আইনজীবী হিসেবে হাইকোর্টে মমতা
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে এবার সরাসরি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার মামলার শুনানিতে আইনজীবী হিসেবে সওয়াল করেন তিনবারের এই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। তবে শুনানি শেষে আদালত চত্বর ছাড়ার সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে পড়েন তিনি। তাকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসছিলেন, তখন একদল বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপস্থিত সাংবাদিকদের মমতা বলেন, ‘ওরা আমাকে লাঞ্ছিত করেছে।’ তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিজেপির মদতপুষ্ট আইনজীবীরা সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে হেনস্তা করার চেষ্টা করেছেন এবং তৃণমূলের আইনজীবীদের দল অত্যন্ত কষ্টে তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়।
Chor Chor slogans raised at Mamata Banerjee at Calcutta High Court. pic.twitter.com/p1oNqaR05Q
— Sudhanidhi Bandyopadhyay (@SudhanidhiB) May 14, 2026
তৃণমূল নেতা ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আদালত কাউকে প্রকাশ্যে চোর-ডাকাত বলার জায়গা নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যদি এমনটা হতে পারে, তবে সাধারণ কর্মীদের অবস্থা সহজেই অনুমেয়।’ তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, রাজ্যে নতুন বিজেপি শাসনামলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ যে বিপন্ন, এই ঘটনাই তার প্রমাণ।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা যায় তার চিরচেনা নীল পাড় সাদা শাড়ির ওপর কালো কোট এবং সাদা কলার ব্যান্ড পরিহিত অবস্থায়। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গত ৪ মে থেকে সংখ্যালঘু ও নারীদের ওপর যে সহিংসতা চলছে, তা বন্ধে আদালতের হস্তক্ষেপ চান তিনি। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে মমতা দাবি করেন, নির্বাচনি সহিংসতায় তফসিলি জাতি-উপজাতি ও সংখ্যালঘুসহ মোট ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
আদালতে মমতা বলেন, ‘আমি বার কাউন্সিলের সদস্য এবং একজন আইনজীবী হিসেবে এখানে উপস্থিত হয়েছি। আমি চাই আদালত পুলিশকে নির্দেশ দিক যাতে তারা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গ্রহণ করে। আমাকেও মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’
ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া এবং উচ্ছেদের বর্ণনা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এটি কোনও বুলডোজার রাজ্য নয়। সহিংসতা নিয়ে পুলিশকে এফআইআর নেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী আদেশ দেওয়া হোক।’
ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়া ৭১ বছর বয়সী এই নেত্রী নির্বাচনের ফলকে ‘জনমতের সঠিক প্রতিফলন নয়’ দাবি করে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তবে রাজ্যপাল আর এন রবি বিধানসভা ভেঙে দেওয়ায় তার মন্ত্রিসভার কার্যকাল এমনিতেই শেষ হয়ে যায়।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর অসংখ্য তৃণমূল কর্মী বাড়িছাড়া হয়েছেন এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। এর আগে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিলেও এবারই প্রথম আইনজীবী হিসেবে সরাসরি সওয়াল করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সূত্র: এনডিটিভি









