রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আত্মহত্যার প্রবণতা রোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের ভূমিকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
আত্মহত্যার প্রবণতা রোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের ভূমিকা

সাকিবুর রহমান বাবলা

মানুষ জন্মগতভাবে বেঁচে থাকতে পৃথিবীতে আসে। জীবনকে সুন্দর, অর্থবহ, কল্যাণকর এবং সৃষ্টিকর্তার প্রিয় করে তোলাই মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা। কিন্তু কখনো কখনো হতাশা, মানসিক চাপ, পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা কিংবা আবেগীয় সংকটের কারণে কিছু মানুষ আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এটি শুধু একজন মানুষের মৃত্যু নয়; একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং একটি জাতির জন্য গভীর ক্ষতির কারণ।

আত্মহত্যা মূলত জীবনের সমস্যার সমাধান নয়, বরং সমস্যার কাছে আত্মসমর্পণ। অনেক ক্ষেত্রে এটি অজ্ঞতা, হতাশা ও সাময়িক আবেগের প্রভাব থেকে ঘটে। জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলো মোকাবিলার দক্ষতা, মানসিক স্থিতিশীলতা এবং আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির অভাব মানুষকে এমন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আত্মহত্যা একটি গুরুতর অন্যায়। পৃথিবীর প্রায় সব ধর্মই মানবজীবনকে পবিত্র ও মূল্যবান হিসেবে বিবেচনা করে। ধর্ম মানুষকে ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ, আশা এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি আস্থা রাখার শিক্ষা দেয়। তাই ধর্মীয় শিক্ষা মানুষের মনে জীবনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

পরিবার আত্মহত্যা প্রতিরোধের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। একটি শিশু বা কিশোরের মানসিক বিকাশের ভিত্তি গড়ে ওঠে পরিবারে। বাবা-মা যদি সন্তানের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন, তার অনুভূতির মূল্য দেন এবং সমস্যার সময় পাশে দাঁড়ান, তাহলে সন্তান নিজেকে একা মনে করবে না। অনেক সময় দেখা যায়, বাহ্যিকভাবে স্বাভাবিক মনে হলেও একজন মানুষ ভেতরে ভেতরে গভীর কষ্টে ভুগছেন। পরিবারের সদস্যদের উচিত এমন পরিবর্তনগুলো বুঝতে চেষ্টা করা এবং প্রয়োজনে সহায়তার ব্যবস্থা করা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও আত্মহত্যা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি একজন মানুষকে জীবন সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেয় ও পথ দেখায়। বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, সহনশীলতা এবং জীবন দক্ষতা সম্পর্কে নিয়মিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের প্রতি মানবিক ও সহানুভূতিশীল আচরণ করেন, তাহলে অনেক শিক্ষার্থী তাদের সমস্যার কথা খোলামেলাভাবে বলতে সাহস পাবে।

বন্ধুদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় একজন বন্ধু পরিবারের চেয়েও আগে কারও মানসিক সংকট বুঝতে পারে। তাই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে প্রতিযোগিতা বা স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে তোলা জরুরি।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জীবনের মূল্য, ধৈর্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সংকট মোকাবিলার শিক্ষা আরও বেশি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা যেতে পারে। ধর্মীয় নেতাদের ইতিবাচক ও মানবিক বক্তব্য অনেক মানুষের জীবনে নতুন আশা জাগাতে পারে।

মানবাধিকারও প্রত্যেক মানুষের জীবনকে সুরক্ষিত রাখার কথা বলে। বেঁচে থাকার অধিকার মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। তাই এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষ তার কষ্ট, ব্যর্থতা বা মানসিক সমস্যার কথা বলতে লজ্জা বা ভয় অনুভব করবে না।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে রাষ্ট্রেরও বড় দায়িত্ব রয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং ব্যবস্থা চালু করা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ করণীয়। পাশাপাশি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে আত্মহত্যাকে কোনোভাবেই আকর্ষণীয় বা গ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন না করা হয়।

