ানো, বিপুল সংখ্যক শিশুর আক্রান্ত হওয়া, সময় মত টিকাদানের অভাবে রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতায় ঘাটতি এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাবলির আলোকে সংস্থাটি এ মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তারা বলছে, এ প্রার্দুভাবের আগে বাংলাদেশ হাম নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছিল।
হাম প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজের কভারেজ ২০০০ সালে ছিল ৮৯ শতাংশ। ২০১৬- তে বেড়ে দাঁড়ায় ১১৮। ২০২৪ সালে তা আরো বেড়ে হয় ১২১ শতাংশ। এ সময় পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম রোগীর হার কমে এসেছিল। তবে ২০২৪-২৫ সালে জাতীয় পর্যায়ে এমআর টিকা ঘাটতির কারণে প্রথম ও দ্বিতীয় ডজের কভারেজ কমে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিয়মিত টিকা দানের ফাঁক এবং ২০২০ সালের পর দেশব্যাপী নিয়মিত সম্পূরক হাম রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি না থাকা। এসব কারণে সংক্রমনের ঝুঁকিতে থাকা শিশু সংখ্যা বেড়েছে এবং বর্তমান প্রাদুর্ভাব সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে এই ঝুঁকি ‘উচ্চ’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
এ সময় দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা না নিলে সংক্রমণ আরো ছড়াতে পারে। সেজন্য নজরদারি শক্তিশালী করা দূরত্ব রোগ শনাক্ত ও আরোগ্যের পদক্ষেপ নেওয়া কর্তব্য। পাশাপাশি উন্নত মানের টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধের ঘাটতি পূরণ করণীয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ বিষয়ে আরো যেসব পরামর্শ দিয়েছে, সেগুলোর প্রতিপালন শিশুদের সুরক্ষায় সহায়ক হবে। ৮ শতাধিক শিশু মৃত্যুর মর্মান্তিক বেদনার বেদীতে দাঁড়িয়ে দেশবাসী প্রত্যাশা করে, কর্তৃপক্ষের টনক নড়ক। সময় মতো প্রতিরোধ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার জন্য তাদের মধ্যে অপরাধবোধ জাগুক। ভবিষ্যতের জন্য তারা সচেতন হোক।
সব ব্যর্থতার জন্য সরকার বা সরকার প্রধানের দিকে আঙ্গুল তুলেও পার পাওয়া যাবে না। রাষ্ট্রয়ন্ত্রের কোথায় কার কি দায়িত্ব ছিল, কার ব্যর্থতায় এ বির্পযয় ঘটল-তা খোঁজা হবে। কৃতকর্মের দায়ভোগও করতে হবে তাদের। সুতরাং সাধু সাবধান। লেখক: সাংবাদিক ও নাট্যকার












