বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

১০ মহরম ত্যাগ, ন্যায় ও মানবতার এক অবিনশ্বর ইতিহাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ২:৪৯ অপরাহ্ণ
১০ মহরম ত্যাগ, ন্যায় ও মানবতার এক অবিনশ্বর ইতিহাস

এম.এম হায়দার আলী

ইসলামের ইতিহাসে ১০ মহরম বা আশুরা এমন একটি দিন, যা মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে গভীর শোক, আত্মত্যাগ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে চিরস্মরণীয়। ৬১ হিজরির ১০ মহরম (১০ অক্টোবর ৬৮০ খ্রিস্টাব্দ) ইরাকের কারবালার প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবার ও অল্পসংখ্যক সঙ্গীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে শাহাদাত বরণ করেন। ইতিহাসে এই ঘটনাই “কারবালার ট্র্যাজেডি” নামে পরিচিত।

কারবালার ঘটনা কেবল একটি যুদ্ধের ইতিহাস নয়; এটি অন্যায়, জুলুম ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সত্যের বিজয়ের প্রতীক। সংখ্যায় অল্প হলেও ইমাম হুসাইন (রা.) আপোষ করেননি। তিনি বিশ্বাস করতেন, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করার চেয়ে সত্যের পথে জীবন উৎসর্গ করা অধিক মর্যাদার। সে সময় মুসলিম বিশ্বের শাসক ইয়াজিদের প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণের জন্য ইমাম হুসাইন (রা.)-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু তিনি মনে করতেন, অন্যায় ও অবিচারের সঙ্গে আপস করা ইসলামের মৌলিক আদর্শের পরিপন্থী। তাই তিনি মদিনা থেকে মক্কা এবং পরে কুফার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

 

পথে কারবালায় তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে অবরুদ্ধ করা হয়। ইতিহাস বর্ণনা করে, টানা কয়েক দিন ফোরাত নদীর পানি থেকেও তাঁদের বঞ্চিত রাখা হয়। তীব্র তৃষ্ণা, অনাহার ও প্রতিকূলতার মধ্যেও ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তাঁর সঙ্গীরা সত্যের পথ থেকে সরে আসেননি। অবশেষে ১০ মহরম তিনি, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং বিশ্বস্ত সঙ্গীরা একে একে শাহাদাত বরণ করেন। এই নির্মম ঘটনার স্মৃতি আজও বিশ্ব মুসলিমকে শোকাহত করে। বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা আশুরার দিনকে বিভিন্নভাবে স্মরণ করেন। অনেকে রোজা রাখেন, দোয়া ও ইবাদতে সময় অতিবাহিত করেন এবং কারবালার শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করেন।

 

ইসলামি ঐতিহ্যে সহিহ হাদিসে বর্ণিত রয়েছে যে, আশুরার রোজা রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজা রাখতেন এবং পরবর্তীতে ৯ ও ১০ মহরম অথবা ১০ ও ১১ মহরম রোজা রাখার উৎসাহ দিয়েছেন, যাতে অন্য ধর্মাবলম্বীদের রীতি থেকে ভিন্নতা বজায় থাকে।

কারবালার শিক্ষা আজও সমান ভাবে প্রাসঙ্গিক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে দাঁড়ানো, সত্যকে আঁকড়ে ধরা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার যে আদর্শ ইমাম হুসাইন (রা.) রেখে গেছেন, তা যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে আসছে। ক্ষমতা বা ব্যক্তিগত স্বার্থের কাছে নীতিকে বিসর্জন না দেওয়ার এক অনন্য উদাহরণ কারবালার ঘটনা। বর্তমান বিশ্বে যখন যুদ্ধ, সংঘাত, বৈষম্য, দুর্নীতি ও অবিচার নানা রূপে মানব সমাজকে বিপর্যস্ত করছে, তখন কারবালার বার্তা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকাই একজন মানুষের সর্বোচ্চ মর্যাদা।

 

১০ মহরম তাই শুধু শোকের দিন নয়; এটি আত্মত্যাগ, নৈতিকতা, ধৈর্য, সাহস ও মানবতার এক চিরন্তন প্রেরণার দিন। কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগ মানব সভ্যতার ইতিহাসে এমন এক আলোকবর্তিকা, যা অন্যায়ের অন্ধকারে ন্যায়ের পথ দেখিয়ে যাবে অনন্তকাল এমনটি আশা আমি অধমের।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট
মোবাইলঃ ০১৯৭৯ ১৩৬০৯৮

 

Ads small one

বাংলাদেশ দল থেকে দুই প্রবাসীসহ ৭ জন বাদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ দল থেকে দুই প্রবাসীসহ ৭ জন বাদ

ফিফা আসিয়ান কাপকে সামনে রেখে জাতীয় দলের অনুশীলন চলছে। এতে স্থানীয় খেলোয়াড় ছাড়াও বংশোদ্ভূতরাও রয়েছেন। কোচ টমাস ডুলি তাদেরকে নানানভাবে পরখ করছেন। আপাতত তার প্রাথমিক দল থেকে ৭ জন খেলোয়াড় বাদ পড়েছেন।

জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন দুই প্রবাসী ইয়াসার ও দেবজিতসহ কাজেম শাহ, ঈসা ফয়সাল, তাজ উদ্দিন, রাহুল ও স্বাধীন।

জাতীয় দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় প্রথম আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের খেলার সূচি প্রকাশ করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও পাকিস্তান।

প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া। ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় ম্যাচটি শুরু হবে। খেলা হবে গেলোরা বান কার্নো স্টেডিয়ামে। দুই দিন পর ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ম্যাচ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। একই মাঠে একই সময়ে ম্যাচটি শুরু হবে।

বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। ১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ম্যাচটি শুরু হবে। খেলা হবে গেলোরা বান কার্নো স্টেডিয়ামে।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা মারা গেছেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ণ
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা মারা গেছেন

কারাগারে আটক বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রাণী ধর (৭১) মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সন্ধ্যা রাণী ধর। তার বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার ক্যানসার শনাক্ত হয়। গত বুধবার রাতে তাকে হাসপাতাল থেকে পুণ্ডরিক ধামে নিয়ে আসা হয়।

তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী সবার ছোট। গুরুতর অসুস্থ মাকে দেখতে কারাগারে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে প্যারোলে মুক্তি দিতে বুধবার কারা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করেছিল পরিবার।

চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধর বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন মায়ের মরদেহ নিয়ে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছি। সেখান থেকে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নিয়ে আমার ভাইয়ের প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করবো। আমাদের মায়ের শেষকৃত্য হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে সম্পন্ন হবে।’

পুণ্ডরিক ধাম সূত্রে জানা গেছে, ধর্মীয় আচারাদি পালন শেষে এখানেই সন্ধ্যা রাণী ধর-কে (শ্রীমতি সখী রসমঞ্জুরী মাতাজি) সমাধি দেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপতির ছেড়ে দেওয়া আসনে উপনির্বাচন ২৯ অক্টোবর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতির ছেড়ে দেওয়া আসনে উপনির্বাচন ২৯ অক্টোবর

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনের আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে ভোটের এ তফসিল ঘোষণা করেন তিনি।

তফসিল অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাইয়ের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর। আপিল নিষ্পত্তি ৬ অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৭ অক্টোবর।