অক্সিজেন সংকটে শার্শার সোনামুখি বিলে ভাসছে কোটি কোটি টাকার মাছ
Oplus_131072
এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): যশোরের শার্শা উপজেলার সোনামুখো বিলে অক্সিজেন সংকটে একটি মৎস্যঘেরে বিপুল পরিমাণ পাবদাসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ মারে পানিতে ভেসে উঠেছে। মৎস্য চাষীর দাবি, তাদের খামারে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে। এক রাতের এই বিপর্যয়ে প্রায় নিঃস্ব হযে পড়েছেন দুই উদ্যোক্তা। অনিশ্চয়তায় পড়েছেন খামারের ওপর নির্ভরশীল প্রায় অর্থশত পরিবার।
খামারের উদ্যোক্ততা আলফাজুল হক ও ঘের তত্বাবধানকারী সাকের আহম্মেদ জানান. দিনভর ছিল প্রচন্ডর তাপদ্হ রাতে বাতাস ও ছিল কম। অন্যদিকে ছিল বিদ্যুৎ বিভ্রাট। শুক্রবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে শার্শার বাহাদুরপুর-সোনামুখো বিলে প্রায তিনশত বিঘা এই মৎস্য খামার ‘(সজনের ঘেরে) অক্সিজেন স্বল্পতায় মাছ মারে পানিতে ভেসে উঠেছে। শনিবার বিপুল পরিমাণ পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে বাতাসে ভেসে আসে কিনারায়। এই দৃশ্য যেন চোখে দেখার মত নয়।
ঘেরটির মালিক মফিজুর রহমান স্বজনের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকায লিজ নিয়ে গত বছর থেকে এ এফ মৎস্য খামার। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন মাছ চাষ করছেন। খামার কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ঘেরে প্রায় ৬০ লাখ পিস পাবদা মাছ চাষ। উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ৫/৭ হাজার মণ হওয়ার কথা ছিল।
বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি মণ পাবদা মাছের দাম প্রায় ১৫ হাজার টাকা উল্লেখ করে খামার মালিকরা জানান, শুধু মাছের বাজারমূল্যই প্রায় ৮/১০ কোটি টাকা। মাছগুলো ভারতে রপ্তানির প্রক্রিয়াও চলছিল। অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহতসহ বৈরী আবহাওয়ার কারনে এ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
খামারী বলেন, মাছের খাদ্য বাবদ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বাকি রয়েছে। মাছ মারা যাওয়ায় সেই ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবেন এবং কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াবেন, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ও পরিশ্রম এক রাতেই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খামার মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।
মাছের মড়কের খবরে শার্শা উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর বা বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে উপজেলা মৎস্য কর্তৃপক্ষ।









