মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

অধিকাল ভাতা চালুর দাবিতে ভোমরা স্থলবন্দরে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
অধিকাল ভাতা চালুর দাবিতে ভোমরা স্থলবন্দরে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি

সংবাদদাতা: অতিরিক্ত কাজের বিপরীতে অধিকাল ভাতা (ওভারটাইম) চালুর দাবিতে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্মচারী কর্তৃপক্ষের পক্ষে গঠিত দাবি আদায় পরিষদ। রবিবার (১০ মে) সকালে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। একইসাথে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকাল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার কর্মবিরতির ঘোষণাও দেওয়া হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দরে কর্মরত কর্মচারীরা নিয়মিত অফিস সময়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা ন্যায্য অধিকাল ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অথচ বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের পূর্ববর্তী বিভিন্ন অফিস আদেশ, বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত এবং শ্রম আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় কাজের বিপরীতে ভাতা প্রদানের বিধান বিদ্যমান রয়েছে।

তারা উল্লেখ করেন, ২০০৫ সালের ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ট্রাফিক পরিদর্শক ও ওয়্যারহাউজ সুপারগণকে প্রচলিত বিধি মোতাবেক অধিকাল ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ৫ আগস্ট জারি করা এক অফিস আদেশে বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালিত স্থলবন্দরসমূহে কর্মরত কর্মচারীদের সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা এবং মাসে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অধিকাল ভাতা প্রদানের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মতি দেওয়া হয়। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়, প্রকৃত কাজ ও দায়িত্ব পালনের ভিত্তিতেই এ ভাতা প্রদান করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, স্থলবন্দরের কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা সচল রাখতে কর্মচারীদের প্রায়ই অফিস সময়ের বাইরে দায়িত্ব পালন করতে হয়। বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, কম্পিউটার অপারেশন, গুদাম ব্যবস্থাপনা ও পণ্য ছাড় কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মচারীদের অতিরিক্ত সময় কাজ ছাড়া বন্দর পরিচালনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অথচ বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বাংলাদেশ শ্রম আইন ও গেজেটের বিভিন্ন ধারা তুলে ধরে বলেন, শ্রম আইনে দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের বিধান থাকলেও অধিকাল ভাতা প্রদান সাপেক্ষে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো যেতে পারে। একইসাথে অতিরিক্ত সময় কাজের ক্ষেত্রে শ্রমিকের সম্মতি, নির্ধারিত বিশ্রাম ও আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করারও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে স্থলবন্দর কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এসব বিধান পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মচারীদের মধ্যে ছিলেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ ফিদা হাসান, মোঃ আসাদুজ্জামান, মোহাম্মদ ওসমান গনি ভূঁইয়া, মোঃ মানিকুর রহমান, মোঃ নাজমুল আহসান, মোঃ সোহেল সোনার (ট্রাফিক পরিদর্শক) এবং মোঃ গোলাম মোস্তফা (কম্পিউটার অপারেটর) প্রমুখ।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের এ যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

 

Ads small one

কপোতাক্ষ নদে বজ্রপাতে নিখোঁজ জেলের মরদেহ ২৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
কপোতাক্ষ নদে বজ্রপাতে নিখোঁজ জেলের মরদেহ ২৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার

 

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা এলাকায় কপোতাক্ষ নদে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে নিখোঁজ হওয়া জেলে মো. আরিফ হাসানের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৯ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে চাউলখোলা খুটিকাটা লঞ্চঘাট সংলগ্ন নদ থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত আরিফ হাসান চাকলা গ্রামের মৃত আব্দুল হাই সানার ছেলে। এর আগে গত সোমবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে চাকলা গ্রামের কপোতাক্ষ নদে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আরিফ হাসান প্রতিদিনের মতো সোমবার বিকেলে একা একটি নৌকা নিয়ে কপোতাক্ষ নদে মাছ ধরতে যান। বিকেলের দিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে একপর্যায়ে তাঁর নৌকার ওপর বজ্রপাত হয়। এতে তিনি নৌকা থেকে ছিটকে নদে পড়ে নিখোঁজ হন এবং নৌকাটি ডুবে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয় জেলে, স্বজন ও এলাকাবাসী মিলে ডুবে যাওয়া নৌকাটি উদ্ধার করতে পারলেও আরিফের কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ও ডুবুরিরা নদে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে দুর্ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে চাউলখোলা খুটিকাটা লঞ্চঘাটের পাশে নদে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে আরিফ হাসানের মরদেহ শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে চিলতে ওই গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুর রউফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই নদের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। মঙ্গলবার রাতে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

