রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

অবশেষে আমিনী গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
অবশেষে আমিনী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে কালিগঞ্জ থানার কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, ‌‘রাত ১১টার দিকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। এর আগে এই মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এলাকাবাসী পত্রদূতকে জানায়, বার বার মব সৃষ্টি ও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কোন ধরনের শাস্তি না পাওয়ায় আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একের পর এক নৃশংস মব তৈরি করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন ফজলুল হক আমিনী। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া এলাকায় তিনি হয়ে উঠেছেন আরও বেশি বেপরোয়া। এর আগেও বিভিন্ন ঘটনায় মব বা বিচারবহির্ভূত নির্যাতনে নেতৃত্ব দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকায় তিনি বারবার পার পেয়ে গেছেন এবং আরও বেপরোয়া রূপে ফিরে এসেছেন বলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে মব সৃষ্টি করে পারুলিয়ার শহিদুল ইসলাম নামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এখানেই ক্ষান্ত হননি তিনি; একই বছরের অক্টোবর মাসে সোহাগ হোসেন নামের আরেক যুবকের বাড়িতে মব তৈরি করে চালানো হয় ভয়াবহ গণপিটুনি। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, পারুলিয়া ১ নম্বর ইউনিয়নের এক সদস্যের বিরুদ্ধেও ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও গণপিটুনির মতো জঘন্য ঘটনা ঘটানো হয়। এসব প্রতিটি লোমহর্ষক ঘটনায় মূল নেতৃত্ব বা উসকানিদাতা হিসেবে ফজলুল হক আমিনীর নামই বারবার উঠে এসেছে।
গ্রেপ্তারের দু’দিন পূর্বে দৈনিক পত্রদূত এর পক্ষ থেকে এই প্রািতবেদক ফজলুল হক আমিনীর সাথে কথা বললে তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নন। তবে পারুলিয়ার এক যুবক আল্লাহ, রাসূল ও কোরআন-হাদিস নিয়ে কটূক্তি করেছে দাবি করে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে তিনি নিজের জায়গা থেকে সবসময় নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। এর আগের ঘটনাগুলোতেও যে তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা তিনি অকপটে স্বীকার করেন। ফেসবুক এবং লাইভে স্ট্যাটাস দিয়ে লোক জড়ো করে এই বিচারবহির্ভূত মব সৃষ্টির কথা তিনি স্পষ্ট স্বীকার করেন। প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ধরলে তার কোনো আপত্তি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর পরিণামে তার ফাঁসি বা জেল হলেও তার কোনো আফসোস নেই।
নিজের সামাজিক ও পেশাগত পরিচয়ের আড়ালে তিনি পারুলিয়া বাজারের গরু-ছাগল জবাইয়ের পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিভিন্ন মসজিদে ইমামের প্রক্সি দিয়ে থাকেন বলে জানান। ইসলাম ও রাসূলের অবমাননার নামে তার এই বিচারবহির্ভূত কর্মকান্ড ও ক্ষোভ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
শামীম হত্যার ঘটনায় তাকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করার পর থেকে তাকে আর এলাকায় দেখা যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে তার পক্ষে পাবলিক সেন্টিমেন্ট নেওয়ার চেষ্টা করছে।
এই ঘটনায় মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, কোনো ব্যক্তি কখনোই রাষ্ট্রের আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। ফজলুল হক আমিনী যে হত্যাযঞ্জের নেতৃত্ব দিয়েছেন সেজন্য তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র যদি এখনই জোরালো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তবে এ ধরনের মব সন্ত্রাস বারবার ঘটতেই থাকবে, যা আমিনী এর আগেও ঘটিয়েছেন। এই ঘটনার মাধ্যমেই পরিষ্কার প্রমাণিত হয় যে তিনি আইনকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করেন না। তিনি যে ভাষাতেই সাফাই গান না কেন, মূলত তিনি প্রকাশ্যে মৃত্যুদন্ড বা বিচারবহির্ভূত শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন। যা তাকে একজন স্বঘোষিত অপরাধীতে পরিণত করেছে। তাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উচিত তাকে কোনোভাবেই ছাড় না দেওয়া।
এরআগে মামলা দায়েরের পর পুলিশ ইতোমধ্যে আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