যদি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্র নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও বেশি মানসিক অস্থিরতা, একাকীত্ব ও হতাশার মধ্যে বেড়ে উঠতে পারে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন দুর্বল হবে, পারিবারিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং মানবিক সমাজ নির্মাণের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

আত্মহত্যা প্রতিরোধ কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। এটি একটি সম্মিলিত সামাজিক দায়িত্ব। পরিবারে ভালোবাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানবিক শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নৈতিক অনুশাসন এবং রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগ একসঙ্গে কাজ করলে মানুষ সংকটের মধ্যেও জীবনের প্রতি আস্থা ফিরে পাবে। জীবন অমূল্য; তাই প্রতিটি মানুষকে বাঁচার আশা, সাহস ও সহযোগিতা দেওয়াই আমাদের সবার দায়িত্ব।

Ads small one

খুলনায় ফজরের নামাজের সময় অস্ত্র নিয়ে মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের গুলি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
খুলনায় ফজরের নামাজের সময় অস্ত্র নিয়ে মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের গুলি

খুলনায় ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদের ভেতরে ঢুকে মুসল্লিকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মসজিদ কমিটির এক নেতাসহ দুই জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নগরের দৌলতপুর থানার পশ্চিম কাশীপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন- মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিম (৪৫) ও আলম শেখ (৫৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফজরের নামাজ চলাকালে কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত আকস্মিকভাবে মসজিদের ভেতরে ঢোকে। তারা সরাসরি লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে আলম শেখও গুলিবিদ্ধ হন। রক্তাক্ত অবস্থায় তারা মসজিদের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

গুলির শব্দ শুনে অন্য মুসল্লি ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তারা আহত দুই জনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে লোকমান হাকিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (দৌলতপুর জোন) শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। হামলার সঠিক কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘লোকমান হাকিম ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) একজন ঠিকাদার ও জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী। পূর্বশত্রুতার জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

নারীদের জন্য হচ্ছে দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল, নিয়োগ পাবে ১ লাখ কর্মী: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
নারীদের জন্য হচ্ছে দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল, নিয়োগ পাবে ১ লাখ কর্মী: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘দেশের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার। সারা দেশে শুধু নারীদের জন্য দেড় হাজার শয্যার দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল করা হবে। এতে নিয়োগ পাবে এক লাখ কর্মী। এ ছাড়া সারা দেশে ১ হাজার শয্যার ২০টি হাসপাতাল করা হবে।’

রবিবার (১৪ জুন) সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১০ জেলায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠান থেকে একযোগে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালসহ (ভিক্টোরিয়া) ১০টি জেলায় আইসিইউ উদ্বোধন করা হয়। ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করা হয় মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, শেরপুর, মাদারীপুর ও বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের আইসিইউ।

বাজেট প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেটে আমাদের নেতা তারেক রহমান দিকনিদের্শনা দিয়েছেন। শুধু টাকা নয়, কীভাবে দেশটাকে উন্নত করা যাবে, কোথায় কোথায় উন্নতি করতে হবে, তার আভাস দিয়েছেন জাতিকে। স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, অর্থাৎ ৬৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। স্বাস্থ্য খাতকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছে সরকার।’

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে শুধু মেয়েদের জন্য দুটি স্পেশালাইজড (বিশেষায়িত) হাসপাতাল হবে। একেকটি হাসপাতাল হবে ১ হাজার ৫০০ শয্যার। হাসপাতাল দুটিতে চারটি কিডনি অ্যানালাইসিস, ডায়ালাইসিস সেন্টার থাকবে। মেয়েদের ব্রেস্ট ক্যানসারের চিকিৎসা, প্রসূতির ডেলিভারি ও জেনারেল হাসপাতাল থাকবে। সারা দেশে ১ হাজার শয্যার ২০টি হাসপাতাল হবে। পাঁচটি করে অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হবে। চারটি হেলিকপ্টার থাকবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা করছেন। ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ হাজার হবে নারী। আমাদের ১০টি জেলায় আইসিইউ সেবা চালু করেছি। একটু শ্বাসকষ্ট হলেই রেফার করবেন না।’

