বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

কালীগঞ্জে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
কালীগঞ্জে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিনিধি: টেকসই কৃষি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে কৃষকদের নিয়ে জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের ওপর এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে উপজেলার নলতা ইডা কনভেনশন সেন্টারে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশবান্ধব আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন কৃষিবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, রাসায়নিক বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে জৈব বালাইনাশকের কোনো বিকল্প নেই। এতে যেমন উৎপাদন খরচ কমে, তেমনি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা ও প্রায় ৫০জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিনামূল্যে হাইব্রিড সবজি বীজ ও উন্নত মানের জৈব বালাইনাশক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের আঞ্চলিক বিক্রয় ব্যবস্থাপকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Ads small one

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের রক্ত ও আমাদের দায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের রক্ত ও আমাদের দায়

একদিকে ঋণের পাহাড়, অন্যদিকে সচ্ছলতার রঙিন স্বপ্নÑএই দুইয়ের দোলাচলে পড়ে প্রতিবছর হাজার হাজার বাংলাদেশি তরুণ পাড়ি জমান প্রবাসে। সাতক্ষীরার শফিকুল ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম এবং শুভ কুমার দাসও সেই মিছিলেই শামিল হয়েছেন। কিন্তু লেবাননের নাবাতিয়েহ ও মাইফাদুন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ড্রোন হামলায় তাঁদের সেই স্বপ্ন এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যে পরিবারগুলো শেষ সম্বল বসতভিটা বিক্রি করে কিংবা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তাঁদের বিদেশে পাঠিয়েছিল, আজ তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক অনিশ্চিত ও অন্ধকার ভবিষ্যৎ।
এই মৃত্যুগুলো কেবল একেকটি সংখ্যা নয়; বরং আমাদের ভঙ্গুর প্রবাসী সুরক্ষা ব্যবস্থার এক একটি ক্ষত। নিহতদের পারিবারিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাঁরা প্রায় প্রত্যেকেই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জক্ষম ব্যক্তি। শফিকুল ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশ গিয়েছিলেন মাত্র তিন মাস আগে। নাহিদুল আড়াই মাস আগে জমি বিক্রি করে গিয়েছিলেন পরিবারের অভাব মুছতে। আর শুভ নিজের বসতভিটাটুকু বেচে দিয়েছিলেন এক টুকরো সুখের আশায়। এখন এই নিঃস্ব পরিবারগুলোর মাথার ওপর কেবল ঋণের বোঝাই পাহাড় সমান নয়, বরং তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও জীবনযাপনের পথও রুদ্ধ হয়ে গেছে।
লেবাননের মতো সংঘাতময় এলাকায় বাংলাদেশি প্রবাসীরা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিকতার তোয়াক্কা না করে যেভাবে বেসামরিক আবাসস্থলে ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে, তা কেবল নিন্দনীয়ই নয়, বরং চরম জঘন্য অপরাধ। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং মরদেহ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু কেবল নিন্দা বা লাশ ফিরিয়ে আনা কি এই সর্বস্বান্ত পরিবারগুলোর জন্য যথেষ্ট?
সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা হলোÑকোনো ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছাড়াই সরকারি খরচে অতি দ্রুত এই তিনজনের মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। পরিবারগুলো যে বিপুল অংকের ঋণের জালে আটকে আছে, তা পরিশোধের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা এনজিওর মাধ্যমে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। শফিকুলের দুই মেধাবী মেয়ের পড়াশোনা এবং শুভর ভূমিহীন বাবার আশ্রয়ের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। প্রবাসী কল্যাণ তহবিল থেকে তাঁদের জন্য এককালীন বড় অংকের অনুদান ও দীর্ঘমেয়াদী ভাতার ব্যবস্থা করা উচিত। লেবাননে অবস্থানরত অন্যান্য বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বৈরুত দূতাবাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মহলে এই হত্যাকা-ের প্রতিবাদ জোরালো করতে হবে।
দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন যে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা, বিদেশের মাটিতে তাঁদের এই অসহায় মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। শফিকুল, নাহিদুল ও শুভর মতো তরুণদের রক্ত যেন কেবল শোকের দলিলে সীমাবদ্ধ না থাকে। রাষ্ট্র যদি আজ এই নিঃস্ব পরিবারগুলোর পাশে না দাঁড়ায়, তবে তা হবে আমাদের সামগ্রিক মানবিক ব্যর্থতা। আমরা আশা করি, সরকার দ্রুততম সময়ে এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে প্রবাসীদের প্রতি তার প্রকৃত দায়বদ্ধতার প্রমাণ দেবে।

 

১০টি পয়েন্টে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে সাংসদের ডিও লেটার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
১০টি পয়েন্টে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে সাংসদের ডিও লেটার

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার ১০টি জনগুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মারাত্মক নদী ভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের আবেদন জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। গত ১১ মে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) খুলনার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বরাবর এ সংক্রান্ত একটি ডিও লেটার (আধা-সরকারি পত্র) প্রদান করেন তিনি।
ডিও লেটারে সাংসদ উল্লেখ করেন, আশাশুনি উপজেলা মারাত্মক নদী ভাঙনকবলিত এলাকা। টেকসই বাঁধের অভাবে অনেক জনপদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে আশাশুনি সদর, প্রতাপনগরের কুড়িকাউনিয়া ও হরিশখালি, আনুলিয়ার মনিপুর ও বিছট, বুধহাটা বাজার এলাকা এবং বড়দলের গোয়ালডাঙ্গাসহ ১০টি পয়েন্টে দ্রুত স্থায়ী সংস্কার প্রয়োজন। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর আশা, এই আবেদন বাস্তবায়িত হলে তারা ভিটেমাটি হারানোর দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাবেন এবং দীর্ঘদিনের মানবেতর জীবনের অবসান ঘটবে।

একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই বেচে ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন লেবানন, ফিরছে লাশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই বেচে ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন লেবানন, ফিরছে লাশ

আসাদুজ্জামান সরদার: সুরঞ্জন দাসের এখন আর কোনো নিজের জমি নেই। তিন বছর আগে সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভার শ্রীপতিপুর গ্রামে তাঁর একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁইÑএক শতক বসতভিটাটুকুও বিক্রি করে দিয়েছিলেন। লক্ষ্য ছিল একটাই, মেজ ছেলে শুভ দাসকে (২৫) লেবাননে পাঠিয়ে সংসারের অভাব ঘোচানো। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন চিতাভস্ম হওয়ার পথে। গত সোমবার রাতে লেবাননের মাইফাদুন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন শুভ।
বুধবার সকালে শ্রীপতিপুর গ্রামে সুরঞ্জনের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। জরাজীর্ণ ঘরের দাওয়ায় বসে ডুকরে কাঁদছেন মা শিখা দাস। একটি ভ্যানের উপর বসে নির্বাক হয়ে বসে আছেন বৃদ্ধ বাবা সুরঞ্জন। তার পাশে বসে সান্ত¦না দিচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শাহাদাত হোসেনসহ কয়েকজন প্রতিবেশি। প্রতিবেশী ও স্বজনদের ভিড়ে বাড়িটি শোকাতুর হয়ে উঠেছে। সবার চোখেমুখে একটাই আকুতিÑছেলের মুখটা শেষবারের মতো দেখা।
পেশায় ভ্যানচালক সুরঞ্জন দাস জানান, বাড়ি বিক্রি করেও শেষ রক্ষা হয়নি। চড়া সুদে এনজিও ও স্থানীয়দের কাছ থেকে আরও চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে শুভকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। ভিটে হারিয়ে গত তিন বছর ধরে সপরিবারে এক হাজার টাকা ভাড়ার একটি বাসায় থাকছেন তিনি। প্রতি মাসে শুভ ৩৫ হাজার টাকা করে পাঠাতেন। সেই টাকা দিয়েই ঋণের কিস্তি শোধ আর ছোট দুই ভাই-বোনের পড়াশোনা চলছিল।
বিলাপ করতে করতে মা শিখা রানী দাস বলেন, “সংসারের হাল ফেরাতে ছেলেটা বিয়েও করেনি। বলেছিল আরও কিছুদিন থেকে টাকা জমিয়ে বাড়ি ফিরে ঘর বাঁধবে। ভগবান কেন আমাদের কপাল পুড়িয়ে দিল? এখন ঋণের টাকা কে শোধ করবে, আর আমার মানিককেই বা কই পাব?”
শুভর ছোট বোন সাধনা দাস কলারোয়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে। কান্নারত কণ্ঠে সে বলে, “রবিবার রাতে দাদার সাথে শেষ কথা হয়েছিল। দুই মাস টাকা পাঠাতে পারেনি বলে দাদা খুব আফসোস করছিল। দাদাই আমাদের পড়াশোনার খরচ চালাত। দাদাকে তো আর ফিরে পাব না, কিন্তু এখন আমরা থাকব কোথায়? আমাদের পড়াশোনাই বা হবে কীভাবে?”
প্রতিবেশী সুমন দাস বলেন, শুভ খুব শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। এলাকার সবার সাথে তার সুসম্পর্ক ছিল। তার এই অকাল মৃত্যু পুরো গ্রামকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
শুভসহ গত দুই দিনে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় সাতক্ষীরার মোট তিনজন প্রবাসী নিহত হয়েছেন। তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এখন পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
স্থানীয় ইউপি মেম্বর শাহাদাত হোসেন বলেন, সুরঞ্জন দাসের এখন আর কোনো নিজের জমি নেই। তিনি এখন পরিবার নিয়ে থাকেন ধানের চাতালের ফেলে রাখা খুপড়ি ঘরে। তিন বছর আগে সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভার শ্রীপতিপুর গ্রামে তাঁর একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁইÑএক শতক বসতভিটাটুকুও বিক্রি করে দিয়েছিলেন। চড়া সুদে এনজিও ও স্থানীয়দের কাছ থেকে আরও চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে শুভকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। সেই শুভ ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় মারা যাওয়ার খবরে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শুভ’র মরদেহ যেন দেশে আনা হয়Ñআমরা সরকারের কাছে সেই দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে এই অসহায় পরিবারটি যেন মাথা গোজার ঠাঁই পায় সে ব্যাপারেও সরকার যেন সহায়তা করেন।
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শুভর পরিবার যাতে দ্রুত মরদেহ ফিরে পায়, সে জন্য আমরা কনস্যুলেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করছি। একই সঙ্গে সরকারিভাবে সব ধরণের আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল জানিয়েছেন, প্রবাসীদের মরদেহ ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
অভাবের তাড়নায় যে ছেলেকে ভিনদেশে পাঠিয়েছিলেন সুরঞ্জন দাস, এখন সেই ছেলের নিথর দেহটুকু ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় কাটছে তাঁর প্রতিটি প্রহর। ঋণের বোঝা আর শোকÑদুইয়ের ভারে ন্যুব্জ এই পরিবারটির ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।