শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

অচল রাডারে দুর্বল আবহাওয়া নজরদারি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
অচল রাডারে দুর্বল আবহাওয়া নজরদারি

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা কালবৈশাখীর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা পেতে দেশের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দারা আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) ওপরই নির্ভরশীল। দেশজুড়ে রিয়েল-টাইম ও নির্ভুল আবহাওয়ার তথ্য সরবরাহে অধিদপ্তরের হাতে রয়েছে পাঁচটি ডপলার ওয়েদার রাডার। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো বর্তমানে এই পাঁচটি রাডারের চারটিই অচল হয়ে পড়ে আছে। ফলে নিজস্ব রাডার নেটওয়ার্কের পরিবর্তে অন্যান্য সংস্থার তথ্যের ওপর নির্ভর করে কোনো রকমে দৈনন্দিন আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরি করছে সংস্থাটি।
বর্ষা ও ঘূর্ণিঝড়ের ভরা মৌসুমে দেশের পুরো রাডার নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ায় সময়মতো এবং নির্ভুল আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। রাডারগুলো বিকল হয়ে পড়ার পেছনে দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা এবং চুক্তিগত জটিলতা রয়েছে যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত ও বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন রাডার কেনা এবং বিদ্যমান রাডারগুলোর জরুরি মেরামতের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বিশেষ তহবিল গঠনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী বছরের প্রথমার্ধের মধ্যেই দেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ আধুনিক ও সচল রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির অধীনে ঢাকা, কক্সবাজার, খেপুপাড়া (পটুয়াখালী), রংপুর ও মৌলভীবাজারে পাঁচটি ডপলার ওয়েদার রাডার স্থাপিত রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার, খেপুপাড়া ও মৌলভীবাজারের রাডারগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, যন্ত্রাংশের মেয়াদোত্তীর্ণতা এবং অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সম্পূর্ণ অচল। রংপুরের নতুন রাডারটি গত ১৭ জুন থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ ছিলো। তবে বর্তমানে রাডারটি সচল হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আর ঢাকার রাডারটি শনিবার রাত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহজনিত সমস্যায় অচল হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তারিফুল কবির নওয়াজ জানান, রংপুরের রাডারটি অটোমেটিক ভোল্টেজ রেগুলেটর (এভিআর)-এর ত্রুটির কারণে বন্ধ ছিলো। এটি এখনও ওয়ারেন্টির আওতায় থাকায় জাপানি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা মেরামতের জন্য ইতোমধ্যে এসে পৌঁছেছেন।

তিনি আরো জানান, রাডারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের হলেও যন্ত্রাংশ আমদানির জটিলতা, স্পেয়ার পার্টসের সংকট এবং দক্ষ জনবলের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে জাপানি প্রতিষ্ঠান জেআরসির পুরোনো রাডারগুলোর স্পেয়ার পার্টস উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো মেরামত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ডুয়াল-পোলারাইজেশন ডপলার রাডার স্থাপনের জন্য কয়েকশ’ কোটি টাকা প্রয়োজন। কক্সবাজার, খেপুপাড়া ও মৌলভীবাজারের পুরোনো রাডারগুলো আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও চলছে।

 

রাডার নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ায় ঘূর্ণিঝড়, বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একটি ডপলার রাডার প্রায় ৪০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা, বায়ুর গতি ও দিক, এমনকি ঝড়ের গতিবিধিও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু রাডার অচল থাকায় পূর্বাভাসের নির্ভুলতা এবং সময়মতো সতর্কবার্তা জারির সক্ষমতা কমে গেছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফলের ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা আগে নির্ভুল তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিজস্ব রাডার নেটওয়ার্ক অচল থাকায় বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর রাডারের ডেটা ব্যবহার করে আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট ইমেজ, স্থলভিত্তিক আবহাওয়া স্টেশন এবং প্রতিবেশী দেশের তথ্যও কাজে লাগানো হচ্ছে।

কানাডার ইউনিভার্সিটি অব সাসকাচুয়ানের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মুস্তফা কামাল পলাশ বলেন, একটি আবহাওয়া রাডারের কার্যকরী পরিসর প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। সমুদ্র থেকে কোনো ঝড় ওই পরিসরে প্রবেশ করলে রাডার তার গতি ও দিক নির্ধারণ করতে পারে। স্যাটেলাইট শুধু মেঘ দেখায় কিন্তু বৃষ্টির পরিমাণ নির্ভুলভাবে বলতে পারে না। বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের গতিবিধি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা উপকূলবাসীকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

কেন্দ্রীয় বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (সিএপিএস) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, তিনটি রাডার দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় উপকূলবাসী সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত। আগের সরকারের আমলে রক্ষণাবেক্ষণ ও মনিটরিংয়ে গুরুতর অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকারের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, স্যাটেলাইট, নিউমেরিক্যাল ওয়েদার প্রেডিকশন (এনডব্লিউপি) মডেল এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাডার ডেটা সহায়ক হলেও এগুলো কোনোভাবেই ডপলার রাডারের বিকল্প নয়। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করলে স্বল্পমেয়াদি (নাউকাস্টিং) পূর্বাভাসের নির্ভুলতা কমে যায়। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা আগে নির্ভুল সতর্কবার্তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে এই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

