বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

অচল রাডারে দুর্বল আবহাওয়া নজরদারি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
অচল রাডারে দুর্বল আবহাওয়া নজরদারি

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা কালবৈশাখীর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা পেতে দেশের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দারা আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) ওপরই নির্ভরশীল। দেশজুড়ে রিয়েল-টাইম ও নির্ভুল আবহাওয়ার তথ্য সরবরাহে অধিদপ্তরের হাতে রয়েছে পাঁচটি ডপলার ওয়েদার রাডার। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো বর্তমানে এই পাঁচটি রাডারের চারটিই অচল হয়ে পড়ে আছে। ফলে নিজস্ব রাডার নেটওয়ার্কের পরিবর্তে অন্যান্য সংস্থার তথ্যের ওপর নির্ভর করে কোনো রকমে দৈনন্দিন আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরি করছে সংস্থাটি।
বর্ষা ও ঘূর্ণিঝড়ের ভরা মৌসুমে দেশের পুরো রাডার নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ায় সময়মতো এবং নির্ভুল আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। রাডারগুলো বিকল হয়ে পড়ার পেছনে দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা এবং চুক্তিগত জটিলতা রয়েছে যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত ও বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন রাডার কেনা এবং বিদ্যমান রাডারগুলোর জরুরি মেরামতের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বিশেষ তহবিল গঠনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী বছরের প্রথমার্ধের মধ্যেই দেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ আধুনিক ও সচল রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির অধীনে ঢাকা, কক্সবাজার, খেপুপাড়া (পটুয়াখালী), রংপুর ও মৌলভীবাজারে পাঁচটি ডপলার ওয়েদার রাডার স্থাপিত রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার, খেপুপাড়া ও মৌলভীবাজারের রাডারগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, যন্ত্রাংশের মেয়াদোত্তীর্ণতা এবং অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সম্পূর্ণ অচল। রংপুরের নতুন রাডারটি গত ১৭ জুন থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ ছিলো। তবে বর্তমানে রাডারটি সচল হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আর ঢাকার রাডারটি শনিবার রাত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহজনিত সমস্যায় অচল হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তারিফুল কবির নওয়াজ জানান, রংপুরের রাডারটি অটোমেটিক ভোল্টেজ রেগুলেটর (এভিআর)-এর ত্রুটির কারণে বন্ধ ছিলো। এটি এখনও ওয়ারেন্টির আওতায় থাকায় জাপানি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা মেরামতের জন্য ইতোমধ্যে এসে পৌঁছেছেন।

তিনি আরো জানান, রাডারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের হলেও যন্ত্রাংশ আমদানির জটিলতা, স্পেয়ার পার্টসের সংকট এবং দক্ষ জনবলের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে জাপানি প্রতিষ্ঠান জেআরসির পুরোনো রাডারগুলোর স্পেয়ার পার্টস উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো মেরামত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ডুয়াল-পোলারাইজেশন ডপলার রাডার স্থাপনের জন্য কয়েকশ’ কোটি টাকা প্রয়োজন। কক্সবাজার, খেপুপাড়া ও মৌলভীবাজারের পুরোনো রাডারগুলো আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও চলছে।

 

রাডার নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ায় ঘূর্ণিঝড়, বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একটি ডপলার রাডার প্রায় ৪০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা, বায়ুর গতি ও দিক, এমনকি ঝড়ের গতিবিধিও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু রাডার অচল থাকায় পূর্বাভাসের নির্ভুলতা এবং সময়মতো সতর্কবার্তা জারির সক্ষমতা কমে গেছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফলের ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা আগে নির্ভুল তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিজস্ব রাডার নেটওয়ার্ক অচল থাকায় বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর রাডারের ডেটা ব্যবহার করে আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট ইমেজ, স্থলভিত্তিক আবহাওয়া স্টেশন এবং প্রতিবেশী দেশের তথ্যও কাজে লাগানো হচ্ছে।