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী ও জেলা সিভিল সার্জন মুশিউর রহমান।

আর্জেন্টিনা দলে নতুন ‘সমস্যা’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনা দলে নতুন ‘সমস্যা’

কানসাসে আজও অনুশীলন করবে আর্জেন্টিনা দল। তবে সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি নেই। ফুটবলের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ক্লোজড ডোর’ অনুশীলন। ফলে কানসাসে গিয়েও অনেকের মেসিদের অনুশীলন না দেখতে পারার আক্ষেপ থেকেই যাচ্ছে।

তবে আর্জেন্টিনা এগোচ্ছে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী। ৩৬ বছর পর গতবার বিশ্বকাপ জিতেছে লিওনেল মেসির দল। এবার সেই শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। ফলে দলটির ওপর বাড়তি চাপ থাকাটাই স্বাভাবিক। এর মধ্যেই কোচ লিওনেল স্কালোনির সামনে দেখা দিয়েছে নতুন এক ‘সমস্যা’।

আগামী বুধবার সকাল ৭টায় বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। তার আগে শুরুর একাদশে ‘নাম্বার নাইন’ পজিশন নিয়ে মধুর সমস্যায় পড়তে হচ্ছে স্কালোনিকে।

এতদিন লাওতারো মার্তিনেজকে ঘিরেই এগোচ্ছিলেন আর্জেন্টাইন কোচ। তিনিই ছিলেন স্কালোনির প্রথম পছন্দ। কারণ হুলিয়ান আলভারেজ আগে থেকেই পায়ের গোড়ালির চোটে ভুগছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে লাওতারোকেই খেলানো হয়েছে।

স্কালোনির আস্থার প্রতিদানও দিয়েছেন লাওতারো। হন্ডুরাসের বিপক্ষে বল পায়ে ছিলেন উজ্জ্বল। একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থ জুলিয়ানো সিমিওনেকেও গোল করিয়েছেন।

তবে এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। চোট কাটিয়ে ফিরেছেন আলভারেজ। ফলে আক্রমণভাগ নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে স্কালোনিকে। এরই মধ্যে দলের সঙ্গে অনুশীলনও শুরু করেছেন তিনি। ফলে আলভারেজ ও লাওতারোর মধ্যে জায়গার লড়াই আরও জমে উঠেছে। বিশেষ করে অনুশীলনে কোচের মন জয় করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা কঠিন। শুরুর একাদশে ‘নাম্বার নাইন’ হিসেবে কে খেলবেন, তা জানতে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, আলভারেজ ফিটনেস পরীক্ষায় উতরে গেলে কোচের পছন্দের তালিকায় এগিয়ে থাকতে পারেন।

অবশ্য দুজনই আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। ক্লাব ফুটবলেও নিয়মিত পারফর্ম করছেন তারা। লা লিগার দল অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে আলভারেজ ৪৯ ম্যাচে করেছেন ২০ গোল। অন্যদিকে ইন্টার মিলানের জার্সিতে লাওতারোর গোল ৪১ ম্যাচে ২২টি।

তবে কাতার বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স বিবেচনায় আলভারেজ কিছুটা এগিয়ে। ওই আসরে সাত ম্যাচে চার গোল করার পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করেছিলেন তিনি। অন্যদিকে লাওতারো ছয় ম্যাচ খেলেও গোলের দেখা পাননি।

স্কালোনি বিচক্ষণ কোচ। কাতার বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও খেলোয়াড়দের ফিটনেস বিবেচনা করেই তিনি একাদশ ঠিক করবেন। ম্যাচের আগেই সেই চিত্র পরিষ্কার হয়ে যাবে।