Ads small one

শ্যামনগরে পূজামন্ডপ পরিদর্শনে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে পূজামন্ডপ পরিদর্শনে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান রনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল থেকে তিনি উপজেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পূজামন্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পূজার সময় কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শ দেন।

পরিদর্শনকালে শাহজাহান রনি পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপন নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

স্থানীয় পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপন এবং পূজামন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।

এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীসহ পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

পূজামন্ডপে নিরাপত্তায় গাফিলতি হলে জবাবদিহি করতে হবে: এএসপি বায়েজিদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
পূজামন্ডপে নিরাপত্তায় গাফিলতি হলে জবাবদিহি করতে হবে: এএসপি বায়েজিদ

আশাশুনি প্রতিনিধি: “শারদীয় দুর্গোৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘœ করতে প্রতিটি পূজামন্ডপে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো পূজামন্ডপে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপের মাধ্যমে অথবা সরাসরি মোবাইল ফোনে থানা পুলিশকে জানাতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা করে কোনো আনসার সদস্য পূজামন্ডপ ছেড়ে চলে গেলে তাঁর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এন্ট্রিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পূজামন্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট আনসার সদস্যদের জবাবদিহি করতে হবে।”

শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা সর্বজনীন দুর্গামন্দির, দক্ষিণ বড়দল সর্বজনীন কালীমন্দির, বড়দল বাজার সর্বজনীন দুর্গামন্দির, বুড়িয়া সর্বজনীন দুর্গামন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন সহকারী পুলিশ সুপার (দেবহাটা সার্কেল) মোঃ বায়েজিদ ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দমুখর করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পূজামন্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাই যেন নির্বিঘেœ দুর্গোৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সে জন্য পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। পূজামন্ডপের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।”

পরিদর্শনকালে সহকারী পুলিশ সুপার প্রতিটি পূজামন্ডপে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। তিনি পূজামন্ডপের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং যেকোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক থাকার নির্দেশনা প্রদান করেন। আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিদুর রহমান, এস আই নাসির উদ্দিন, এএসআই অমিত হাসানসহ থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আনসার সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত ছিলেন।

 

জেলা ডাম্পার ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি সান্টু চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক রনজু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ণ
জেলা ডাম্পার ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি সান্টু চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক রনজু

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা ডাম্পার ট্রাক মালিক সমিতি (প্রস্তাবিত) কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় সাতক্ষীরা জেলা ডাম্পার ট্রাক মালিক সমিতি (প্রস্তাবিত) কমিটির আয়োজনে শহরের পলাশপোলস্থ রয়েল প্লাস কনভেনশন সেন্টারে আব্দুল মোমেল খান চৌধুরী (সান্টু চৌধুরী) এর সভাপতিত্বে সাধারণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব মো. আব্দুর রউফ।

 

এসময় উপস্থিত সকল সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে সংগঠনকে গতিশীল করার লক্ষ্যে আলহাজ্ব মো. আব্দুর রউফকে প্রধান উপদেষ্টা, আব্দুল মোমেল খান চৌধুরী (সান্টু চৌধুরী) কে সভাপতি ও শেখ সাইদ আহমেদ রনজুকে সাধারণ সম্পাদক করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্যরা হলেন-কার্যকরী সভাপতি মো. শহিদুল্লাহ (ইএসএল), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম শফি, কোষাধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম সাগর, দপ্তর সম্পাদক শওকাত হোসেন বাবলু, বন্দর সম্পাদক আব্দুল জলিল (মোঝ ভাই)।

 

এছাড়াও ২ জন সদস্যের নাম পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে। সংগঠনের সামগ্রীক উন্নয়ন ও সংগঠনকে গতিশীল করার লক্ষ্যে সকলের সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন নব-গঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ। কমিটি ঘোষণা করার পরই জেলার বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দদেরকে।