রাডারগুলো কবে নাগাদ আবার সচল হবে এ প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ঢাকার রাডার শিগগিরই মেরামত করা হবে। আর পুরোনো তিনটি রাডারের জন্য আপগ্রেডেশন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। তবে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অধিদপ্তর বর্তমানে স্যাটেলাইটসহ বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সর্বোচ্চ নির্ভুলতার সঙ্গে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে জনগণকে আবহাওয়ার সর্বশেষ সতর্কবার্তা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ড. মো. আবদুল মান্নান বলেন, ১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। কিন্তু মৌলিক যন্ত্রপাতির অভাবে সেই অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। রাডার নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন জাতীয় নিরাপত্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই সরকার, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে।

এদিকে দেশের আবহাওয়া রাডার নেটওয়ার্ক যখন প্রায় সম্পূর্ণ অচল, ঠিক তখনই বাংলাদেশ এই মৌসুমের দ্বিতীয় প্রধান ও পূর্ণাঙ্গ মৌসুমি বৃষ্টিপ্রবাহ বা ‘রেইন ব্যান্ড’-এর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ধারা’।

বেসরকারি আবহাওয়া গবেষণা সংস্থা ‘বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম’ (বিডব্লিউওটি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ‘ধারা’ নামের এই রেইন ব্যান্ড ৫ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত দফায় দফায় দেশের ওপর সক্রিয় থাকবে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের প্রায় ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

Ads small one

হাঁক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
হাঁক

মোঃ রহমত আলী
কথায় কথায় লাফালাফি,
তালে তালে নাচানাচি!
গোয়াল ঘরে ছাগল বেঁধে,
পাগল হয়ে মাতামাতি।

ঘোড়ার ডিম, ঘোড়ার ডিম,
হাতির হলো কবে শিং!
জেগে জেগে স্বপ্ন হাজার,
ঘুমের ঘোরে সোনার ডিম।

সোনার হরিণ, সোনার হরিণ,
আবোল-তাবোল বাড়াবাড়ি!
বড্ড বেশি কাড়াকাড়ি,
তা ধিন- ধিনা ধিন- তা ধিন।

বাহ্ অকারণে হাসাহাসি,
কারণ পেলেই দাপাদাপি!
ঘরের ঘোড়া ভুখা রেখে,
পরের মহিষ হাঁকাহাঁকি।

‘পুষ্প্য শয্যা’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
‘পুষ্প্য শয্যা’

শহীদুল্লা হক ভূইয়া
জীবনের নাম যদি
রাখা হয় ফুল,
তা রয়ে যাবে আজীবন ভুল।
ফুল পবিত্র নেই তার কুল,
মানুষ সবজান্তা
তথাপি নেই তার মিল।
পুষ্প্য ফুটে দেখায়
ত্রুটিহীন আতœপ্রকাশ,
মানুষ প্রাণী কলংক এঁকে
রাখে তার ভ্রান্তি অবকাশ।

পুষ্প্য তার সৌরভ দিয়ে
ডেকে রাখে বসুন্ধরাকে,
দূর্গন্ধরূপী জ্বাল বিস্তার
করে মানুষ ধরাকে।

ফুল সারাজাহানের
সংকীর্ণ প্রণালী ঘর,
তাকে করা যাবেনা
ক্ষনিকের ধরণী পর।

পুষ্প্য ছাড়া ভুলে যেত
মানুষ আপন ধন,
মানুষই পারে পুষ্প্যের ন্যায়
গড়তে তাজা প্রাণ।

অন্তরের অন্তরালে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ
অন্তরের অন্তরালে

বাপী নাগ
এই জীবনের পথে চলতে গিয়ে
পথ যে ফেলি হারিয়ে।
ঠিক-ভুলের নেই কোনো হিসাব
রাখি নিজেকে সরিয়ে।
অজান্তেই ভুল করে পাই সাজা
নিঃশব্দে রয়েছি নিরবে।
দিনের পর দিন সময় যায় বয়ে
এ মন অজান্তে হারাবে।

স্বপ্ন গুলো হঠাৎই ধুলোয় মিশে
নীরবতার’ই আড়ালে।
হাসির মুখোশ পরেই অভিমানে
লুকাই যে অন্তরালে।

হাজার মানুষের ভিড়ের মাঝেও
নিজেকেই খুঁজি একা।
চেনা-অচেনা এই জীবন পথেই
স্মৃতি’র হয় শুধু দেখা।

ভাঙা বিশ্বাস এই বুকের ভেতর
রক্ত ক্ষরণ হয়েই রয়।
যাদের কে আপন ভেবে ছিলাম
তাদের মাঝে হবে জয়।

তবুও এই জীবন থেমে থাকে না
এ পথ নিয়তির ডাকে।
অশ্রু ভেজা প্রতি’টি প্রহর নতুন
সাহস রেখে যায় ফাঁকে।