গুড়পুকুর মেলায় বাড়তি আয়ের সুযোগ, স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি
0-0x0-0-0#
মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলাকে ঘিরে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। মেলার কয়েক দিনের বেচাকেনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে তাঁদের সংসারে। সারা বছর যেখানে সীমিত আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে মেলাকে কেন্দ্র করে বাড়তি ক্রেতার সমাগম তাঁদের আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, মেলায় খরচ বাদ দিয়ে মোটামুটি লাভ থাকছে। অন্যদিকে, মেলা শেষ হলে আবারও কমে যাবে বেচাকেনা অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী মেলার জন্য।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) মেলার ১৭তম দিনে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন দোকানে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আনাগোনা রয়েছে। পোশাক, প্রসাধনী, খেলনা ও গৃহস্থালির সামগ্রীর দোকানের পাশাপাশি চা-নাশতা ও খাবারের দোকানেও চলছে বেচাকেনা। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিমা দর্শনে আসা মানুষও ঘুরে দেখছেন মেলা। এতে মেলাপ্রাঙ্গণে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
মেলার এই বাড়তি জনসমাগমে উপকৃত হচ্ছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চা বিক্রেতা, খাবারের দোকানি ও বিভিন্ন ছোট পণ্যের বিক্রেতারা। মেলায় আসা মানুষের আনাগোনা বাড়ায় তাঁদের পণ্য ও সেবা বিক্রির সুযোগও বাড়ছে। বিশেষ করে অস্থায়ী দোকানিদের কাছে মেলার দিনগুলো বাড়তি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ সময়।
মেলায় চায়ের দোকান চালানো লেয়াকাত বলেন, “মেলার এই কয়েক দিন বেচাকেনা একটু ভালো হচ্ছে। তা না হলে এর আগে দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করতে হতো। সেই টাকা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন ছিল। মেলার এই কয়েক দিন পরিবার নিয়ে একটু ভালোভাবে সংসার চালাতে পারছি।”
লেয়াকাতের কথায় উঠে আসে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রতিদিনের জীবনসংগ্রামের চিত্র। সীমিত আয়ের মধ্যে সংসারের খরচ সামলাতে হয় তাঁদের। তাই মেলার মতো বড় আয়োজন তাঁদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে। কয়েক দিনের ভালো বেচাকেনাও তাঁদের সংসারে কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়।
অন্যদিকে, শিশুদের খেলনার চাহিদাকে কেন্দ্র করে ভালো বেচাকেনার আশা করছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। ঢাকা থেকে মেলায় খেলনার দোকান নিয়ে এসেছেন সোহাগ। তিনি বলেন, “মেলায় আসার জন্য ছোট বাচ্চাদের আগ্রহ বেশি থাকে। মেলার শুরু থেকেই শিশুদের খেলনার চাহিদা ভালো ছিল। এখন মেলা শেষের দিকে, চাহিদা আরও বেড়েছে। বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। তবে মেলা শেষ হলে আবার বেচাকেনা কমে যাবে। তখন অন্য কোনো মেলার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।”
সোহাগের মতো অনেক ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীর জীবিকা নির্ভর করে বিভিন্ন মেলায় দোকান বসানোর ওপর। এক মেলা শেষ হলে অন্য মেলায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হয় তাঁদের। ফলে মেলার শেষ দিনগুলোতে ভালো বেচাকেনা তাঁদের জন্য বাড়তি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে ওঠে।
ব্যবসায়ীরা জানান, দোকান পরিচালনা, পণ্য কেনা ও অন্যান্য খরচ মেটানোর পর মোটামুটি লাভ থাকছে। তবে বিক্রির পরিমাণ দোকান ও পণ্যের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন। মেলার শেষ সময় পর্যন্ত ক্রেতাদের আনাগোনা থাকলে বেচাকেনা আরও ভালো হবে বলে আশা তাঁদের।
এদিকে, মেলায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়লেও সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ভালো রয়েছে বলে জানিয়েছেন মেলায় আসা মানুষজন। মেলাপ্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও নজরদারি দর্শনার্থীদের স্বস্তি দিচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে আসা মানুষ কেনাকাটা ও বিনোদনের পাশাপাশি নিরাপদ পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা শুরু হয়েছে গত ১ অক্টোবর। দুই বছর বিরতির পর এবার মেলা বসায় স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দূরদূরান্তের ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে আয়োজিত এ মেলা চলবে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত।
ঐতিহ্য, বিনোদন ও কেনাকাটার পাশাপাশি গুড়পুকুর মেলা স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মেলাকে ঘিরে কয়েক দিনের বাড়তি আয় তাঁদের সংসারে কিছুটা স্বস্তি এনে দিচ্ছে। তাই দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ও বেচাকেনার এই গতি মেলার শেষ দিন পর্যন্ত বজায় থাকবে এমন প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের।