সম্পাদকীয়/ ডিজিটাল সেবার নামে এনালগ ভোগান্তি বন্ধ হোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ ডিজিটাল সেবার নামে এনালগ ভোগান্তি বন্ধ হোক

প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক ও সহজ গ্রাহকসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে দেশে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল গ্রাহকেরা ঘরে বসেই অনায়াসে রিচার্জ করতে পারবেন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব রাখতে পারবেন। কিন্তু সাতক্ষীরায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) প্রিপেইড মিটারের বর্তমান চিত্রটি ঠিক এর উল্টো। গত এক মাস ধরে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ, রকেট বা নগদের মাধ্যমে রিচার্জ করতে না পেরে শত শত গ্রাহককে তীব্র গরমের মধ্যে ওজোপাডিকো কার্যালয়ে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সেবা সহজ করার আধুনিক এই মাধ্যমটি এখন গ্রাহকদের জন্য নতুন ভোগান্তি, এমনকি কারও কারও ভাষায় ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পত্রদূত পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সাতক্ষীরা শহরের পাকাপোল এলাকার ওজোপাডিকোর গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে সকাল থেকেই নারী, পুরুষ, প্রবীণ ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় জমছে। অনেক বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। একদিকে ডিজিটাল রিচার্জ ব্যবস্থা অচল, অন্যদিকে ওজোপাডিকো কার্যালয়ে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের জন্য কাউন্টার সংখ্যা অপ্রতুল। ফলে মাত্র একটি বা দুটি কাউন্টারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে দিনমজুর থেকে শুরু করে অসুস্থ মানুষকেও। যেখানে সাধারণ মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, সেখানে সেবার নামে এমন এনালগ ও কষ্টদায়ক ব্যবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ওজোপাডিকোর আওতাধীন সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ দপ্তরের গ্রাহক সংখ্যা ৪৫ হাজারের বেশি। এত বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের সেবা সচল রাখতে কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান করা কর্তৃপক্ষের প্রথম দায়িত্ব ছিল। অথচ এক মাস ধরে এই সংকট চললেও এখন পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন রিচার্জ সুবিধা চালু করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কাউন্টার বাড়ানোর যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তা সাময়িক উপশম মাত্র, স্থায়ী সমাধান নয়।
আমরা মনে করি, আধুনিক সেবার মূল শর্তই হলো তা হয়রানিমুক্ত ও সহজলভ্য হতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে এসে সামান্য রিচার্জের জন্য মানুষকে কাজ ফেলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়া প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা ও দূরদর্শিতার অভাবকেই স্পষ্ট করে। অবিলম্বে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপগুলোর কারিগরি জটিলতা দূর করে ঘরে বসে রিচার্জের ব্যবস্থা সচল করতে হবে। একই সঙ্গে এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ওজোপাডিকো কার্যালয়ে কাউন্টার ও লোকবল বাড়িয়ে লাইনে দাঁড়ানো মানুষের কষ্ট লাঘব করা জরুরি। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করবে।

প্রতাপনগরে বজ্রপাতে নৌকা থেকে পড়ে জেলে নিখোঁজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
প্রতাপনগরে বজ্রপাতে নৌকা থেকে পড়ে জেলে নিখোঁজ

 

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলায় কপোতাক্ষ নদে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে আরিফ হোসেন (৩৫) নামে এক মৎস্যজীবি নৌকা থেক পড়ে নিখোঁজ রয়েছে। সোমবার (৮ জুন) বিকাল ৫ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া নৌকা উদ্ধার হলেও আরিফের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ জানান, চাকলা গ্রামের মৃত্যু আব্দুল হাই সানার ছেলে আরিফ হোসেন প্রতিদিনের ন্যায় নদীতে নৌকায় মাছ ধরার কাজে করছিল। হঠাৎ মেঘের গর্জন ও হাল্কা বৃষ্টিপাতের একপর্যায়ে নৌকায় বজ্রপাতে ঘটলে নৌকায় থাকা একমাত্র আরিফ হোসেন ছিটকে কপোতাক্ষ নদে পড়ে যায় এবং নৌকটিও নদীতে ডুবে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নৌকাটি উদ্ধার করা গেলেও আরিফ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ আরিফ হোসেনের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন আত্মীয় স্বজন, এলাকাবাসী ও মৎস্যজীবীরা।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি, কয়রা থেকে ফায়ার সার্ভিসের টিম সদস্য ও ডুবুরীরা উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।
আশাশুনি ফায়ার সার্ভিসের সদস্য জাকির হোসেন জানান, কয়রা থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজে গিয়েছে।