কানাডার ইউনিভার্সিটি অব সাসকাচুয়ানের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মুস্তফা কামাল পলাশ বলেন, একটি আবহাওয়া রাডারের কার্যকরী পরিসর প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। সমুদ্র থেকে কোনো ঝড় ওই পরিসরে প্রবেশ করলে রাডার তার গতি ও দিক নির্ধারণ করতে পারে। স্যাটেলাইট শুধু মেঘ দেখায় কিন্তু বৃষ্টির পরিমাণ নির্ভুলভাবে বলতে পারে না। বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের গতিবিধি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা উপকূলবাসীকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

কেন্দ্রীয় বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (সিএপিএস) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, তিনটি রাডার দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় উপকূলবাসী সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত। আগের সরকারের আমলে রক্ষণাবেক্ষণ ও মনিটরিংয়ে গুরুতর অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকারের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, স্যাটেলাইট, নিউমেরিক্যাল ওয়েদার প্রেডিকশন (এনডব্লিউপি) মডেল এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাডার ডেটা সহায়ক হলেও এগুলো কোনোভাবেই ডপলার রাডারের বিকল্প নয়। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করলে স্বল্পমেয়াদি (নাউকাস্টিং) পূর্বাভাসের নির্ভুলতা কমে যায়। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা আগে নির্ভুল সতর্কবার্তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে এই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

রাডারগুলো কবে নাগাদ আবার সচল হবে এ প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ঢাকার রাডার শিগগিরই মেরামত করা হবে। আর পুরোনো তিনটি রাডারের জন্য আপগ্রেডেশন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। তবে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অধিদপ্তর বর্তমানে স্যাটেলাইটসহ বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সর্বোচ্চ নির্ভুলতার সঙ্গে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে জনগণকে আবহাওয়ার সর্বশেষ সতর্কবার্তা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ড. মো. আবদুল মান্নান বলেন, ১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। কিন্তু মৌলিক যন্ত্রপাতির অভাবে সেই অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। রাডার নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন জাতীয় নিরাপত্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই সরকার, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে।

এদিকে দেশের আবহাওয়া রাডার নেটওয়ার্ক যখন প্রায় সম্পূর্ণ অচল, ঠিক তখনই বাংলাদেশ এই মৌসুমের দ্বিতীয় প্রধান ও পূর্ণাঙ্গ মৌসুমি বৃষ্টিপ্রবাহ বা ‘রেইন ব্যান্ড’-এর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ধারা’।

বেসরকারি আবহাওয়া গবেষণা সংস্থা ‘বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম’ (বিডব্লিউওটি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ‘ধারা’ নামের এই রেইন ব্যান্ড ৫ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত দফায় দফায় দেশের ওপর সক্রিয় থাকবে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের প্রায় ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

Ads small one

কাগজে সংগঠন, মাঠে দুর্বলতা: সাতক্ষীরায় ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
কাগজে সংগঠন, মাঠে দুর্বলতা: সাতক্ষীরায় ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখে

‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎‎ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে ২০২৬ সালের নির্বাচনে একটি আসন অর্জন করেছে। আলহামদুলিল্লাহ, ত
‎সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে সক্রিয় ও বেগবান হয়েছে এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এটি তাদের রাজনৈতিক অগ্রগতির একটি ধাপ।

‎কিন্তু সাতক্ষীরার বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্বাধীনতার পর থেকেই সাতক্ষীরা জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম শক্তিশালী সাংগঠনিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। জেলার অধিকাংশ এলাকায় তাদের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভিত্তি, জনসম্পৃক্ততা ও ভোটব্যাংক রয়েছে। এমন বাস্তবতায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যদি সাতক্ষীরায় নিজেদের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়, তাহলে সেই দাবি বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষায় টিকে না। কারণ রাজনীতিতে জনসমর্থনই সবচেয়ে বড় পরিচয়।

