সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

৭৭ হাজার মামলার ভারে ভরাক্রান্ত সাতক্ষীরার বিচার বিভাগ, আশার আলো দেখাচ্ছে লিগ্যাল এইড অফিস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
৭৭ হাজার মামলার ভারে ভরাক্রান্ত সাতক্ষীরার বিচার বিভাগ, আশার আলো দেখাচ্ছে লিগ্যাল এইড অফিস

বদিউজ্জামান: মামলার ভারে ভরাক্রান্ত হয়ে পড়ছে সাতক্ষীরার বিচার বিভাগ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাস শেষে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৭ হাজারে। তবে এই চাপের মধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, যা অসহায় ও দরিদ্র মানুষের দ্রুত ও কার্যকর বিচারপ্রাপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় দেওয়ানি, ফৌজদারি, ম্যাজিস্ট্রেসি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার মোট সংখ্যা ৭৭ হাজার ৪৬ টি। এর মধ্যে জজশীপে দেওয়ানি মোকদ্দমা ২৪ হাজার ৮৯৩টি, ল্যান্ড সার্ভে মামলা ৭ হাজার ২৩৬টি এবং ফৌজদারি মামলা ১৩ হাজার ২৮৭টি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ম্যাজিস্ট্রেসিতে বিচারিক ও আমলী ফাইল মিলিয়ে রয়েছে ১৩ হাজার ৮১০ টি মামলা।

এদিকে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু মামলা ২ হাজার ৫২২টি, শিশু মামলা ৬২৬টি, মানব পাচার সংক্রান্ত ১৫১টি এবং পিটিশন মামলা ১০৪৩ টি বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইবুনালেও রয়েছে ১৫০ টি মামলা।

এত বিপুল মামলার চাপে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ার আশঙ্কা থাকলেও জেলা লিগ্যাল এইড অফিস কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে অনেকটাই স্বস্তি এনে দিচ্ছে। জেলা লিগ্যাল এইড অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ১২০টি আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫২০টি মামলা দায়ের এবং ১৩৩টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

একই সময়ে ১ হাজার ৬০০টি এডিআর (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) আবেদন গৃহীত হয়, যার মধ্যে ১ হাজার ৪৬১টি সফলভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এডিআরের মাধ্যমে প্রায় ৯৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা আদায় করে বাদী পক্ষকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এছাড়া লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ১ হাজার ১০৬ জন নারী ও ৩৭৬ জন পুরুষকে আইনি পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। মোট উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৬৫ জনে।

অন্যদিকে, আদালত, জেলা কারাগার, উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদন লিগ্যাল এইড অফিসে পাঠানো হয়েছে, যা এই সেবার ব্যাপকতা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ বহন করে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মামলার জট কমাতে লিগ্যাল এইড অফিসের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হলে বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত সেবা পাবে এবং বিচার বিভাগের ওপর চাপও কমবে।

জেলা আইনজীবী সমিতির কয়েকজন আইনজীবী ও বিচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, বিগত অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে সাতক্ষীরা জজ আদালতে নতুন করে ১৬ টি আদালত সৃষ্টি করে বেশ কিছু বিচারক নিয়োগ দেওয়া হলেও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে তা পূর্ণতা পায়নি। তারা আরও বলেন, মামলার সংখ্যা বাড়লেও লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি আরও বাড়ানো গেলে বিচারপ্রক্রিয়া অনেকটাই সহজ ও গতিশীল হবে।

সাতক্ষীরার বিচার বিভাগ যখন মামলার ভারে জর্জরিত, তখন লিগ্যাল এইড অফিসই হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচারের একটি কার্যকর ও আশাব্যঞ্জক প্ল্যাটফর্ম।

 

 

 

 