‎এর চেয়েও আলোচনার বিষয় হলো, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সাতক্ষীরা জেলাকে সাংগঠনিকভাবে পূর্ব ও পশ্চিম-এই দুই জেলায় ভাগ করার উদ্যোগ নিয়েছে। অথচ ভৌগোলিকভাবে সাতক্ষীরা উত্তর-দক্ষিণ বিস্তৃত একটি জেলা।

‎আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো যে জেলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক শক্তি ও নির্বাচনী সক্ষমতা এখনো সীমিত, যেখানে একটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার মতো শক্ত অবস্থানও তারা গড়ে তুলতে পারেনি, সেখানে দুটি সাংগঠনিক জেলা পরিচালনার সিদ্ধান্ত কতটা বাস্তবসম্মত? একটি সাংগঠনিক ইউনিটকে শক্তিশালী করার আগেই আরেকটি নতুন ইউনিট সৃষ্টি করা কি সত্যিই সংগঠনের সক্ষমতা বাড়ায়, নাকি বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাকেই আরও স্পষ্ট করে?

‎অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরার প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলেও একটি জেলা কাঠামোর মধ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেই বাস্তবতার সঙ্গে তুলনা করলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

‎বাস্তব শক্তি, জনভিত্তি ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি না করে শুধু সাংগঠনিক ইউনিটের সংখ্যা বাড়ালেই কোনো দল শক্তিশালী হয়ে যায় না। বরং জনগণের আস্থা অর্জন, নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর সংগঠন গড়ে তোলাই একটি রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তির পরিচয়।

‎রাজনীতিতে বাস্তবতা কখনো ঘোষণায় বদলে যায় না; বদলে যায় জনগণের রায়ে। তাই সাতক্ষীরায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে। লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা

 

 

জনসংখ্যা একটি দেশের সম্পদ এবং সমস্যা উভয়ই হতে পারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
জনসংখ্যা একটি দেশের সম্পদ এবং সমস্যা উভয়ই হতে পারে

প্রকাশ ঘোষ বিধান

একটি দেশের জনসংখ্যা সেই দেশের জন্য একই সাথে আশীর্বাদ এবং অভিশাপ হতে পারে। জনসংখ্যার পরিমাণ, গুণগত মান এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে এটি নির্ধারিত হয়। কোনো দেশের জনসংখ্যা একটি দ্বিমুখী বিষয়। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণের অভাবে এটি যেমন মারাত্মক সমস্যা হতে পারে, তেমনি উপযুক্ত শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমে এটি বিশাল সম্পদে রূপান্তরিত হতে পারে।

জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তর করাই হলো মূল চাবিকাঠি। যথাযথ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বিশাল জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে পরিণত করা গেলে তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি ও শ্রমশক্তি হিসেবে সম্পদ হয়ে ওঠে। তবে এই রূপান্তর করা সম্ভব না হলে অতিরিক্ত জনসংখ্যা খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও পরিবেশের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে সমস্যায় পরিণত হয়।

প্রতি বছর ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উদযাপিত হয়। ১৯৮৭ সালের ১১ জুলাই বিশ্বের জনসংখ্যা ৫০০ কোটি অতিক্রম করায় অনুপ্রাণিত হয়ে, ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির গভর্নিং কাউন্সিল এই দিবসটি প্রতিষ্ঠা করে। ১১ জুলাই পরিবার পরিকল্পনা, দারিদ্র্য, লিঙ্গসমতা, মাতৃস্বাস্থ্য এবং মানবাধিকারের মতো জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে বিশ্ব জনসংখ্যা পালিত হয়ে আসছে।

বিশ্বের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ইউএস সেনসাস ব্যুরোর অনুমান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নতুন বছরের প্রথম দিনে বিশ্ব জনসংখ্যা ৮০৯ কোটিতে পৌঁছেছে। বাংলাদেশে জনশুমারি ও গৃহগণনার ২০২২-এর ভিত্তিতে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার। যেখানে নারী ৮ কোটি ৭৩ লাখ ৯০ হাজার এবং পুরুষ ৮ কোটি ৪২ লাখ। ২০২৪ সালে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত এবং এর চীন।

অধিক জনসংখ্যা একটি দেশের জন্য একই সাথে বড় সমস্যা এবং সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে বিশাল সম্পদ হতে পারে। একে অর্থনীতিতে জনমিতিক লভ্যাংশ বা দ্বিমুখী তলোয়ার বলা হয়। জনসংখ্যা তখনই সম্পদে পরিণত হয় যখন তাকে উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা যায়। অপরপক্ষে, অতিরিক্ত জনসংখ্যা যদি দেশের সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, তখন তা উন্নয়নের অন্তরায় বা সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়।

জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলে তা যেকোনো দেশের জন্য অমূল্য সম্পদ। তবে অপরিকল্পিত বৃদ্ধি ও সীমিত সম্পদের কারণে অতিরিক্ত মানুষ যখন মৌলিক চাহিদার ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তখন তা সমস্যা বা বোঝায় পরিণত হয়।
দেশের তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। বিশাল জনসংখ্যা নিজেরা যেমন বড় ভোক্তা, তেমনি সস্তা শ্রম হিসেবে শিল্প ও কৃষি উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠিয়ে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স আয় করা সম্ভব।

কর্মক্ষম তরুণ ও যুবসমাজের আধিক্য একটি দেশের উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা যায়। বিপুল জনসংখ্যা কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে সস্তা ও পর্যাপ্ত শ্রমশক্তির জোগান দেয়। বিশাল জনগোষ্ঠী যেকোনো পণ্য ও সেবার বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার তৈরি করে, যা উদ্যোক্তা ও নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে। অতিরিক্ত শ্রমশক্তিকে বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব, যা দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করে। দক্ষ জনশক্তি বিদেশে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠায়। তরুণ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী নতুন নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। কর্মসংস্থানের সুযোগের তুলনায় জনসংখ্যা বেশি হলে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পায়, যা সামাজিক অপরাধ প্রবণতা বাড়াতে পারে। বিপুল জনসংখ্যার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসা খাতের ওপর প্রচ- চাপ সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মানুষের বাসস্থানের জন্য কৃষিজমি নষ্ট হয় ও বনভূমি উজাড় হয়, যা প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট, ও পরিবেশ দূষণ জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান কমিয়ে দেয়।

জনসংখ্যা নিজে কোনো সমস্যা নয়। অদক্ষ ও অশিক্ষিত জনসংখ্যা একটি দেশের জন্য বড় সমস্যা। পক্ষান্তরে, সঠিক পরিকল্পনা, উপযুক্ত শিক্ষা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই জনসংখ্যাকেই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব।

অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে হলে শুধু শিক্ষিত নয়, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। নতুন শিল্পায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজের সুযোগ তৈরি করা। একটি দেশকে এই বিপুল জনসংখ্যাকে বোঝা বা সমস্যা হিসেবে না দেখে জনসম্পদে পরিণত করতে হলে মানসম্মত শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের উৎপাদনশীল কাজে লাগাতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। তবেই জনসংখ্যা পূর্ণাঙ্গ জনশক্তিতে রূপান্তর সম্ভব। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য ব্যাটিং বিপর্যয়ে জিম্বাবুয়ের স্মরণীয় সিরিজ জয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য ব্যাটিং বিপর্যয়ে জিম্বাবুয়ের স্মরণীয় সিরিজ জয়

অবিশ্বাস্য ব্যাটিং বিপর্যয়ের ঘটনাই ঘটেছে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে। সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে এক পর্যায়ে ম্যাচটা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। কিন্তু অবিশ্বাস্য ব্যাটিং বিপর্যয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৩ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। তাতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বাংলাদেশের বিপক্ষে স্মরণীয় এক সিরিজ জয়ের স্বাদ পেয়েছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।