Ads small one

প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

শেখ আব্দুল আলিম: সাতক্ষীরা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজার কমিটির সক্ষমতা বাড়াতে এক পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের ম্যানগ্রোভ সভাকক্ষে উন্নয়ন সংস্থা ‘রূপান্তর’-এর উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় সাতক্ষীরা পৌর এলাকা ও প্রাণসায়ের খাল পাড়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বক্তারা। তাঁরা জানান, প্রাণসায়ের খালের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও যাতায়াতের জন্য যে পথটি তৈরি করা হয়েছে, তা বর্তমানে গরু-ছাগল চলাচল, ময়লা-আবর্জনা এবং মাদকসেবীদের দখলে চলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে পুরো এলাকাটিকে ধূমপান ও মাদকমুক্ত ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ ও নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য ঝুড়ি (বাস্কেট) স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়।
অনুষ্ঠানে রূপান্তরের প্রতিনিধি রতœা খাতুন, অণিক দত্ত এবং কর্মসূচি সঞ্চালক নাসরিন সুলতানা মৌ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন সাতক্ষীরা বড়বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুর রব, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রতিনিধি মো. ইদ্রিস আলি, মো. রাশেদ, আব্দুল আলিম, ফরিদ আহম্মেদ ময়না এবং প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন ব্যবসায়ীরা।
আলোচনা পর্ব শেষে সাতক্ষীরা শহর ও প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও মাদকমুক্ত রাখতে সর্বস্তরের নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান পৌর প্রতিনিধি মোঃ ইদ্রিস আলি ও রূপান্তরের প্রতিনিধি নাসরিন সুলতানা মৌ।

সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি: জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সাতক্ষীরা জেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিভিত্তিক শিল্প। দীর্ঘ লোডশেডিং ও ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে বাসাবাড়ির ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা থাকে প্রায় ১৫৮ মেগাওয়াট। তবে আবহাওয়াভেদে গড় চাহিদা প্রায় ১২০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ, এমনকি ক্ষেত্রভেদে আরও বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে এলাকাভেদে দিনে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। শ্যামনগরের কাশিমাড়ি ও আশাশুনির গদাইপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর মাত্র এক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ফলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ধানের মিল, মুড়ির মিল ও খাবার পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আশাশুনির মৎস্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চালকেরাও জীবিকা সংকটে পড়েছেন।
সাতক্ষীরা সুন্দরবন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ জানান, ভোল্টেজ পরিবর্তনের কারণে ফ্রিজসহ মূল্যবান সরঞ্জাম বিকল হয়ে যাচ্ছে। এতে কোল্ড স্টোরেজ ও ফ্রিজনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সামনে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুতের অভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বিঘিœত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার মুহাঃ আজিজু রহমান সরকার জানান, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। স্বাভাবিক নিয়মে এক ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হওয়ার কথা নয়; তবে কোথাও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে তা কারিগরি ত্রুটি বা স্থানীয় সমস্যার কারণে হতে পারে।

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়ক সংস্কার, ভোগান্তি চরমে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়ক সংস্কার, ভোগান্তি চরমে

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: সাতক্ষীরার তালা থেকে খুলনার কয়রা পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও বাঁক সরলীকরণের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। ৫৩৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই মহাসড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। একই বছরের ডিসেম্বরে ৩৩৯ কোটি টাকা চুক্তিতে মোজাহার এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণ ও আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ বর্তমানে প্রকল্পের মোট বাজেট দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁক সোজা করার কাজ সিংহভাগ শেষ হলেও সড়ক প্রশস্ত করার মূল কাজ অর্ধেকের কম হয়েছে। নির্মাণাধীন সড়কের ধুলোবালি ও খানাখন্দে যানবাহনের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ বেশি লাগছে। বিশেষ করে রোগী, পরীক্ষার্থী ও নিত্যদিনের যাত্রীদের যাতায়াতে চরম বিঘœ ঘটছে।
খুলনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ জানান, জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে কাজে ধীরগতি ছিল। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী আফরোজা স্বর্ণাও নিয়মিত তদারকি করছেন বলে জানান।