২৪৮ রানের লক্ষ্যে এক পর্যায়ে বাংলাদেশের ৪৯ বলে প্রয়োজন ছিল ৪১ রান। হাতে ৫ উইকেট। তারপরই ঘটে নাটকীয় ধস। মেহেদী হাসান মিরাজ শেষ ব্যাটার হিসেবে ১৪ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেননি। ৪৮.১ ওভারে এনগারাভার বলে ক্যাচ তুলে ফিরেছেন। তাতে ২৩৪ রানে গুটিয়ে গেছে সফরকারীরা।

অথচ এক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ২০৭। তখন বাংলাদেশকে দিশা দেখাচ্ছিলেন নুরুল হাসান (৩৮)। সঙ্গে ছিলেন মিরাজ। নুরুল হাসান আউট হতেই ছন্দ হারায় ইনিংস। ভাঙে মিরাজ-নুরুলের ৩১ রানের জুটি। তার পর একে একে ফেরেন রিশাদ হোসেন (৮), তাসকিন আহমেদ (০), শরিফুল ইসলাম (৬) ও সর্বশেষ মিরাজ (২৭)। ২৭ রানে পড়েছে শেষ ৫ উইকেট!

তার আগে ৩৮ রানে ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশ সুবিধাজনক জায়গাতেই ছিল। তানজিদ হাসান ও তাওহীদ হৃদয়ের ফিফটিতে ২ উইকেটে স্কোর ছিল ১২২ রান। তানজিদ ৫৭ রানে ফিরলে ভাঙে ৮৪ রানের জুটি। তার পর কিছুদূর এগিয়ে তাওহীদ হৃদয় ৬০ রানে ফিরলে তখন হাল ধরেন নুরুল হাসান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য ব্যাটিং ধস হারের কারণ হয়েছে।

জিম্বাবুয়ের হয়ে ৫৫ রানে ৩ উইকেট নেন রিচার্ড এনগারাভা। দুটি করে নেন ব্লেসিং মুজারাবানি, ব্র্যাড ইভান্স। একটি করে নেন সিকান্দার রাজা, ব্রায়ান বেনেট ও ওয়েসলি মাধেভেরে।

এরআগে সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে শুরুতে ফিল্ডিং নিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখানে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে ২৪৮ রানের লক্ষ্য দেয় স্বাগতিকরা।

বল হাতে দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এদিনও জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ে ধস নামিয়েছিল ৬৬ রানে তুলে নেয় ৪ উইকেট। তার পর অবশ্য জিম্বাবুয়ের নিয়ন্ত্রণ ফেরানোর দায়িত্ব নেন বেন কারান। অপরাজিত সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।

বাংলাদেশ ১৪৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট তুলে নিলেও তার পর আর জিম্বাবুয়েকে বিপদে ফেলতে পারেনি। সিকান্দার রাজা ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করেছিলেন। পঞ্চম উইকেটে কারানের সঙ্গে যোগ করেন ৬৮ রান। রাজার বিদায়ের পর মাদান্দে-কারানের জুটিটা বড় হয়নি। তার পরই সপ্তম উইকেটে মূল প্রতিরোধটা গড়েন বেন কারান ও ব্র্যাড ইভান্স।

ইনিংসের শেষভাগে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তারা। মাত্র ৩৮ বলে অপরাজিত ৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে জিম্বাবুয়েকে শক্ত ভিত এনে দেন ইভান্স। তার ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৫টি ছক্কা! আর ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে দলকে দিশা পেতে মূল অবদান রাখেন কারান। ১৩৫ বলে ৯ চারে ১১১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাদের ব্যাটিংয়েই শেষ দিকে বড় সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা। সপ্তম উইকেটে তাদের ৯৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতেই ৬ উইকেটে ২৪৭ রান পায় জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের হয়ে ৫৭ রানে দুটি উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। ৩২ রানে দুটি নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। একটি করে নিয়েছেন নাহিদ রানা ও রিশাদ হোসেন।